TT Ads

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনের মুখে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার মাত্র দশ দিনের মধ্যে দেশটির বিশেষজ্ঞ পর্ষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) তাঁর দ্বিতীয় ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি বিরোধিতাকে উপেক্ষা করে নেওয়া হয়েছে, যিনি মোজতবাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে ঘোষণা করেছিলেন। চলমান যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই পদক্ষেপ ইরানের কট্টরপন্থী শক্তির দৃঢ়তা প্রকাশ করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হন, যা এই যুদ্ধের সূচনা করে। ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা প্রায় চার দশক ধরে ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভের ঢেউ ওঠে, এবং বিশেষজ্ঞ পর্ষদ দ্রুত উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ঘোষণায় বলা হয়েছে, পর্ষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোটে আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা হোসেইনি খামেনিকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

মোজতবা খামেনি, ৫৬ বছর বয়সী এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে পর্দার আড়ালে কাজ করেছেন। তিনি ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখেন এবং কট্টর ধর্মীয় মতাদর্শের প্রতি অঙ্গীকারের জন্য পরিচিত। তাঁর বাবার শাসনামলে তিনি প্রায়শই পটভূমিতে থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বিস্তার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এখন যুদ্ধের মাঝে তাঁর উত্থান কট্টরপন্থীদের জন্য একটি বড় জয়। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড এবং অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনী ইতিমধ্যে নতুন নেতার প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেছে।

এই নিয়োগের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ প্রত্যাখ্যান একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মোজতবাকে ‘লাইটওয়েট’ এবং ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছিলেন, এমনকি যেকোনো নতুন নেতৃত্বকে হুমকি দিয়েছিলেন। কিন্তু ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব এটিকে ‘শত্রুর ঘৃণা’ হিসেবে দেখে নিয়োগকে আরও জোরদার করেছে। আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের মতে, এটি ট্রাম্প প্রশাসনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ। ইসরায়েলও সতর্ক করে বলেছে, নতুন নেতা এবং তাঁকে নিয়োগকারীদের ওপর নজরদারি চালানো হবে।

চলমান যুদ্ধে এই পরিবর্তনের প্রভাব গভীর হতে পারে। ইরান ইতিমধ্যে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে, যার ফলে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে। নতুন নেতার অধীনে কট্টরপন্থী নীতি অব্যাহত থাকলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *