নেপালের সাধারণ নির্বাচনে ভোট গণনা চলছে, যা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রথম। প্রাথমিক ফলাফলে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) ব্যাপকভাবে এগিয়ে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে। কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র ও জনপ্রিয় র্যাপার বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বে তরুণ প্রজন্মের এই দল ঐতিহ্যবাহী দলগুলোকে ছাপিয়ে গেছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালে যুবকদের নেতৃত্বে দুর্নীতি-বিরোধী আন্দোলন গণ-অভ্যুত্থানে পরিণত হয়, যা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সরকারকে পতন ঘটায়। এই আন্দোলনে ৭৭ জনের প্রাণহানি ঘটে, যা দেশের রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপকে বদলে দেয়। তরুণরা দুর্নীতি, অর্থনৈতিক অসমতা এবং প্রশাসনিক অদক্ষতার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে পড়ে। এই পটভূমিতে ৫ মার্চের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটার ২৭৫ আসনের প্রতিনিধি সভার সদস্য নির্বাচন করে।
প্রাথমিক গণনায় আরএসপি ৪৭টি আসনে এগিয়ে, যা গণনাকৃত ৫৭টি আসনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। দলটি কাঠমান্ডু-১, কাঠমান্ডু-৭ এবং কাঠমান্ডু-৮-এ ইতোমধ্যে জয়ী হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী দলগুলো পিছিয়ে—নেপালি কংগ্রেস ৫টিতে, সিপিএন (ইউএমএল) ৩টিতে এবং অন্যান্য দলগুলো সীমিত সাফল্য পেয়েছে। এই ফলাফল তরুণ ভোটারদের প্রভাব দেখায়, যারা দুর্নীতিমুক্ত শাসন চায়।
আরএসপির হেভিওয়েট প্রার্থী বালেন্দ্র শাহ, যিনি ‘বালেন’ নামে পরিচিত, কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র। ৩৫ বছর বয়সী এই র্যাপার-রাজনীতিবিদ ২০২২ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হয়ে ঐতিহ্যবাহী দলগুলোকে হারান। অভ্যুত্থানের সময় প্রশাসনের অংশ হয়েও তিনি শিক্ষার্থীদের সমর্থন করেন, যা তাকে তরুণদের নেতায় পরিণত করে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মেয়র পদ ত্যাগ করে আরএসপিতে যোগ দেন এবং প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে প্রজেক্ট করা হয়। তিনি কেপি শর্মা ওলির মতো প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
দলের চেয়ারম্যান রবি লামিছানে, সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং টেলিভিশন সাংবাদিক। লাইভ শোতে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের মুখোমুখি করে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ২০২২ সালে আরএসপি গঠন করেন এবং দুর্নীতি-বিরোধী অ্যাজেন্ডায় ফোকাস করেন। সম্প্রতি সমবায় কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে কারাবাস করলেও অভ্যুত্থানের সময় মুক্তি পান এবং দলে ফিরে আসেন।
আরএসপির উত্থান নেপালের রাজনীতিতে নতুন যুগের সূচনা করে। দলটি অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, সামাজিক ন্যায় এবং দুর্নীতিমুক্ত শাসনের প্রতিশ্রুতি দেয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এটি ঐতিহ্যবাহী দলগুলোর ব্যর্থতার ফল। তরুণরা, যারা ভোটারদের বড় অংশ, নতুন নেতৃত্ব চায়। নির্বাচনে ৬০ শতাংশ ভোটার অংশগ্রহণ করে, যা অভ্যুত্থানের প্রভাব দেখায়।


