ভাষা আন্দোলনের চেতনায় উজ্জীবিত অমর একুশে বইমেলা-২০২৬ আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর শুভ উদ্বোধন করেন।

এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’—যা দেশের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, সমাজ ও অগ্রগতির প্রতিচ্ছবি তুলে ধরবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বইমেলা জাতির মেধা-মননের প্রতীক এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ার অন্যতম সূতিকাগার।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “অমর একুশে বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার উৎসব নয়; এটি আমাদের জাতীয় চেতনা, সংস্কৃতি ও মেধার মিলনমেলা।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই মেলা দেশের মানুষকে আরও বেশি বইপড়ুয়া করে তুলবে এবং নিয়মিত পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭৮ সাল থেকে চালু হওয়া এই মেলা এখন জাতির অহংকারের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সাধারণত ফেব্রুয়ারির শুরুতেই মেলা শুরু হয়, কিন্তু চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এবার কিছুটা দেরিতে শুরু হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই মেলা জাতিকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করবে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক মাত্রা লাভ করবে। তিনি বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতির জন্য কাজ করার আহ্বান জানান এবং মেলাকে আন্তর্জাতিক বইমেলায় রূপান্তরের সম্ভাবনা তুলে ধরেন।

এবারের মেলায় বাংলা একাডেমির পাশাপাশি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশেও স্টল রয়েছে। মেলা চলবে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। উদ্বোধনের পরপরই পাঠকরা স্টলে ভিড় জমাতে শুরু করেন, যদিও কিছু প্রকাশনীর স্টল তৈরির কাজ এখনও চলমান ছিল।

অমর একুশে বইমেলা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতি বছর লাখো পাঠক, লেখক, প্রকাশক এখানে মিলিত হন। নতুন বইয়ের প্রকাশ, আলোচনা সভা, স্বাক্ষর অনুষ্ঠান—সব মিলিয়ে এটি একটি জ্ঞানের উৎসব। এবারের প্রতিপাদ্য ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ দেশের বহুমুখী পরিচয়—ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, সমাজ—সবকিছুকে তুলে ধরবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারটি আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে দায়ের করা চারটি নির্বাচনী আবেদন গ্রহণ করে শুনানির জন্য গ্রহণযোগ্য ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।

আগামী এপ্রিল ও মে মাসে পৃথকভাবে এসব আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আদালত একই সঙ্গে অভিযুক্ত আসনগুলোর নির্বাচনী সরঞ্জামাদি নির্বাচন কমিশনের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বিজয়ী প্রার্থীদের প্রতি নোটিশ জারি করেছেন।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই বিভিন্ন আসনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের পরাজিত প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যাচ্ছেন। এর মধ্যে আজ হাইকোর্ট চারটি আবেদন গ্রহণ করে শুনানির তারিখ নির্ধারণ করলেন। এই চার আসন হলো শেরপুর-১, ঢাকা-৬, ঢাকা-৭ এবং গাইবান্ধা-৪।

আবেদনকারীদের মধ্যে শেরপুর-১ আসনে বিএনপির সানসিলা জেবরিন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ভোট গণনায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে এবং তার প্রাপ্ত ভোটের চেয়ে অনেক কম দেখানো হয়েছে। অন্য তিন আবেদনকারী জামায়াতে ইসলামীর। ঢাকা-৬ আসনে মো. আবদুল মান্নান, ঢাকা-৭ আসনে মো. এনায়াত উল্লাহ এবং গাইবান্ধা-৪ আসনে মো. আবদুর রহিম সরকার। তারা ভোটের দিন ব্যালট পেপার ছিনতাই, জাল ভোট, এজেন্টদের বাধা দেওয়া এবং গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন।

এই আবেদনগুলো গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী দায়ের করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী আবেদন শুনানির জন্য হাইকোর্টে একক বেঞ্চ গঠন করে দেন। আজ বিচারপতি জাকির হোসেনের বেঞ্চ আবেদনগুলো গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আদেশ দেন। আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামী ৩২টি আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেছে। বিএনপি ২১২টি আসনে জয়ী হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও কয়েকটি আসনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই চার আসনের মধ্যে শেরপুর-১-এ জামায়াত প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম রাশেদ জয়ী ঘোষিত হয়েছেন বলে অফিসিয়াল ফলাফলে দেখা যায়, কিন্তু বিএনপি প্রার্থী সানসিলা জেবরিন তা মানছেন না।

আদালতের এই আদেশ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। নির্বাচনী সরঞ্জাম হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়ায় ভবিষ্যতে প্রমাণ সংরক্ষণ সহজ হবে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে গত কয়েকদিনের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সেনা সদর থেকে জারি করা আদেশে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি), অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল (এজি), ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি), মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি) এবং লজিস্টিকস এরিয়া জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি)-এর দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। এর আগে গত রোববারও একাধিক শীর্ষ পদে রদবদল হয়।

এই রদবদল সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংগঠন ও নেতৃত্বের পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন সরকার গঠনের পর থেকে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে এ ধরনের পরিবর্তনগুলো দ্রুতগতিতে চলছে, যা সেনাবাহিনীর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সেনা সদরের আদেশ অনুযায়ী, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হককে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন সাবেক কিউএমজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান, যিনি এনডিসির নতুন কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

এছাড়া, মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। তার জায়গায় সাবেক অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামানকে এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

লজিস্টিকস এরিয়ার জিওসি পদে পরিবর্তন এসেছে। রংপুরের ৬৬ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের লজিস্টিকস এরিয়া জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল (এজি) পদেও পরিবর্তন হয়েছে। ১৯ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের জিওসি ও ঘাটাইল এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল হোসেন আল মোরশেদকে নতুন অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এই রদবদলগুলো গত রোববারের (২২ ফেব্রুয়ারি) বড় ধরনের পরিবর্তনের পরপরই এসেছে। ওইদিন চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস), প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও), ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই) প্রধানসহ একাধিক শীর্ষ পদে নতুন নিয়োগ হয়। এসব পরিবর্তন নতুন সরকারের অধীনে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বকে সুসংগঠিত করার প্রচেষ্টার অংশ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে খুব শিগগিরই আরও ১০ হাজার নতুন কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র পেলেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। এছাড়া পুলিশ সার্জেন্টের ১৮০টি শূন্য পদও দ্রুত পূরণ করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন বাংলাদেশ পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটের মুখোমুখি। দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শহরায়ন এবং নানা ধরনের অপরাধের চাপে পুলিশের মাঠপর্যায়ের কাজকর্মে চাপ পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকার আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে পুলিশকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে।

এর অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ২ হাজার ৭০১ জন কনস্টেবল নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন ১০ হাজার নতুন কনস্টেবলের ঘোষণা এই প্রচেষ্টাকে আরও বেগবান করবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “পুলিশের জনবল বৃদ্ধির জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া মাত্রই এই ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের কাজ শুরু হয়ে যাবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পুলিশ সার্জেন্টের শূন্য পদগুলো পরীক্ষার মাধ্যমে দ্রুত পূরণ করা হবে। এই উদ্যোগগুলো পুলিশ বাহিনীর মধ্যবর্তী ও নিম্নস্তরের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।

পুলিশের জনবল সংকট নিয়ে বিশেষজ্ঞরা অনেকদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের মোট জনবল প্রায় ২ লাখের কাছাকাছি, যার মধ্যে কনস্টেবলরা সবচেয়ে বড় অংশ। কিন্তু জনসংখ্যার অনুপাতে পুলিশের সংখ্যা অনেক কম। এই নতুন নিয়োগ পুলিশের মাঠপর্যায়ে আরও বেশি সদস্য মোতায়েন করতে সাহায্য করবে, যা থানা-পুলিশিং, টহল, তদন্ত এবং জরুরি সাড়াদানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলে যোগ্য তরুণ-তরুণীদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি হবে। সাম্প্রতিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিগুলোতে দেখা গেছে, ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে আবেদনের জন্য এসএসসি পাস (জিপিএ ২.৫) এবং নির্দিষ্ট শারীরিক যোগ্যতা প্রয়োজন। অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।

সাদা রঙের পোশাক পরলে অনেকের মনে শান্তি ও পরিচ্ছন্নতার অনুভূতি জাগে। কিন্তু এর পেছনে লুকিয়ে আছে মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা। গবেষণায় দেখা গেছে, সাদা পরিধান আমাদের ব্যক্তিত্বকে নির্মল, সরল এবং সম্পূর্ণতার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করে। এমনকি কর্মক্ষেত্রে সাদা পোশাক পরলে নিজের প্রকৃত সত্তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কেন এই রঙ এতটা প্রভাবশালী? এই প্রতিবেদনে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।

রঙের সঙ্গে মানুষের মনের সম্পর্ক অনেকদিনের। আমেরিকান সাইকোলজিকাল অ্যাসোসিয়েশনের (এপিএ) গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, রঙ মানুষের অনুভূতি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অন্যদের মূল্যায়নকে প্রভাবিত করে। উদাহরণস্বরূপ, লাল রঙ দেখলে পুরুষেরা নারীদের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়, যা ইউনিভার্সিটি অব রচেস্টারের গবেষকরা দেখিয়েছেন। একইভাবে, হলুদ রঙ আনন্দের সঙ্গে যুক্ত, আর কালো দুঃখের। এসব সম্পর্ক বিশ্বজুড়ে একই রকম, যা সাংস্কৃতিক সীমানা অতিক্রম করে।

সাদা রঙের ক্ষেত্রে বিষয়টা আরও আকর্ষণীয়। এটি শুধু গরমকালের আরামের জন্য নয়, বরং এর মধ্যে লুকিয়ে আছে নির্মলতা, নির্দোষতা এবং পরিচ্ছন্নতার বার্তা। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, সাদা পরলে মন শান্ত হয়, চিন্তা স্বচ্ছ হয়ে ওঠে। উদাহরণস্বরূপ, বিবাহ অনুষ্ঠানে সাদা পোশাক পরার রীতি এরই প্রতিফলন – বিশুদ্ধতা এবং নতুন শুরুর প্রতীক। কিন্তু অতিরিক্ত সাদা পরলে কখনও শূন্যতা বা ঠান্ডা ভাবও তৈরি হতে পারে।

কর্মক্ষেত্রে সাদা পোশাকের প্রভাবও উল্লেখযোগ্য। এটি পরলে ব্যক্তি আরও বিশ্বাসযোগ্য এবং পেশাদার মনে হয়। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সাদা শার্ট পরলে অন্যরা আপনার কাজ এবং ব্যক্তিত্বকে আরও গুরুত্ব দেয়। এছাড়া, এটি মানসিক চাপ কমায় এবং শান্ত মেজাজ বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে সাদা রঙের এই প্রভাব সর্বজনীন নয়; সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে এর অর্থ পরিবর্তিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, পশ্চিমা সংস্কৃতিতে সাদা বিশুদ্ধতার প্রতীক, কিন্তু কিছু এশীয় সমাজে এটি শোকের সঙ্গে যুক্ত।

রঙের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব নিয়ে গবেষণা এখনও চলছে। ইউনিভার্সিটি অব রচেস্টারের বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন যে, লাল রঙ দেখলে পরীক্ষায় কর্মক্ষমতা কমে যায়, কারণ এটি বিপদের সঙ্কেত দেয়। একইভাবে, সাদা রঙ সম্পূর্ণতা এবং নিরাপত্তার অনুভূতি জাগায়। এপিএ-এর হ্যান্ডবুক অব কালার সাইকোলজিতে এসব বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা আছে।

সাদা পোশাকের মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

– সাদা রঙ নির্মলতা, নির্দোষতা এবং সম্পূর্ণতার প্রতীক।

– এটি পরলে মন শান্ত হয় এবং চিন্তা স্বচ্ছ হয়ে ওঠে।

– কর্মক্ষেত্রে সাদা পোশাক বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়।

– বিশ্বজুড়ে রঙ-আবেগের সম্পর্ক একই রকম, যেমন লাল ক্রোধ বা ভালোবাসার সঙ্গে যুক্ত।

– গবেষণায় দেখা গেছে, রঙ মানুষের আচরণকে সূক্ষ্মভাবে প্রভাবিত করে।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে হত্যা করা হয়েছিল শুধু সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ বুধবার রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। ২০০৯ সালের এই দিনকে জাতির জন্য লজ্জার ও কলঙ্কজনক অধ্যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি ছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্র।

এই মন্তব্য জাতীয় শহীদ সেনা দিবসের প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে বিদ্রোহের নামে চলে নির্মম হত্যাযজ্ঞ। ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। এই ঘটনা দেশের সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকে মনে করেন, এটি ছিল শুধু বিদ্রোহ নয়, বরং পরিকল্পিত আক্রমণ যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করার লক্ষ্যে হয়েছিল।

মন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর চৌকস অংশকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা হয়। কিন্তু জনগণের ঐক্য ও স্বাধীনতার চেতনা দিয়ে দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তিনি জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করাই এখন মূল লক্ষ্য। অতীতের মতো দেশকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার সুযোগ এসেছে।

পিলখানা ট্র্যাজেডির পর বিভিন্ন তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে, বিচার চলেছে। কিন্তু পরিকল্পনাকারীদের পূর্ণাঙ্গ শনাক্তকরণ ও বিচার নিয়ে প্রশ্ন অমীমাংসিত রয়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন সরকারের অধীনে এই ঘটনার পুনর্বিচারের দাবি উঠেছে। মন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট যে, সরকার এই ঘটনাকে জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করে দেখছে।

এই দিবসে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। মির্জা ফখরুলের মন্তব্য সরকারের অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে—যে এই হত্যাকাণ্ডকে শুধু অতীতের ঘটনা হিসেবে নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও ঐক্যের প্রশ্ন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত শুল্ক-সংক্রান্ত চুক্তি পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

আজ বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনও বিকাশমান এবং লিখিত কোনো নথি হাতে না পাওয়ায় বিস্তারিত মন্তব্য করতে চান না।

এই বক্তব্য বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে শুল্ক নীতি নিয়ে বৈশ্বিক অস্থিরতা চলছে। সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট একটি রায়ে পূর্বের ব্যাপক শুল্ক আরোপকে অবৈধ ঘোষণা করলে প্রশাসন নতুন করে সেকশন ১২২-এর অধীনে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে, যা পরে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এই শুল্ক ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর, যা ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে। কিছু পণ্যে ছাড় থাকলেও এটি বাংলাদেশের রপ্তানির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ফেব্রুয়ারির শুরুতে একটি পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করেছে এবং কিছু টেক্সটাইল ও পোশাক পণ্যে শূন্য শুল্কের সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিনিময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শিল্প ও কৃষি পণ্যে বাজার সুবিধা বাড়িয়েছে। কিন্তু নতুন ১৫ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা এই চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ট্যারিফ ইস্যু অত্যন্ত সংবেদনশীল। বাংলাদেশের অর্থনীতিও সংবেদনশীল। চুক্তির বিষয়টি এখনও উন্নয়নশীল পর্যায়ে থাকায় তাৎক্ষণিক মন্তব্য এড়িয়ে যান তিনি। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, যদি সব দেশের জন্য একই ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হয় এবং বাংলাদেশ অতিরিক্ত সুবিধা না পায়, তাহলে চুক্তির ভারসাম্য নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে পোশাক খাত থেকে, যার একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে যায়। নতুন শুল্কের ফলে পণ্যের দাম বাড়লে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ভিয়েনাম, ভারত, ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো যদি আলাদা সুবিধা পায়, তাহলে বাংলাদেশের বাজার হারানোর ঝুঁকি বাড়বে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে রপ্তানিকারক ও অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে বৈঠক ডেকেছে এই পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য। মন্ত্রী জানান, চুক্তির লিখিত নথি হাতে পেলে বিস্তারিত পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে ২০০৯ সালের নারকীয় হত্যাকাণ্ডে শহীদ সেনা সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বুধবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এই ঘটনার ১৭তম বার্ষিকীতে জাতি শোকাহত স্মৃতিতে ফিরে গেছে, যখন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বের একটি বড় অংশ হারিয়ে গিয়েছিল।

এই দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে বিদ্রোহের নামে চলে নির্মম হত্যাযজ্ঞ। ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। অনেকে নির্যাতিত হয়ে মারা যান, পরিবারের সদস্যরা অমানবিক অবস্থায় আটক ছিলেন। এই ঘটনা সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে গভীর ক্ষত তৈরি করে, যা আজও সারেনি।

আজকের অনুষ্ঠানে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তারপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একইভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ফুল দেওয়ার পর এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সামরিক বাহিনীর সদস্যরা সম্মানসূচক স্যালুট জানান। এরপর দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনসহ তিন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এই উপস্থিতি দেশের সশস্ত্র বাহিনীর ঐক্য ও শ্রদ্ধার প্রতীক।

পিলখানা ট্র্যাজেডি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গভীর প্রশ্ন তুলেছিল। বিদ্রোহের পেছনে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ, বেতন-ভাতা সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলেও পরবর্তী তদন্তে দীর্ঘমেয়াদি ষড়যন্ত্রের ছায়া পাওয়া যায়। সেনা কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে এই হামলা বাহিনীর নেতৃত্বকে দুর্বল করার চেষ্টা ছিল বলে অনেকে মনে করেন। সময়ের সঙ্গে বিডিআরকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) হিসেবে পুনর্গঠন করা হয়, সংস্কার আনা হয়। কিন্তু শহীদদের স্মৃতি জাতির মনে অমলিন।

নতুন সরকারের অধীনে এই শ্রদ্ধাঞ্জলি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পরপরই এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ জাতীয় ঐক্য ও স্মৃতির প্রতি দায়বদ্ধতার বার্তা দেয়। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের উপস্থিতি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার প্রতীক।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত। নতুন গভর্নর হিসাবে মোস্তাকুর রহমানে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি।

সকালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ নতুন গভর্নর নিয়োগের প্রস্তাব অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে উপস্থাপন করলে তিনি সম্মতি দেন।

প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর এটি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে থেকে প্রজ্ঞাপন জারি হয়। নতুন গভর্নর যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

এই পরিবর্তন অর্থনৈতিক মহলে বড় আলোড়ন তুলেছে। ড. আহসান এইচ মনসুর ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন। তখন দেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল—ডলারের দাম আকাশছোঁয়া, রিজার্ভের চাপ, ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা। তিনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাবেক অর্থনীতিবিদ হিসেবে অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছিলেন এবং মানি লন্ডারিং রোধ, ব্যাংকিং সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বেড়েছে। কর্মকর্তাদের একাংশ তাঁকে ‘স্বৈরাচারী’ বলে অভিহিত করে সংবাদ সম্মেলন করেন, যার জেরে কয়েকজনকে শোকজ ও বদলি করা হয়। আজ বুধবার দুপুরে তিনি অফিস ত্যাগ করেন।

নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন। অর্থনীতি ও আর্থিক নীতির ক্ষেত্রে তাঁর একাডেমিক পটভূমি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ড. মনসুরের আমলে ব্যাংকিং খাতে কিছু সংস্কারের চেষ্টা হয়েছে, যেমন ঋণ পুনর্গঠন নীতি, রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা। কিন্তু ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন, সংস্কারের গতি নিয়ে অভিযোগ এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে পড়েছে। নতুন সরকারের অধীনে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, রিজার্ভ বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো—এসব চ্যালেঞ্জ নতুন গভর্নরের সামনে।

 

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী আজ বুধবার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে তিনি পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে এই আবেদন পাঠিয়েছেন।

দুপুরে তিনি নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করে যাবেন বলেও জানান।

এই ঘটনা রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শেখ মো. সাজ্জাত আলী ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর নিয়োগ হয়েছিল চুক্তিভিত্তিক, যা আগামী ২১ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন, যা অনেকের কাছে অপ্রত্যাশিত।

পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে সাজ্জাত আলীর কর্মজীবন দীর্ঘ ও সম্মানজনক। ১৯৮৬ সালের ২১ জানুয়ারি সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পর তিনি ঝিনাইদহ, পুলিশ সদর দপ্তর, বিশেষ শাখা (এসবি)সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর প্রতি রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) প্রদানও তাঁর দক্ষতা ও সাহসিকতার স্বীকৃতি। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে পুলিশ বাহিনীতে সংস্কারের প্রেক্ষাপটে তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যখন রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছিল।

ডিএমপি কমিশনার হিসেবে তাঁর সময়কালে রাজধানীতে নির্বাচন, গণভোটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে। তবে পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ চাপ, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিত এবং ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জও অনেক কর্মকর্তার সামনে আসে।

সাজ্জাত আলী নিজে পদত্যাগের কারণ হিসেবে শুধু ‘ব্যক্তিগত ও পারিবারিক’ উল্লেখ করেছেন। এ ধরনের কারণ সাধারণত গভীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত বহন করে, যা প্রকাশ্যে বিস্তারিত বলা হয় না। তবে পুলিশ প্রশাসনে এমন পদত্যাগ বা অব্যাহতির আবেদন প্রায়ই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের সঙ্গে যুক্ত থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ বাহিনীতে রদবদলের ধারা অব্যাহত রয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এই পদত্যাগ পুলিশ সংস্কার প্রক্রিয়ায় নতুন মোড় আনতে পারে।