TT Ads

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে ঢাকা–১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে—এমন ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাড্ডায় এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

নির্বাচনী মাঠে রাজনৈতিক উত্তাপ যখন ক্রমেই বাড়ছে, তখন ১১ দলীয় জোটের এই ঘোষণা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এই জোট কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়, বরং একটি জবাবদিহিমূলক ও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই নির্বাচন করছে।” সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নাহিদ ইসলামকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

ডা. শফিকুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, নাহিদ ইসলাম তরুণ নেতৃত্বের প্রতীক এবং রাজনীতিতে নতুন ধারার প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি বলেন, “রাজনীতিতে সততা, যোগ্যতা ও জনসম্পৃক্ততাকে গুরুত্ব দিতে চাই আমরা। নাহিদ ইসলাম সেই মানদণ্ড পূরণ করেন বলেই তাকে মন্ত্রী করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।” জনসভায় উপস্থিত সমর্থকদের করতালিতে বক্তব্যটি তাৎক্ষণিকভাবে সমর্থন পায়।

ঢাকা–১১ আসনকে কেন্দ্র করে এবার নির্বাচন ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ তীব্র। নগরভিত্তিক এই আসনে তরুণ ভোটার ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রভাব তুলনামূলক বেশি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নাহিদ ইসলামকে সামনে রেখে মন্ত্রীত্বের ঘোষণা দেওয়া মূলত এই ভোটারদের আকৃষ্ট করার কৌশল। একই সঙ্গে এটি জোটের মধ্যে এনসিপির অবস্থানকে আরও দৃশ্যমান করল।

নাহিদ ইসলাম নিজেও জনসভায় উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচন জিতলে এলাকার নাগরিক সমস্যা—বিশেষ করে যানজট, জলাবদ্ধতা, আবাসন সংকট ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে মন্ত্রীত্বের ঘোষণাকে তিনি “ব্যক্তিগত সম্মান নয়, বরং দায়িত্বের আহ্বান” হিসেবে দেখছেন বলে মন্তব্য করেন।

১১ দলীয় জোটের নেতারা দাবি করছেন, এই জোটের রাজনীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে সংস্কার, স্বচ্ছতা এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। জনসভায় আরও বলা হয়, অতীতের রাজনীতির পুনরাবৃত্তি নয়, বরং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়াই তাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য পূরণে তরুণ ও পেশাজীবী নেতৃত্বকে সামনে আনার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।

তবে বিরোধী রাজনৈতিক শিবির এই ঘোষণাকে “নির্বাচনের আগেই ক্ষমতার ভাগবাটোয়ারা” বলে সমালোচনা করছে। তাদের দাবি, ভোটের ফলাফল আসার আগেই মন্ত্রীত্বের ঘোষণা নির্বাচনী শিষ্টাচারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যদিও জোট নেতারা এ সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে বলছেন, এটি কেবল রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রকাশ।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের ঘোষণা নির্বাচনী প্রচারণায় তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেললেও দীর্ঘমেয়াদে ভোটাররা কর্মসূচি ও বিশ্বাসযোগ্যতাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়। ফলে এই ঘোষণার বাস্তব রাজনৈতিক প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ের প্রচারণা ও ভোটের দিনে জনমতের ওপর।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *