TT Ads

মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তাদের সব যাত্রীবাহী ফ্লাইট স্থগিত করেছে। ইসরাইলের পর বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার এবং সৌদি আরবে চলমান অস্থিরতার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম আজ শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা করেন, যা লাখো প্রবাসী বাংলাদেশির জীবনযাত্রায় বড় ধাক্কা দেবে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চলগুলো বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লাখ লাখ বাংলাদেশি সেখানে কর্মরত, যাদের মাধ্যমে দেশে বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স আসে। কিন্তু সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো—যা সন্ত্রাসবাদী হামলা বা আঞ্চলিক সংঘাতের ফল বলে মনে করা হচ্ছে—যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই স্থগিতাদেশ অস্থায়ী, কিন্তু কখন স্বাভাবিক হবে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর। বিজ্ঞপ্তিতে স্থগিত ফ্লাইটের সংখ্যা বা যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি, যা যাত্রীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটগুলো মূলত ঢাকা থেকে দুবাই, আবুধাবি, দোহা, কুয়েত সিটি, মানামা এবং রিয়াদের মতো গন্তব্যে চলাচল করে। এই রুটগুলো প্রবাসীদের জন্য লাইফলাইনের মতো। বিস্ফোরণের খবর প্রকাশের পর থেকে যাত্রীরা বিমানের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করছেন, কিন্তু স্পষ্ট উত্তর না পেয়ে হতাশ হচ্ছেন।

একজন প্রবাসী শ্রমিক, যিনি কুয়েতে কর্মরত, নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরতে চাই, কিন্তু এখন ফ্লাইট না চললে কী করব? অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক চাপও বাড়ছে।”

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। ইসরাইলে প্রথম বিস্ফোরণের পর অন্যান্য দেশে অনুরূপ ঘটনা ঘটায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি হতে পারে ইরান-ইসরাইল সংঘাতের প্রতিক্রিয়া বা অন্য কোনো গোষ্ঠীর কার্যকলাপ।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে, প্রবাসীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিমানের এ সিদ্ধান্ত অন্যান্য এয়ারলাইন্সকেও প্রভাবিত করতে পারে, যেমন এমিরেটস বা কাতার এয়ারওয়েজ, যারা বাংলাদেশে চলাচল করে।

যাত্রীদের সুবিধার্থে বিমান কর্তৃপক্ষ বলেছে, স্থগিত ফ্লাইটের টিকিটধারীদের রিফান্ড বা বিকল্প তারিখে টিকিট দেওয়া হবে। কিন্তু বিস্তারিত প্রক্রিয়া নিয়ে এখনও স্পষ্টতা নেই। এদিকে, বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য হোটেল ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে, তবে সংখ্যা অজানা।

এই সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে, কারণ মধ্যপ্রাচ্য থেকে রেমিট্যান্সের প্রবাহ কমলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চাপে পড়তে পারে।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *