আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে খুব শিগগিরই আরও ১০ হাজার নতুন কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র পেলেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। এছাড়া পুলিশ সার্জেন্টের ১৮০টি শূন্য পদও দ্রুত পূরণ করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন বাংলাদেশ পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটের মুখোমুখি। দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শহরায়ন এবং নানা ধরনের অপরাধের চাপে পুলিশের মাঠপর্যায়ের কাজকর্মে চাপ পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকার আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে পুলিশকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে।
এর অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ২ হাজার ৭০১ জন কনস্টেবল নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন ১০ হাজার নতুন কনস্টেবলের ঘোষণা এই প্রচেষ্টাকে আরও বেগবান করবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “পুলিশের জনবল বৃদ্ধির জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া মাত্রই এই ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের কাজ শুরু হয়ে যাবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পুলিশ সার্জেন্টের শূন্য পদগুলো পরীক্ষার মাধ্যমে দ্রুত পূরণ করা হবে। এই উদ্যোগগুলো পুলিশ বাহিনীর মধ্যবর্তী ও নিম্নস্তরের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।
পুলিশের জনবল সংকট নিয়ে বিশেষজ্ঞরা অনেকদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের মোট জনবল প্রায় ২ লাখের কাছাকাছি, যার মধ্যে কনস্টেবলরা সবচেয়ে বড় অংশ। কিন্তু জনসংখ্যার অনুপাতে পুলিশের সংখ্যা অনেক কম। এই নতুন নিয়োগ পুলিশের মাঠপর্যায়ে আরও বেশি সদস্য মোতায়েন করতে সাহায্য করবে, যা থানা-পুলিশিং, টহল, তদন্ত এবং জরুরি সাড়াদানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলে যোগ্য তরুণ-তরুণীদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি হবে। সাম্প্রতিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিগুলোতে দেখা গেছে, ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে আবেদনের জন্য এসএসসি পাস (জিপিএ ২.৫) এবং নির্দিষ্ট শারীরিক যোগ্যতা প্রয়োজন। অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।


