TT Ads

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে হত্যা করা হয়েছিল শুধু সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ বুধবার রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। ২০০৯ সালের এই দিনকে জাতির জন্য লজ্জার ও কলঙ্কজনক অধ্যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি ছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্র।

এই মন্তব্য জাতীয় শহীদ সেনা দিবসের প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে বিদ্রোহের নামে চলে নির্মম হত্যাযজ্ঞ। ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। এই ঘটনা দেশের সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকে মনে করেন, এটি ছিল শুধু বিদ্রোহ নয়, বরং পরিকল্পিত আক্রমণ যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করার লক্ষ্যে হয়েছিল।

মন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর চৌকস অংশকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা হয়। কিন্তু জনগণের ঐক্য ও স্বাধীনতার চেতনা দিয়ে দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তিনি জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করাই এখন মূল লক্ষ্য। অতীতের মতো দেশকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার সুযোগ এসেছে।

পিলখানা ট্র্যাজেডির পর বিভিন্ন তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে, বিচার চলেছে। কিন্তু পরিকল্পনাকারীদের পূর্ণাঙ্গ শনাক্তকরণ ও বিচার নিয়ে প্রশ্ন অমীমাংসিত রয়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন সরকারের অধীনে এই ঘটনার পুনর্বিচারের দাবি উঠেছে। মন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট যে, সরকার এই ঘটনাকে জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করে দেখছে।

এই দিবসে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। মির্জা ফখরুলের মন্তব্য সরকারের অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে—যে এই হত্যাকাণ্ডকে শুধু অতীতের ঘটনা হিসেবে নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও ঐক্যের প্রশ্ন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *