TT Ads

নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করছে। পাইলট প্রকল্পের প্রথম ধাপে দেশের বিভিন্ন এলাকার ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবার এই কার্ড পাবে।

আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে নারীকে পরিবারের প্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা সরাসরি তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, “পরিবারে নারীকে প্রধান করে কার্ড দেওয়ার এই পদক্ষেপ নারীর অধিকার, মর্যাদা ও আর্থিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার একটি যুগান্তকারী ধাপ। এতে পরিবারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর ভূমিকা শক্তিশালী হবে এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।”

পাইলট প্রকল্পে প্রথমে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) নামক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে দারিদ্র্য মূল্যায়ন করে অতি দরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। অন্যান্য সরকারি সুবিধা বা পেনশনপ্রাপ্তদের বাদ দিয়ে শেষ পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবার নির্বাচিত হয়েছে। এই কর্মসূচি ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি কর্পোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, কার্ডধারী নারীরা প্রতি মাসে নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা পাবেন, যা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সরাসরি তাদের হাতে পৌঁছাবে। এ অর্থ খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করা যাবে। পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচি বিস্তৃত হবে এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একপর্যায়ে দেশের সব পরিবার এই কার্ডের আওতায় আসতে পারে।

এ উদ্যোগ নারীর প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতে পারে। অনেক নারীপ্রধান পরিবারে বিধবা, ত্যাগকৃত বা একক মায়েরা সংসার চালান, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সুবিধা পাওয়ায় তাদের অংশগ্রহণ কম। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এই বৈষম্য দূর করে নারীকে পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসবে। এতে নারীর আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং পরিবারের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

সরকারের এই পদক্ষেপ বিএনপি-র নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ। দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে কঠোর তদারকির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কার্ড বিতরণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হবে এবং কোনো টাকা দাবির সুযোগ থাকবে না।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *