TT Ads

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে মুক্ত ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যমের কোনো বিকল্প নেই। ফ্যাসিবাদী চরিত্রের মতো সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা দিয়ে মুখ বন্ধ করে দেওয়ার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তিনি সকল রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বুধবার রাজধানীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত ইফতার ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পেশাজীবী সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত এই মিলনমেলায় মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সাংবাদিকদের ওপর আর যেন ফ্যাসিস্টদের মতো চড়াও না হই, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। মুক্ত গণমাধ্যম সবার প্রত্যাশা।” তার এই মন্তব্যে দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকদের ওপর হওয়া নানা ধরনের নিপীড়নের ইতিহাসের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বাংলাদেশকে একটি উদারপন্থি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার অনন্য সুযোগ এনে দিয়েছে। তিনি আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিতব্য সংসদীয় অধিবেশনকে ‘ইতিহাসের অংশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “আগামীকাল ইতিহাস রচিত হতে যাচ্ছে। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সংসদ বসছে।” এ সময় তিনি আগামী দিনের রাজনীতিতে এই সংসদকে সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার আহ্বান জানান। তার মতে, প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীন চর্চা এবং আইনসভার কার্যকর ভূমিকা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন গত ১৭ বছরে সাংবাদিকদের ওপর হওয়া নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘ সাড়ে সতেরো বছর অনেক সাংবাদিক নির্যাতিত হয়েছেন, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন। এমন পরিস্থিতি যেন ভবিষ্যতে আর কখনো না হয়, সেদিকে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।” তিনি সাংবাদিকদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসনের প্রতিও এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের তাগিদ দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিইউজে সভাপতি ও বিএফইউজে’র সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। এ সময় তারা পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি বেশ কিছু দাবি জানান। সাংবাদিক নেতারা বলেন, শুধু আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, বাস্তবক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ওপর যেকোনো ধরনের হামলার ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশের সাংবাদিকতা অঙ্গনে স্বাধীনতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি তীব্র বক্তৃতা চলছে। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সাংবাদিকের ওপর হামলা, সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ‘ফ্যাসিস্টদের মতো চড়াও’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে তিনি অতীতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়নের প্রবণতাকে পরোক্ষভাবে তিরস্কার করেছেন।

মন্ত্রী ও সমাজকল্যাণমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে সামনের দিনে সরকার সাংবাদিকদের জন্য আরও সুরক্ষিত পেশাগত পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায় বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই বক্তব্য বাস্তবে রূপ নেয় কিনা, তা নির্ভর করছে ভবিষ্যতে কোনো সাংবাদিক সংকটে পড়লে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলো কতটা দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয় তার ওপর।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *