আসন্ন গণভোটে নিরপেক্ষতা ও আস্থার পরিবেশ বজায় রাখতে ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—কোনো পক্ষের প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না বলে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ইসির উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন এ নির্দেশনা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠান।
গণভোটকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই নির্বাচন কমিশনের এই সতর্ক অবস্থান। ইসি মনে করছে, ভোটগ্রহণের সঙ্গে যুক্ত কর্মচারীদের আচরণ ও ভূমিকা সরাসরি ভোটারদের আস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে তাঁদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা মতামতভিত্তিক প্রচারণা গণভোটের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—যেসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী গণভোটের প্রস্তুতি, ভোটগ্রহণ, গণনা বা সংশ্লিষ্ট যেকোনো দায়িত্বে থাকবেন, তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ কোনো প্ল্যাটফর্মে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর পক্ষে মতামত প্রকাশ করতে পারবেন না। এমনকি ব্যক্তিগত পর্যায়েও প্রচারণামূলক কার্যক্রমে জড়ানো যাবে না।
নির্বাচন কমিশনের একজন কর্মকর্তা জানান, অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে সরকারি কর্মচারীদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে ব্যক্তিগত মতামত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা ভোটারদের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। সে কারণেই এবার আগেভাগে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে—তাঁদের অধীনস্থ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এই নির্দেশনা সম্পর্কে অবহিত করা এবং বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গণভোট একটি সংবেদনশীল ও মতভিত্তিক প্রক্রিয়া। এখানে প্রশাসনের সামান্য পক্ষপাতের ধারণাও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যাপক বলেন, “ভোটের দায়িত্বে থাকা কর্মচারীরা যদি প্রকাশ্যে কোনো পক্ষের সমর্থন দেন, তাহলে পুরো প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। ইসির এই নির্দেশনা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ইতিবাচক।”
গণভোটকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা তীব্র। বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা রক্ষা করা নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ইসি মনে করছে, স্পষ্ট নিয়ম ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমেই সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।


