TT Ads

চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৬ দিনে বাংলাদেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ১৮০ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২১ শতাংশ বেশি। এই বৃদ্ধির ফলে ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যার কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারে। বাংলাদেশ ব্যাংক মঙ্গলবার এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো এই আয় দেশের অর্থনীতির একটি মূল স্তম্ভ। বাংলাদেশের মোট জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশ এই খাত থেকে আসে, যা আমদানি বিল মেটাতে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চলতি বছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা করোনা মহামারী পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের একটি ইতিবাচক সংকেত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশী শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং ডলারের বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা এই বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ।

গত বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৬ দিনে রেমিট্যান্স ছিল প্রায় ১৪৯ কোটি ডলার, যা এবার ৩১ কোটি ডলার বেশি। এই বৃদ্ধি শুধু সংখ্যায় নয়, অর্থনৈতিক প্রভাবেও উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ বাড়ায় ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনে রিজার্ভ বাড়াচ্ছে, যা দেশের আমদানি-রপ্তানি ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক। এই প্রক্রিয়ায় ব্যাংকগুলোর লিকুইডিটি বজায় রাখা যাচ্ছে এবং বাজারে ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই রেমিট্যান্স বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সংকট কমাতে সাহায্য করবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডলারের দামের ওঠানামা এবং আমদানি বিলের চাপে রিজার্ভ কমে গিয়েছিল, কিন্তু এখনকার এই বৃদ্ধি একটি স্বস্তির নিশ্বাস। উদাহরণস্বরূপ, গত জানুয়ারি মাসে রেমিট্যান্স ছিল প্রায় ২১০ কোটি ডলার, যা চলতি মাসের শুরুর সাথে মিলিয়ে অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের চিত্র তুলে ধরছে। তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে—অনানুষ্ঠানিক চ্যানেল বা হুন্ডির মাধ্যমে আয় পাঠানোর প্রবণতা এখনও বিদ্যমান, যা সরকারের নীতিগত হস্তক্ষেপ দাবি করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রিজার্ভের এই বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর মানদণ্ড অনুসারে দেশের তিন মাসের আমদানি বিল মেটানোর জন্য যথেষ্ট। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত হবে। সরকারের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ও এই বৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছে, বলছে যে প্রবাসীদের জন্য নতুন প্রণোদনা এবং ডিজিটাল রেমিট্যান্স সিস্টেমের উন্নয়ন এর পেছনে কাজ করেছে।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *