দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২১৩টির প্রাপ্ত ফলাফলে বিএনপি ও তাদের জোট ১৬৫টি আসনে জয়ী হয়েছে, যা নিশ্চিতভাবে তাদের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন করছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ঘোষিত ২১৩টি আসনের মধ্যে ১৬৫টিতেই বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি ও মিত্র জোটের প্রার্থীরা। এর মধ্য দিয়ে ম্যাজিক ফিগার ১৫১ অতিক্রম করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে দলটি। গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল কেবল একটি দলের জয় নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে ভোটাধিকার বঞ্চিত মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম—সবখানেই ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর মতে, এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটার বা ‘জেনারেশন জেড’-এর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের ভোটেই মূলত পাল্টে গেছে অনেক সমীকরণ।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এই বিজয় জনগণের। স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে এটি একটি স্বাধীন মানুষের রায়। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি চাই না, বরং সবাইকে সাথে নিয়ে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে চাই।”

বিএনপির প্রেস উইং জানিয়েছে, নির্বাচনে নিরুঙ্কুশ বিজয় উপলক্ষে বাদজুমা সারা দেশে শুকরিযা আদায় করে দোয়া মোনাজাত করবে বিএনপি। ধর্মীয় উপাসানালয়ে হবে প্রার্থনা। নেতাকর্মীদের বিজয় মিছিল না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।