শুক্রবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও পার্শ্ববর্তী ভারতের কিছু এলাকায় মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা। ইউরো-মেডিটেরিনিয়ান সিসমোলজিকাল সেন্টার (ইএমএসসি) অনুসারে রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ৫.৩। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এটি ছিল শক্তিশালী ঝাঁকুনি—যেন ভবনগুলো গাছের ডালের মতো দুলছিল। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
দুপুরের জুমার নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই এই কম্পন শুরু হয়। সাতক্ষীরা সদরের বাসিন্দা মৃত্যুঞ্জয় রায় বলেন, “বিছানায় শুয়ে ছিলাম, হঠাৎ মনে হলো পুরো ঘরটা দুলছে। পরিবারের সবাই দ্রুত নিচে নেমে এসেছে।” আশাশুনিতে অনেকে মসজিদ থেকে বেরিয়ে রাস্তায় ছুটে যান। খুলনা, যশোর, বরিশালসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় এবং কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের কিছু এলাকায়ও কম্পন টের পাওয়া যায়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, উৎপত্তিস্থল খুলনা শহর থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং সাতক্ষীরা থেকে ১৮-২৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। গভীরতা ছিল ৩৫ কিলোমিটার, যা মাঝারি গভীরতা হিসেবে বিবেচিত।
এই ভূমিকম্প ফেব্রুয়ারি মাসের দশমটি। মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত এত ঘন ঘন কম্পন বাংলাদেশে অস্বাভাবিক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ—বাংলাদেশ ১৩টি সক্রিয় ফল্ট লাইনের মধ্যে অবস্থিত। সাম্প্রতিক কম্পনগুলোর মধ্যে কয়েকটি মিয়ানমার, সিলেট, সুনামগঞ্জ ও সিকিম থেকে উদ্ভূত। এই ঘন ঘন কম্পনকে ‘সিসমিক সোয়ার্ম’ বা প্রস্তুতিমূলক কম্পন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা বড় ভূমিকম্পের আগে ঘটতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেন, এটি সরাসরি বড় ভূমিকম্পের নিশ্চয়তা দেয় না।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, কোনো ভবন ধস বা গুরুতর ক্ষতির খবর নেই। তবে আতঙ্কে অনেকে রাস্তায় নেমে এসেছেন। সরকারি কর্তৃপক্ষ জনগণকে শান্ত থাকতে এবং ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরামর্শ দিয়েছে।
ভূমিকম্পের মূল তথ্য:
– তারিখ ও সময়: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দুপুর ১:৫২ মিনিট
– মাত্রা: রিখটার স্কেলে ৫.৩ (ইএমএসসি); কিছু সূত্রে ৫.৪
– উৎপত্তিস্থল: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা
– গভীরতা: ৩৫ কিলোমিটার
– অনুভূত এলাকা: ঢাকা, খুলনা, যশোর, বরিশাল, কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের কিছু অংশ
– ফেব্রুয়ারিতে মোট কম্পন: ১০টি
– ক্ষয়ক্ষতি: তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় ক্ষতি বা হতাহতের খবর নেই
বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। এই ঘন ঘন কম্পন জাতিকে সতর্ক করে দিচ্ছে—ভবন নির্মাণে কোড মেনে চলা, জরুরি প্রস্তুতি ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।


