বলিউডের জনপ্রিয় তারকা রণবীর সিং অভিনীত ‘ধুরন্ধর ২: দ্য রিভেঞ্জ’ ছবিটি মুক্তির আগেই যুক্তরাষ্ট্রে চমকপ্রদ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। আদিত্য ধর পরিচালিত এই স্পাই অ্যাকশন ড্রামা ঈদ উপলক্ষে ১৯ মার্চ মুক্তি পাবে। ইতোমধ্যে অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে ৫৫,০০০ মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে ছবিটি বক্স অফিসে বড় ধাক্কা দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
এই খবরটি বলিউডের আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রণবীর সিং, যিনি ‘পদ্মাবত’, ‘গল্লি বয়’ এবং ‘৮৩’-এর মতো ছবিতে তার বহুমুখী অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন, এবার একটি উচ্চ-অক্টেন অ্যাকশন-প্যাকড ভূমিকায় ফিরছেন।
‘ধুরন্ধর ২’ হলো প্রথম ছবির সিক্যুয়েল, যেখানে রণবীর একজন গোয়েন্দা এজেন্টের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে উঠে শত্রুদের মোকাবিলা করেন। পরিচালক আদিত্য ধর, যিনি ‘উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর মতো জাতীয়তাবাদী ছবি দিয়ে খ্যাতি অর্জন করেছেন, এবারও তার সিগনেচার স্টাইলে সাসপেন্স, অ্যাকশন এবং ড্রামার মিশ্রণ ঘটিয়েছেন। ছবিটির কাস্টে রণবীরের পাশাপাশি থাকছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস এবং জন আব্রাহামের মতো তারকারা, যা ছবির আকর্ষণ আরও বাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি প্রধান ওভারসিজ মার্কেটে এই অগ্রিম বিক্রি বলিউডের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শাহরুখ খানের ‘পাঠান’ বা সালমান খানের ‘টাইগার ৩’-এর মতো ছবিগুলো আমেরিকায় অগ্রিম বুকিংয়ে লক্ষ লক্ষ ডলার আয় করেছে, যা ভারতীয় সিনেমার বিশ্বব্যাপী প্রভাব দেখায়।
‘ধুরন্ধর ২’-এর ক্ষেত্রে, মার্চ ২ তারিখ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, প্রিমিয়ার দিনের জন্য ২০৯টি শোয়ে ২,০০০-এরও বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে। এতে আয় হয়েছে প্রায় ৩৭,৫০০ ডলার। এছাড়া প্রথম মুক্তি দিন (বৃহস্পতিবার)-এর জন্য আরও ১৭,৫০০ ডলারের টিকিট বিক্রি হয়েছে। ফলে মোট অগ্রিম আয় দাঁড়িয়েছে ৫৫,০০০ ডলারে। এই সংখ্যা ছবির প্রমোশনাল ক্যাম্পেইনের সাফল্য প্রমাণ করে, যেখানে ট্রেলার এবং গানগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
বলিউড বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অগ্রিম বিক্রি ছবির বক্স অফিস পারফরম্যান্সের একটি প্রাথমিক সূচক। ঈদের মতো উৎসবের সময় মুক্তি পাওয়া ছবিগুলো সাধারণত পরিবারিক দর্শকদের আকর্ষণ করে, এবং ‘ধুরন্ধর ২’-এর থিমও তেমনই। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় প্রবাসীদের মধ্যে বলিউডের জনপ্রিয়তা বাড়ছে, যা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং স্ট্রিমিং সার্ভিসের কল্যাণে সম্ভব হয়েছে।
ছবির প্রযোজকরা জানিয়েছেন, অ্যাকশন সিকোয়েন্সগুলো হলিউড-স্টাইলের, যা আন্তর্জাতিক দর্শকদের আকর্ষণ করবে। এছাড়া, ছবিতে জাতীয়তাবাদী উপাদান থাকায় ভারতীয় দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এই খবরটি শুধু ছবির সাফল্যের ইঙ্গিতই নয়, বরং বলিউডের গ্লোবাল এক্সপ্যানশনের একটি উদাহরণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে করোনা মহামারীর পরও ভারতীয় সিনেমা ওভারসিজ মার্কেটে শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন করেছে। ‘ধুরন্ধর ২’-এর মতো ছবিগুলো এই প্রবণতাকে আরও জোরদার করবে বলে মনে করা হচ্ছে।


