ভাষা আন্দোলনের চেতনায় উজ্জীবিত অমর একুশে বইমেলা-২০২৬ আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর শুভ উদ্বোধন করেন।
এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’—যা দেশের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, সমাজ ও অগ্রগতির প্রতিচ্ছবি তুলে ধরবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বইমেলা জাতির মেধা-মননের প্রতীক এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ার অন্যতম সূতিকাগার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “অমর একুশে বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার উৎসব নয়; এটি আমাদের জাতীয় চেতনা, সংস্কৃতি ও মেধার মিলনমেলা।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই মেলা দেশের মানুষকে আরও বেশি বইপড়ুয়া করে তুলবে এবং নিয়মিত পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭৮ সাল থেকে চালু হওয়া এই মেলা এখন জাতির অহংকারের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সাধারণত ফেব্রুয়ারির শুরুতেই মেলা শুরু হয়, কিন্তু চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এবার কিছুটা দেরিতে শুরু হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই মেলা জাতিকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করবে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক মাত্রা লাভ করবে। তিনি বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতির জন্য কাজ করার আহ্বান জানান এবং মেলাকে আন্তর্জাতিক বইমেলায় রূপান্তরের সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
এবারের মেলায় বাংলা একাডেমির পাশাপাশি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশেও স্টল রয়েছে। মেলা চলবে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। উদ্বোধনের পরপরই পাঠকরা স্টলে ভিড় জমাতে শুরু করেন, যদিও কিছু প্রকাশনীর স্টল তৈরির কাজ এখনও চলমান ছিল।
অমর একুশে বইমেলা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতি বছর লাখো পাঠক, লেখক, প্রকাশক এখানে মিলিত হন। নতুন বইয়ের প্রকাশ, আলোচনা সভা, স্বাক্ষর অনুষ্ঠান—সব মিলিয়ে এটি একটি জ্ঞানের উৎসব। এবারের প্রতিপাদ্য ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ দেশের বহুমুখী পরিচয়—ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, সমাজ—সবকিছুকে তুলে ধরবে।


