TT Ads

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ ও নিপীড়নের তীব্র প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করেছে।

এই কর্মসূচি দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন তুলেছে—নির্বাচনের পর শান্তি ফিরবে কবে?

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন স্থানে হামলা, ভাঙচুর ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। জামায়াত ও তাদের জোটসঙ্গীরা দাবি করছেন, এসব ঘটনা শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, বরং একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অংশ। সমাবেশে উপস্থিত নেতারা বলছেন, নির্বাচনী অনিয়মের পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে কর্মী-সমর্থকদের ওপর নির্যাতন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই প্রতিবাদকে তারা জনগণের অধিকার রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। তারা বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং ৩২টি আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে, সহিংসতা বন্ধে সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে। নেতারা বলেন, “ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, এখন জীবনের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে—এটা আর সহ্য করা যাবে না।”

এই বিক্ষোভের পটভূমিতে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াত জোট ৭৭টি আসনে জয়লাভ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে, যার মধ্যে জামায়াত এককভাবে ৬৮টি। কিন্তু ফলাফল ঘোষণার পর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযোগ উঠেছে যে, বিজয়ী দলের কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। কোথাও কোথাও বাড়িঘরে আগুন দেওয়া, লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। এসবের প্রতিবাদে গতকাল রোববার জোটটি নির্বাচন কমিশনে সাক্ষাৎ করে অভিযোগ দায়ের করেছে।

সমাবেশস্থলে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভের পাশাপাশি এক ধরনের ঐক্যের ছাপ দেখা গেছে। অনেকে বলছেন, এই কর্মসূচি শুধু প্রতিবাদ নয়, ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলনের সূচনা। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলাকাটি ঘিরে রেখেছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *