বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ধানের শীষ বিজয়ী হলে নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। তিনি ঘোষণা করেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিকল্পিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ হবে এ দেশের মা-বোনদের সংসারের অভাব মেটানোর প্রধান অস্ত্র।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের অন্তর্ভুক্ত সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নে এক বিশাল নির্বাচনি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত এই সভায় মির্জা ফখরুল ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমাদের নেতা তারেক রহমান দেশের সাধারণ মানুষের দুঃখ বোঝেন। বিশেষ করে মা-বোনরা যেভাবে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন, তা দূর করতেই এই পরিকল্পনা। প্রতিটি যোগ্য পরিবারের নারী প্রধানের নামে এই কার্ড ইস্যু করা হবে। এর মাধ্যমে কেবল খাদ্য সহায়তা নয়, বরং সরাসরি অর্থ সহায়তার মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করা হবে। এটি কোনো দান নয়, এটি আপনাদের অধিকার।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এই কার্ড মা-বোনদের হাতে এমন এক শক্তি বা অস্ত্র হিসেবে কাজ করবে, যা দিয়ে তারা অভাবের দিনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবেন। সংসারের ছোটখাটো প্রয়োজনে আর অন্যের মুখাপেক্ষী হতে হবে না।”
কেবল ফ্যামিলি কার্ড নয়, বিএনপি মহাসচিব তার বক্তব্যে দেশের বেকার সমস্যা সমাধানেও বড় প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় আসার ১৮ মাসের মধ্যে দেশের অন্তত দেড় কোটি শিক্ষিত ও দক্ষ বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। তারেক রহমানের ‘ভিশন-২০২৬’ (অথবা তৎকালীন নির্বাচনি ইশতেহারের প্রেক্ষাপট) অনুযায়ী কৃষি কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ডও চালু করার আশ্বাস দেন তিনি।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “মানুষ আজ পরিবর্তনের অপেক্ষায়। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই লড়াইয়ে ধানের শীষের বিকল্প নেই। আমরা চাই একটি উৎসবমুখর ও ভীতিমুক্ত নির্বাচন।” স্থানীয় প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “জনগণ জেগে উঠেছে। কোনো কারচুপি বা ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে এবার পার পাওয়া যাবে না। আমরা নিরপেক্ষ ভূমিকার প্রত্যাশা করি।”


