নতুন সরকারের দ্বিতীয় দিনেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধানেরা। বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। ক্ষমতাসীন বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের শুরুর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দিনেই সচিবালয়ে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। দ্বিতীয় দিনে তিনি আবারও সচিবালয়ে যান এবং নিজ দপ্তরে পৌঁছানোর পরপরই তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে মিলিত হন। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান এই সাক্ষাতে অংশ নেন। এটি ছিল একটি আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ, যা নতুন সরকারের সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর সম্পর্কের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই সাক্ষাৎ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এটি বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের শুরু। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে একটি পেশাদার, রাজনীতিমুক্ত ও শক্তিশালী সেনাবাহিনীর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও বিভিন্ন বক্তব্যে সেনাবাহিনীকে জাতীয় নিরাপত্তার মূল স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই সৌজন্য সাক্ষাৎ সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের প্রথম দৃশ্যমান পদক্ষেপ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সরকারের আস্থা ও সমন্বয়ের বার্তা দেওয়া হয়েছে।
সাক্ষাতের পর বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ছবি ও তথ্য শেয়ার করা হয়, যাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিন প্রধানের হাস্যোজ্জ্বল ছবি দেখা যায়। এটি জনগণের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছেছে যে নতুন সরকার দ্রুততার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করছে। সচিবালয় সূত্র জানায়, সাক্ষাতে সাধারণত শুভেচ্ছা বিনিময়, জাতীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়েছে। তবে কোনো বিস্তারিত বিবৃতি এখনও প্রকাশিত হয়নি।
এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সশস্ত্র বাহিনীর অবস্থান নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন ছিল, তার উত্তর দেওয়ার মতো। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে আলোচনা চলছিল। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাৎ সেই আলোচনাকে ইতিবাচক দিকে নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।


