প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশকে সব নারী ও কন্যাশিশুর জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ দেশে পরিণত করা হবে। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যা নারী ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তার প্রতি সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘অধিকার। ন্যায়বিচার। কর্ম’কে সামনে রেখে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, অদম্য মনোবলই নারীর সবচেয়ে বড় অস্ত্র। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, খালেদা জিয়ার নারীশক্তি ছিল তার অটল দৃঢ়তায়, আর নেতৃত্বের শক্তি ছিল অপরিসীম সাহসে। গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় তার অবদানকে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ হিসেবে স্মরণ করে তিনি বলেন, এই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে নারীরা যখন এগিয়ে যাবেন, জাতিও তখন এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. জুবাইদা রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এবং নারীর নিরাপত্তা ছাড়া উন্নয়নের সুফল অর্জন অসম্ভব বলে মন্তব্য করেন। ডা. জুবাইদা রহমান সততা, মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের অঙ্গীকার নিয়ে নারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সম্মান নিশ্চিত হলে পরিবার থেকে শুরু করে জাতীয় উন্নয়নের পথ সুগম হয়।
এই বক্তব্যের পটভূমিতে রয়েছে বাংলাদেশের নারীদের বর্তমান চ্যালেঞ্জ। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নারী ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সরকার নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে বিশেষ জোর দিচ্ছে। ডা. জুবাইদা রহমানের এই আশাবাদ অনেকের কাছে প্রতিশ্রুতিশীল মনে হলেও, বাস্তবায়নের পথে রয়েছে সামাজিক রক্ষণশীলতা, আইনি জটিলতা ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের মতো বাধা। তবু তার কথায় ফুটে উঠেছে একটি সমতাভিত্তিক সমাজের স্বপ্ন, যেখানে নারীরা ভয়মুক্ত হয়ে বাঁচতে পারবে।
অনুষ্ঠানে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা প্রদান করা হয়, যা নারীদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি উদ্যোগ। ডা. জুবাইদা রহমান এই সম্মানিত নারীদের সঙ্গে ছবি তুলে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।


