৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে সাধারণ ও নিরীহ মানুষকে ঢালাওভাবে আসামি করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট জানান, ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতে এবং স্বার্থ চরিতার্থ করতে একটি সুবিধাবাদী শ্রেণি যে ‘মামলা-বাণিজ্য’ শুরু করেছে, তা সরকারের নজরে এসেছে।

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর সারা দেশে অসংখ্য মামলা দায়ের হয়েছে। তবে এসব মামলার একটি বড় অংশে এমন অনেক ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের ঘটনার সঙ্গে কোনো দূরতম সম্পর্কও নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা লক্ষ্য করেছি, ৫ আগস্টের পর কিছু অসাধু লোক ব্যক্তিগত সুবিধা হাসিলের জন্য নিরীহ মানুষদের আসামি করছে। এটি আইনের অপপ্রয়োগ এবং আমরা একে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেব না।”

তিনি আরও যোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে প্রাথমিক তদন্ত ছাড়া কাউকে গ্রেফতার বা হয়রানি করা না হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এই বার্তা অত্যন্ত পরিষ্কার—আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি অবিচারের শিকার না হন।

দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতার পর দেশের বিচারিক কাঠামো পুনর্গঠন সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে নির্বাচনের পর যখন জনমনে স্থিতিশীলতার আশা তৈরি হয়েছে, তখন এই ধরনের ‘হয়রানিমূলক মামলা’ নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে এমন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা করছে, তাদেরও শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

দীর্ঘ ১৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও অস্থিরতা কাটিয়ে অবশেষে ঢাকা হয়ে আগরতলা-কলকাতা আন্তর্জাতিক বাস সার্ভিস চালু হলো।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে ত্রিপুরার আগরতলা থেকে একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করার মধ্য দিয়ে এই পরিষেবার আনুষ্ঠানিক মহড়া সম্পন্ন হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার এই সংযোগ সড়কটি কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের অন্যতম মেরুদণ্ড। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে প্রথম পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু হলেও, আজ মঙ্গলবার থেকে এই কার্যক্রম পূর্ণ গতি পেয়েছে। আগরতলার কৃষ্ণনগরের বাস ডিপো থেকে ছেড়ে আসা বাসটি ঢাকা হয়ে সরাসরি কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

গত দেড় বছরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ডামাডোল এবং ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এই রুটে বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছিলেন সাধারণ যাত্রী, রোগী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তবে অতি সম্প্রতি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হওয়ায় দুই দেশের নীতিনির্ধারকরা পুনরায় যোগাযোগ স্থাপনে সম্মত হন।

ত্রিপুরার আন্তর্জাতিক বাস অপারেটর সংস্থার ম্যানেজার মনোরঞ্জন দেবনাথ এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, “ভিসা জটিলতা এবং অনিবার্য কিছু নিরাপত্তা সংকটের কারণে দীর্ঘ সময় আমরা পরিষেবাটি চালু রাখতে পারিনি। বর্তমানে পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়েছে। আপাতত আমরা পরীক্ষামূলকভাবে (ট্রায়াল রান) বাস চালাচ্ছি।”

জানা গেছে, আগামী দু-তিন দিন এই পর্যবেক্ষনমূলক যাত্রা অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত অবকাঠামো এবং সড়ক নিরাপত্তা খতিয়ে দেখার পর সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহ থেকে নিয়মিত সময়সূচী অনুযায়ী সপ্তাহে অন্তত তিন দিন এই আন্তর্জাতিক বাস চলবে।

বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পদে বড় পরিবর্তন এনেছে সরকার। অতিরিক্ত আইজিপি ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান মো. আলী হোসেন ফকিরকে পদোন্নতি দিয়ে নতুন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিসিএস ১৫তম ব্যাচের এই চৌকস কর্মকর্তার আইজিপি হওয়ার সফরটি মোটেও মসৃণ ছিল না। পেশাদারিত্ব ও সততার জন্য পরিচিত আলী হোসেন ফকির বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চরম রাজনৈতিক রোষানলের শিকার হয়েছিলেন। ১৯৯৭ সালে প্রথমবার তাকে বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে আইনি লড়াইয়ে জিতে তিনি চাকরিতে ফেরেন।

তবে বঞ্চনার এখানেই শেষ ছিল না। ২০২২ সালে শেখ হাসিনা সরকার তাকে পুনরায় বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায়। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করে। এরপর মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে তিনি ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে আজ পুলিশের ৩২তম আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয় যে, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনস্বার্থে এই নিয়োগ কার্যকর করা হয়েছে। উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত এই আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। তিনি বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলমের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

মো. আলী হোসেন ফকিরের জন্ম ১৯৬৮ সালে বাগেরহাট জেলায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে ১৯৯৫ সালে তিনি পুলিশ ক্যাডারে যোগ দেন। কর্মজীবনে তিনি নেট্রেকোণা, ফেনী ও মাগুরা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়াও ডিএমপির উত্তরা জোনের উপ-কমিশনার এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কসোভো ও আইভরি কোস্টে দক্ষতার সাথে কাজ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের ১০ উপদেষ্টার মধ্যে দপ্তর বণ্টন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার এই উপদেষ্টাদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এর মাধ্যমে নতুন সরকারের নীতিনির্ধারণী কাঠামো আরও সুসংহত হলো।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়া এই ১০ উপদেষ্টার মধ্যে পাঁচজন পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদা এবং বাকি পাঁচজন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা পেয়েছেন। আজকের দপ্তর বণ্টনে দেখা গেছে, রাজনৈতিক কৌশলী ও অভিজ্ঞ নেতাদের ওপরই সবচেয়ে বেশি আস্থা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্ত্রী পদমর্যাদার পাঁচজন উপদেষ্টার মধ্যে তিনজনকে সরাসরি ‘রাজনৈতিক উপদেষ্টা’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন— বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান এবং দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ। অভিজ্ঞ এই তিন নেতার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পাওয়াকে সরকারের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং কৌশল নির্ধারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে জনপ্রশাসন এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের দায়িত্ব

প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার পাঁচজন উপদেষ্টাকেও গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে:

হুমায়ুন কবির: পররাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম: প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

ডা. জাহেদ উর রহমান: পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি।

মাহদী আমিন: শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

রেহান আসিফ আসাদ: ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

আগামী ১২ মার্চ থেকে পুনরায় চালু হচ্ছে মালদিভিয়ান এয়ারলাইন্সের ঢাকা-মালে-ঢাকা সরাসরি ফ্লাইট। মালদ্বীপের জাতীয় উড়োজাহাজ সংস্থা মালদিভিয়ান এয়ারলাইন্স সরাসরি এ ফ্লাইট দক্ষিণ এশিয়ার বন্ধুপ্রতীম দুই দেশের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ আরও জোরদার হবে।

এ উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে মালদিভিয়ানের বাংলাদেশের জেনারেল সেলস এজেন্ট -জিএসএ গ্যালাক্সি এভিয়েশন সার্ভিসেস সঙ্গে এক চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

চুক্তিতে মালদিভিয়ান এয়ারলাইন্সের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম ইয়াস এবং গ্যালাক্সি বাংলাদেশ গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ ইউসুফ ওয়ালিদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত শিউনিন রাশীদ, মালদিভিয়ানের গ্রাউন্ড অপারেশন পরিচালক আহমেদ ইব্রাহিম, জেনারেল ম্যানেজার (ইন্টারন্যাশনাল কমার্শিয়াল) মোহামেদ সাফাহ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত শিউনিন রাশীদ বলেন, এই রুট পুনরায় চালুর ফলে বাংলাদেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ও দ্বিপাক্ষিক সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে।

প্রাথমিক অবস্থায় সপ্তাহে দুই দিন (রবিবার ও বৃহস্পতিবার) এই ফ্লাইট পরিচালিত হবে। রিটার্ন ভাড়া শুরু হচ্ছে ৩৯৯ মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশী তাকায় প্রায় ৪৭ হাজার ৮৮০ টাকা। ফ্লাইটগুলো ভোরের দিকে ঢাকায় অবতরণ করবে, যাতে যাত্রীরা সহজেই আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সংযোগ ফ্লাইট ধরতে পারেন।

মালদিভিয়ান কর্তৃপক্ষ জানায়, মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের চাহিদার প্রেক্ষিতে এই রুট পুনরায় চালু করা হয়েছে। রমজান মাসের সমাপ্তি ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাত্রী চলাচল বৃদ্ধির সময়কে সামনে রেখেই এই সেবা চালু হচ্ছে, যা বিদেশগামী মালদ্বীপের নাগরিক ও দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের জন্য সুবিধাজনক হবে।

যাত্রীরা ৩০ কেজি ব্যাগেজ সুবিধা এবং বিনামূল্যে অনবোর্ড খাবার পাবেন। টিকিট বুকিং এখন মালদিভিয়ানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ এবং কল সেন্টার ১৬৭১-এর মাধ্যমে চালু রয়েছে।

বর্তমানে মালদিভিয়ানের বহরে রয়েছে ২৬টি উড়োজাহাজ—এর মধ্যে একটি ওয়াইড-বডি এয়ারবাস এ৩৩০, একটি ন্যারো-বডি এয়ারবাস এ৩২০, পাঁচটি এটিআর, আটটি ড্যাশ ৮ এবং এগারোটি ড্যাশ ৬ টুইন অটার বিমান—যেগুলো দিয়ে তারা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে নিট রিজার্ভ ৩০ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৌশলগত হস্তক্ষেপের ফলে এই উত্থান ঘটেছে, যা অর্থনীতিতে নতুন আস্থা জাগিয়েছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চাপ কমেছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে, রপ্তানি আয় স্থিতিশীল হয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনে রিজার্ভ বাড়াচ্ছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ২.৪৮ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৮.৪ শতাংশ বেশি। এই প্রবাহের ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অক্টোবর থেকে ডলার বিক্রি বন্ধ করে কেনায় মনোযোগ দিয়েছে। ফলে গ্রস রিজার্ভ ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং টাকার মানও শক্তিশালী হয়েছে।

আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর পর অর্থনীতির গতি আরও স্বচ্ছ হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই রিজার্ভ ছিল ২০.৭৯ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ৫.৩৮ বিলিয়ন ডলার কিনেছে, যার মধ্যে ফেব্রুয়ারিতেই ১.৪৪৮ বিলিয়ন ডলার। এই কৌশল অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, রিজার্ভের এই উত্থান আমদানি বিল পরিশোধ, ঋণের সুদ-আসল শোধ এবং বাজারের আস্থা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। চলতি অর্থবছরে ঋণ পরিশোধের চাপ প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ এবং রেমিট্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা না গেলে রিজার্ভের এই গতি টেকসই হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি বলেছেন, বছর শেষে রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এ লক্ষ্যে রপ্তানি বাড়ানো এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

এই উত্থান অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রেমিট্যান্স ও রপ্তানির ধারা অব্যাহত থাকলে বছর শেষে ৪০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। তবে টেকসই উন্নয়নের জন্য রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি অব্যাহত রাখতে হবে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন। ওইদিন বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এ অধিবেশন শুরু হবে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধিবেশন ডেকেছেন, যা নতুন সরকারের অধীনে দেশের আইনসভার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে।

এই অধিবেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে। ২০২৪ সালের আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ১৭ ফেব্রুয়ারি এমপিরা শপথ নেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। এরপর প্রায় এক মাসের মধ্যে সংসদ অধিবেশন ডাকা হয়েছে, যা সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার দ্রুততার পরিচয় দেয়।

প্রথম অধিবেশনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন। সাধারণত পূর্ববর্তী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার এই অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন, কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। পূর্ববর্তী সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ অনেকে নির্বাচনে অংশ নেননি বা পরাজিত হয়েছেন। তাই জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৫ ধারা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে একজনকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করবেন। এই ব্যক্তি স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত অধিবেশন পরিচালনা করবেন। এরপর সংসদ সদস্যরা ভোটের মাধ্যমে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করবেন।

অধিবেশন দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথম দিনেই স্পিকার নির্বাচনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের জন্য উত্থাপিত হবে। এ ছাড়া শোক প্রস্তাব, রাষ্ট্রপতির ভাষণ (পরবর্তী অধিবেশনে) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও আলোচিত হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অধিবেশন নতুন সরকারের কর্মপরিকল্পনা ও অগ্রাধিকারগুলোর প্রতিফলন ঘটাবে। বিগত সময়ের অস্থিরতার পর সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবনের এই মুহূর্তটি দেশবাসীর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

 

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৫ আগস্ট থেকে দায়েরকৃত মামলাগুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। নিরীহ মানুষ যাতে অহেতুক ভোগান্তির শিকার না হন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়, সেই লক্ষ্যে এই উদ্যোগ।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত সকল অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যা বেলা সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হয়ে বেলা আড়াইটায় শেষ হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম, ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাদ আলী, র‌্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমানসহ অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিস্তারিত বর্ণনা দেন, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার ব্যাপক আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি টার্নিং পয়েন্ট। এরপর ৫ আগস্ট থেকে বিভিন্ন মামলা দায়ের হয়, যার মধ্যে অনেকগুলো সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর দ্বারা প্রতিহিংসামূলক বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নামে এসব মামলা দায়ের করে অনেককে অহেতুক হয়রানি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “৫ আগস্টের পর বেশ কিছু মামলা হয়েছে, কিছু সুবিধাবাদী মানুষ এসব মামলা করেছে। ব্যবসায়ী-সাংবাদিকসহ সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষদের নামে মামলা করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, এসব মামলা যাচাই-বাছাই করে পুলিশ সরকারকে প্রতিবেদন দেবে, যাতে নিরীহরা ভোগান্তি থেকে মুক্তি পায়।

এই সিদ্ধান্তের পটভূমিতে দেখা যায়, সরকার পতনের পর অনেক প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড ঘটেছে, যা সমাজের বিভিন্ন স্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই যাচাই প্রক্রিয়া আইনের শাসনকে শক্তিশালী করবে এবং অপব্যবহার রোধ করবে। তবে এতে সময় লাগতে পারে, কারণ পুলিশকে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে, কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়নি।

বৈঠকে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, আওয়ামী লীগের শাসনামলে (২০০৯-২০২৪) প্রদত্ত অস্ত্র লাইসেন্সগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “যথাযথ প্রক্রিয়ায় লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে কি না, লাইসেন্সধারীরা যোগ্য কি না—সব দেখা হবে। অযোগ্যদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।” এ ছাড়া, ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পুনরায় তদন্তের জন্য নতুন কমিশন গঠন করা হবে।

পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংস্কারও আলোচনায় উঠে এসেছে। লটারি পদ্ধতিতে ওসি ও এসপি নিয়োগ বন্ধ করে যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন করা হবে। এ ছাড়া, জাল ঠিকানায় পুলিশ নিয়োগের অভিযোগ যাচাই করা হবে এবং ২ হাজার ৭০১ কনস্টেবল পদে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হবে। ২০০৬ সালে চাকরি হারানো সাড়ে ৬০০ এসআই ও সার্জেন্ট চাকরি ফিরে পাবেন। পাসপোর্টের ভোগান্তি কমাতে নিবন্ধিত সহায়ক চালু করা হবে, যা দলিল লেখকের মতো কাজ করবে।

পুলিশের কাজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “পুলিশের কাজে কেউ হস্তক্ষেপ করলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” মব কালচার বা মহাসড়ক অবরোধ করে দাবি আদায়ের প্রচলন বন্ধ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অবিরাম যাত্রায় নতুন মাইলফলক স্থাপন করল বাংলা একাডেমি। ২০২৫ সালের সাহিত্য পুরস্কারের জন্য নয়জন বিশিষ্ট কবি, লেখক ও গবেষকের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আটটি শাখায়—কবিতা, কথাসাহিত্য, প্রবন্ধ-গদ্য, শিশুসাহিত্য, অনুবাদ, গবেষণা, বিজ্ঞান ও মুক্তিযুদ্ধ—এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজয়ীদের হাতে এ সম্মান তুলে দেবেন।

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার বাংলাদেশের সাহিত্যাঙ্গনে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি। ১৯৬০ সাল থেকে শুরু হওয়া এই পুরস্কার প্রতিবছর ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি দেয়। এবারের ঘোষণা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কারণ এতে বিভিন্ন প্রজন্মের লেখকদের সমন্বয় ঘটেছে—প্রবীণদের পাশাপাশি নতুন প্রতিভার উজ্জ্বল উপস্থিতি। পুরস্কার কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচিত এই তালিকা বাংলা সাহিত্যের বৈচিত্র্য ও গভীরতাকে আরও একবার তুলে ধরেছে।

কবিতা শাখায় পুরস্কার পাচ্ছেন মোহন রায়হান। তার কবিতায় জীবনের সূক্ষ্ম অনুভূতি, প্রকৃতি ও মানবিক সম্পর্কের গভীর চিত্রায়ন দীর্ঘদিন ধরে পাঠকদের মুগ্ধ করেছে। কথাসাহিত্যে নাসিমা আনিসের নির্বাচন উল্লেখযোগ্য—তার গল্প ও উপন্যাসে নারীজীবনের জটিলতা, সমাজের অদৃশ্য স্তরগুলোকে অত্যন্ত স্পর্শকাতরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রবন্ধ-গদ্যে সৈয়দ আজিজুল হকের অবদান অপরিসীম; তার লেখায় সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতির বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি বাংলা গদ্যকে সমৃদ্ধ করেছে।

শিশুসাহিত্যে হাসান হাফিজের নাম বিশেষ আলোচিত। শিশু-কিশোরদের জন্য তার লেখা গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ মনের দুয়ার খুলে দেয়, কল্পনার জগতে নিয়ে যায়। অনুবাদ শাখায় আলী আহমদের কাজ বিদেশি সাহিত্যকে বাংলায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অমূল্য। গবেষণায় যৌথভাবে মুস্তাফা মজিদ ও ইসরাইল খানের নির্বাচন বাংলা সাহিত্যের গবেষণাক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। বিজ্ঞান শাখায় ফারসীম মান্নান মোহাম্মদীর লেখা বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজবোধ্য করে তুলেছে। মুক্তিযুদ্ধ শাখায় মঈদুল হাসানের অবদান অসামান্য—তার লেখায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বীরত্ব ও ত্যাগের সত্যিকারের চিত্র ফুটে উঠেছে।

মূল তথ্যসমূহ:

কবিতা: মোহন রায়হান
কথাসাহিত্য: নাসিমা আনিস
প্রবন্ধ/গদ্য: সৈয়দ আজিজুল হক
শিশুসাহিত্য: হাসান হাফিজ
অনুবাদ: আলী আহমদ
গবেষণা: মুস্তাফা মজিদ ও ইসরাইল খান (যৌথ)
বিজ্ঞান: ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী
মুক্তিযুদ্ধ: মঈদুল হাসান

পুরস্কার প্রদান: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে বাংলাদেশের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল আই ছয়টি নতুন সিনেমার টেলিভিশন প্রিমিয়ারের ঘোষণা দিয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে রোমান্টিক ড্রামা থেকে শুরু করে অ্যাকশন থ্রিলার এবং হরর—সব মিলিয়ে বৈচিত্র্যময় ছবির সমাহার। ঈদের দিন থেকে পরবর্তী সাত দিন পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে এসব সিনেমা প্রচারিত হবে, যা দর্শকদের ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। এই উদ্যোগ চ্যানেল আইয়ের ঈদকেন্দ্রিক বিনোদনের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে ধরে রাখবে।

চ্যানেল আইয়ের এই ঘোষণা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করেছে। বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর হলো সিনেমা মুক্তির সোনালি সময়, যেখানে থিয়েটারের পাশাপাশি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো নতুন ছবির প্রিমিয়ার দিয়ে দর্শকদের আকৃষ্ট করে। চ্যানেল আই বিগত বছরগুলোতে ঈদে সাতটি বা ছয়টি ছবির প্রিমিয়ার দিয়ে সফলতা অর্জন করেছে, যেমন ২০২২ সালে ‘লাল মরগের ঝুটি’ বা ‘নো ডরাই’ মতো ছবি প্রচার করে। এবারের তালিকায় ‘অন্তরাত্মা’, ‘ইনসাফ’, ‘প্রিয় মালতী’, ‘জ্বীন থ্রি’, ‘মন যে বোঝে না’ এবং ‘দাগি’—এসব ছবি রয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরের হিট ফিল্মগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই ছবিগুলোতে তারকা অভিনয়শিল্পীদের উপস্থিতি এবং বৈচিত্র্যময় গল্প দর্শকদের ঘরে বসে উচ্চমানের বিনোদন প্রদান করবে।

ঈদের দিনের প্রধান আকর্ষণ ‘অন্তরাত্মা’। এই রোমান্টিক ফ্যামিলি ড্রামা পরিচালনা করেছেন ওয়াজেদ আলী সুমন, এবং প্রযোজনা করেছেন সোহানী হোসেন। ছবিতে প্রধান ভূমিকায় শাকিব খান এবং পশ্চিমবঙ্গের দর্শনা বণিক। গল্পে প্রথম নামের এক যুবক রূপকথা নামের এক তরুণীর প্রেমে পড়ে, কিন্তু তাদের সম্পর্কে আসে নানা জটিলতা। ছবিটি মূলত ২০২১ সালের ঈদুল ফিতরে মুক্তির কথা ছিল, কিন্তু কোভিড মহামারীর কারণে বিলম্বিত হয়। গত বছরের ঈদের এক সপ্তাহ আগে হঠাৎ ঘোষণা দিয়ে মুক্তি পায় এবং দর্শকদের মধ্যে সাড়া ফেলে। অন্যান্য অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন শাহেদ শরীফ খান, অরুণা বিশ্বাস এবং ঝুনা চৌধুরী। শাকিব খানের স্টার পাওয়ার এবং দর্শনা বণিকের ডেব্যু এই ছবিকে বিশেষ করে তুলেছে।

পরের দিন প্রচারিত হবে ‘ইনসাফ’। সঞ্জয় সোমাদ্দার পরিচালিত এই অ্যাকশন থ্রিলারে প্রধান চরিত্রে সরিফুল রাজ এবং তাসনিয়া ফারিন। গল্পে ইউসুফ নামের এক অপরাধী রাজা একজন পুলিশ অফিসারের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়, এবং এক রহস্যময় প্রতিশোধকারী অপরাধের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ছবিতে বিশেষ ভূমিকায় মোশাররফ করিম। এই ছবি ২০২৫ সালে মুক্তি পেয়ে অ্যাকশনপ্রেমীদের মন জয় করে।

তৃতীয় দিনের ছবি ‘প্রিয় মালতী’। শঙ্খ দাসগুপ্ত পরিচালিত এই ক্রাইম ড্রামা সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত। প্রধান চরিত্রে মেহজাবিন চৌধুরী, যিনি মালতী নামের এক গৃহবধূর ভূমিকায়। গল্পে মালতীর স্বামী একটি বিস্ফোরণে মারা যায়, এবং তিনি তার অজাত শিশুর ভবিষ্যত নিয়ে শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে লড়াই করেন। ছবিটি সামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরে এবং মেহজাবিনের অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।

চতুর্থ দিন ‘জ্বীন থ্রি’। কামরুজ্জামান রোমান পরিচালিত এই হরর ছবিতে আব্দুন নূর শাজাল এবং নুসরাত ফারিয়া। গল্পে একটি গ্রামের ছেলে কৌতূহলবশত জিনকে ডাকে, এবং জিন তাকে নিজের সন্তানের মতো রাখে। এই সিরিজের তৃতীয় কিস্তি দর্শকদের ভয় এবং রোমাঞ্চ দেবে।

পঞ্চম দিন ‘মন যে বোঝে না’। আয়েশা সিদ্দিকা পরিচালিত রোমান্টিক ড্রামায় আরিফিন শুভ এবং তামা মির্জা। গল্পে প্রেমের জটিলতা এবং অনুভূতির অভিব্যক্তি কেন্দ্রীয়। ছবিটি ২০২৫ সালে মুক্তি পেয়ে রোমান্টিক ছবিপ্রেমীদের আকৃষ্ট করে।

ষষ্ঠ দিন ‘দাগি’। শিহাব শাহীন পরিচালিত অ্যাকশন থ্রিলারে আফরান নিশো এবং তামা মির্জা। গল্পে নিশান দ্রুত ধনী হওয়ার লোভে অপরাধের পথে যায় এবং কারাবাস করে। ছবিটি অপরাধ এবং প্রায়শ্চিত্তের থিম নিয়ে।