সরকার এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম) ও তাঁর পরিবারের দায়ের করা আন্তর্জাতিক সালিশি মামলার বিরুদ্ধে শক্তিশালী আইনি প্রতিরক্ষা গড়তে বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ ল ফার্ম ‘হোয়াইট অ্যান্ড কেইস এলএলপি’কে নিয়োগ দিয়েছে।

এই ল ফার্মকে প্রতি ঘণ্টায় ১ হাজার ২৫০ মার্কিন ডলার (প্রায় দেড় লাখ টাকা) ফি দিতে হবে। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই নিয়োগ ও অর্থ ব্যয়ের প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অপরাধের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এস আলম পরিবার ২০২৫ সালের অক্টোবরে ওয়াশিংটনভিত্তিক বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্রে (আইসিএসআইডি) মামলা দায়ের করে। মামলার নম্বর আরবি/২৫/৫২।

তারা দাবি করেছে, বাংলাদেশ সরকারের অবৈধ অর্থ পাচারের অভিযোগে সম্পদ জব্দ, বাজেয়াপ্ত ও অন্যান্য ব্যবস্থার কারণে তাদের শত শত কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। এই মামলা ২০০৪ সালের বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তির আওতায় দায়ের করা হয়েছে। এস আলম পরিবার ২০২০ সালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছে বলে জানা যায়।

অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরসহ সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, এ গ্রুপের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে।

এর মধ্যে জোরপূর্বক ব্যাংক অধিগ্রহণ, অস্বাভাবিক ঋণ বিতরণ ও বিদেশি মুদ্রা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। সরকারের সম্পদ উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে, যা তারা আইসিএসআইডিতে চ্যালেঞ্জ করেছে।

আজকের বৈঠকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে ‘হোয়াইট অ্যান্ড কেইস এলএলপি’কে নিয়োগের অনুমোদন দেয়। এই ফার্ম আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয়দের একটি। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, মামলাটি জটিল এবং এতে বিপুল অর্থ জড়িত। সরকারের স্বার্থ রক্ষায় শক্তিশালী আইনি প্রতিনিধিত্ব জরুরি।

এই আইনি লড়াই বাংলাদেশের অর্থ পাচারবিরোধী অভিযানের সাফল্য-ব্যর্থতার একটি পরীক্ষা। যদি সরকার সফল হয়, তাহলে বিদেশে পাচারিত অর্থ উদ্ধারের পথ আরও সুগম হবে। অন্যথায়, আন্তর্জাতিক আদালতে ক্ষতিপূরণের বিপুল দাবি দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এ মামলার ফলাফল শুধু এস আলম গ্রুপের নয়, বরং বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও আইনের শাসনের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে। সরকারের এই পদক্ষেপ দেখায়, তারা এই চ্যালেঞ্জকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁওয়ে এক নির্বাচনী সভায় গুরুতর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। দীর্ঘ ত্যাগ-তিতিক্ষা ও সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত এই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলে আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশ শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে এগোবে, কিন্তু ভুল হলে দেশ আবার গভীর বিপদের মুখে পড়বে।

আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও পৌর কমিউনিটি সেন্টারে ঠাকুরগাঁও পৌর বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

তিনি ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। সভায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে তিনি নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার পর যে নির্বাচনটা আমরা পেয়েছি, সেই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। এই নির্বাচনে যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি, তাহলে আগামী পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশকে আমরা শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল অবস্থার মধ্যে নিতে পারব। কিন্তু এই নির্বাচনে যদি আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হই, তাহলে আমরা আবার বিপদের মধ্যে পড়ব।’

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিএনপি মহাসচিব আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে একটি ঐতিহাসিক মোড় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকট, আন্দোলন ও ত্যাগের পর এই নির্বাচনকে অনেকেই ‘সুযোগের জানালা’ বলে অভিহিত করছেন।

বিএনপি নেতৃত্ব মনে করেন, এই নির্বাচনে জনগণের সচেতন ভোটই দেশকে গণতান্ত্রিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারে এবং অর্থনৈতিক-সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে।

প্রসঙ্গত, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপি নির্বাচনকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের শেষ সুযোগ হিসেবে দেখছে। মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে ধর্মীয় বিষয়ে কিছু গোষ্ঠীর অপপ্রচারের উল্লেখও এসেছে, যা অনেকের কাছে রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত বহন করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে, কিন্তু জনগণের সচেতনতাই সবকিছু ঠিক করতে পারে।

কিশোরগঞ্জকে শিল্প নয়, কৃষিনির্ভর জেলা উল্লেখ করে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে কৃষিকে রাখার অঙ্গীকার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, “এই জেলার প্রাণ কৃষি। তাই কৃষিকেই শিল্পে পরিণত করতে হবে। আমরা কথা দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ কৃষিকে শিল্পে রূপ দেব।” মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে দলীয় নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

দুপুরের আগেই কলেজ মাঠে জড়ো হন হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক। ব্যানার-ফেস্টুনে সজ্জিত জনসভায় স্থানীয় সমস্যার পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতির প্রসঙ্গও উঠে আসে। তবে ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের মূল সুর ছিল কিশোরগঞ্জের অর্থনীতিকে কৃষিভিত্তিক কাঠামোয় পুনর্গঠন।

তিনি বলেন, “ঢাকা বা গাজীপুরের মতো এখানে বড় বড় কারখানা বসানো বাস্তবসম্মত নয়। কিন্তু এই জেলার মাটি উর্বর, মানুষ পরিশ্রমী। কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে পরিকল্পনা নিলে এখান থেকেই শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব।”

তার ভাষায়, কৃষিকে অবহেলা করে উন্নয়ন টেকসই হয় না। “ধান, সবজি, মাছ, দুধ—এসবকেই যদি আমরা শিল্পের কাঁচামাল বানাতে পারি, তাহলে গ্রামের মানুষ শহরমুখী হবে না,” যোগ করেন তিনি।

জামায়াত আমির আরও বলেন, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ, কোল্ড স্টোরেজ ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং দারিদ্র্য কমবে।

বিশ্লেষকদের মতে, কৃষিকে শিল্পে রূপান্তরের ধারণা নতুন নয়, তবে রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে এটি গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে টেকসই করতে প্রয়োজন অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও বাজার সংযোগ—যা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া সম্ভব নয়।

জনসভায় স্থানীয় নেতারা অভিযোগ করেন, কিশোরগঞ্জে পর্যাপ্ত শিল্পকারখানা না থাকায় তরুণদের বড় অংশ কর্মসংস্থানের জন্য রাজধানীমুখী হচ্ছে। এ বাস্তবতায় কৃষি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ভিত্তিতে উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতিশ্রুতি ভোটারদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা ক্ষমতায় গেলে কৃষকের ঘরে ঘরে সমৃদ্ধি আনতে চাই। শুধু স্লোগান নয়, বাস্তব কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবো।” তিনি দলের নেতাকর্মীদের মানুষের পাশে থাকার আহ্বান জানান।

জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, “কয়দিন পর হয়তো বলবেন, গোলাম আযম ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক। এ কথাও আপনারা বলতে পারেন। কারণ মিথ্যা বলতে আপনারা কখনোই পিছু পা হন না।” মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কার্যালয়ে শবে বরাত উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ধর্মীয় আয়োজন হলেও বক্তব্যে ছিল স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। মিলাদ শেষে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে রিজভী জামায়াতের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ইতিহাস বিকৃত করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে জনগণ তা মেনে নেবে না।

রিজভীর ভাষায়, “মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে যারা বারবার বিভ্রান্তি ছড়ায়, তাদের কাছ থেকে সত্যের প্রত্যাশা করা যায় না। আজ এক কথা, কাল আরেক কথা— এটাই তাদের চরিত্র।”

তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত অতীতের বিতর্কিত ভূমিকাকে আড়াল করতে নতুন বয়ান দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। বিশেষ করে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দলটির ভূমিকা নিয়ে যে ঐতিহাসিক সমালোচনা রয়েছে, তা এড়িয়ে গিয়ে নিজেদের ‘জাতীয়তাবাদী’ হিসেবে তুলে ধরার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, ছাত্র ও অঙ্গসংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। শবে বরাত উপলক্ষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন ও বিরোধী দলগুলোর সম্পর্ক নিয়ে নেতাদের বক্তব্যে পরিবেশ বারবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

রিজভী বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা একটি রক্তাক্ত সংগ্রামের ফল। যারা সে সময় জনগণের বিপক্ষে ছিল, তাদের নিয়ে নতুন গল্প বানানো মানে ইতিহাসের সঙ্গে প্রতারণা।” তার এই বক্তব্যে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে সাড়া পড়ে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি ও জামায়াতের সম্পর্ক অতীতে জোট রাজনীতির মধ্য দিয়ে এগোলেও সাম্প্রতিক সময়ে দুই দলের বক্তব্যে দূরত্ব স্পষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে পারস্পরিক কটাক্ষ বাড়ছে। রিজভীর বক্তব্য সেই টানাপোড়েনেরই বহিঃপ্রকাশ।

এদিকে বিএনপির নেতারা দাবি করছেন, তারা স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে ‘অবিচল অবস্থান’ নিয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে এ বক্তব্যের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও সমালোচনার পর র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-এর নাম পরিবর্তন করেছে সরকার। নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ (এসআইএফ)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সচিবালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও আধুনিক, পেশাদার ও মানবাধিকারসম্মত কার্যক্রম নিশ্চিত করতে বাহিনীর কাঠামো ও কার্যপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।”

তিনি জানান, শুধু নাম নয়—অপারেশনাল কৌশল, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রেও নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।

র‌্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, মাদক ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বিভিন্ন সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের অভিযোগে দেশ-বিদেশে সমালোচনার মুখে পড়ে এই বাহিনী। আন্তর্জাতিক মহলের চাপ ও কূটনৈতিক আলোচনাও ছিল দীর্ঘদিনের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নতুন নামে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ গঠনের মাধ্যমে সরকার একদিকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষ বাহিনী হিসেবে এটিকে পুনর্গঠন করতে চায়, অন্যদিকে বিতর্কিত অতীত থেকে বেরিয়ে একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করতে চায়।

আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কেবল নাম পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়; কার্যক্রমে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে হবে। সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “বাহিনীর জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও আইনের শাসনের প্রতি কঠোর আনুগত্য নিশ্চিত না হলে নাম বদলালেও জনআস্থা ফিরে আসবে না।”

সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান, এসআইএফ হবে একটি ‘দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল’ বিশেষ ইউনিট, যারা সন্ত্রাসবাদ, বড় ধরনের অপরাধচক্র ও জাতীয় নিরাপত্তা-সংকট মোকাবিলায় কাজ করবে। তাদের প্রশিক্ষণে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেখছেন কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে। একদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া—দুই লক্ষ্যই রয়েছে এতে। বিশেষ করে মানবাধিকার ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলোর নজরদারি ও নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে এটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যশোরের এক নির্বাচনি জনসভায় জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ৫ আগস্টের পর একটি দল মা-বোনদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছে এবং তাদের ঘরে বন্দি করতে চাইছে। এনআইডি এবং বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করে অসৎ প্রস্তাব দিয়ে সৎ শাসন কায়েমের দাবি করা হচ্ছে বলে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

এই জনসভা বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জোটবদ্ধতা এবং বিরোধিতা উভয়ই তীব্র হয়ে উঠেছে। তারেক রহমান, যিনি ১৭ বছরের নির্বাসনের পর সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন, এই সভায় হাজার হাজার সমর্থকের সামনে কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীকে সরাসরি নাম না নিয়ে ‘একটি দল’ বলে উল্লেখ করেন, কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটাকে জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত বলে মনে করছেন। ৫ আগস্ট ২০২৪-এ শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে দেশে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বাড়ছে, এবং তারেকের অভিযোগ সেই প্রসঙ্গেই উঠে এসেছে।

তারেক রহমান বলেন, “এই দলটি মা-বোনদের সম্মান রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা তাদের তুচ্ছ করে, ঘরের চার দেয়ালে বন্দি করার চেষ্টা করছে। এনআইডি নম্বর এবং বিকাশ অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ করে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “যারা এমন অসৎ প্রস্তাব দিয়ে চলে, তারা কীভাবে সৎ লোকের শাসন কায়েম করবে? এটা জনগণকে প্রশ্ন করা দরকার।” এই বক্তব্যের পর জনসভায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, এবং সমর্থকরা স্লোগান দিয়ে তারেকের সমর্থন জানান।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেখলে, বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে সম্পর্ক সাম্প্রতিককালে জটিল হয়ে উঠেছে। ২০২৫-এর শেষভাগে ১১-দলীয় জোটের আসন ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে, যেখানে জামায়াতকে অধিক আসন দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। জামায়াতের আমীর শফিকুর রহমান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, কিন্তু জোটের অন্যান্য দলগুলো এতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এদিকে, জামায়াতের পক্ষ থেকে নারীদের সম্মান রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যেখানে তারা দাবি করেছেন যে বিভিন্ন স্থানে মা-বোনদের উপর হামলা হচ্ছে এবং তারা তা প্রতিরোধ করবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অভিযোগের প্রতিধ্বনি পড়েছে। কিছু পোস্টে জামায়াতকে অভিযুক্ত করা হয়েছে যে তারা কর্মজীবী নারীদের অসম্মান করছে এবং তাদের পেশাগত জীবনকে অবমাননাকর বলে মনে করে। উদাহরণস্বরূপ, তারেক রহমানের স্ত্রী যিনি চিকিৎসক এবং কন্যা যিনি ব্যারিস্টার, তাদেরকে লক্ষ্য করে জামায়াতের নেতারা সমালোচনা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে, ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে অভিযুক্ত করা হয়েছে যে তারা হিজাবধারী নারীদের দিয়ে ঘরে ঘরে গিয়ে এনআইডি তথ্য সংগ্রহ করছে, যা সংখ্যালঘু এবং আওয়ামী লীগ সমর্থকদের লক্ষ্য করে অপরাধমূলক কাজের জন্য ব্যবহার হতে পারে।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নারী অধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে নারীদের শিক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বাড়ছে, কিন্তু ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর উত্থান এটাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তারেক রহমান নিজেই বিএনপি ক্ষমতায় এলে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ স্কিম চালু করে মা-বোনদের ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অপরদিকে, জামায়াতের একজন আইনজীবী তারেককে ‘ভারতের শর্ত মেনে নেওয়া’ বলে সমালোচনা করেছেন, যা জোটের মধ্যে ফাটল আরও গভীর করেছে।

এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে। নির্বাচনের আগে জোটের ফাটল যদি আরও গভীর হয়, তাহলে ইসলামপন্থী এবং উদারপন্থী শক্তির মধ্যে সংঘাত বাড়বে। নারী অধিকারের প্রশ্নটি এখন নির্বাচনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে, যা ভোটারদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। ভবিষ্যতে সৎ শাসনের দাবি যদি অসৎ কাজের সঙ্গে জড়িয়ে যায়, তাহলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হুমকির মুখে পড়বে। জনগণের সচেতনতাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

চট্টগ্রাম নগরের বন্দর স্কুল-কলেজ মাঠে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এক নির্বাচনি জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নারীদের প্রতি সহিংসতা চালিয়ে পরে সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। “একদিকে গায়ে হাত, আরেক হাতে ফ্যামিলি কার্ড—এটা নারীরা চায় না,” মন্তব্য করে তিনি নারী মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্ন তুলেছেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও রাজনৈতিক আচরণের সমালোচনা করে বলেন, শুধু ভাতা বা কার্ড দিয়ে মানুষের সম্মান কেনা যায় না। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে সহিংসতা, বৈষম্য ও অনিরাপত্তা রেখে উন্নয়নের গল্প বলাকে তিনি ‘ভণ্ডামি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “নারীরা দান বা অনুগ্রহ নয়, নিরাপত্তা ও সম্মান চায়। পরিবারে, সমাজে ও রাষ্ট্রে যদি তাদের মর্যাদা নিশ্চিত না হয়, তাহলে কোনো প্রকল্পই টেকসই হবে না।” তার বক্তব্যে উপস্থিত জনতার মধ্যে করতালি ও স্লোগান শোনা যায়।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষ তার সুফল পায় না। তার ভাষায়, “কার্ড দিয়ে ভোট নেওয়া সহজ, কিন্তু মানুষের জীবন বদলানো কঠিন। আমরা সেই কঠিন কাজটাই করতে চাই।”

এ সময় তিনি নারীর ক্ষমতায়নকে শুধু আর্থিক সহায়তায় সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আইনি সুরক্ষার ওপর জোর দেন। নারী নির্যাতন ও সামাজিক সহিংসতার ঘটনার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করার দাবিও তোলেন।

সভায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, আসন্ন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে গণসংযোগ বাড়াতে এই জনসভা আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে মাঠে উপস্থিত হন। মাঠজুড়ে দলীয় ব্যানার-ফেস্টুনে নির্বাচনি আমেজ স্পষ্ট ছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দল নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে নানা কর্মসূচি ঘোষণা করছে। সেই প্রেক্ষাপটে ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে ‘সুবিধা বনাম সম্মান’ প্রশ্নটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এটি মূলত সামাজিক বার্তা হলেও নির্বাচনি কৌশলের অংশ বলেই মনে করছেন তারা।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলছেন, তার টাঙানো ব্যানার-বিলবোর্ড ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে এবং সমর্থকদের হুমকি দিয়ে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) জানিয়েও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। “আমার আসনেই যদি এমন অবস্থা, অন্য আসনগুলোতে কী হচ্ছে তা বুঝে নিন,” বলে তিনি সতর্ক করেছেন। এই অভিযোগ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর জাতীয় নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠিয়েছে।

নাহিদ ইসলাম, যিনি ২০২৪-এর কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম নেতা হিসেবে পরিচিত, এখন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী। তাঁর দল এনসিপি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গঠিত হয়েছে এবং নির্বাচনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে লড়াই করছে। সোমবার সকালে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, “ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলামের পক্ষে জনপ্রিয়তার ঢেউ দেখে মাফিয়া গ্রুপ ভয় পেয়েছে। ভয়ে তারা একের পর এক নাহিদ ইসলামের বিলবোর্ড ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলছে। ‘শাপলা কলি’র অগ্রযাত্রা থামানোর জন্য মরিয়া চেষ্টা চলছে।” ওয়ার্ড ২৩-এর নুরবাগ মসজিদের কাছে গত রাতে একটি বিলবোর্ড ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই অভিযোগের পটভূমিতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা বাড়ছে। ২০২৪-এর গণআন্দোলনের পর শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন এই সরকার ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনের আগে সংস্কারের জন্য ‘জুলাই চার্টার’ স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এনসিপি সহ কয়েকটি দল। নাহিদ বলেন, চার্টারের কোনো আইনি ভিত্তি নেই, তাই এটি ‘অর্থহীন’। এদিকে, নির্বাচনি মাঠে জোটের মধ্যে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত ১১-দলীয় জোটে এনসিপি অংশ নিলেও, নাহিদের অভিযোগে বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে।

নাহিদ আরও অভিযোগ করেন যে, বিএনপি নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে। তাঁর দাবি, বিএনপির পোস্টার বিদ্যুতের তারে টাঙানো হচ্ছে, যা নিয়মবিরুদ্ধ। কিন্তু এনসিপির ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। “এনসিপির সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী এবং কর্মীদের তালিকা তৈরি করে তাদের গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে,” বলে তিনি জানান। বদ্দা-সাতারকুল এলাকায় প্রচারণার সময় তিনি বলেন, “প্রচারণায় সরাসরি বাধা না থাকলেও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে যাতে লোকজন ভোটকেন্দ্রে না যায়। কিন্তু এসব চেষ্টা সফল হবে না।” ইসিকে অভিযোগ জানানোর পরও নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই অভিযোগগুলো নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিয়ে সন্দেহ বাড়াচ্ছে। নাহিদের মতো তরুণ নেতারা ২০২৪-এর আন্দোলনের ফসল, কিন্তু পুরোনো রাজনৈতিক শক্তিগুলো তাদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। বিএনপির পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে জোটের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এতে আরও প্রকট হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাহিদের পোস্ট ভাইরাল হয়েছে, যেখানে অনেকে তার সমর্থনে কথা বলছেন। একজন এক্স ব্যবহারকারী লিখেছেন, “নাহিদ প্রচারণায় কম সক্রিয়, কিন্তু এমন হুমকির কারণে হতে পারে।” অপরদিকে, নাহিদ সতর্ক করে বলেন, “যারা বলপ্রয়োগ বা দখল করে নির্বাচন জিততে চায়, তারা সেই ধারণা ত্যাগ করুক।”

নির্বাচনের এই পর্যায়ে এমন অভিযোগ উঠলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য এটি একটি পরীক্ষা, যেখানে তরুণ নেতৃত্বের উত্থান পুরোনো শক্তির সঙ্গে সংঘাত সৃষ্টি করছে। নাহিদের দল এনসিপি দুর্নীতিমুক্ত এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কিন্তু প্রচারণায় বাধা এটাকে চ্যালেঞ্জ করছে।

নারী ক্রিকেটারদের জন্য নিরাপদ, হয়রানিমুক্ত ও জেন্ডার-সংবেদনশীল ক্রীড়া পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ (বিসিবি) সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এই জনগুরুত্বপূর্ণ আদেশ প্রদান করেন।

বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা যখন ব্যাট-বলে বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের পতাকা উড়াচ্ছেন, ঠিক তখনই তাদের কর্মপরিবেশের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট আজ এই রুল জারি করেন। আদালত জানতে চেয়েছেন, নারী ক্রিকেটারদের জন্য একটি জেন্ডার-সংবেদনশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিসিবির দীর্ঘদিনের নীরবতা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না।

আরও পড়ুনঃ এদেশ কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়: টাঙ্গাইলে তারেক রহমান

রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা। তারা যুক্তি দেখান যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নির্দিষ্ট গাইডলাইন এবং বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপদ কর্মপরিবেশ পাওয়ার অধিকার থাকলেও নারী ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে বিসিবি তা বাস্তবায়নে যথেষ্ট সচেষ্ট নয়।

দীর্ঘদিন ধরেই দেশের নারী ক্রিকেটের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে নানা গুঞ্জন ও অভিযোগ শোনা যাচ্ছিল। বিশেষ করে মাঠের বাইরে ড্রেসিংরুম কালচার, আবাসন সুবিধা এবং বিভিন্ন পর্যায়ে কোচ বা কর্মকর্তাদের দ্বারা মানসিক বা শারীরিক হয়রানির অভিযোগগুলো প্রায়ই ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আদালতের এই রুল মূলত বিসিবির প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর একটি বড় ধাক্কা। অভিযোগ রয়েছে, বিসিবির বর্তমান কাঠামোতে নারী ক্রিকেটারদের অভাব-অভিযোগ শোনার জন্য কোনো স্বাধীন বা শক্তিশালী জেন্ডার সেল নেই। ফলে অনেক উদীয়মান প্রতিভা অকালেই হারিয়ে যাচ্ছে কেবল প্রতিকূল পরিবেশের কারণে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ঢাকা মহানগরের প্রতিটি সংসদীয় আসনের ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ডিএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভায় তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।

গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান উৎসব জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নাশকতার চেষ্টা কঠোর হাতে দমনের রূপরেখা প্রণয়ন করেছে ডিএমপি। সোমবার সকালে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে ডিএমপির প্রণীত নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এই সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্বকালে কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী স্পষ্ট করে বলেন, “জনগণ যেন নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। কোনো কেন্দ্রে সামান্যতম ত্রুটি বা অবহেলার সুযোগ নেই।”

আরও পড়ুনঃ এদেশ কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়: টাঙ্গাইলে তারেক রহমান

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ঢাকার প্রতিটি আসনের ভৌগোলিক অবস্থান ও স্পর্শকাতরতা বিবেচনা করে আলাদা আলাদা নিরাপত্তা ছক তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে জনবহুল এলাকা এবং সংকীর্ণ গলি সংবলিত কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখা হবে।

ডিএমপি কমিশনার তার নির্দেশনায় ভোটকেন্দ্রের ভেতরের পাশাপাশি বাইরের পরিবেশ শান্ত রাখতে ‘মাল্টি-লেয়ার্ড’ বা বহুমুখী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেন। তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যাতে ভোট শুরুর অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই প্রতিটি এলাকায় টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।