ভোটাধিকার রক্ষায় কোনো ধরনের পেশিশক্তি বা অনিয়মের চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না—এমন কঠোর বার্তা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্র দখল বা ভোটদানে বাধা সৃষ্টি হলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে। এ ধরনের ঘটনায় মামলা হলে তার দায় নিজে নিতে প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যজোট আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। জনসভায় জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, ভোট মানুষের মৌলিক অধিকার এবং এ অধিকার কেড়ে নেওয়ার যেকোনো চেষ্টা রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য বিপজ্জনক। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে নানা কৌশলে ভোটাধিকার খর্ব করা হয়েছে, যা গণতন্ত্রকে দুর্বল করেছে। “ভোটকেন্দ্রে পেশিশক্তি ঢুকিয়ে মানুষকে ভয় দেখানো হলে, সেটার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো নাগরিক দায়িত্ব,”—বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলন কোনো দলের একক বিষয় নয়; এটি সব রাজনৈতিক শক্তি ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব। জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে কোনো শক্তিই ভোট ডাকাতি বা কেন্দ্র দখলের অপচেষ্টা সফল করতে পারবে না—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
জনসভায় জামায়াত আমির নির্বাচনকালীন প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
মামলা হলে দায় নিজের ওপর নেওয়ার ঘোষণা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলন কোনো অপরাধ নয়। “ন্যায়সঙ্গত দাবির জন্য যদি আমাকে আইনি ঝুঁকি নিতে হয়, আমি প্রস্তুত,”—বলে তিনি নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যজোটের অন্যান্য নেতারাও জনসভায় বক্তব্য দেন। তারা বলেন, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অপরিহার্য। জনসভা থেকে ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ে ভোটারদের সচেতন করার কর্মসূচি জোরদারের ঘোষণাও দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে ভোটাধিকার ও সুষ্ঠু ভোটের প্রশ্নটি আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। বিভিন্ন দলের বক্তব্য ও কর্মসূচি ইঙ্গিত দিচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক মাঠ আরও সরব হতে পারে। বিশেষ করে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নজরদারি ও জনসম্পৃক্ততার ওপর জোর দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।


