ফলের গুণাগুণ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। প্রকৃতির এই দান ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবারের অফুরান ভাণ্ডার। তবে সম্প্রতি পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ সতর্কবার্তা দিচ্ছেন, শুধু ফল খেলেই হবে না, কোন সময় ফল খাচ্ছেন, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভাত-রুটির মতো ভারী খাবারের পরপরই ফল খাওয়ার অভ্যাস মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সাধারণত অনেকেই দুপুরের খাবার বা রাতের ডিনারের পর মিষ্টি জাতীয় খাবারের বিকল্প হিসেবে ফল খান। আবার অনেকে দেরিতে অফিস থেকে ফিরে এক বাটি ফল দিয়ে রাতের খাবার সারেন। কিন্তু সম্প্রতি রাজধানীর একাধিক পুষ্টিবিদের সঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছে, এই অভ্যাসটি একেবারেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভরা পেটে ফল খেলে তা হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয় এবং পাকস্থলীতে গাঁজন সৃষ্টি করতে পারে।
পুষ্টিবিদ শামীম আরা ইয়াসমিন বলেন, “আমাদের শরীরে খাবার হজমের জন্য বিভিন্ন সময় লাগে। ভাত বা রুটির মতো শর্করাজাতীয় খাবার হজম হতে অনেকটা সময় নেয়। এরই মধ্যে যদি আমরা তার ওপরে ফল খাই, তাহলে ফল সহজে হজম হতে পারে না। ফলে পেটে গ্যাস, অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা এবং বদহজমের মতো সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর।”
ভারী খাবারের পর ফলের ভেতরে কী ঘটে?
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ফল সাধারণত সহজপাচ্য হলেও এতে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক শর্করা (ফ্রুক্টোজ) ও ফাইবার থাকে। আমরা যখন খালি পেটে ফল খাই, তখন এই পুষ্টি দ্রুত রক্তে মিশে শরীরকে শক্তি যোগায়। কিন্তু যখন পেট ভরা অবস্থায়, বিশেষ করে ভাত বা রুটির মতো জটিল শর্করা ও প্রোটিনের ওপরে ফল খাওয়া হয়, তখন পরিস্থিতি ঘুরে যায়। সেই সময় ফল সরাসরি হজম হতে না পেরে পেটের ভেতর জমে থাকা অন্যান্য খাবারের সঙ্গে মিশে গাঁজন শুরু করে দেয়। এই গাঁজন প্রক্রিয়ার ফলেই তৈরি হয় বদহজম, পেট ভার লাগা, টক ঢেকুর ও অস্বস্তি।
ফল খাওয়ার সঠিক সময় ও নিয়ম কী?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফল খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় হলো সকালে খালি পেটে কিংবা দুপুরের খাবারের কিছুক্ষণ আগে। ব্যায়াম বা শরীরচর্চার পর ফল খাওয়া অত্যন্ত উপকারী, কারণ তখন শরীর সহজেই গ্লুকোজ শোষণ করে নেয়। যারা খাবারের পর ফল খেতেই চান, তাদের অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট বিরতি রেখে তবেই ফল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
মনে রাখবেন কিছু জরুরি বিষয়:
-
সময়ের ব্যবধান: ভারী খাবার এবং ফলের মধ্যে অন্তত ১ ঘণ্টার ব্যবধান রাখুন।
-
রাতের খাবার: রাতে শোয়ার আগে ফল না খাওয়াই ভালো। এতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে এবং ওজন বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
-
ফলের পরিমাণ: প্রয়োজনের অতিরিক্ত ফল খাবেন না। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ফলই শরীরের জন্য যথেষ্ট।
-
ফলের ধরন: যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের উচিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কম মিষ্টি ফল বেছে নেওয়া।
পুষ্টিবিদেরা আরও জানান, শুধু সময় নয়, ফল কীভাবে খাচ্ছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ফলের জুস না খেয়ে আস্ত ফল খাওয়াই স্বাস্থ্যকর, কারণ এতে ফাইবার অক্ষত থাকে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ফল মিশিয়ে খাওয়ার আগেও খেয়াল রাখতে হবে, সেগুলো একে অপরের সঙ্গে “কম্প্যাটিবল” কি না।


