নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন ঘিরে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বার্তা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচন জিতে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে যথাসময়ে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়ন করা হবে—এমন প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এই ঘোষণা আসে।

গত কয়েক মাস ধরে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশের আলোকে দ্রুত ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁদের অভিযোগ, কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরও গেজেট প্রকাশ ও কার্যকর করার বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। অন্যদিকে বর্তমান সরকারের উপদেষ্টারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকার। এই প্রেক্ষাপটেই তারেক রহমানের বক্তব্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জাতির উদ্দেশে ভাষণে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাষ্ট্র পরিচালনার মূল চালিকাশক্তি। তাঁদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে সেবা ব্যবস্থায় স্থবিরতা তৈরি হয়। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বেতন কাঠামো নিয়ে আর বিলম্ব করা হবে না; আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সময়োপযোগী ও সম্মানজনক পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে।

নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠনের পর থেকেই সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলো ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি, গ্রেড কাঠামোর সংস্কার এবং মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন নির্ধারণের দাবি তুলে আসছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যমান পে-স্কেলকে অনেকেই অপ্রতুল বলে মনে করছেন। ফলে পে-স্কেল প্রশ্নটি কেবল প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক ইস্যুতেও পরিণত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই ঘোষণা নির্বাচনী অঙ্গনে বিএনপির কৌশলগত অবস্থানকে স্পষ্ট করে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভোটার হিসেবে একটি বড় অংশ; তাঁদের প্রত্যাশা ও অসন্তোষ নির্বাচনের ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা।

তবে অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ সতর্ক করে বলছেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। রাজস্ব আয়, বাজেট ঘাটতি ও মুদ্রাস্ফীতির চাপ বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে বিএনপি আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখেই কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি পূরণ করবে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক সংলাপ ও আন্তর্জাতিক নজরদারি জোরদার হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস ইজাবসের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজধানীর জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচনী পরিবেশ, ভোটগ্রহণের সুষ্ঠুতা ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। সাক্ষাৎটি সৌজন্য হলেও আলোচনার পরিধি ছিল বিস্তৃত ও তাৎপর্যপূর্ণ, যা নির্বাচনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলের আগ্রহ ও উদ্বেগের প্রতিফলন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ইইউ প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র, রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান এবং মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হতে আগ্রহ প্রকাশ করে। জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অপরিহার্য। তিনি রাজনৈতিক সহনশীলতা, সমান সুযোগ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বৈঠক সূত্রে আরও জানা যায়, আলোচনায় নির্বাচনী আইন-কানুনের প্রয়োগ, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়েও কথা হয়। ইইউ পর্যবেক্ষক দলের সদস্যরা জানান, তারা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান থেকে নয়, বরং একটি নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক হিসেবে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে এসেছেন। তাদের লক্ষ্য হলো নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে একটি বাস্তবধর্মী ধারণা নেওয়া।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। একদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তাপ, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সক্রিয় পর্যবেক্ষণ—এই দুই বাস্তবতা মিলেই সাক্ষাৎটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। ইইউ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সুশাসনের প্রশ্নে আগ্রহী অংশীদার হিসেবে পরিচিত।

জামায়াত নেতারা বৈঠকে দাবি করেন, সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান মাঠ নিশ্চিত না হলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে তারা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার ওপর জোর দেন। ইইউ প্রতিনিধি দলও বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের কথা উল্লেখ করে জানায়, তারা সব মত ও অবস্থান শুনে একটি সামগ্রিক মূল্যায়নে পৌঁছাতে চান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণকে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল করতে সারা দেশে যান চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার মধ্যরাত ১২টা থেকে ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে, যা ভোট গ্রহণের দিন বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে ইসি।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরও দীর্ঘ। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত ১২টা থেকে ভোট গ্রহণের পরদিন শুক্রবার মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত স্টিকারযুক্ত মোটরসাইকেল এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনী সহিংসতা, অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে প্রতিবারের মতো এবারও পরিবহন নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগের রাত ও ভোটের দিন যানবাহনের অবাধ চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হয়। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, কিছু এলাকায় অবৈধভাবে ভোটার পরিবহন, অস্ত্র বা অবৈধ সামগ্রী বহনের অভিযোগ ওঠে। এসব আশঙ্কা থেকেই এই কড়াকড়ি।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া যানবাহনের মধ্যে রয়েছে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী উভয় ধরনের গাড়ি। ফলে দূরপাল্লার যাত্রা, পণ্য পরিবহন এবং শহরাঞ্চলে দৈনন্দিন চলাচলে সাময়িক ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, এই সাময়িক অসুবিধাই নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নির্বাচনী সহিংসতা বা হঠাৎ বিশৃঙ্খলার ঘটনায় মোটরসাইকেল দ্রুত চলাচলের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তিন দিনের এই নিষেধাজ্ঞা ভোটের আগে ও পরে নিরাপত্তা বলয়কে শক্তিশালী করবে।

এদিকে জরুরি সেবার ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। ইসি সূত্র জানায়, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ ও জরুরি সরকারি কাজে নিয়োজিত যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনপ্রাপ্ত ও স্টিকারযুক্ত মোটরসাইকেল চলাচলেও বাধা নেই, যা মূলত নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে ব্যবহৃত হবে।

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বড় অগ্রগতি এসেছে। ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধিত প্রবাসী ভোটারদের জন্য পাঠানো ৪ লাখ ৭১ হাজার ৯৫৭টি পোস্টাল ব্যালট ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে বলে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার রাজধানীতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, প্রবাসী নাগরিকদের অংশগ্রহণমূলক ভোটাধিকার বাস্তবায়নের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল করে তুলবে।

দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীরা নির্বাচনে ভোট দিতে না পারার অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন। দেশে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট দেওয়ার বাস্তব সীমাবদ্ধতা, দূরত্ব ও সময়ের জটিলতা—সব মিলিয়ে প্রবাসী নাগরিকদের কণ্ঠ কার্যত অনুপস্থিত ছিল জাতীয় নির্বাচনে। সেই প্রেক্ষাপটে ডাকযোগে ভোট বা পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা চালু করাকে নীতিনির্ধারকেরা দেখছেন একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে।

‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধিত প্রবাসীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যালট পূরণ করে ডাকযোগে পাঠিয়েছেন। সেগুলো যাচাই-বাছাই শেষে দেশে এনে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ব্যালটের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং সঠিক গণনা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসীদের এই অংশগ্রহণ কেবল ভোটের সংখ্যা বাড়াবে না, বরং রাজনৈতিক বৈধতা ও গণতান্ত্রিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের মাধ্যমে বড় ভূমিকা রাখলেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে তাদের অংশগ্রহণ এতদিন সীমিত ছিল। পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা সেই ব্যবধান কমাতে পারে।

তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। ডাকব্যবস্থার সময়ানুবর্তিতা, ব্যালট পৌঁছানো ও ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া, এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা—এই তিনটি ক্ষেত্রে সামান্য ত্রুটিও বিতর্ক তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা। এ কারণে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় ২০২৫ সালে বাংলাদেশের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ১৩তম—এমন তথ্য প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) ২০২৫’ প্রকাশ করে, যা দেশের শাসনব্যবস্থা ও জবাবদিহিতার চিত্র নতুন করে সামনে এনেছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান সূচকের তথ্য তুলে ধরে বলেন, ১৮২টি দেশের তালিকায় ১০০-এর স্কেলে বাংলাদেশের স্কোর ২৪। বৈশ্বিক গড় স্কোর যেখানে ৪২, সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে। যদিও গত বছরের তুলনায় স্কোর ১ পয়েন্ট বেড়েছে, তবু সামগ্রিক র‍্যাঙ্কিংয়ে দেশটি এক ধাপ পিছিয়েছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪তম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিসংখ্যান একদিকে সীমিত অগ্রগতির ইঙ্গিত দিলেও অন্যদিকে কাঠামোগত দুর্বলতার গভীরতাও প্রকাশ করে। স্কোর বৃদ্ধির অর্থ হলো কিছু ক্ষেত্রে নীতিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে; কিন্তু র‍্যাঙ্কিংয়ে অবনমন প্রমাণ করে—অন্যান্য দেশ তুলনামূলকভাবে দ্রুতগতিতে উন্নতি করছে, বাংলাদেশ সেখানে পিছিয়ে পড়ছে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি জানায়, দুর্নীতির ধারণা সূচক মূলত সরকারি খাতে দুর্নীতির উপলব্ধি বা পারসেপশনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এতে বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক জবাবদিহিতা, এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ—এই সূচকগুলো গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারি এবং শাস্তির সংস্কৃতির ঘাটতি দুর্নীতিকে প্রাত্যহিক বাস্তবতায় পরিণত করেছে।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “দুর্নীতি এখানে বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয়; এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিতে রূপ নিয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে সূচকে টেকসই উন্নতি সম্ভব নয়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, কেবল নীতিনির্ধারণী বক্তব্য নয়, বাস্তব প্রয়োগ ও দৃশ্যমান জবাবদিহিতাই পারে অবস্থার পরিবর্তন আনতে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনী ব্যবস্থা, সরকারি ক্রয়, অবকাঠামো প্রকল্প এবং সেবা খাত—এই চারটি ক্ষেত্রে দুর্নীতির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। ডিজিটালাইজেশন ও ই-গভর্ন্যান্স আংশিক স্বস্তি দিলেও প্রভাবশালী মহলের দায়মুক্তি সেই অগ্রগতিকে ম্লান করে দিচ্ছে।