TT Ads

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে নিট রিজার্ভ ৩০ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৌশলগত হস্তক্ষেপের ফলে এই উত্থান ঘটেছে, যা অর্থনীতিতে নতুন আস্থা জাগিয়েছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চাপ কমেছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে, রপ্তানি আয় স্থিতিশীল হয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনে রিজার্ভ বাড়াচ্ছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ২.৪৮ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৮.৪ শতাংশ বেশি। এই প্রবাহের ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অক্টোবর থেকে ডলার বিক্রি বন্ধ করে কেনায় মনোযোগ দিয়েছে। ফলে গ্রস রিজার্ভ ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং টাকার মানও শক্তিশালী হয়েছে।

আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর পর অর্থনীতির গতি আরও স্বচ্ছ হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই রিজার্ভ ছিল ২০.৭৯ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ৫.৩৮ বিলিয়ন ডলার কিনেছে, যার মধ্যে ফেব্রুয়ারিতেই ১.৪৪৮ বিলিয়ন ডলার। এই কৌশল অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, রিজার্ভের এই উত্থান আমদানি বিল পরিশোধ, ঋণের সুদ-আসল শোধ এবং বাজারের আস্থা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। চলতি অর্থবছরে ঋণ পরিশোধের চাপ প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ এবং রেমিট্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা না গেলে রিজার্ভের এই গতি টেকসই হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি বলেছেন, বছর শেষে রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এ লক্ষ্যে রপ্তানি বাড়ানো এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

এই উত্থান অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রেমিট্যান্স ও রপ্তানির ধারা অব্যাহত থাকলে বছর শেষে ৪০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। তবে টেকসই উন্নয়নের জন্য রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি অব্যাহত রাখতে হবে।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *