নতুন বাংলাদেশ গড়ার যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে ভারতীয় গণমাধ্যম এবং ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে ‘তথ্য সন্ত্রাস’ চালাচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। আজ সোমবার ঢাকায় আয়োজিত এক নীতিসংলাপে তিনি এই অপতৎপরতাকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে এক গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেন।

গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্য অপতথ্য বা ‘ডিজইনফরমেশন’-কে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সোমবার ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) আয়োজিত ‘মিসইনফরমেশন: চ্যালেঞ্জেস টু গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে শফিকুল আলম এই ষড়যন্ত্রের স্বরূপ উন্মোচন করেন।

আরও পড়ুনঃ এদেশ কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়: টাঙ্গাইলে তারেক রহমান

তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা দেখছি একটি বিশেষ মহল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বয়ান তৈরি করছে। এই চক্রের মূল কারিগর হিসেবে কাজ করছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের আইটি সেল এবং ভারতের মূলধারার প্রভাবশালী কিছু গণমাধ্যম।”

প্রেস সচিব তার বক্তব্যে ভারতের গণমাধ্যমগুলোর অপেশাদার আচরণের কঠোর সমালোচনা করেন। বিশেষ করে ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকার নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আনন্দবাজারের মতো পত্রিকা, যা কি না ভারতের সর্বাধিক পঠিত বাংলা দৈনিক, তারাও বাংলাদেশ নিয়ে ডাহা মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং ভারত অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত নির্যাতনের বানোয়াট খবর ছড়িয়ে বিশ্বজনমতকে বিভ্রান্ত করছে।”

তিনি আরও যোগ করেন যে, ভারতের অনেক বড় পত্রিকা এবং টিভি চ্যানেল গত কয়েক মাসে বাংলাদেশ নিয়ে একটিও ইতিবাচক বা সঠিক খবর পরিবেশন করেনি। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অস্থিতিশীল প্রমাণ করা এবং একটি অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের বেশি ভোটার উপস্থিতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি একই সঙ্গে স্বীকার করেছেন, কিছু মানুষ ভোট দিতে না-ও যেতে পারেন—যা প্রতিটি নির্বাচনেই ঘটে থাকে।

রাজধানীর একটি হোটেলে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) এবং মিডিয়া রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচন রিপোর্টিং বিষয়ক সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। এই নির্বাচনকে ঘিরে দেশি-বিদেশি মহলে যখন নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে, ঠিক তখনই সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টার এই আশাবাদী বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তৌহিদ হোসেন বলেন, ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৫৫ শতাংশ। তিনি ধারণা করছেন, এবারের নির্বাচনে এই হার ছাড়িয়ে যাবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “কিছু লোক ভোট দিতে না-ও যেতে পারে। এটা সবসময়ই হয়। প্রতিটি নির্বাচনেই কিছু মানুষ ভোট দিতে যায় না। তবে এবার ভোট দিতে না যাওয়া লোকের সংখ্যা বেশি হবে কি না, আমি বলতে পারবো না।”

আরও পড়ুনঃ এদেশ কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়: টাঙ্গাইলে তারেক রহমান

এই বক্তব্যের পেছনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে দেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে। আওয়ামী লীগসহ কয়েকটি প্রধান দল এবারের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা কম থাকতে পারে। আবার কেউ কেউ বলছেন, জুলাই বিপ্লবের পর নতুন করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আগ্রহ জনগণের মধ্যে বেড়েছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টার এই মন্তব্যকে অনেকে সরকারের আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার দেশে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে যদি ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে, তাহলে প্রায় ৭ কোটির বেশি মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাবেন। এটি হবে একটি উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোটের হার ছিল রেকর্ড কম। সেই তুলনায় এবারের আশা অনেকের কাছেই ইতিবাচক মনে হচ্ছে।

একই অনুষ্ঠানে তৌহিদ হোসেন আরও বলেন, সরকার নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে বদ্ধপরিকর। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, রাজনৈতিক দলগুলো ভোটারদের শান্তিপূর্ণভাবে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করবে।

কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের অন্ধকার জগতের নতুন রহস্য উন্মোচিত হলো। সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ এই মামলা সংক্রান্ত প্রায় ৩৫ লাখ পৃষ্ঠার এক বিশাল নথি প্রকাশ করেছে। এই নথিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, টেক জায়ান্ট বিল গেটস ও ইলন মাস্কের মতো প্রভাবশালীদের নাম আসায় আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও করপোরেট মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াইয়ের পর জনসমক্ষে আসা এই সুবিশাল নথিপত্রকে বলা হচ্ছে এপস্টেইন মামলার এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় ‘তথ্যভাণ্ডার’। যেখানে মূলত এপস্টেইনের যোগাযোগ মাধ্যমের বিশদ বিবরণ, ডায়েরির পাতা এবং ব্যক্তিগত বিমানের ভ্রমণ তালিকা স্থান পেয়েছে।

সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে এসেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম। নথিতে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, কূটনৈতিক বা ব্যবসায়িক কোনো যোগসূত্রে এপস্টেইনের বলয়ে থাকা ব্যক্তিদের সাথে মোদির পরোক্ষ যোগাযোগ থাকতে পারে। তবে এটি সরাসরি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুনঃ এদেশ কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়: টাঙ্গাইলে তারেক রহমান

বিল গেটস ও জেফরি এপস্টেইনের সম্পর্ক নিয়ে আগেও গুঞ্জন ছিল, তবে এবারের নথিতে সেই সম্পর্কের গভীরতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। গেটসের সাথে এপস্টেইনের একাধিক বৈঠক এবং লেনদেন সংক্রান্ত নতুন তথ্য সামনে এসেছে। অন্যদিকে, টেসলা প্রধান ইলন মাস্কের নামও এই তালিকায় যুক্ত হওয়ায় অবাক হয়েছেন অনেকেই। মাস্কের দাবি ছিল তিনি কখনোই এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন না, কিন্তু প্রকাশিত নথিগুলো তার সেই দাবিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

প্রতিবেদনে সবচেয়ে বেশি উত্তাপ ছড়িয়েছে ব্রিটিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসরের একটি অপ্রকাশিত ছবি। ছবিতে এক তরুণীর সাথে তাকে অত্যন্ত আপত্তিকর অবস্থায় দেখা গেছে, যা ব্রিটিশ রাজপরিবারকে নতুন করে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে। এই নথিতে রাজপরিবারের সদস্যদের সাথে এপস্টেইনের নিয়মিত যাতায়াতের আরও জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আসন্ন নির্বাচন নস্যাৎ করার জন্য একটি গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এবার আর কেউ তা বন্ধ করতে পারবে না। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনি এলাকা সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের কাজীপাড়া এলাকায় এক পথসভায় তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার আদায়ে জেগে উঠেছে, তাই জনস্রোত রুখে দেওয়ার ক্ষমতা কারো নেই

পথসভার শুরুতে মির্জা ফখরুল সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সাংবাদিকদের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, “সাংবাদিকরা দেশের অতন্দ্র প্রহরী। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের জন্য ও জনগণের জন্য কাজ করেন। তারা সত্য কথা বলেন এবং সত্য লেখেন বলেই সাধারণ মানুষ আসল ঘটনা জানতে পারে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে গণমাধ্যম সবসময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে কাজ করেছে। সাংবাদিকদের লেখনী যেন কোনো রক্তচক্ষুর কাছে নত না হয়, সেই আহ্বানও জানান এই জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ।

আরও পড়ুনঃ এদেশ কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়: টাঙ্গাইলে তারেক রহমান

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে। পথসভায় মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন যে, একটি কুচক্রী মহল সব সময়ই নির্বাচনকে ভণ্ডুল ও প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে। তিনি বলেন, “কিছু লোক সবসময়ই চায় যেন নির্বাচন না হয় অথবা তা বিতর্কিত হয়। কিন্তু ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হবেই।”

নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং জনগণকে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, এবার যদি জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, তবে দেশের চেহারাই বদলে যাবে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে সব ধরনের সংশয় উড়িয়ে দিলেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রবাসীদের ভোটদান প্রক্রিয়ায় কারচুপির কোনো ছিদ্র রাখা হয়নি। জালিয়াতি রুখতে এবার ‘লাইভ ভেরিফিকেশন’ পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বরিশালের সার্কিট হাউজে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ডিজিটাল ও অবজারভেশন টিমের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুনঃ এদেশ কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়: টাঙ্গাইলে তারেক রহমান

নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, “প্রবাসীরা আমাদের দেশের গর্ব। তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা যেমন কমিশনের দায়িত্ব, তেমনি প্রতিটি ভোটের স্বচ্ছতা রক্ষা করা আমাদের অঙ্গীকার। আমরা এমন একটি প্রযুক্তিগত কাঠামো তৈরি করেছি যেখানে একজনের ভোট অন্য কারো দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

প্রবাসীদের ভোট গ্রহণ পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে গিয়ে তিনি জানান, ডিজিটাল জালিয়াতি রুখতে ভোটারকে ভোট প্রদানের সময় সরাসরি ভিডিও বা লাইভ ভেরিফিকেশনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এর ফলে প্রবাসীর পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে ব্যালট ইস্যু বা গ্রহণ করা সম্ভব হবে না।

এ ছাড়া, ব্যালট পেপারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার ভিন্নধর্মী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো ব্যালটের প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণে থাকবেন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। ডাকযোগে বা ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যালট পৌঁছানো এবং তা ফেরত আসার পুরো প্রক্রিয়ায় কড়া নজরদারি চালানো হবে।

সভায় নির্বাচন কমিশনার মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সততা ও নিরপেক্ষতার প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন আপসহীন। কোনো কর্মকর্তা যদি কোনো প্রার্থীর পক্ষ অবলম্বন করেন বা পক্ষপাতমূলক আচরণ করেন, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কর্মকর্তাদের জন্য একটি বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের দায়িত্ব পালনকালে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত আপ্যায়ন বা আতিথেয়তা গ্রহণ করা যাবে না। এটি নৈতিক স্খলন এবং নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ করার শামিল।

বলিউডের জনপ্রিয় পরিচালক রোহিত শেঠির জুহু এলাকার বাসভবন লক্ষ্য করে শনিবার গভীর রাতে গুলি চালিয়েছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিট থেকে ১টার মধ্যে চার থেকে পাঁচ রাউন্ড গুলিবর্ষণের এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর নেই, তবে শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন করে প্রশ্নচিহ্ন উঠেছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে।

এই ঘটনা ঘটেছে মুম্বাইয়ের জুহুতে অবস্থিত রোহিত শেঠির বহুতল ভবনের সামনে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা ভবনের দিকে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পাওয়ামাত্রই জুহু থানার পুলিশ দল ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ভবনের নিরাপত্তা রক্ষীরা জানিয়েছেন, গুলির শব্দ শুনে তারা সতর্ক হয়ে ওঠেন, কিন্তু দুর্বৃত্তরা ততক্ষণে অন্ধকারের আড়ালে লুকিয়ে পড়েছে।

রোহিত শেঠি, যিনি বলিউডের অ্যাকশন-প্রধান সিনেমার জন্য বিখ্যাত, এই ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তার ঘনিষ্ঠ সূত্র থেকে জানা গেছে, পরিচালক প্রায়ই শুটিংয়ের কাজে ব্যস্ত থাকেন এবং সপ্তাহান্তে বাড়িতে ফিরে আসেন। তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই হামলা সম্ভবত পরিকল্পিত ছিল, কারণ দুর্বৃত্তরা সরাসরি ভবনের প্রবেশপথ এবং বারান্দা লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ এদেশ কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়: টাঙ্গাইলে তারেক রহমান

পুলিশের তদন্ত দল ইতিমধ্যে ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, দু’জন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে এসে গুলি চালিয়ে চলে যায়। এছাড়া, ভবনের বারান্দা থেকে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা গুলির খোসা এবং অন্যান্য নমুনা সংগ্রহ করেছেন। মুম্বাই পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “এটি একটি গুরুতর ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত করছি। দুর্বৃত্তদের শীঘ্রই শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।”

রোহিত শেঠির কর্মজীবন বলিউডে একটি উজ্জ্বল অধ্যায়। তিনি ‘সিংঘম’, ‘সিম্বা’, ‘সুর্যবংশী’ জাতীয় অ্যাকশন-ভিত্তিক সিনেমার মাধ্যমে ‘কপ ইউনিভার্স’ তৈরি করেছেন, যা দর্শকদের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এছাড়া ‘গোলমাল’ সিরিজের কমেডি সিনেমাগুলো তার বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় দেয়। ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগে সহকারী পরিচালক হিসেবে যাত্রা শুরু করে তিনি আজ বলিউডের শীর্ষস্থানীয় নির্মাতাদের একজন। তার সিনেমাগুলোতে প্রায়ই পুলিশ এবং অপরাধের থিম থাকে, যা এই ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

বলিউডে এমন হামলার ঘটনা নতুন নয়। অতীতে সালমান খান, শাহরুখ খানের মতো তারকাদের বাসভবন লক্ষ্য করে হুমকি বা হামলা হয়েছে, যা প্রায়ই আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ঘটনার পিছনে হয়তো চাঁদাবাজি বা ব্যক্তিগত শত্রুতা থাকতে পারে। তবে রোহিত শেঠির ঘনিষ্ঠমহলে কোনো সাম্প্রতিক বিতর্কের খবর নেই। তার সাম্প্রতিক প্রজেক্ট ‘ইন্ডিয়ান পুলিশ ফোর্স’ ওয়েব সিরিজটি অ্যামাজন প্রাইমে মুক্তি পেয়েছে, যা পুলিশের সাহসিকতাকে তুলে ধরেছে। এমন সময় এই হামলা তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চিন্তা জাগিয়েছে।

পুলিশের তদন্তে আরও জানা গেছে, দুর্বৃত্তরা সম্ভবত স্থানীয় নয়, কারণ তাদের চলাফেরায় পেশাদারিত্বের ছাপ রয়েছে।