ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম টেলিভিশন ভাষণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তেহরান থেকে প্রচারিত এই ভাষণে তিনি স্পষ্ট জানান, ইরান তার পথ থেকে বিচ্যুত হবে না এবং শহীদ কাসেম সোলেইমানি থেকে শুরু করে সম্প্রতি নিহত সকল শীর্ষ সামরিক কমান্ডারের রক্তের বদলা নেওয়া হবে।
প্রবীণ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন তার পুত্র মোজতবা খামেনি। এই রক্তক্ষরণের মধ্য দিয়ে জন্ম নেওয়া এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন তিনি। ভাষণের শুরুতেই মোজতবা খামেনি একটি ঐতিহাসিক দলিল উদ্ধৃত করে বলেন, “মধ্যপ্রাচ্য এখন আর পুরোনো ভৌগোলিক মানচিত্রে আবদ্ধ নয়; এটি এখন এক যুদ্ধক্ষেত্র, যেখানে বিশ্বাস আর শক্তির লড়াই চলছে।”
আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তার ভাষণে ইরানের পররাষ্ট্রনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ (Axis of Resistance) কে বেছে নিয়েছেন। তিনি বলেন, “ইয়েমেনের জনগণ, ইরাকের প্রতিরোধ যোদ্ধা এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ কেবল কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী নয়; তারা ইসলামি বিপ্লবের সামনের সারির সৈনিক।” তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজন হলেই এই গোষ্ঠীগুলোকে পূর্ণ শক্তিতে সক্রিয় করার নির্দেশ দেওয়া হবে।
ভাষণে তিনি ইয়েমেনের পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, “ইয়েমেনের প্রতিরোধ যোদ্ধারা তাদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব পুরোপুরি বুঝতে পারে। বাব এল-মান্দেব প্রণালী শুধু বাণিজ্যের পথ নয়, এটি আমাদের শক্তির প্রতীক।” বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার কথা মাথায় রেখেই এই মন্তব্য করেছেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি প্রসঙ্গে মোজতবা খামেনির বক্তব্য ছিল আরও স্পষ্ট ও কঠোর। তিনি বলেন, “ইরান তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিতে চায়, কিন্তু এই অঞ্চলের মাটিতে যদি কোনো বিদেশি শক্তি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে সন্ত্রাস ও হত্যাযজ্ঞ চালায়, তবে সেই ঘাঁটি আমাদের জন্য বৈধ লক্ষ্যে পরিণত হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “গত কয়েক দশকে আমরা দেখিয়েছি, আমরা হুমকি দিতে বিশ্বাসী নই; আমরা কাজ করতে বিশ্বাসী। মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা কেবল অব্যাহত থাকবে না, বরং তা আরও তীব্র হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবা খামেনির এই ভাষণ প্রকৃতপক্ষে পশ্চিমা বিশ্বের জন্য এক সতর্কবার্তা। তিনি তার পিতার কঠোর লাইন অনুসরণ করলেও ভাষাভঙ্গি ও উপস্থাপনায় তাকে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইরাক ও সিরিয়ায় ইরানের প্রভাব বিস্তারের যে কৌশল, তা ভবিষ্যতে আরও গভীর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।মোজতবা খামেনি


