নতুন সরকারের দ্বিতীয় দিনেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধানেরা। বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। ক্ষমতাসীন বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের শুরুর ইঙ্গিত দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দিনেই সচিবালয়ে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। দ্বিতীয় দিনে তিনি আবারও সচিবালয়ে যান এবং নিজ দপ্তরে পৌঁছানোর পরপরই তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে মিলিত হন। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান এই সাক্ষাতে অংশ নেন। এটি ছিল একটি আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ, যা নতুন সরকারের সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর সম্পর্কের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই সাক্ষাৎ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এটি বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের শুরু। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে একটি পেশাদার, রাজনীতিমুক্ত ও শক্তিশালী সেনাবাহিনীর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও বিভিন্ন বক্তব্যে সেনাবাহিনীকে জাতীয় নিরাপত্তার মূল স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই সৌজন্য সাক্ষাৎ সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের প্রথম দৃশ্যমান পদক্ষেপ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সরকারের আস্থা ও সমন্বয়ের বার্তা দেওয়া হয়েছে।

সাক্ষাতের পর বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ছবি ও তথ্য শেয়ার করা হয়, যাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিন প্রধানের হাস্যোজ্জ্বল ছবি দেখা যায়। এটি জনগণের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছেছে যে নতুন সরকার দ্রুততার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করছে। সচিবালয় সূত্র জানায়, সাক্ষাতে সাধারণত শুভেচ্ছা বিনিময়, জাতীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়েছে। তবে কোনো বিস্তারিত বিবৃতি এখনও প্রকাশিত হয়নি।

এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সশস্ত্র বাহিনীর অবস্থান নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন ছিল, তার উত্তর দেওয়ার মতো। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে আলোচনা চলছিল। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাৎ সেই আলোচনাকে ইতিবাচক দিকে নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু হচ্ছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ ঘোষণা দেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই পদক্ষেপ রমজানের বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় নতুন সরকারের প্রথম বড় উদ্যোগ।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ছিল অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি। এই কার্ডের মাধ্যমে পরিবারভিত্তিক ভর্তুকি, নগদ সহায়তা এবং নিত্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বেড়েছে। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। মন্ত্রী আউয়াল মিন্টু বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান ঈদের আগেই অন্তত পাইলট প্রকল্প শুরু হোক। রমজান মাসেই এটি চালু হবে, যাতে রোজাদাররা স্বস্তিতে বাজার করতে পারেন।

‘ফ্যামিলি কার্ড’ মূলত ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এতে স্মার্ট কার্ডের ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের নামে ভর্তুকিমূল্যে চাল, ডাল, তেল, চিনি, সাবানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হবে। কিছু ক্ষেত্রে নগদ অর্থও দেওয়া হতে পারে। মন্ত্রী জানান, এটি শুরুতে সার্বজনীন হবে—কোনো কঠোর শর্ত বা সীমাবদ্ধতা থাকবে না। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে হতদরিদ্র, প্রতিবন্ধী, বিধবা ও পশ্চাৎপদ পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পরে ধাপে ধাপে মধ্যবিত্ত পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

এই প্রকল্পের পেছনে রয়েছে দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ। রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়, যা সাধারণ মানুষের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। বিগত বছরগুলোতে টিসিবির ট্রাক সেল বা ওপেন মার্কেট সেলে সীমিত সুবিধা পাওয়া গেছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এই ব্যবস্থাকে আরও সুসংগঠিত ও টেকসই করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কার্ড যুক্ত করে দুর্নীতি কমানো যাবে এবং সঠিক মানুষের কাছে সুবিধা পৌঁছানো সম্ভব হবে।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, প্রায় পাঁচ কোটি পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য। শুরুতে পাইলট প্রকল্পে কয়েক লাখ পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এরপর জাতীয় পর্যায়ে বিস্তার। বৈঠকে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে বাস্তবায়নের জন্য।

জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে, কোনো বাধা ছাড়াই। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এই আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া গেছে, যা বিচারের গতিকে আরও মজবুত করবে। এই মন্তব্য এসেছে জুলাই হত্যাকাণ্ডের একটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও সরকারি দলের ক্যাডারদের হাতে যে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছিল, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুসারে প্রায় ১৪০০ জন নিহত এবং হাজার হাজার আহত হয়েছেন। এই ঘটনাগুলোকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে। ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ট্রাইব্যুনালকে পুনর্গঠন করে এসব অপরাধের বিচারের গতি বাড়িয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট যে, বিচার প্রক্রিয়া রাজনৈতিক চাপ বা পরিবর্তনের মুখে থমকে যাবে না। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনাল যেভাবে চলছে—সাক্ষ্য গ্রহণ, অভিযোগ গঠন, সূচনা বক্তব্য—সেভাবেই এগিয়ে যাবে। বর্তমান সরকারের সমর্থন এই প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করেছে। এর আগে বিভিন্ন মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয়, জুনাইদ আহমেদ পলকসহ উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাকাণ্ডের চিত্র আড়াল করার অভিযোগও উঠেছে।

সম্প্রতি ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন শহীদদের পরিবারের সদস্যরা। মিরপুরের শহীদ ফজলে রাব্বি ও তানহার বাবা ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন। এছাড়া জয়-পলকের মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন হয়েছে, যেখানে গণহত্যাকে পূর্বপরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত বলে উল্লেখ করা হয়। ট্রাইব্যুনাল-১-এ এসব মামলার শুনানি চলছে, এবং আগামী দিনগুলোতে আরও সাক্ষ্য উপস্থাপনের তারিখ ধার্য হয়েছে।

এই বিচার প্রক্রিয়া শুধু অতীতের অপরাধের জবাবদিহিতা নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি শিক্ষা। জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এর গুরুত্ব অপরিসীম। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলা জরুরি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কোনো ধরনের ‘বদলি বাণিজ্য’ বা ‘সিন্ডিকেট’ প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন নতুন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে দ্বিতীয় কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এবং ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ফেরানোর দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

শপথ গ্রহণের পর কর্মতৎপরতায় বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করতে রাজি নন নতুন শিক্ষামন্ত্রী। বৃহস্পতিবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সচিবালয়ে তার দপ্তরে সাংবাদিকদের ভিড় জমে। গত কয়েক বছরের অস্থিরতা কাটিয়ে শিক্ষা খাতকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোয় ফিরিয়ে আনাই যে তার প্রধান লক্ষ্য, তা মন্ত্রীর শরীরী ভাষা ও বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল।

তিনি বলেন, “শিক্ষা কোনো বাণিজ্যের জায়গা নয়। বছরের পর বছর ধরে চলা বদলি সিন্ডিকেট এবং প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্য আমি এক নিমেষে বন্ধ করতে চাই। যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ হবে, কোনো তদবির বা অনৈতিক লেনদেন এখানে চলবে না।” তার এই কঠোর অবস্থান শিক্ষা ভবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জেঁকে বসা দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দুর্নীতি রোধে প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি ঘোষণা করেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যাবতীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম ধাপে ধাপে ‘অ্যাপভিত্তিক’ করা হবে। এতে করে ফাইলের গতিবিধি ট্র্যাক করা সম্ভব হবে এবং কোনো ফাইল আটকে রেখে ঘুষ লেনদেনের সুযোগ থাকবে না।

শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অর্থাৎ সময়মতো বই না পাওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “মানসম্মত বই সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। কাগজের সংকট বা সিন্ডিকেটের অজুহাতে বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা করার দিন শেষ।”

গত কয়েক বছরে শিক্ষা ব্যবস্থায় ‘মব কালচার’ বা গণদাবির মুখে অটোপাস দেওয়ার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তার তীব্র সমালোচনা করেন মন্ত্রী। তিনি সরাসরি বলেন, “অতীতে রাস্তা অবরোধ করে বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অটোপাস নেওয়া হয়েছে, যা মেধার অবমূল্যায়ন। ভবিষ্যতে এমন অরাজকতা আর বরদাশত করা হবে না। পরীক্ষা হবে মেধা যাচাইয়ের একমাত্র মাপকাঠি।”

একইসাথে শিক্ষকদের রাজনীতিতে অতিরিক্ত জড়িয়ে পড়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, “শিক্ষকরা ক্লাসরুম বাদ দিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন, এটা হতে পারে না। তাদের কাজ পাঠদান। রাজনীতির নেশায় শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বৃহস্পতিবার দুপুরে মৃদু ভূকম্পনে কেঁপে উঠল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত। বেলা ১২টা ৪৬ মিনিটে অনুভূত এই কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকা। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ৪.১ থাকলেও উৎপত্তিস্থল অগভীর হওয়ায় কম্পনটি বেশ স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া ও ভূ-তাত্ত্বিক বিভাগ।

বৃহস্পতিবার সাধারণ কর্মদিবসের ব্যস্ততার মধ্যেই প্রকৃতি তার রুদ্ররূপের এক ঝলক দেখিয়ে গেল। ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিট। রাজধানীর বহুতল ভবনগুলোতে থাকা মানুষজন হঠাৎই মৃদু দুলুনি অনুভব করেন। অনেক অফিস ও বাসা-বাড়ি থেকে আতঙ্কে মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। যদিও স্থায়ীত্ব ছিল মাত্র কয়েক সেকেন্ড, কিন্তু এই স্বল্প সময়ের কম্পনেই জনমনে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে রাজধানীর জনবহুল এলাকাগুলোতে মানুষের মধ্যে হুড়োহুড়ি লক্ষ্য করা গেছে।

ইউরোপিয়ান-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) দ্রুত এক বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে যে, এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪.১। সংস্থাটির তথ্যমতে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী একটি এলাকায়। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা কম থাকায় তীব্রতা মাঝারি হলেও সাধারণ মানুষের কাছে তা বেশ ভীতিকর মনে হয়েছে।

বাংলাদেশ দীর্ঘকাল ধরেই ভূমিকম্পের ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে। বিশেষ করে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত রেখা বরাবর ভূ-তাত্ত্বিক ফাটল বা ‘ফল্ট লাইন’ সক্রিয় থাকায় এ ধরনের কম্পন মাঝেমধ্যেই অনুভূত হয়। আজকের কম্পনটি যে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে ইন্ডিয়ান প্লেট এবং ইউরেশিয়ান প্লেটের সংযোগস্থল অবস্থিত। এই অঞ্চলে সঞ্চিত শক্তি যখন নির্গত হয়, তখনই ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প সরাসরি বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির কারণ না হলেও এটি একটি সতর্কবার্তা। ঢাকা ও সিলেটের মতো ঘিঞ্জি শহরগুলোতে অপরিকল্পিত নগরায়ন ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে ছোট মাত্রার কম্পনও বড় বিপদের পূর্বাভাস হিসেবে গণ্য করা হয়। আজকের ঘটনায় দেশের কোনো প্রান্ত থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণহানি বা বড় ধরনের কোনো ভবন ধসের খবর পাওয়া যায়নি। তবে অনেক পুরাতন ভবনে ফাটল ধরার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা স্থানীয় প্রশাসন যাচাই করে দেখছে।

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক মহলের জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্টের ছেলে নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ান। বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে এক সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি এই আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা থেকে একটি বিশেষ বিমানে কক্সবাজারে পৌঁছায় তুরস্কের ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ান। তবে এই সফরের সবচেয়ে বড় চমক ছিল জার্মানির সাবেক বিশ্বকাপজয়ী তারকা ফুটবলার মেসুত ওজিল। তাদের আগমনে শরণার্থী শিবিরগুলোতে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়, যদিও সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল মানবিক সংকট পর্যবেক্ষণ এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উখিয়ায় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিলাল এরদোয়ান। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, “রোহিঙ্গা সংকট কেবল বাংলাদেশের একার সমস্যা নয়; এটি একটি বৈশ্বিক মানবিক বিপর্যয়। রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে তুরস্ক সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই চাপ অব্যাহত রাখবে।”

বিলাল এরদোয়ান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, তুরস্ক শুরু থেকেই রোহিঙ্গা ইস্যুতে সোচ্চার। তিনি মনে করেন, দীর্ঘ সময় ধরে এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে অন্য একটি দেশে আশ্রয় দিয়ে রাখা কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। তিনি বলেন, “আমরা এখানে এসেছি এই মজলুম মানুষের দুঃখ-দুর্দশা নিজের চোখে দেখতে এবং তাদের কণ্ঠস্বর বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিতে।”

তার সফরসঙ্গী হিসেবে মেসুত ওজিলের উপস্থিতি বিষয়টিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। ফুটবল মাঠের এই জাদুকরকে কাছে পেয়ে রোহিঙ্গা তরুণদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যায়। মূলত বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় এই ব্যক্তিত্বদের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে পুনরায় আন্তর্জাতিক শিরোনামে নিয়ে আসাই এই সফরের অন্যতম প্রচ্ছন্ন উদ্দেশ্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানে সম্ভাব্য হামলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েছে। সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহের শেষে এই অভিযান শুরু হতে পারে, যদি সবকিছু ঠিকঠাক চলে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র। এই উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন করে তোলপাড় করে তুলেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের এই নতুন অধ্যায়টি গত কয়েক বছরের উত্তেজনার ধারাবাহিকতা। ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র হয়েছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যে প্রক্সি যুদ্ধের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগ। সম্প্রতি ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলায় মার্কিন সেনাদের হতাহতের ঘটনা এই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পেন্টাগনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই প্রস্তুতি শুধু প্রতিরক্ষামূলক নয়, বরং আক্রমণাত্মক অভিযানের জন্যও।

গত কয়েক দিনে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মোতায়েন অভূতপূর্ব। পেন্টাগন বিমান এবং নৌবাহিনীর বিশাল অংশ সেখানে পাঠিয়েছে। সূত্রমতে, হোয়াইট হাউসকে জানানো হয়েছে যে সেনাবাহিনী যেকোনো মুহূর্তে অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে আধুনিক এবং শক্তিশালী রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড’। এই বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজটি এ সপ্তাহের শেষ নাগাদ পারস্য উপসাগরে পৌঁছাতে পারে, যা ইরানের উপকূলীয় এলাকায় মার্কিন শক্তির প্রতীক হয়ে উঠবে। এই জাহাজে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাজার হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে, যা যেকোনো হামলাকে তীব্রতর করে তুলতে পারে।

এই প্রস্তুতির পেছনে রয়েছে ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে চ্যালেঞ্জ করছে। উদাহরণস্বরূপ, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা বা লেবাননের হিজবুল্লাহর কার্যকলাপে ইরানের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ। ট্রাম্প প্রশাসন এসবকে ‘সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা’ বলে আখ্যায়িত করেছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলা যদি হয়, তাহলে তা শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব ফেলবে। তেলের দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে, কারণ পারস্য উপসাগর দিয়ে বিশ্বের তেল সরবরাহের বড় অংশ যায়।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের সঙ্গে কথা বলার পক্ষে, যখন ইসরায়েল এবং সৌদি আরবের মতো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে সমর্থন করছে। রাশিয়া এবং চীন ইরানের পক্ষে দাঁড়িয়ে যুদ্ধের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এই উত্তেজনার প্রভাবে তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত যাই হোক, এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভারসাম্যকে নতুন করে গড়ে তুলতে পারে।

পবিত্র রমজান মাসে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া প্রোটিনের বাজার নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানিয়েছেন, এবার রাজধানীর ২৫টি পয়েন্টে ১০ লাখ নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস সরবরাহ করা হবে।

রমজান মাস আসার আগেই রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। বিশেষ করে গরুর মাংস, খাসির মাংস কিংবা দুধের মতো উচ্চ মূল্যের প্রোটিন সাধারণ নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্তের পাত থেকে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীতে প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (BLRI) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এই বিশেষ বিক্রয় কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, সরকারের লক্ষ্য কেবল বাজার নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং প্রান্তিক মানুষের পুষ্টির চাহিদা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, “আমরা চাই না অর্থাভাবে কেউ পুষ্টিহীনতায় ভুগুক। ১০ লাখ পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনা আমাদের একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যা আমরা পুরো রমজান মাস জুড়ে সফলভাবে পরিচালনা করতে বদ্ধপরিকর।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রাজধানীর উত্তর থেকে দক্ষিণ—পুরো শহরকে এই সেবার আওতায় আনা হয়েছে। বিশেষ করে জনবহুল এলাকা যেমন—উত্তরা, আজিমপুর, মিরপুর, খিলগাঁও এবং যাত্রাবাড়ীসহ মোট ২৫টি পয়েন্টে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে।

প্রতিটি ট্রাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ দুধ, ডিম ও মাংস বরাদ্দ থাকবে যাতে করে সুশৃঙ্খলভাবে সাধারণ মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে পারেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে খোলা বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং সিন্ডিকেটের প্রভাবে অস্থির হয়ে ওঠা মাংস ও ডিমের বাজারে দাম কিছুটা হলেও নাগালে আসবে।