ময়মনসিংহ নগরীতে দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা ঘুম থেকে না ওঠায় দরজা ভেঙে মো. সোহান (১৯) নামে এক শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ।
সোমবার (২ মার্চ) বিকেল ৪টার পর সানকিপাড়া এলাকার একটি ছাত্র মেসে এ ঘটনা ঘটে। উদ্ধার অভিযানের ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
সানকিপাড়া হেলথ অফিসার গলির ওই মেসে বসবাস করতেন সোহান। সহপাঠী ও মেসের অন্য শিক্ষার্থীরা জানান, সকাল থেকেই তার কক্ষে কোনো সাড়া-শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। বারবার দরজায় কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া মিলছিল না। দুপুর গড়ানোর পরও একই পরিস্থিতি থাকায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
মেসের এক বাসিন্দা বলেন, “সাধারণত সকালে সোহান ক্লাস বা কোচিংয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিত। কিন্তু সেদিন সকাল ৯টার পরও তার দরজা বন্ধ ছিল। ফোনেও কল দেওয়া হয়, কিন্তু রিসিভ করেনি।” প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, হয়তো অসুস্থ বা গভীর ঘুমে আছেন। তবে দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পাওয়ায় বিকেলে বিষয়টি স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। কক্ষের ভেতরে সোহানকে ঘুমন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে দেখা যায়, তিনি জীবিত এবং তেমন কোনো শারীরিক জটিলতা নেই। এ ঘটনায় স্বস্তি ফিরে আসে সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে।
উদ্ধার অভিযানের একটি ভিডিও ঘটনাস্থলে উপস্থিত কেউ মোবাইল ফোনে ধারণ করে ফেসবুকে প্রকাশ করেন। মুহূর্তেই সেটি ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা সতর্কতার সঙ্গে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করছেন। ভিডিও ঘিরে নানা মন্তব্যও দেখা গেছে—কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কেউ আবার শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, “প্রাথমিকভাবে এটি কোনো অপরাধজনিত ঘটনা বলে মনে হয়নি। দীর্ঘ সময় দরজা বন্ধ থাকায় নিরাপত্তাজনিত কারণে উদ্ধার করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোই সঠিক পদক্ষেপ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ঘুমের সমস্যা বা শারীরিক ক্লান্তি তরুণদের মধ্যে গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের কারণ হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাত জাগা, অনলাইন নির্ভরতা এবং অনিয়ন্ত্রিত রুটিন এখন সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে পরিবার ও সহপাঠীদের নজরদারি ও খোঁজখবর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।


