TT Ads

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রথমে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বসুন্ধরা আবাসিকের বাসায়, পরে রাত ৮টা ২৫ মিনিটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বেইলি রোডের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে এই বৈঠকগুলোকে রাজনৈতিক মহলে ‘পজিটিভ পলিটিক্স’ এর শুরু হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দেশে ঐক্য ও স্থিতিশীলতার বার্তা দিচ্ছে।

নির্বাচনের দু’দিন পর এই সাক্ষাৎগুলো যেন একটা নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা। বিএনপি ২১২ আসন নিয়ে সরকার গঠনের পথে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৭৭ আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী শক্তি, আর এনসিপি নতুন উদীয়মান দল হিসেবে উল্লেখযোগ্য ফল করেছে। তারেক রহমানের এই উদ্যোগকে অনেকে দেখছেন জয়ের পর অহংকার না করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলার প্রতিশ্রুতি হিসেবে।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গুলশানের বাসা থেকে রওনা হয়ে তারেক রহমান সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে বসুন্ধরায় পৌঁছান। জামায়াত আমির তাকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতা। জামায়াত আমির পরে ফেসবুকে লিখেছেন, তারেক রহমানকে ‘ভবিষ্যত প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানিয়ে। তিনি বলেন, জামায়াত ও ১১ দলীয় জোট গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাক্ষাতে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এরপর রাত ৮টা ২৫ মিনিটে তারেক রহমান বেইলি রোডে নাহিদ ইসলামের বাসায় পৌঁছান। নাহিদ নিজে এগিয়ে এসে তাকে স্বাগত জানান। ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। সাক্ষাতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল, নজরুল ইসলাম খানের পাশাপাশি এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও এই সৌজন্য সাক্ষাৎ নতুন প্রজন্মের নেতাদের মধ্যে সংলাপের দ্বার উন্মোচন করেছে।

এই দু’টি সাক্ষাৎ বিএনপির পক্ষ থেকে ‘পজিটিভ পলিটিক্স’ এর অংশ। নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এখন তিনি নিজেই সেই আহ্বানের বাস্তবায়ন করছেন—প্রতিপক্ষের নেতাদের বাসায় গিয়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে সংসদীয় গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে, বিরোধীদের সঙ্গে সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *