রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা প্রশ্নে কোনো ধরনের সমঝোতা করা হবে না—এমন কঠোর বার্তা দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলের পীরজঙ্গি মাজার রোডে ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাসের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, “দুর্নীতির সঙ্গে আপস করে উন্নয়ন সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়লে অর্থনীতি ও গণতন্ত্র—দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।” তাঁর বক্তব্যে ছিল কঠোর ভাষা, পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান।

জনসভায় ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে মতিঝিল এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। বক্তারা দাবি করেন, জনগণ পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়েই মাঠে নেমেছে বিএনপি।

তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতি শুধু অর্থ লুটপাটের বিষয় নয়, এটি রাষ্ট্রের নৈতিক কাঠামোকেও দুর্বল করে। “যেখানে ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না, সেখানে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে,”—এ কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, অপরাধ দমন ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। “দলীয় বিবেচনায় নয়, পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে,”—এমন মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলার মতো ইস্যুতে জোর দেওয়ার মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে বিএনপি। কারণ এসব বিষয় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান সংকট ও নিরাপত্তাহীনতার প্রেক্ষাপটে এই বার্তা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

সমাবেশে তারেক রহমান আরও বলেন, ক্ষমতায় গেলে প্রশাসনিক সংস্কার, স্বচ্ছ নিয়োগ এবং স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্বচ্ছতা আনতে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান জোরদার করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাচনের সময় ইন্টারনেট বন্ধের উদ্যোগকে ‘অন্ধকার পথে হাঁটা’ আখ্যা দিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অপরাধের বৈধতা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ বক্তব্য দেন।

জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনকে অবাধ ও স্বচ্ছ করার পরিবর্তে তথ্যপ্রবাহ বন্ধের সিদ্ধান্ত গণতন্ত্রের পরিপন্থী। তাঁর ভাষায়, “ইন্টারনেট বন্ধ মানে পুরো দেশকে অন্ধকারে রেখে ভোট করা। এতে কারা লাভবান হবে, সেটি জনগণ বুঝে গেছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কা থেকে ভোট প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। “ভোটে হেরে যাওয়ার ভয়েই তারা নির্বাচন অপহরণ করতে চায়,”—এমন মন্তব্য করে তিনি প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

মোহাম্মদপুরের জনসভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে নির্বাচনকালীন পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা দাবি করেন, তথ্যপ্রযুক্তি বন্ধ রাখলে ভোট কেন্দ্রের অনিয়ম, সহিংসতা বা জালিয়াতির খবর দ্রুত বাইরে আসবে না, যা গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং নাগরিক পর্যবেক্ষণের হাতিয়ার। সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক ও সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক তথ্য ছড়িয়ে দেন। সেটি বন্ধ করলে স্বচ্ছতা কমে যায়। “স্বচ্ছতা না থাকলে নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য হয় না,”—যোগ করেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকালীন সময়ে ইন্টারনেট বা যোগাযোগব্যবস্থা সীমিত করা হলে একদিকে গুজব নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও অন্যদিকে তথ্যপ্রবাহও বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে এর প্রভাব দ্বিমুখী। তবে বিরোধী দলগুলো এটিকে প্রায়ই প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে দেখে থাকে।

সভার বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে না। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো যেন নির্দিষ্ট পক্ষের সুবিধা তৈরি করছে—এমন ধারণা জনগণের মধ্যে বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তারা। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা পুনর্গঠনের আহ্বান জানান তারা।

গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নিরপেক্ষ ও সহিংসতামুক্ত রাখতে নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে ৮১ ঘণ্টা বা চার দিন অবস্থান নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে দেশের সব জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও পুলিশ কমিশনারদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলামের স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়, ভোটের আগে ও চলাকালে বহিরাগতদের উপস্থিতি প্রভাব ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক কর্মী বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল কেন্দ্র দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ায় বলে মনে করছে কমিশন।

ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনে দেখা গেছে ভোটের দিন বা তার আগের সময়ে বাইরের এলাকা থেকে লোকজন এনে শক্তি প্রদর্শন, ভোটারদের ভয় দেখানো বা বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনা ঠেকাতেই এবার আগে থেকেই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

নতুন বিধিনিষেধ অনুযায়ী, সাধারণ ভোটাররা প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত কাজে যাতায়াত করতে পারবেন, তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা দলীয় প্রভাব বিস্তারের মতো কার্যক্রমে বাইরে অবস্থান করা যাবে না। প্রশাসন সন্দেহজনক উপস্থিতি বা অযৌক্তিক জমায়েত পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতা প্রতিরোধে এটি একটি ‘প্রিভেন্টিভ’ বা আগাম পদক্ষেপ। নির্বাচনের আগে কয়েকদিন এলাকায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ভোটের পরিবেশ অনেকটাই শান্ত থাকবে। তবে এর প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও মানবাধিকার বিবেচনা করাও জরুরি। অযথা হয়রানি বা সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে উল্টো অসন্তোষ তৈরি হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে নির্বাচনকালীন সময়টিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। প্রচারণা, মিছিল-মিটিং, দলীয় শক্তি প্রদর্শন—এসব কারণে স্থানীয় পর্যায়ে সংঘর্ষের ঝুঁকি থাকে। ফলে বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রণ একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে মাঠ প্রশাসনের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার ওপর।

রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহার আকর্ষণীয় ভাষা ও প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়িতে সাজানো হলেও বাস্তবায়নের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে—এমন মন্তব্য করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘কোন দলের কেমন ইশতেহার?’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ বিশ্লেষণ তুলে ধরে।

সংবাদ সম্মেলনে সুজন নেতারা বলেন, ভোটের আগে দলগুলো নাগরিকদের মন জয় করতে নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও সেগুলোর অর্থায়ন, বাস্তবতা ও সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো রূপরেখা নেই। ফলে ইশতেহারগুলো অনেকটাই ‘কাগুজে স্বপ্নে’ সীমাবদ্ধ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তাদের মতে, বড় দুই রাজনৈতিক দলের ইশতেহারেই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার ছড়াছড়ি। কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন—সবখানেই ব্যাপক বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোথা থেকে এই বিপুল অর্থ আসবে, কীভাবে ব্যয় হবে কিংবা কর কাঠামোতে কী পরিবর্তন আনা হবে—এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা অনুপস্থিত।

সুজনের একাধিক প্রতিনিধি বলেন, একটি দেশের বার্ষিক বাজেট ও রাজস্ব সক্ষমতা বিবেচনা না করে ইশতেহারে অযৌক্তিক প্রতিশ্রুতি দিলে তা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে পারে। তারা উদাহরণ দিয়ে বলেন, লাখ লাখ কর্মসংস্থান, সর্বজনীন স্বাস্থ্যবিমা, ভর্তুকি বৃদ্ধি কিংবা বড় মেগা প্রকল্প—এসব বাস্তবায়নে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন, যা বর্তমান অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সংগঠনটির পর্যবেক্ষণে আরও উঠে আসে, বেশিরভাগ ইশতেহারেই জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়টি দুর্বল। দুর্নীতি দমন, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কিংবা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা—এসব মৌলিক ইস্যুতে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি কম। অথচ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এগুলোই টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইশতেহার হওয়া উচিত একটি বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা। কিন্তু তা অনেক সময় হয়ে দাঁড়ায় আবেগনির্ভর প্রতিশ্রুতির তালিকা। ফলে নির্বাচন শেষে অনেক প্রতিশ্রুতি আর আলোচনাতেই থাকে না। এতে জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সুজন নাগরিকদের উদ্দেশে আহ্বান জানায়, শুধু আকর্ষণীয় স্লোগান দেখে নয়, বরং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিচার করেই দল বেছে নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি তারা আহ্বান জানায়—ইশতেহারে আয়-ব্যয়ের স্পষ্ট হিসাব, সময়সীমা এবং বাস্তবায়ন কৌশল যুক্ত করতে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুরাইয়া আখতার জাহান। মোহাম্মদ এজাজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে এ সিদ্ধান্ত জানায়। ফলে রাজধানীর উত্তরাংশের নগর পরিচালনায় শুরু হচ্ছে নতুন প্রশাসনিক অধ্যায়।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এবং প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এ নিয়োগ কার্যকর করা হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সুরাইয়া আখতার জাহান ডিএনসিসির দৈনন্দিন কার্যক্রম, উন্নয়ন প্রকল্প ও নাগরিক সেবার তদারকি করবেন।

ডিএনসিসি রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশন। উত্তরা, মিরপুর, গুলশান, বনানী, বাড্ডা, মোহাম্মদপুরসহ বিস্তৃত এলাকায় প্রায় কোটি মানুষের বসবাস। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক অবকাঠামো, ড্রেনেজ, আলোকসজ্জা, স্বাস্থ্য ও লাইসেন্সিং—সবকিছুর ভার প্রশাসকের কাঁধেই পড়ে। ফলে এই পদে নিয়োগ শুধু রুটিন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

সুরাইয়া আখতার জাহান দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকার বিভাগে কাজ করছেন। মাঠ প্রশাসন ও নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন, বাজেট ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বয় দক্ষতার কারণে তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

এর আগে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ এজাজ। তাঁর সময়ে কয়েকটি বড় অবকাঠামো প্রকল্প, সড়ক সংস্কার এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়। তবে যানজট, জলাবদ্ধতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নাগরিকদের অভিযোগও ছিল। নতুন প্রশাসকের সামনে তাই একদিকে চলমান প্রকল্প শেষ করার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে নাগরিক প্রত্যাশা পূরণের চাপ।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ডিএনসিসিতে কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। শুধু অবকাঠামো নয়, ডিজিটাল সেবা, স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশবান্ধব নগরায়ণেও জোর দিতে হবে। নতুন প্রশাসকের নেতৃত্বে এসব ক্ষেত্রে গতি আসবে বলে আশা করছেন তারা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাজধানী ঢাকায় অন্তত ৪০টি খেলার মাঠ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ইসিবি চত্বরে এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এই ঘোষণা দেন।

নির্বাচনী প্রচারণার মধ্যেই রাজধানীবাসীর জীবনমান উন্নয়নে নতুন অঙ্গীকার তুলে ধরেছে বিএনপি। ইসিবি চত্বরে আয়োজিত পথসভায় তারেক রহমান বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও অব্যবস্থাপনার কারণে ঢাকার তরুণ প্রজন্ম খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এই বাস্তবতা বদলাতে বিএনপি সরকার গঠন করলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে অন্তত ৪০টি খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে।

তারেক রহমানের বক্তব্যে উঠে আসে ঢাকার বর্তমান চিত্র। তিনি বলেন, “একসময় ঢাকায় পাড়ায় পাড়ায় খেলার মাঠ ছিল। আজ সেগুলোর অনেকটাই দখল হয়ে গেছে বা কংক্রিটের জঙ্গলে হারিয়ে গেছে।” শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি সুস্থ সমাজ গড়তে মাঠ, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান অপরিহার্য।

বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, এই খেলার মাঠগুলো শুধু ক্রিকেট বা ফুটবলের জন্য নয়, বরং বহুমুখী ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে মাঠগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালনার কথাও জানান তিনি। তার ভাষায়, “আমরা চাই, এসব মাঠ হোক এলাকার মানুষের সম্পদ, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা মূলত নগর ভোটারদের, বিশেষ করে তরুণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে লক্ষ্য করে দেওয়া। ঢাকার নাগরিক জীবনে খেলার মাঠের সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী একটি শহরে যে পরিমাণ উন্মুক্ত স্থান থাকা প্রয়োজন, ঢাকায় তার তুলনায় অনেক কম। এই প্রেক্ষাপটে মাঠ তৈরির প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পথসভায় তারেক রহমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, গত কয়েক বছরে ঢাকায় উন্নয়নের নামে কেবল রাস্তা ও ভবন বেড়েছে, কিন্তু মানুষের শ্বাস নেওয়ার জায়গা কমেছে। তিনি দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নগর উন্নয়ন হবে মানুষকেন্দ্রিক, কেবল প্রকল্পকেন্দ্রিক নয়। খেলার মাঠের পাশাপাশি পার্ক, জলাশয় সংরক্ষণ ও হাঁটার পথ তৈরির কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

সভায় উপস্থিত বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারাও বক্তব্য দেন। তারা বলেন, ঢাকার তরুণ সমাজ মাদক, সহিংসতা ও হতাশা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। মাঠ তৈরি হলে ক্রীড়াচর্চার পাশাপাশি সামাজিক বন্ধনও শক্তিশালী হবে।

তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা এই ঘোষণাকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির তালিকায় আরেকটি সংযোজন হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, অতীতে অনেক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। এর জবাবে বিএনপি নেতারা বলছেন, জনগণের ভোটে ক্ষমতায় গেলে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই হবে সরকারের অগ্রাধিকার।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে ঢাকা–১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে—এমন ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাড্ডায় এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

নির্বাচনী মাঠে রাজনৈতিক উত্তাপ যখন ক্রমেই বাড়ছে, তখন ১১ দলীয় জোটের এই ঘোষণা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এই জোট কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়, বরং একটি জবাবদিহিমূলক ও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই নির্বাচন করছে।” সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নাহিদ ইসলামকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

ডা. শফিকুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, নাহিদ ইসলাম তরুণ নেতৃত্বের প্রতীক এবং রাজনীতিতে নতুন ধারার প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি বলেন, “রাজনীতিতে সততা, যোগ্যতা ও জনসম্পৃক্ততাকে গুরুত্ব দিতে চাই আমরা। নাহিদ ইসলাম সেই মানদণ্ড পূরণ করেন বলেই তাকে মন্ত্রী করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।” জনসভায় উপস্থিত সমর্থকদের করতালিতে বক্তব্যটি তাৎক্ষণিকভাবে সমর্থন পায়।

ঢাকা–১১ আসনকে কেন্দ্র করে এবার নির্বাচন ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ তীব্র। নগরভিত্তিক এই আসনে তরুণ ভোটার ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রভাব তুলনামূলক বেশি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নাহিদ ইসলামকে সামনে রেখে মন্ত্রীত্বের ঘোষণা দেওয়া মূলত এই ভোটারদের আকৃষ্ট করার কৌশল। একই সঙ্গে এটি জোটের মধ্যে এনসিপির অবস্থানকে আরও দৃশ্যমান করল।

নাহিদ ইসলাম নিজেও জনসভায় উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচন জিতলে এলাকার নাগরিক সমস্যা—বিশেষ করে যানজট, জলাবদ্ধতা, আবাসন সংকট ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে মন্ত্রীত্বের ঘোষণাকে তিনি “ব্যক্তিগত সম্মান নয়, বরং দায়িত্বের আহ্বান” হিসেবে দেখছেন বলে মন্তব্য করেন।

১১ দলীয় জোটের নেতারা দাবি করছেন, এই জোটের রাজনীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে সংস্কার, স্বচ্ছতা এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। জনসভায় আরও বলা হয়, অতীতের রাজনীতির পুনরাবৃত্তি নয়, বরং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়াই তাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য পূরণে তরুণ ও পেশাজীবী নেতৃত্বকে সামনে আনার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।

তবে বিরোধী রাজনৈতিক শিবির এই ঘোষণাকে “নির্বাচনের আগেই ক্ষমতার ভাগবাটোয়ারা” বলে সমালোচনা করছে। তাদের দাবি, ভোটের ফলাফল আসার আগেই মন্ত্রীত্বের ঘোষণা নির্বাচনী শিষ্টাচারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যদিও জোট নেতারা এ সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে বলছেন, এটি কেবল রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রকাশ।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের ঘোষণা নির্বাচনী প্রচারণায় তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেললেও দীর্ঘমেয়াদে ভোটাররা কর্মসূচি ও বিশ্বাসযোগ্যতাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়। ফলে এই ঘোষণার বাস্তব রাজনৈতিক প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ের প্রচারণা ও ভোটের দিনে জনমতের ওপর।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে নিরাপত্তা, ভেন্যু ও অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় জরুরি বৈঠকে যোগ দিতে পাকিস্তানে গেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) শীর্ষ কর্মকর্তা বুলবুল। আইসিসির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

চলমান টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে না—এই বাস্তবতা কেবল মাঠের ফলাফল নয়, বরং কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রতিফলন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বিসিবি ভারত থেকে বাংলাদেশের সব ম্যাচ সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবি জানিয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করে উল্টো বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে। এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেট মহলে বিস্ময় ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটেই জরুরি আলোচনার অংশ হিসেবে পাকিস্তানে গেছেন বিসিবির প্রভাবশালী কর্মকর্তা বুলবুল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও কয়েকটি অংশী দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসে বর্তমান পরিস্থিতি, আইসিসির ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করবেন তিনি। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য—সমন্বিত অবস্থান গড়ে তুলে আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিক আপত্তি তোলা এবং সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার চাপ সৃষ্টি করা।

আইসিসির এই পদক্ষেপকে ‘অন্যায্য ও একতরফা’ হিসেবে দেখছে শুধু বাংলাদেশ নয়, পাকিস্তানও। বাংলাদেশের প্রতি এমন আচরণের প্রতিবাদে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়। ক্রিকেট ইতিহাসে এমন সিদ্ধান্ত বিরল, যা পরিস্থিতির গুরুত্বই তুলে ধরে। পাকিস্তানের দাবি, নিরাপত্তা ইস্যুতে যদি একটি দলের উদ্বেগ উপেক্ষা করা হয়, তবে তা পুরো টুর্নামেন্টের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকট কেবল একটি দলের অংশগ্রহণ বা বর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিচালনায় ক্ষমতার ভারসাম্য, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক প্রভাবের প্রতিচ্ছবি। বাংলাদেশের মতো একটি পূর্ণ সদস্য দেশকে বাইরে রেখে অন্য একটি সহযোগী দেশকে সুযোগ দেওয়া আইসিসির নীতিগত অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

বিসিবির একাধিক কর্মকর্তা অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, তারা আইসিসির সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যেতে চান না, তবে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় কূটনৈতিক পথেই এগোতে চান। পাকিস্তানের সঙ্গে এই বৈঠক সেই কৌশলেরই অংশ। প্রয়োজনে এশিয়ার অন্যান্য বোর্ডকেও এই আলোচনায় যুক্ত করার চিন্তাভাবনা রয়েছে।

ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে না দেখার হতাশা, অন্যদিকে আইসিসির সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ—দুটোই স্পষ্ট। অনেকেই মনে করছেন, মাঠের বাইরের সিদ্ধান্তগুলো যদি খেলাটিকেই ছাপিয়ে যায়, তবে ক্রিকেটের মূল চেতনাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে ভোটের আগে চার দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পর দুই দিনসহ মোট সাত দিন সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে থাকবে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বিশেষ সময়সূচি নির্ধারণ করেছে। সেই অনুযায়ী আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশজুড়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটকেন্দ্র, আশপাশের এলাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে বাড়তি নজরদারি থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ভোটের পরিবেশ নিরাপদ রাখতে এবং ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে চার দিন আগে থেকেই বাহিনী মাঠে নামছে। ভোট শেষে ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী সময়েও যাতে কোনো উত্তেজনা বা সহিংসতা না ঘটে, সেজন্য আরও দুই দিন বাহিনী সক্রিয় থাকবে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে। অর্থাৎ প্রয়োজন হলে তারা দ্রুত হস্তক্ষেপ করবে এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দেবে। পাশাপাশি পুলিশ ও আনসার সদস্যরা ভোটকেন্দ্রে স্থায়ী দায়িত্ব পালন করবেন। র‍্যাব ও বিজিবি থাকবে ভ্রাম্যমাণ টহলে, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ও সংবেদনশীল এলাকায়।

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা, গুজব কিংবা অপতৎপরতা রুখতে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিকল্প নেই। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ভোটের আগের ও পরের সময়টাই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সাত দিনের নিরাপত্তা পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রভিত্তিক ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে জনবল বণ্টন করা হবে। কোথাও পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে সেখানে সীমিত বাহিনী থাকবে, আর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকবে অতিরিক্ত ফোর্স। প্রয়োজনে দ্রুত রিজার্ভ ফোর্স পাঠানোর ব্যবস্থাও থাকবে।

ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফেরানো এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি বিশ্বাস জোরদার করাও এই নিরাপত্তা উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছে ইসি। কমিশনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, দৃশ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে সহায়ক হবে।

ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমণিকে ফোনকলে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সেই হুমকির ৩৭ সেকেন্ডের একটি অডিও প্রকাশ করেন তিনি, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত অডিও ক্লিপটি ইতোমধ্যে অসংখ্যবার শেয়ার হয়েছে। সেখানে শোনা যায়, এক অজ্ঞাত ব্যক্তি অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে পরীমণিকে গুলি করে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। কণ্ঠস্বরটি রুক্ষ, আক্রমণাত্মক এবং সুস্পষ্টভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে দেওয়া বলে ধারণা করা হচ্ছে। অডিওতে ব্যক্তিটি নিজের পরিচয় প্রকাশ না করলেও, কথাবার্তায় স্পষ্ট অপরাধপ্রবণ মানসিকতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

পরীমণি অডিওটি প্রকাশের সময় ফেসবুকে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। হুমকির এই ফোনকল তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার দাবি জানান এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

চলচ্চিত্রাঙ্গনে পরীমণি বরাবরই আলোচিত ও সমালোচিত একটি নাম। ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে পেশাগত নানা ইস্যুতে তিনি প্রায়ই খবরের শিরোনামে থাকেন। তবে সরাসরি হত্যার হুমকি পাওয়ার ঘটনা দেশের বিনোদন অঙ্গনে নতুন করে নিরাপত্তা প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে নারী শিল্পীদের ক্ষেত্রে এ ধরনের হুমকি উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তার যেমন তারকাদের জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে, তেমনি তাদের ঝুঁকির মাত্রাও বাড়িয়েছে বহুগুণ। অনলাইন ও অফলাইনে পরিচয় গোপন রেখে হুমকি দেওয়া এখন তুলনামূলক সহজ হয়ে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোনকলে হত্যার হুমকি ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়ে। প্রমাণ হিসেবে অডিও ক্লিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভুক্তভোগী যদি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা করেন, তবে কল ট্র্যাকিং ও কণ্ঠস্বর বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তকে শনাক্ত করা সম্ভব।

এদিকে বিনোদন অঙ্গনের অনেকেই পরীমণির পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহকর্মী শিল্পী ও ভক্তরা তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলছেন এবং হুমকিদাতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করছেন।