যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত শুল্ক-সংক্রান্ত চুক্তি পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
আজ বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনও বিকাশমান এবং লিখিত কোনো নথি হাতে না পাওয়ায় বিস্তারিত মন্তব্য করতে চান না।
এই বক্তব্য বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে শুল্ক নীতি নিয়ে বৈশ্বিক অস্থিরতা চলছে। সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট একটি রায়ে পূর্বের ব্যাপক শুল্ক আরোপকে অবৈধ ঘোষণা করলে প্রশাসন নতুন করে সেকশন ১২২-এর অধীনে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে, যা পরে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এই শুল্ক ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর, যা ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে। কিছু পণ্যে ছাড় থাকলেও এটি বাংলাদেশের রপ্তানির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ফেব্রুয়ারির শুরুতে একটি পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করেছে এবং কিছু টেক্সটাইল ও পোশাক পণ্যে শূন্য শুল্কের সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিনিময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শিল্প ও কৃষি পণ্যে বাজার সুবিধা বাড়িয়েছে। কিন্তু নতুন ১৫ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা এই চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ট্যারিফ ইস্যু অত্যন্ত সংবেদনশীল। বাংলাদেশের অর্থনীতিও সংবেদনশীল। চুক্তির বিষয়টি এখনও উন্নয়নশীল পর্যায়ে থাকায় তাৎক্ষণিক মন্তব্য এড়িয়ে যান তিনি। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, যদি সব দেশের জন্য একই ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হয় এবং বাংলাদেশ অতিরিক্ত সুবিধা না পায়, তাহলে চুক্তির ভারসাম্য নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে।
বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে পোশাক খাত থেকে, যার একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে যায়। নতুন শুল্কের ফলে পণ্যের দাম বাড়লে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ভিয়েনাম, ভারত, ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো যদি আলাদা সুবিধা পায়, তাহলে বাংলাদেশের বাজার হারানোর ঝুঁকি বাড়বে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে রপ্তানিকারক ও অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে বৈঠক ডেকেছে এই পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য। মন্ত্রী জানান, চুক্তির লিখিত নথি হাতে পেলে বিস্তারিত পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


