বৃহস্পতিবার দুপুরে মৃদু ভূকম্পনে কেঁপে উঠল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত। বেলা ১২টা ৪৬ মিনিটে অনুভূত এই কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকা। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ৪.১ থাকলেও উৎপত্তিস্থল অগভীর হওয়ায় কম্পনটি বেশ স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া ও ভূ-তাত্ত্বিক বিভাগ।
বৃহস্পতিবার সাধারণ কর্মদিবসের ব্যস্ততার মধ্যেই প্রকৃতি তার রুদ্ররূপের এক ঝলক দেখিয়ে গেল। ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিট। রাজধানীর বহুতল ভবনগুলোতে থাকা মানুষজন হঠাৎই মৃদু দুলুনি অনুভব করেন। অনেক অফিস ও বাসা-বাড়ি থেকে আতঙ্কে মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। যদিও স্থায়ীত্ব ছিল মাত্র কয়েক সেকেন্ড, কিন্তু এই স্বল্প সময়ের কম্পনেই জনমনে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে রাজধানীর জনবহুল এলাকাগুলোতে মানুষের মধ্যে হুড়োহুড়ি লক্ষ্য করা গেছে।
ইউরোপিয়ান-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) দ্রুত এক বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে যে, এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪.১। সংস্থাটির তথ্যমতে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী একটি এলাকায়। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা কম থাকায় তীব্রতা মাঝারি হলেও সাধারণ মানুষের কাছে তা বেশ ভীতিকর মনে হয়েছে।
বাংলাদেশ দীর্ঘকাল ধরেই ভূমিকম্পের ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে। বিশেষ করে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত রেখা বরাবর ভূ-তাত্ত্বিক ফাটল বা ‘ফল্ট লাইন’ সক্রিয় থাকায় এ ধরনের কম্পন মাঝেমধ্যেই অনুভূত হয়। আজকের কম্পনটি যে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে ইন্ডিয়ান প্লেট এবং ইউরেশিয়ান প্লেটের সংযোগস্থল অবস্থিত। এই অঞ্চলে সঞ্চিত শক্তি যখন নির্গত হয়, তখনই ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প সরাসরি বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির কারণ না হলেও এটি একটি সতর্কবার্তা। ঢাকা ও সিলেটের মতো ঘিঞ্জি শহরগুলোতে অপরিকল্পিত নগরায়ন ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে ছোট মাত্রার কম্পনও বড় বিপদের পূর্বাভাস হিসেবে গণ্য করা হয়। আজকের ঘটনায় দেশের কোনো প্রান্ত থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণহানি বা বড় ধরনের কোনো ভবন ধসের খবর পাওয়া যায়নি। তবে অনেক পুরাতন ভবনে ফাটল ধরার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা স্থানীয় প্রশাসন যাচাই করে দেখছে।


