ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর আগামী সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে শপথ নেবেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। একই দিন সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির হাতে শপথবাক্য পাঠ করবেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের যাত্রা শুরু হবে, যা দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশের পর থেকেই শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। সোমবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নবনির্বাচিত ৩০০ জন সদস্যকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। এরপর সংসদের প্রথম অধিবেশনের জন্য স্পিকার নির্বাচনসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। এই শপথের মাধ্যমে সংসদ সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, যা সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ।

বিকেলের দিকে রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে মন্ত্রিসভার সদস্যরা বঙ্গভবনে পৌঁছাবেন। সন্ধ্যা ৭টায় দরবার হলে জমকালো অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি নতুন মন্ত্রিসভাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। এই অনুষ্ঠানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। শপথের পর প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীরা দায়িত্ব বুঝে নেবেন, যা সরকার গঠনের চূড়ান্ত পর্যায়।

এবারের নির্বাচন দেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বিএনপি-জোট ২১২ আসন জিতে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই বিজয় দীর্ঘদিনের সংগ্রাম, ত্যাগ ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার ফসল। শপথ গ্রহণের পর সরকারের সামনে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও সাংবিধানিক সংস্কারের মতো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর দেশবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, কোনো অন্যায় বা বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত নির্বাচনোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এই বিজয়কে তিনি ‘গণতন্ত্রপ্রেমী জনগণের বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করে নতুন সরকারের অধীনে জবাবদিহিমূলক শাসনের যুগ শুরু হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।

দেড় দশকেরও বেশি সময় পর সরাসরি জনগণের ভোটে একটি দায়বদ্ধ সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত হয়েছে। তারেক রহমানের এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, নতুন সরকার শান্তি-শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। সংবাদ সম্মেলনে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের সামনে তিনি বিজয়কে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতি উৎসর্গ করেন। দীর্ঘ নির্বাসন থেকে ফিরে এসে নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়া তারেকের এই প্রথম প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলন ছিল জনগণের প্রত্যাশা পূরণের প্রতিশ্রুতির মঞ্চ।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এটি দলটির ২০ বছর পর ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন। তারেক রহমান বলেন, এই বিজয় কোনো একক দলের নয়, বরং গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করা লাখো মানুষের। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি নির্বাচনী অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

সম্মেলনে তারেক রহমান বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনো অজুহাতে সহিংসতা বা অরাজকতা সহ্য করা হবে না। এই বার্তা বিশেষ করে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ, যখন কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। তারেকের এই অবস্থান নতুন সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দেয়।

দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি সতর্ক করে বলেন, বিজয়ের উচ্ছ্বাসে কেউ যেন আইনের বাইরে যাবেন না। সরকার গঠনের পর প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হবে। এছাড়া সার্ক পুনরুজ্জীবনসহ আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ধুলোবালি এখন থিতু হয়ে এসেছে। চারদিকে বইছে জয়ের আনন্দ আর উৎসবের মেজাজ। তবে সব উৎসবকে ছাপিয়ে এখন রাজনীতির অন্দরমহল থেকে শুরু করে চায়ের কাপের ঝড়—সবখানেই একটিই প্রশ্ন: কারা হচ্ছেন নতুন সরকারের সারথি? আজ শনিবার নির্বাচনের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পর থেকেই রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয় ও বঙ্গভবন এলাকায় সাজ সাজ রব। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, অভিজ্ঞতার ঝুলি আর আধুনিক প্রজন্মের স্পন্দন মিলিয়ে একটি ‘স্মার্ট’ ও ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ মন্ত্রিসভা উপহার দিতে যাচ্ছেন হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এবারের মন্ত্রিসভা সাজানো হচ্ছে দীর্ঘদিনের ত্যাগী রাজনীতিক এবং রাজপথ কাঁপানো তরুণ নেতাদের সমন্বয়ে। তালিকায় সম্ভাব্য ৪১ জন সদস্যের নাম নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। বিএনপির দীর্ঘ সময়ের কাণ্ডারি ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে মন্ত্রিসভার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এছাড়া দলের ‘থিংক-ট্যাঙ্ক’ হিসেবে পরিচিত ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রাজ্ঞ রাজনীতিক ড. আবদুল মঈন খান এবং কূটনৈতিক অঙ্গনে বিশ্বস্ত মুখ আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক মামলা ও সাংবিধানিক সংকটের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে এবার আইন মন্ত্রণালয়ে একঝাঁক ঝানু আইনজীবীকে দেখা যেতে পারে। এই তালিকায় সবার উপরে রয়েছেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। এছাড়াও রাজপথ ও আদালত—উভয় মাঠেই সক্রিয় থাকা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ-এর নামও শোনা যাচ্ছে জোরালোভাবে। রাষ্ট্র সংস্কারের যে মহাপরিকল্পনা তারেক রহমান দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে এই আইনি মস্তিষ্কগুলো হবে সরকারের বড় শক্তি।

এবারের নির্বাচনের বড় নির্ণায়ক ছিল জেন-জি বা নতুন প্রজন্মের ভোটাররা। আর তাই নতুন মন্ত্রিসভায় একঝাঁক তরুণ মুখ দেখা যেতে পারে যারা মূলত প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হিসেবে কাজ করবেন। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের পাশাপাশি প্রযুক্তি-নির্ভর ও উচ্চ শিক্ষিত পেশাজীবীদের মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়ার বিষয়ে তারেক রহমানের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে বলে জানা গেছে।

দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের আন্দোলন-সংগ্রাম আর ত্যাগের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

নির্বাচনের এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পর আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে দেশবাসীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বজায় রাখতে এবং রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে আরও শক্তিশালী করার জন্য জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই মির্জা ফখরুল এক আবেগঘন পরিস্থিতির অবতারণা করেন। তিনি স্মরণ করেন বিগত বছরগুলোর ভয়াবহ দমন-পীড়নের ইতিহাস। মহাসচিব বলেন, “আজ আমরা যে নতুন বাংলাদেশের নিঃশ্বাস নিচ্ছি, তা কোনো দান নয়; বরং এটি লাখো মানুষের রক্ত ও চোখের জলের ফসল। দীর্ঘ সংগ্রামের এই পথে আমাদের ৬০ লাখের বেশি নেতাকর্মী মিথ্যে মামলার বোঝা নিয়ে আদালতের বারান্দায় দিন কাটিয়েছে। ১ হাজার ৭০০-এরও বেশি ভাই গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন।”

বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “জুলাই বিপ্লবে ২ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। এই আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। এই রক্তস্নাত বিজয়কে সংহত করাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য।”

নির্বাচনোত্তর এই প্রেস ব্রিফিংয়ে মির্জা ফখরুল স্পষ্ট করে বলেন যে, তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বেই বিএনপি আজ ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠেছে। তিনি বলেন, “তারেক রহমান কেবল একটি দলের নেতা নন, তিনি এখন পরিবর্তনের প্রতীক। বিদেশে থেকেও তিনি যেভাবে সারা দেশে দলকে সুসংগঠিত করেছেন এবং জনগণের অধিকার আদায়ে অবিচল থেকেছেন, তা ইতিহাসে বিরল।”

তিনি আরও যোগ করেন, জনগণের প্রত্যক্ষ সমর্থনে অর্জিত এই বিজয়কে অর্থবহ করতে হলে তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ‘রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা’ বাস্তবায়ন জরুরি। আর সেজন্যই জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমর্থন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল আজ আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এই প্রথম দেশ এককক্ষ বিশিষ্ট সংসদ থেকে বেরিয়ে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রবেশ করছে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ শনিবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, এবারের নির্বাচন কেবল প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য ছিল না, বরং এটি ছিল রাষ্ট্র সংস্কারের একটি বড় পরীক্ষা। গেজেট প্রকাশের পর এখন সবার দৃষ্টি সংসদ অধিবেশনের দিকে। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির আহ্বানে সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে হবে।

এবারের সংসদটি গত ১২টি সংসদের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা দেখে আসলেও, এবারই প্রথম প্রবর্তিত হচ্ছে ‘নিম্নকক্ষ’‘উচ্চকক্ষ’। রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রবর্তিত এই ব্যবস্থায় আইন প্রণয়ন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের আশা করা হচ্ছে।

নিম্নকক্ষ (জাতীয় পরিষদ): দেশের ৩০০টি নির্বাচনী এলাকায় জনগণের সরাসরি ভোটে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের নিয়ে গঠিত হবে সংসদের নিম্নকক্ষ। এর সঙ্গে যুক্ত হবে সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ জন সদস্য। মূলত সরকার গঠন, বাজেট পাস এবং দৈনন্দিন আইন প্রণয়নের মূল কাজগুলো এখানেই সম্পন্ন হবে।

উচ্চকক্ষ (সিনেট): এটি হবে অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব, বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন পেশাজীবীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চতর পরিষদ। সরাসরি ভোটের পাশাপাশি আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে এখান প্রতিনিধি নির্বাচন করা হতে পারে। উচ্চকক্ষের মূল কাজ হবে নিম্নকক্ষে পাস হওয়া আইনগুলো পর্যালোচনা করা এবং কোনো বিতর্কিত বিষয়ে ভারসাম্য রক্ষা করা।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্নকক্ষ থেকে পাস হওয়া কোনো বিল চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উচ্চকক্ষে পাঠানো হবে। উচ্চকক্ষ চাইলে সেই বিলে সংশোধনীর প্রস্তাব করতে পারবে অথবা আলোচনার জন্য ফেরত পাঠাতে পারবে। এতে করে হঠকারী কোনো সিদ্ধান্ত বা একপাক্ষিক আইন পাসের পথ বন্ধ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।