বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচন যদি সত্যিকারের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিতর্কমুক্ত হয়, তাহলে তাঁর দল ফলাফল অবশ্যই মেনে নেবে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ঢাকার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। এই বক্তব্য এসেছে এমন এক দিনে যখন বাংলাদেশ ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবের পর নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু করেছে।
তারেক রহমানের এই মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। তিনি বলেন, “নির্বাচন যদি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিতর্কহীন হয়, তাহলে কেন মেনে নেব না? আমরা সব দলই মেনে নেব। তবে একটি শর্ত আছে— নির্বাচন নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হতে হবে। জনগণ ভোট দিলে আজ থেকেই দেশে গণতান্ত্রিক সূচনা হতে পারে।” এর মাধ্যমে তিনি শুধু ফলাফল গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেননি, বরং ভোটারদের অংশগ্রহণকে নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখিয়েছেন।
এই নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বিশেষ অধ্যায়। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হয়। তারপর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এই প্রথম সাধারণ নির্বাচন। তারেক রহমান, যিনি ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ডিসেম্বরে দেশে ফিরেছেন, এখন বিএনপির প্রধান নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী পদের অন্যতম দাবিদার। সকালে গুলশান মডেল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে তিনি আশাবাদী কণ্ঠে বলেন, জনগণের ভোটের মাধ্যমে দেশে আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং নতুন পথে এগোনো সম্ভব।
পরিদর্শনের সময় তিনি কয়েকটি কেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনা এবং বিভ্রান্তির চেষ্টার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেখা যাচ্ছে, যা মেনে নেওয়া যাবে না। তবে জনগণ যদি ভোট দিতে আসে, তাহলে যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া সম্ভব। ফলাফল দ্রুত ঘোষণার দাবি জানিয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনকে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান, যাতে কোনো বিভ্রান্তি না ছড়ায়।
বিএনপির এই অবস্থান জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে মিলে যায়। দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলই সুষ্ঠু নির্বাচনের শর্তে ফল মেনে নেওয়ার কথা বলেছে। এতে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার আশা জাগছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ অনেকেই এই নির্বাচনকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সুযোগ হিসেবে দেখছেন।


