TT Ads

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণকে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল করতে সারা দেশে যান চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার মধ্যরাত ১২টা থেকে ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে, যা ভোট গ্রহণের দিন বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে ইসি।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরও দীর্ঘ। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত ১২টা থেকে ভোট গ্রহণের পরদিন শুক্রবার মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত স্টিকারযুক্ত মোটরসাইকেল এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনী সহিংসতা, অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে প্রতিবারের মতো এবারও পরিবহন নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগের রাত ও ভোটের দিন যানবাহনের অবাধ চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হয়। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, কিছু এলাকায় অবৈধভাবে ভোটার পরিবহন, অস্ত্র বা অবৈধ সামগ্রী বহনের অভিযোগ ওঠে। এসব আশঙ্কা থেকেই এই কড়াকড়ি।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া যানবাহনের মধ্যে রয়েছে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী উভয় ধরনের গাড়ি। ফলে দূরপাল্লার যাত্রা, পণ্য পরিবহন এবং শহরাঞ্চলে দৈনন্দিন চলাচলে সাময়িক ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, এই সাময়িক অসুবিধাই নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নির্বাচনী সহিংসতা বা হঠাৎ বিশৃঙ্খলার ঘটনায় মোটরসাইকেল দ্রুত চলাচলের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তিন দিনের এই নিষেধাজ্ঞা ভোটের আগে ও পরে নিরাপত্তা বলয়কে শক্তিশালী করবে।

এদিকে জরুরি সেবার ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। ইসি সূত্র জানায়, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ ও জরুরি সরকারি কাজে নিয়োজিত যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনপ্রাপ্ত ও স্টিকারযুক্ত মোটরসাইকেল চলাচলেও বাধা নেই, যা মূলত নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে ব্যবহৃত হবে।

 

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *