প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর ভূমিকাকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। এই নির্দেশনা দেশের ভবিষ্যৎ গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করার প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এই নির্দেশ দেন। সেনাসদরের হেলমেট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই বৈঠকে তিনি বলেন, “এই নির্বাচন শুধু একটি ভোটগ্রহণ নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য একটি সন্ধিক্ষণ। জনগণের ভোটাধিকার যাতে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্য সশস্ত্র বাহিনীকে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও সমন্বয়ের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এটি প্রথম জাতীয় নির্বাচন। ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু সংসদ নির্বাচনই নয়, জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটও একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনকে ভবিষ্যতের সব নির্বাচনের জন্য মানদণ্ড হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। প্রধান উপদেষ্টা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে, নির্বাচনী পরিবেশে কোনো ধরনের ভয় বা শঙ্কা থাকবে না—এটি হবে উৎসবের মতো।
সশস্ত্র বাহিনী ইতিমধ্যে নির্বাচনী নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে তারা ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। কিন্তু এবারের নির্দেশে নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা এড়াতে সশস্ত্র বাহিনীর এই নিরপেক্ষ ভূমিকা অপরিহার্য।
অন্তর্বর্তী সরকারের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে গত কয়েক মাসের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর দেশে সংস্কারের ঢেউ উঠেছে। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেছে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রস্তুতি নিচ্ছে, যদিও কিছু দলের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্বশীলতা নির্বাচনের সাফল্যের চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পারে।


