TT Ads

পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়েছে ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি। কিন্তু রোজার ঠিক আগেই লেবু, বেগুন, শসা, পেঁয়াজ, টমেটো, কাঁচা মরিচ, খেজুর, ব্রয়লার মুরগি ও বিভিন্ন মাছের দাম চড়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশে প্রতি বছর রমজানের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার একটি দুর্ভাগ্যজনক প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ফেব্রুয়ারি ১৭ বা ১৮ তারিখে রমজান শুরু হওয়ার পর থেকেই বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা চাহিদা বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে দাম বাড়িয়েছেন, যা সাধারণ ক্রেতাদের পকেটে চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

ঢাকার কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল এবং অন্যান্য বড় বাজারে গিয়ে দেখা যায়, লেবুর দাম চারটি পিসে ৮০ থেকে ১২০ টাকা হয়েছে, যা গত সপ্তাহে ৬০-১০০ টাকা ছিল। বেগুনের দাম কেজিতে ৮০-১৪০ টাকা, যা ৩০-৪০ টাকা বেড়েছে। শসা ৯০-১০০ টাকা কেজি, পেঁয়াজ ৫৫-৬০ টাকা, টমেটো ৫০-৮০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১৪০-১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় ১০ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়েছে।

ইফতারের অপরিহার্য পণ্য খেজুরের দামও আকাশছোঁয়া। সাধারণ মানের খেজুর কেজিতে ২৪০-২৫০ টাকা, যা ৫০-১০০ টাকা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি কম এবং চাহিদা বেশি হওয়ায় দাম বাড়ছে। কিন্তু ভোক্তারা অভিযোগ করছেন, এটি একটি সিন্ডিকেটের ফল।

প্রোটিনের উৎস হিসেবে ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়েছে। দু’সপ্তাহ আগে ১৬০-১৭০ টাকা কেজি ছিল, এখন ২০০-২২০ টাকা। সোনালী মুরগি ২৮০-৩৫০ টাকা কেজি। মাছের বাজারেও একই চিত্র। স্থানীয় মাছ যেমন রুই, কাতলা, ইলিশের দাম ২০-৩০ শতাংশ বেড়েছে, যা রমজানের সেহরি ও ইফতারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, রমজানে চাহিদা বাড়ে, বিশেষ করে ইফতার আইটেমের। দ্বিতীয়ত, পরিবহন খরচ বেড়েছে এবং সরবরাহ চেইনে সমস্যা। তৃতীয়ত, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট গঠন করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে। অতীতে দেখা গেছে, রমজানের পর দাম কমে যায়, যা এই সিন্ডিকেটের প্রমাণ। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, খাদ্য মজুত যথেষ্ট এবং দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চলছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানও দাম নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, কার্যকর পদক্ষেপ দরকার। মার্কেট মনিটরিং জোরদার করা, আমদানি সহজ করা এবং সিন্ডিকেট ভাঙার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। অন্যথায়, রমজানের আধ্যাত্মিকতা ছাপিয়ে দামের চাপই প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে উঠবে।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *