ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে, যাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬০ জন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে। এই হামলা ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযানের অংশ, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

এই ঘটনা ঘটেছে আজ সকালে, যখন বিদ্যালয়ে প্রায় ১৭০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। মিনাবের শাজারেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, যার ফলে ভবনের বড় অংশ ধসে পড়ে। স্থানীয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাদমেহর জানিয়েছেন, “ইসরাইল সরাসরি এই বিদ্যালয়কে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।” উদ্ধারকাজ চলছে, এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই হামলা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ইসরাইল-ইরান সংঘাতের একটি দুঃখজনক অধ্যায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ “বড় ধরনের যুদ্ধ অভিযান” ঘোষণা করেছেন, যার অংশ হিসেবে ইসরাইলের সঙ্গে মিলে ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হচ্ছে।

ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরাইল এবং মার্কিন ঘাঁটিতে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এই সংঘাত ২০২৫ সালের জুন মাসের অভিযানের পর নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে, যেখানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলা সামরিক লক্ষ্যের বাইরে গিয়ে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানায় মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি থেকে প্রচারিত ছবিতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে লোকজন উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে, ধোঁয়া উঠছে এবং পরিবারের সদস্যরা কাঁদছেন। এই দৃশ্য মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের নির্মমতাকে তুলে ধরে, যেখানে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এদিকে, তেহরানের পূর্বাঞ্চলে আরেকটি বিদ্যালয়ে হামলায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে বলে মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে। এই ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব বলেছেন, বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে “রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ” বলে অভিহিত করেছে এবং পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

হামলার পরের ছবিতে বিদ্যালয়ের ধ্বংসাবশেষ এবং উদ্ধারকর্মীদের দেখা যায়, যা এই ট্র্যাজেডির মর্মস্পর্শী চিত্র তুলে ধরে।

এই সংঘাতের প্রভাব বিশ্বব্যাপী পড়ছে। তেলের দাম বেড়েছে, এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে প্রবাসী শ্রমিকরা চিন্তিত, কারণ এই অঞ্চলে তাদের অনেকে কর্মরত। সরকারকে এখনই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে যাতে যুদ্ধ ছড়িয়ে না পড়ে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এই নির্বাচনকে তিনি দশকেরও বেশি সময়ের ত্যাগ ও সংগ্রামের ফল হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা দেশের রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।

রমজানের এই পবিত্র মাসে রাজনৈতিক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ দেখা গেল চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে এই ইফতার মাহফিলে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতি এই অনুষ্ঠানকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। তিনি বলেন, “আজ আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সবাই এখানে একত্রিত হয়েছি। কিছুদিন আগে দেশে নির্বাচন হয়েছে, এ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পটভূমিতে রয়েছে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ। গত বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের বিজয়ের পর তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এই নির্বাচনকে অনেকে ‘পরিবর্তনের নির্বাচন’ বলে অভিহিত করেছেন, যা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের পর দেশে নতুন যুগের সূচনা করেছে। কিন্তু বিরোধী দলগুলো এই নির্বাচনকে ‘অস্বচ্ছ’ বলে সমালোচনা করেছে, যদিও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এটিকে মোটামুটি সুষ্ঠু বলে মেনে নিয়েছেন।

তারেক রহমান তার ভাষণে গণতন্ত্রের জন্য বাংলাদেশের মানুষের ত্যাগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “যে গণতন্ত্রের জন্য বাংলাদেশের মানুষ প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অকাতরে জীবন দিয়েছে, বিভিন্ন অত্যাচার-নির্যাতন, গুম-খুনের শিকার হয়েছে।

এত ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজকের এই গণতন্ত্রের যাত্রা যেটি সূচনা হচ্ছে বা হয়েছে, নির্বাচনের মাধ্যমে সেটির সুযোগ পেয়েছি।” এই কথাগুলো শ্রোতাদের মধ্যে গভীর অনুরণন সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে যারা অতীতের রাজনৈতিক সংগ্রামের সাক্ষী।

জামায়াতে ইসলামীর এই আয়োজনকে অনেকে রাজনৈতিক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে দেখছেন। দলটি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ ছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক নির্বাচনে তারা জোটের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণ করে সাফল্য অর্জন করেছে।

ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের আমিরসহ অন্যান্য নেতারা, যারা প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন। একজন জামায়াত নেতা বলেন, “এই নির্বাচন গণতন্ত্রের পথ প্রশস্ত করেছে, এখন সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।”

এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তারেক রহমানের সরকার এখন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। অতীতের অভিযোগগুলো—যেমন গুম, খুন এবং নির্যাতন—যেন না ফিরে আসে, সেজন্য সরকারকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তবে এই ইফতার মাহফিলের মতো অনুষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক বিভেদ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে বিশ্বের সবচেয়ে সংবেদনশীল জ্বালানি করিডর—হরমুজ প্রণালি। ভারতের ইকুইরাস সিকিউরিটিজের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইরান যদি প্রতিশোধ হিসেবে এই প্রণালি বন্ধ করে দেয় বা তেল সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায়, তাহলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫ থেকে ১১০ ডলার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।

বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ঘুরপাক খাচ্ছে ৭০-৭৩ ডলারের আশপাশে, কিন্তু এই সংকট গড়ালে বিশ্ব অর্থনীতিতে ঝড় উঠবে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সরু জলপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল ও প্রচুর এলএনজি পরিবহন হয়, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ২০-২৫ শতাংশ। ইরানের উপকূলঘেঁষা এই প্রণালি তাদের জন্য কৌশলগত অস্ত্রের মতো। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর তেহরানের প্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

ইকুইরাসের প্রতিবেদন অনুসারে, শুধু ইরানের নিজস্ব তেল উৎপাদন ব্যাহত হলেও দাম ৯-১৫ শতাংশ বাড়তে পারে। আর প্রণালি বন্ধ হলে ভূ-রাজনৈতিক প্রিমিয়াম যোগ হয়ে দাম আরও অনেকটা ঊর্ধ্বমুখী হবে।

ইরান বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৩৩ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে, যা বিশ্ব সরবরাহের প্রায় ৩ শতাংশ। এর মধ্যে বড় অংশ রপ্তানি হয়, বিশেষ করে চীনে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরবরাহে প্রতি ১ শতাংশ কমতি হলে তেলের দাম সাধারণত ৩-৫ শতাংশ বাড়ে।

সে হিসেবে ইরানের তেলই ব্যাহত হলে দাম ৯-১৫ শতাংশ ঊর্ধ্বগতি দেখতে পারে। কিন্তু বাজার যুদ্ধকে লিনিয়ারভাবে মূল্যায়ন করে না। প্রণালির ঝুঁকি দেখা দিলে ২০-৪০ ডলারের অতিরিক্ত প্রিমিয়াম যোগ হতে পারে, যা দামকে ৯৫-১১০ ডলারের দিকে ঠেলে দিতে সক্ষম।

এই উত্তেজনা শুধু তেলের দাম নয়, বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলেছে। বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প—সবকিছুতেই খরচ বেড়ে যাবে। প্রবাসী রেমিট্যান্সও চাপে পড়তে পারে যদি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হয়। ওপেক+ দেশগুলোর অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা কিছুটা সামলাতে পারলেও, প্রণালির মতো চোকপয়েন্ট বন্ধ হলে বিকল্প পথ খুব সীমিত।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান নিজেও এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। বন্ধ করলে তাদের রপ্তানিও ব্যাহত হবে, যা অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে। তবু, প্রতিশোধের রাজনীতিতে এমন ঝুঁকি নেওয়া অসম্ভব নয়। বর্তমানে বাজারে ইতিমধ্যে ৭-১০ ডলারের ভূ-রাজনৈতিক প্রিমিয়াম যোগ হয়েছে। সংঘাত আরও বাড়লে এটি আরও বেড়ে যাবে।

 

মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তাদের সব যাত্রীবাহী ফ্লাইট স্থগিত করেছে। ইসরাইলের পর বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার এবং সৌদি আরবে চলমান অস্থিরতার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম আজ শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা করেন, যা লাখো প্রবাসী বাংলাদেশির জীবনযাত্রায় বড় ধাক্কা দেবে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চলগুলো বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লাখ লাখ বাংলাদেশি সেখানে কর্মরত, যাদের মাধ্যমে দেশে বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স আসে। কিন্তু সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো—যা সন্ত্রাসবাদী হামলা বা আঞ্চলিক সংঘাতের ফল বলে মনে করা হচ্ছে—যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই স্থগিতাদেশ অস্থায়ী, কিন্তু কখন স্বাভাবিক হবে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর। বিজ্ঞপ্তিতে স্থগিত ফ্লাইটের সংখ্যা বা যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি, যা যাত্রীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটগুলো মূলত ঢাকা থেকে দুবাই, আবুধাবি, দোহা, কুয়েত সিটি, মানামা এবং রিয়াদের মতো গন্তব্যে চলাচল করে। এই রুটগুলো প্রবাসীদের জন্য লাইফলাইনের মতো। বিস্ফোরণের খবর প্রকাশের পর থেকে যাত্রীরা বিমানের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করছেন, কিন্তু স্পষ্ট উত্তর না পেয়ে হতাশ হচ্ছেন।

একজন প্রবাসী শ্রমিক, যিনি কুয়েতে কর্মরত, নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরতে চাই, কিন্তু এখন ফ্লাইট না চললে কী করব? অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক চাপও বাড়ছে।”

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। ইসরাইলে প্রথম বিস্ফোরণের পর অন্যান্য দেশে অনুরূপ ঘটনা ঘটায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি হতে পারে ইরান-ইসরাইল সংঘাতের প্রতিক্রিয়া বা অন্য কোনো গোষ্ঠীর কার্যকলাপ।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে, প্রবাসীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিমানের এ সিদ্ধান্ত অন্যান্য এয়ারলাইন্সকেও প্রভাবিত করতে পারে, যেমন এমিরেটস বা কাতার এয়ারওয়েজ, যারা বাংলাদেশে চলাচল করে।

যাত্রীদের সুবিধার্থে বিমান কর্তৃপক্ষ বলেছে, স্থগিত ফ্লাইটের টিকিটধারীদের রিফান্ড বা বিকল্প তারিখে টিকিট দেওয়া হবে। কিন্তু বিস্তারিত প্রক্রিয়া নিয়ে এখনও স্পষ্টতা নেই। এদিকে, বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য হোটেল ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে, তবে সংখ্যা অজানা।

এই সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে, কারণ মধ্যপ্রাচ্য থেকে রেমিট্যান্সের প্রবাহ কমলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চাপে পড়তে পারে।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা কিছুটা কমাতে বড় সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

আগামী ৩ মার্চ (মঙ্গলবার) সকাল থেকে দূরপাল্লার বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। এদিন থেকে যাত্রীরা ১২ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত যেকোনো তারিখের টিকিট কিনতে পারবেন—কাউন্টারে গিয়ে অথবা অনলাইনে। গাবতলী বাস টার্মিনালে আজ শনিবার অ্যাসোসিয়েশনের এক সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

ঈদের সময় সড়কপথে যাতায়াত সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়ে। লাখ লাখ মানুষ গ্রামের বাড়িতে ফেরেন আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে। কিন্তু টিকিট না পাওয়া, অতিরিক্ত ভাড়া, কালোবাজারি—এসব সমস্যা প্রতি বছরই যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ায়। এবার অগ্রিম বিক্রির সিদ্ধান্ত যাত্রীদের জন্য স্বস্তির খবর। অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানিয়েছেন, এতে ঈদের আগের দিনগুলোতে টিকিট-সংকট অনেকটা কমবে এবং যাত্রীরা পরিকল্পিতভাবে যাত্রা করতে পারবেন।

সভায় অ্যাসোসিয়েশনের নেতা রাকেশ বলেন, “৩ মার্চ সকাল থেকেই কাউন্টার ও অনলাইন—দুই মাধ্যমে টিকিট বিক্রি শুরু হবে। যাত্রীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে পছন্দের বাস, সময় এবং আসন নির্বাচন করে টিকিট কিনতে পারবেন। প্রথম দিনে ১২ মার্চের যাত্রার টিকিট দেওয়া হবে, পরবর্তী দিনগুলোতে পর্যায়ক্রমে অন্য তারিখের টিকিট মিলবে।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে এক টাকাও অতিরিক্ত নেওয়া যাবে না। কোনো অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে আলোচনা চলছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, রমজান ৩০ দিন পূর্ণ হলে বাংলাদেশে ২১ মার্চ (শনিবার) ঈদ উদযাপিত হতে পারে। সরকারি ছুটির তালিকায় ঈদের ছুটি ১৯ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে ১২ মার্চ থেকে যাত্রা শুরু করে যাত্রীরা ঈদের আগেই বাড়ি পৌঁছাতে পারবেন। এই সময়সীমা যাত্রীদের জন্য যথেষ্ট সুবিধাজনক।

অগ্রিম টিকিট ব্যবস্থা শুধু সুবিধাই নয়, এতে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমবে বলে মনে করেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। শেষ মুহূর্তে টিকিটের জন্য ছোটাছুটি করে অতিরিক্ত চাপে চালকরা গাড়ি চালান, যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। অগ্রিম বিক্রি চালু হলে যাত্রীরা শান্তিতে পরিকল্পনা করতে পারবেন।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, সরকার গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে বরিশাল সার্কিট হাউজে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জনগণের কাছে অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত নিয়ে জবাবদিহিতার পরিধি নির্ধারণ করা হবে—এবং সেই কাঠামোর মধ্যেই গণমাধ্যমকে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা দেওয়া হবে।

নতুন সরকার গঠনের পরপরই তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া জহির উদ্দিন স্বপনের এই বক্তব্য গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। বরিশাল সার্কিট হাউজে জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা এবং সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা শুধু স্বাধীনতা দেব না, সেই স্বাধীনতার সঙ্গে জবাবদিহিতার ভারসাম্যও রক্ষা করব। সাংবাদিক, প্রকাশক, সম্পাদক—সবার সঙ্গে আলোচনা করে এই কাঠামো তৈরি হবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তিনির্ভর। কিন্তু বাংলাদেশের গণমাধ্যম ব্যবস্থা এখনও সেই আধুনিক ইকোসিস্টেমের সঙ্গে পুরোপুরি যুক্ত হতে পারেনি। তথ্য মন্ত্রণালয় যখন গড়ে উঠেছিল, তখন অনলাইন, সোশ্যাল মিডিয়া বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অস্তিত্বই ছিল না। আজকের দ্রুতগতির ডিজিটাল যুগে নতুন ধরনের গণমাধ্যমের প্রসার ঘটেছে—যেমন ইউটিউব চ্যানেল, অনলাইন পোর্টাল, সোশ্যাল মিডিয়া-ভিত্তিক সংবাদ। এসবের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য গণমাধ্যমের ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন করতে হবে। মন্ত্রী বলেন, “আমরা সামগ্রিকভাবে গণমাধ্যমকে একটা আধুনিক ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে আনতে চাই। এতে জনগণের তথ্যের অধিকার আরও শক্তিশালী হবে।”

এই ঘোষণা নতুন সরকারের অধীনে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক সমাজ অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও স্বাধীনতার দাবি করে আসছে। মন্ত্রীর কথায় সেই দাবির প্রতি সাড়া মিলেছে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, জবাবদিহিতার কাঠামো কীভাবে নির্ধারিত হবে, সেটাই মূল চ্যালেঞ্জ। যাতে স্বাধীনতা খর্ব না হয়, সেই ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি।

 

শুক্রবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও পার্শ্ববর্তী ভারতের কিছু এলাকায় মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা। ইউরো-মেডিটেরিনিয়ান সিসমোলজিকাল সেন্টার (ইএমএসসি) অনুসারে রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ৫.৩। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এটি ছিল শক্তিশালী ঝাঁকুনি—যেন ভবনগুলো গাছের ডালের মতো দুলছিল। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

দুপুরের জুমার নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই এই কম্পন শুরু হয়। সাতক্ষীরা সদরের বাসিন্দা মৃত্যুঞ্জয় রায় বলেন, “বিছানায় শুয়ে ছিলাম, হঠাৎ মনে হলো পুরো ঘরটা দুলছে। পরিবারের সবাই দ্রুত নিচে নেমে এসেছে।” আশাশুনিতে অনেকে মসজিদ থেকে বেরিয়ে রাস্তায় ছুটে যান। খুলনা, যশোর, বরিশালসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় এবং কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের কিছু এলাকায়ও কম্পন টের পাওয়া যায়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, উৎপত্তিস্থল খুলনা শহর থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং সাতক্ষীরা থেকে ১৮-২৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। গভীরতা ছিল ৩৫ কিলোমিটার, যা মাঝারি গভীরতা হিসেবে বিবেচিত।

এই ভূমিকম্প ফেব্রুয়ারি মাসের দশমটি। মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত এত ঘন ঘন কম্পন বাংলাদেশে অস্বাভাবিক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ—বাংলাদেশ ১৩টি সক্রিয় ফল্ট লাইনের মধ্যে অবস্থিত। সাম্প্রতিক কম্পনগুলোর মধ্যে কয়েকটি মিয়ানমার, সিলেট, সুনামগঞ্জ ও সিকিম থেকে উদ্ভূত। এই ঘন ঘন কম্পনকে ‘সিসমিক সোয়ার্ম’ বা প্রস্তুতিমূলক কম্পন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা বড় ভূমিকম্পের আগে ঘটতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেন, এটি সরাসরি বড় ভূমিকম্পের নিশ্চয়তা দেয় না।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, কোনো ভবন ধস বা গুরুতর ক্ষতির খবর নেই। তবে আতঙ্কে অনেকে রাস্তায় নেমে এসেছেন। সরকারি কর্তৃপক্ষ জনগণকে শান্ত থাকতে এবং ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরামর্শ দিয়েছে।

ভূমিকম্পের মূল তথ্য:

– তারিখ ও সময়: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দুপুর ১:৫২ মিনিট
– মাত্রা: রিখটার স্কেলে ৫.৩ (ইএমএসসি); কিছু সূত্রে ৫.৪
– উৎপত্তিস্থল: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা
– গভীরতা: ৩৫ কিলোমিটার
– অনুভূত এলাকা: ঢাকা, খুলনা, যশোর, বরিশাল, কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের কিছু অংশ
– ফেব্রুয়ারিতে মোট কম্পন: ১০টি
– ক্ষয়ক্ষতি: তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় ক্ষতি বা হতাহতের খবর নেই

বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। এই ঘন ঘন কম্পন জাতিকে সতর্ক করে দিচ্ছে—ভবন নির্মাণে কোড মেনে চলা, জরুরি প্রস্তুতি ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

ভাষা আন্দোলনের চেতনায় উজ্জীবিত অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর দ্বার খুললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই মাসব্যাপী গ্রন্থমেলার শুভ সূচনা করেন তিনি। পবিত্র রমজান মাসের কারণে এবারের সময়সূচিতে এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন—প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে, আর ছুটির দিনগুলোতে শিশুপ্রহরের ব্যবস্থা থাকবে। আজ শুক্রবার প্রথম শিশুপ্রহর উদযাপিত।

দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও আলোচনার পর এবারের বইমেলা শুরু হয়েছে ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধনী ভাষণে বলেন, এই মেলা শুধু বই বিক্রির আয়োজন নয়, বরং জাতির মেধা-মননের প্রতিফলন। তিনি একুশে বইমেলাকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতির জন্য চলমান প্রচেষ্টার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। উদ্বোধনের পর তিনি স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে বিভিন্ন স্টলে ঘুরে বই কেনেন এবং প্রকাশক-লেখকদের সঙ্গে কথা বলেন।

এবার রমজানের কথা মাথায় রেখে সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণ দিনগুলোতে মেলা খোলা থাকবে দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত; রাত সাড়ে ৮টার পর প্রবেশ বন্ধ। শুক্র-শনিবারসহ ছুটির দিনে শিশুপ্রহর থাকবে বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত—এ সময় শিশু-কিশোরদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ থাকবে। এরপর সবার জন্য মেলা খোলা থাকবে রাত ৯টা পর্যন্ত। এই পরিবর্তন পাঠকদের রোজা রেখে আরামে মেলায় আসার সুযোগ করে দিয়েছে।

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান জুড়ে বিস্তৃত এই মেলায় অংশ নিয়েছে প্রায় ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, পরিবেশবান্ধব আয়োজন রাখা হয়েছে। তারাবি নামাজের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। উদ্বোধনের দিন কিছু স্টলের প্রস্তুতি অসম্পূর্ণ থাকলেও দ্রুত সাজানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।

অমর একুশে বইমেলা বাঙালির অহংকারের প্রতীক। রমজানের মধ্যেও এর উৎসবমুখরতা অটুট থাকবে—এটাই আশা। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে যদি এই মেলা আন্তর্জাতিক রূপ নেয়, তাহলে বাংলা সাহিত্য বিশ্বমঞ্চে আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় তারকা জুটি বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা অবশেষে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) রাজস্থানের উদয়পুরের বিলাসবহুল রিসোর্টে ঘনিষ্ঠ পরিবার ও বন্ধুদের উপস্থিতিতে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এই দম্পতি নিজেদের বিয়ের নাম দিয়েছেন ‘দ্য ওয়েডিং অব বিরোশ’। খরচের অঙ্ক নিয়ে এখন চলছে তুমুল আলোচনা—একটি রাজকীয় আয়োজনে কয়েক কোটি রুপি ব্যয়ের খবরে ভক্তরা অবাক।

উদয়পুরের আরাবল্লি পাহাড়ের কোলে অবস্থিত আইটিসি মেমেন্টোস (একায়া) রিসোর্টে বসেছিল এই বিয়ের আসর। প্রায় ১১৭টি বিলাসবহুল ভিলা ও স্যুট সংবলিত এই রিসোর্টটি সম্পূর্ণ বুক করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। প্রতি রাতের ভাড়া ২০ হাজার থেকে ৭০ হাজার রুপি, এমনকি প্রিমিয়াম স্যুট বা ভিলায় ৯০ হাজার রুপিরও বেশি। হেলিপ্যাড, শান্ত লেক ভিউ, বিশাল লন—সব মিলিয়ে এটি একটি স্বপ্নের গন্তব্য। বিয়ের মূল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি প্রাক-বিবাহ অনুষ্ঠান, মেহেন্দি, হলুদ, সঙ্গীত—সবকিছু এখানেই হয়েছে।

বিয়েটি দুই ভিন্ন রীতিতে সম্পন্ন হয়েছে। সকালে তেলেগু রীতিতে মঙ্গলসূত্র পরানোর পর সন্ধ্যায় রাশমিকার কোডাভা (কর্গ) ঐতিহ্য অনুসারে আরেকটি অনুষ্ঠান। রাশমিকা তার বিয়ের ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, “এ হলেন আমার স্বামী, বিজয় দেবরাকোন্ডা।” বিজয়ও আবেগপ্রবণ পোস্টে বলেছেন, “আমার সেরা বন্ধুকে স্ত্রী বানালাম।” এই দম্পতির প্রেমের শুরু ‘গীতা গোবিন্দম’ (২০১৮) ছবির সেট থেকে, যা পরে ‘ডিয়ার কমরেড’-এ গভীর হয়েছে। সাত বছরের সম্পর্কের পর এই বিয়ে ভক্তদের জন্য একটি উৎসবের মতো।

খরচের বিষয়ে গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধু ভেন্যু, আবাসন ও প্রাথমিক আয়োজনেই সাড়ে আড়াই কোটি রুপির কাছাকাছি ব্যয় হয়েছে। পুরো রিসোর্ট বুকিং, ক্যাটারিং (প্রতি ব্যক্তি ৩-৬ হাজার রুপি), ডেকোর, লজিস্টিকস—সব মিলিয়ে ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের খরচ ৯০ লাখ থেকে ২.৫ কোটি রুপি পর্যন্ত হতে পারে। কিছু সূত্র বলছে, একটি বড় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এই খরচের অংশ বহন করেছে, যাতে ভবিষ্যতে এক্সক্লুসিভ কনটেন্ট পাওয়া যায়। তবে মোট খরচ কত হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়—পরবর্তী হায়দরাবাদ রিসেপশন (৪ মার্চ) যোগ হলে অঙ্ক আরও বাড়বে।

বিয়ের মূল তথ্যসমূহ:

– বিয়ের তারিখ: ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
– স্থান: আইটিসি মেমেন্টোস (একায়া), উদয়পুর
– রিসোর্টের কক্ষ সংখ্যা: ১১৭টি ভিলা/স্যুট
– প্রতি রাতের ভাড়া: ২০,০০০ থেকে ৯০,০০০+ রুপি
– অনুমানিত খরচ (ভেন্যু ও আয়োজন): ৯০ লাখ থেকে ২.৫ কোটি রুপি
– রীতি: তেলেগু ও কোডাভা ঐতিহ্য
– রিসেপশন: হায়দরাবাদে ৪ মার্চ

এই বিয়ে শুধু দুই তারকার মিলন নয়, দক্ষিণ সিনেমার একটি নতুন অধ্যায়ের শুরু। বিজয়-রাশমিকার মতো জুটি যখন একসঙ্গে জীবন শুরু করেন, তখন ভক্তদের মনে আশা জাগে—পর্দার মতো বাস্তবেও তাঁদের গল্প রোমান্টিক ও সফল হবে।

অন্ত্রের স্বাস্থ্য ও হজমশক্তির জন্য দই দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া ওষুধের মতো পরিচিত। প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ এই দুগ্ধজাত খাবার অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য রক্ষা করে, হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে। তবে যখন পেট খারাপ হয় বা হজমের গোলমাল দেখা দেয়, তখন অনেক চিকিৎসকই টক দইয়ের পরিবর্তে দইয়ের ঘোলের পরামর্শ দেন। প্রশ্ন উঠছে—দই আর ঘোলের মধ্যে কোনটি পেটের জন্য সত্যিই বেশি উপকারী? পুষ্টিবিদ ও আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরটা নির্ভর করে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজনের ওপর।

দইয়ের জাদুকরী গুণাগুণ অনস্বীকার্য। টক দই তৈরি হয় দুধকে ল্যাকটোব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া দিয়ে ফার্মেন্ট করে। এতে প্রচুর পরিমাণে লাইভ প্রোবায়োটিক থাকে, যা অন্ত্রে গিয়ে ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ায়। ফলে হজমশক্তি উন্নত হয়, কোষ্ঠকাঠিন্য কমে, এমনকি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও শক্তিশালী হয়। সকালের নাশতায় বা দুপুরের খাবারের পর এক বাটি টক দই খেলে অনেকেরই পেট হালকা লাগে। দইয়ে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন বি-১২ প্রচুর পরিমাণে থাকে—যা হাড়-দাঁত মজবুত করে, পেশি গঠনে সাহায্য করে। যাঁরা দীর্ঘদিন অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েছেন বা সংক্রমণ থেকে সেরে উঠছেন, তাঁদের জন্য দই অত্যন্ত উপকারী। প্রোটিনের চাহিদা বেশি হলে বা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে (গ্যাস-অম্বল না থাকলে) দই একটি চমৎকার বিকল্প।

অন্যদিকে ঘোল, যা দই ফেটিয়ে পানি মিশিয়ে তৈরি করা হয়, আরও হালকা ও সহজপাচ্য। ঘোলে জলের পরিমাণ বেশি থাকায় এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে, বিশেষ করে গরমকালে বা ডিহাইড্রেশনের সমস্যায়। পুষ্টিবিদরা বলেন, গ্যাস, অম্বল বা বদহজমের সমস্যা থাকলে ঘোল দইয়ের চেয়ে বেশি আরাম দেয়। আয়ুর্বেদ অনুসারে ঘোল শরীরকে ঠান্ডা রাখে এবং সব দেহপ্রকৃতির জন্য উপযোগী। ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স থাকলে অনেকের পক্ষে দই ভারী লাগে, কিন্তু ঘোল সাধারণত সহ্য হয় ভালোভাবে। খাবারের পর ঘোল খেলে অরুচি দূর হয়, হজম দ্রুত হয়।

দুটোরই প্রোবায়োটিক থাকে, তবে দইয়ে প্রোবায়োটিকের ঘনত্ব বেশি। ঘোলে জল মেশানোয় সেই ঘনত্ব কিছুটা কমে, কিন্তু হজমের সুবিধা বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, দই হাড়ের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির জন্য উত্তম, আর ঘোল হজম ও হাইড্রেশনের জন্য।

পেটের সুস্থতায়:

– দই: প্রোবায়োটিকের উচ্চ ঘনত্ব, ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন সমৃদ্ধ, হাড়-দাঁতের জন্য উপকারী।
– ঘোল: হালকা, সহজপাচ্য, হাইড্রেশন বাড়ায়, অম্বল-গ্যাস কমায়।
– অ্যান্টিবায়োটিক পরবর্তী সময়ে: দই বেশি কার্যকর।
– গ্যাস-অম্বলের সমস্যায়: ঘোল প্রাধান্য পায়।
– ওজন নিয়ন্ত্রণে: ঘোল কম ক্যালরিযুক্ত হওয়ায় সুবিধাজনক।
– ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতায়: ঘোল নিরাপদ বিকল্প।

শেষ কথা, দই আর ঘোল—দুটোই পেটের পরম বন্ধু। কোনোটিকে একেবারে বাদ দেওয়ার দরকার নেই। বরং নিজের শরীরের চাহিদা বুঝে বেছে নিন।