TT Ads

বিশ্ববাজারে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সোনার দামে যে পাগলাঘোড়া দৌড় দেখা গিয়েছিল, তাতে হঠাৎ লাগাম পড়েছে। ২৬ জানুয়ারি ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিখর ৫,৫০০ ডলার স্পর্শ করার পর, কয়েক দিনের ব্যবধানেই মূল্যবান এই ধাতুর দামে বড় ধরনের পতন শুরু হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে অস্থিরতা যখন তুঙ্গে থাকে, তখন বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজার বা মুদ্রার চেয়ে ‘নিরাপদ সম্পদ’ হিসেবে সোনার দিকেই বেশি ঝোঁকেন। সাম্প্রতিক সময়ে বড় দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধাবস্থার কারণে সোনার চাহিদা আকাশচুম্বী হয়েছিল।

গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিশ্ব অর্থনীতি এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়। প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫,০০০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করে এক পর্যায়ে তা ৫,৫০০ ডলারে গিয়ে ঠেকে। শুধু সোনাই নয়, রুপা এবং প্লাটিনামের বাজারেও এর ঢেউ লাগে। সাধারণ মানুষ যখন ভাবছিলেন সোনা কেনা হয়তো সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে, তখনই দৃশ্যপট বদলে যায়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই দরপতন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। যখন কোনো সম্পদের দাম অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে বাড়ে, তখন বড় বিনিয়োগকারীরা তাদের মুনাফা তুলে নিতে (Profit Taking) বিক্রির চাপ বাড়িয়ে দেন।

৫,৫০০ ডলারে পৌঁছানোর পর বড় ফাণ্ডগুলো সোনা বিক্রি শুরু করে, যা বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে দেয় এবং দাম কমিয়ে দেয় বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার নিয়ে নতুন কোনো ইঙ্গিত দিলে বিনিয়োগকারীরা সোনা ছেড়ে বন্ড বা ডলারের দিকে ফেরেন। বাণিজ্যিক বা রাজনৈতিক অস্থিরতা কিছুটা কমার সামান্য ইঙ্গিত পেলেও নিরাপদ বিনিয়োগ থেকে সরে আসে পুঁজি।

এক নজরে বাজারের পরিস্থিতি

  • সর্বোচ্চ রেকর্ড: প্রতি আউন্স ৫,৫০০ মার্কিন ডলার (২৬ জানুয়ারি, ২০২৬)।
  • অন্যান্য ধাতু: রুপা ও প্লাটিনামের দামও ১০% থেকে ১৫% পর্যন্ত উঠানামা করেছে।
  • তুলনামূলক চিত্র: বর্তমান দাম গত সপ্তাহের চেয়ে কম হলেও, ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় তা এখনো প্রায় ২০% বেশি।

বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পতন সাময়িক হতে পারে। যদিও দাম ৫,৫০০ ডলার থেকে নিচে নেমে এসেছে, তবুও বিশ্ব অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। তাই দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের জন্য সোনা এখনো সেরা পছন্দ হিসেবেই রয়ে গেছে।

একজন সিনিয়র মার্কেট এনালিস্টের ভাষায়, “সোনা এখন একটি জংশনে দাঁড়িয়ে আছে। যদি ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়, তবে ৫,০০০ ডলারের ঘরটি খুব দ্রুতই আবার ফিরে আসবে। তবে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এই সাময়িক দরপতন গয়না কেনার একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে।”

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *