দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপ্রধানের প্রটোকলের কড়াকড়ি শিথিল করে সাধারণ নাগরিকের মতো সড়কে চলাচল করছেন। ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে গাড়ি চালানো, যানজটে আটকে না পড়ে মানুষের কর্মঘণ্টা বাঁচানো এবং পথচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়—এসব করে তিনি ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। সচিবালয়ে যথাসময়ে পৌঁছে কর্মকর্তাদেরও একই নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দিয়ে তিনি নতুন সরকারের গতিশীলতার উদাহরণ স্থাপন করছেন।

১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পর থেকে তারেক রহমানের দৈনন্দিন জীবনযাপন দেশবাসীর নজর কেড়েছে। পূর্ববর্তী সরকারগুলোতে ভিভিআইপি প্রটোকলের কারণে সড়কে ব্যাপক যানজট, জ্বালানি অপচয় এবং মানুষের সময় নষ্ট হতো। কিন্তু নতুন প্রধানমন্ত্রী সেই ধারা ভেঙে দিয়েছেন। রাস্তায় বের হলে তাঁর গাড়িবহর সিগন্যাল মেনে চলে, ফলে সাধারণ যানবাহনের সঙ্গে মিশে যায়। পথচারীরা তাঁকে দেখে এগিয়ে এলে তিনি জানালা খুলে হাত মেলান, কুশল জিজ্ঞাসা করেন। এমন সরলতা দেখে অনেকে বলছেন, এটাই সত্যিকারের জনগণের সরকারের ছবি।

অফিসে যাওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি সময়ানুবর্তিতার উদাহরণ। সকাল ৯টা ৫ মিনিটে সচিবালয়ে পৌঁছে তিনি মুখ্য সচিবসহ কর্মকর্তাদের স্বাগত জানান। মৌখিক নির্দেশে বলেছেন, সবাই নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত হোন। এতে সচিবালয়ের পরিবেশে নতুন উদ্যম দেখা যাচ্ছে। রাত পর্যন্ত অফিস করে তিনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ তদারকি করছেন। ক্যাবিনেট মিটিংয়ের পাশাপাশি অনির্ধারিত বৈঠক করে মন্ত্রী-সচিবদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই সাদামাটা আচরণের পিছনে রয়েছে বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি ভূমিধস জয় পায়। তারেক রহমান ১৭ বছরের নির্বাসন শেষ করে দেশে ফিরে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন। জনগণের ভোটে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসন জিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। এখন তাঁর লক্ষ্য—দেশকে স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথে নিয়ে যাওয়া।

জনগণের মধ্যে এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে লিখছেন, “প্রধানমন্ত্রী সিগন্যাল মেনে চললে আমরাও মানবো।” অনেকে বলছেন, এটি নেতৃত্বের একটি শক্তিশালী বার্তা—সরকার জনগণের সঙ্গে মিশে থাকবে।

দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) নিজের পুরোনো কর্মক্ষেত্রে ফিরে এসেছেন।

ঢাকার মিরপুরে গ্রামীণ টেলিকম ভবনে অবস্থিত ইউনূস সেন্টারে পৌঁছালে দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। নতুন নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাত্র চার দিন পর এই ফিরে আসা তাঁর জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অধ্যাপক ইউনূস বিদেশ থেকে ফিরে এসে ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন। সেই থেকে প্রায় ১৮ মাস ধরে তিনি দেশকে একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক পথে নিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। এই সময়ে নির্বাচন কমিশন গঠন, সংস্কার কমিশনগুলোর কাজ, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা—সবকিছুতেই তাঁর নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অবশেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোটের বিপুল বিজয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার গঠিত হয় এবং ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব শেষ হয়।

আজ সকালে ইউনূস সেন্টারে পৌঁছালে তাঁকে বরণ করে নেন গ্রামীণ পরিবারের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, ইউনূস সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উপদেষ্টারা। পরে তিনি সেন্টারের পরিচালক ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং গ্রামীণ সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ইউনূস সেন্টারের ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, “আপন অঙ্গনে ফিরে আসায় স্বাগতম অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস”। এই ফিরে আসা তাঁর ‘থ্রি জিরো’ (জিরো পভার্টি, জিরো আনএমপ্লয়মেন্ট, জিরো নেট কার্বন) উদ্যোগসহ সামাজিক ব্যবসা ও দারিদ্র্যবিমোচনের কাজে নতুন গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অধ্যাপক ইউনূসের এই প্রত্যাবর্তনের পটভূমিতে রয়েছে তাঁর দীর্ঘদিনের সামাজিক উদ্যোগ। ১৯৭৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের যাত্রা শুরু করে তিনি মাইক্রোক্রেডিটের মাধ্যমে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি অর্জন করেন। ২০০৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান। ইউনূস সেন্টার ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, যা সামাজিক ব্যবসা, যুব উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম স্থগিত ছিল না হলেও তাঁর সরাসরি নেতৃত্ব অনুপস্থিত ছিল।

এখন তিনি দেশে থেকে কাজ চালিয়ে যাবেন এবং চলতি মাসের শেষের দিকে গুলশানের নিজ বাসভবনে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। সহযোগীরা জানান, তিনি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন এবং সেন্টারের কার্যক্রম পুনরায় সচল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ রদবদল হয়েছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সেনাসদর থেকে জারি করা আদেশে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমানকে চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে উন্নীত করে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এই রদবদল সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ কমান্ড কাঠামোতে নতুন গতি আনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সিজিএস পদটি সেনাবাহিনীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্টাফ পদগুলোর একটি, যেখানে অপারেশন, গোয়েন্দা, প্রশিক্ষণ, বাজেট ও ইউএন শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিস্তৃত দায়িত্ব পালন করতে হয়। লে. জেনারেল মাইনুর রহমান এর আগে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড (আর্টডক)-এর জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর প্রশিক্ষণ ও ডকট্রিন বিষয়ক অভিজ্ঞতা নতুন পদে কৌশলগত সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

অন্যদিকে, মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পিএসও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই পদে তিনি সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়, জাতীয় নিরাপত্তা নীতি প্রণয়ন এবং সরকারের সঙ্গে সামরিক যোগাযোগের মূল দায়িত্ব পালন করবেন। চট্টগ্রামভিত্তিক ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা এখন জাতীয় পর্যায়ের সমন্বয়ে কাজে লাগবে। পূর্ববর্তী পিএসও লে. জেনারেল এস এম কামরুল হাসানকে রাষ্ট্রদূত পদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

এই রদবদলের পটভূমিতে রয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সেনাবাহিনীতে নতুন নেতৃত্ব গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। পূর্ববর্তী সিজিএস লে. জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম সম্প্রতি অবসরে গেছেন। এই পরিবর্তনগুলো সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও কয়েকটি পদে পরিবর্তন হয়েছে। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)-এর নতুন মহাপরিচালক হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরীকে মেজর জেনারেল পদে উন্নীত করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম, ফেরদৌস হাসান সেলিম, মো. হাফিজুর রহমানসহ একাধিক কর্মকর্তাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই দেশের আটটি বিভাগের একটি করে উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এই কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হচ্ছে, যাতে প্রান্তিক ও স্বল্পআয়ের পরিবারগুলো সরাসরি আর্থিক সহায়তা পায়।

নির্বাচনের আগে বিএনপির ইশতেহারে ‘মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র’ গড়ার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। দলটি ক্ষমতায় এসে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় এখন প্রতিশ্রুতি পালনের চ্যালেঞ্জ সামনে। সরকার গঠনের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করে এই কর্মসূচির রূপরেখা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে ১৫ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা কার্ড বিতরণের ডিজাইন, সুবিধাভোগী নির্বাচনের মানদণ্ড এবং বাস্তবায়ন কৌশল প্রণয়ন করবে। কমিটিকে ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক চাপে থাকা স্বল্পআয়ের, হতদরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সরাসরি সহায়তা দেওয়া। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুসারে, প্রথম ধাপে ৫০ লাখ পরিবারকে মাসিক ২ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। এতে এক অর্থবছরে (ক্যাশ-আউট চার্জসহ) প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হতে পারে। কিছু সূত্রে বলা হচ্ছে, সহায়তার পরিমাণ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে, এবং পর্যায়ক্রমে এটি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কার্ডটি মূলত পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীর নামে ইস্যু করা হবে, যা নারীর ক্ষমতায়ন এবং পরিবারের সঠিক ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হবে।

পাইলট প্রকল্প হিসেবে আটটি বিভাগের একটি করে উপজেলায় (যেমন—কুড়িগ্রাম সদর, শ্যামনগর, দিরাই, লামা, চর ফ্যাশন, কেরানীগঞ্জ, নান্দাইল, পাবা) এই কর্মসূচি শুরু হবে। প্রথমে অগ্রাধিকার পাবে হতদরিদ্র, ভূমিহীন, কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর, বিধবা বা নারী-প্রধান পরিবার। বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর (যেমন—ভাতা, ভিজিডি, টিসিবি কার্ড) সঙ্গে সমন্বয় করে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয়ের সম্ভাবনা দেখা হচ্ছে। সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির মধ্যেও ফ্যামিলি কার্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা ধাপে ধাপে সারাদেশে বিস্তৃত হবে।

এই উদ্যোগ সফল হলে দেশের লাখ লাখ পরিবারের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে, বিশেষ করে রমজান ও ঈদের সময় যখন খরচ বেড়ে যায়। তবে বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে কি না—তা এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে রাজি হচ্ছে না। এই অবিচল অবস্থান দেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনে কৌতূহল জেগেছে। ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাকে নতুন মোড় দিয়েছে।

এই ঘটনার পটভূমিতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন। ২০১৫ সালে বারাক ওবামা প্রশাসনের সময়ে স্বাক্ষরিত জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) চুক্তি থেকে ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন বেরিয়ে আসে। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ কৌশল গ্রহণ করে, যার মধ্যে রয়েছে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, তেল রপ্তানি বাধা এবং পারস্য উপসাগরে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ‘বিপজ্জনক’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করে, এটি মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। কিন্তু ইরানের নেতৃত্ব, বিশেষ করে সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই, এই চাপকে ‘অন্যায়’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তাদের কর্মসূচিকে ‘শান্তিপূর্ণ’ দাবি করে চালিয়ে যাচ্ছেন।

শনিবার ফক্স নিউজের ‘মাই ভিউ উইথ লারা ট্রাম্প’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উইটকফ এই বিষয়ে খোলাখুলি কথা বলেন। তিনি জানান, ট্রাম্প ‘হতাশ’ নন, কারণ তাঁর হাতে অনেক বিকল্প রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্টের মনে প্রশ্ন জাগছে—কেন ইরান এখনো নতি স্বীকার করেনি? উইটকফের ভাষায়, “এত চাপ, এত নৌ ও সামুদ্রিক শক্তি মোতায়েনের পরও তারা কেন আমাদের কাছে এসে বলেনি—‘আমরা অস্ত্র চাই না, তাই আমরা এই পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত’?” এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কৌশলের একটি নতুন দিক উন্মোচন করেছে, যেখানে চাপের পাশাপাশি ইরানের মানসিকতা বোঝার চেষ্টা চলছে।

ইরানের অবস্থানের পিছনে রয়েছে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিদ্যা। দেশটির অর্থনীতি নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, জাতীয় গৌরব এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে ইরানী নেতৃত্ব অটল। সম্প্রতি ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণের মাত্রা বাড়িয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, ইরানের সমৃদ্ধিকৃত ইউরেনিয়ামের মজুত চুক্তির সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে ইসরায়েল এবং সৌদি আরবের মতো দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়ছে, যাতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ কৌশলের ফলাফল মিশ্র। একদিকে ইরানের অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে, অন্যদিকে এটি ইরানকে চীন এবং রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে উৎসাহিত করেছে। উইটকফের সাক্ষাৎকার এমন সময়ে এসেছে যখন পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে এবং ইরানী তেল ট্যাঙ্কারগুলোকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের কৌতূহল ইঙ্গিত দেয় যে, চাপের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার দরজা খোলা রাখা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের অবস্থান পরিবর্তন না হলে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ়করণ বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ সভা।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় সহনশীলতা, সামাজিক ঐক্য রক্ষা এবং বিভেদমূলক অপতৎপরতা প্রতিরোধের কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এই সভা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কার্যালয়ে প্রথম দিনের কার্যক্রমের অংশ। সকাল ১০টা ১০ মিনিটে তিনি প্রথমবারের মতো তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করতে আসেন। মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন তাঁকে উষ্ণ স্বাগত জানান। কার্যালয় প্রাঙ্গণে একটি স্বর্ণচাঁপার চারা রোপণ করে তিনি দিনের কার্যক্রম শুরু করেন। পরে তিনি পুরনো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন, অনেকের নাম ধরে ডেকে কথা বলেন—যা কর্মকর্তাদের মধ্যে উষ্ণতা ছড়ায়।

সভায় ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের বহুমুখী সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বৈচিত্র্যকে শক্তির উৎস হিসেবে দেখা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু ঘটনা সামাজিক সম্প্রীতিতে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সভা সেই প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের অগ্রাধিকার নির্দেশ করে। আলোচনায় উঠে এসেছে—সকল ধর্ম, সম্প্রদায় ও মতাদর্শের মানুষের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা জোরদার করা এবং বিভেদ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পর থেকেই সক্রিয়। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি ২০২৬ সালের নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় অর্জন করে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পর এটি প্রথম নির্বাচিত সরকার। তাঁর প্রত্যাবর্তন ও ক্ষমতায় আসা দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এই সভা দেখিয়ে দিচ্ছে, সরকারের প্রথম অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে সম্প্রীতি ও ঐক্য অন্যতম।

সভায় উপস্থিত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলমান কর্মসূচি ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা তাঁদের প্রস্তাব তুলে ধরেন। সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, সারাদেশে সচেতনতামূলক কর্মসূচি জোরদার করা হবে এবং সম্প্রীতি-বিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অগণিত মানুষের ঢল নেমেছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে সর্বস্তরের মানুষ ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে। অনেকে পায়ে হেঁটে, কালো ব্যাজ পরে, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গান গেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত কাটাচ্ছেন।

একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির জাতীয় জীবনে শুধু একটি তারিখ নয়, এটি আত্মত্যাগের প্রতীক, ভাষা ও অধিকারের জন্য লড়াইয়ের অমর গাথা। ১৯৫২ সালের এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পুলিশের গুলিতে রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ অনেকে প্রাণ দিয়েছিলেন মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায়। সেই ত্যাগের স্মৃতিতে প্রতিবছর শহীদ মিনারে জড়ো হয় লাখো মানুষ। এবারও রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে শুরু হয়েছে শ্রদ্ধা নিবেদনের মিছিল। রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা প্রথম প্রহরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও ঘনীভূত হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি—সবাই এসেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন কলেজ-স্কুলের শিক্ষার্থীরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। অনেকে সাদা-কালো পোশাক পরে, পায়ে জুতো খুলে, মাথায় কালো ব্যাজ লাগিয়ে এসেছেন। শহীদ মিনারের বেদিতে রক্তিম গোলাপ, পলাশ, শিমুল ফুলের স্তূপ জমেছে।

দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত লাইন এতটাই দীর্ঘ যে, অনেককে ১-২ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবু কারও মুখে অভিযোগ নেই। এক তরুণী বললেন, “একুশে আমাদের পরিচয়। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা না জানালে নিজেকে বাঙালি বলে দাবি করা যায় না।” একজন বয়স্ক শিক্ষক গান গাইতে গাইতে চোখ মুছছিলেন। পুরো প্রাঙ্গণ জুড়ে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো…’ গানের সুর ভেসে বেড়াচ্ছে, যেন শহীদদের আত্মা এসে মিশে গেছে জনতার সঙ্গে।

এবারের একুশে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো শহীদ মিনারে দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়েছেন। সারাদেশের শহীদ মিনারগুলোতেও একই দৃশ্য—চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, রাজশাহী—সর্বত্র মানুষের ঢল। আলপনা আঁকা পথ ধরে ফুলহাতে এগিয়ে যাচ্ছেন সবাই। নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর হলেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রয়েছে।

বরিশালে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ঘোষণা করেছেন, চলতি ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই দেশব্যাপী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে, পরে ধাপে ধাপে অন্যান্য সুবিধা যুক্ত করা হবে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

এই ঘোষণা সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্নের প্রকল্প হিসেবে পরিচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেশের প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে সামাজিক সুরক্ষার ছাতার নিচে আনার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছে। মন্ত্রী জানান, দেশে প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবার রয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই পরিবারগুলোর নারী সদস্যদের হাতে কার্ড তুলে দেওয়া হবে। এতে নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে।

বক্তব্যে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “আমরা চাই প্রতিটি পরিবারের মা-বোনেরা এই কার্ডের মালিক হোন। শুরুতে নগদ অর্থ দেওয়া হবে, যাতে তারা নিজেরা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কীভাবে সেই টাকা খরচ করবেন। পর্যায়ক্রমে খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা—এমন বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত হবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই কর্মসূচি দলমত নির্বিশেষে হতদরিদ্রদের জন্য। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায়ও এটি অন্তর্ভুক্ত।

সম্প্রতি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এই প্রকল্পের রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা বাস্তবায়নের বিস্তারিত নকশা তৈরি করবে। প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ৮টি বিভাগের ৮টি উপজেলায় শুরু হবে, যা রমজানের মধ্যে বা ঈদের আগে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা। পরে ধাপে ধাপে সারাদেশে বিস্তৃত হবে, লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৫ কোটি পরিবার।

এই কর্মসূচি বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করবে। বর্তমানে বিভিন্ন ভাতা আলাদাভাবে দেওয়া হয়, কিন্তু ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে একক প্ল্যাটফর্মে সবকিছু একীভূত হবে। এতে দুর্নীতি কমবে, সুবিধা সঠিক হাতে পৌঁছাবে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ভাষা আন্দোলন থেকে গণ-অভ্যুত্থান—বাংলার মানুষ অধিকারের জন্য লড়াই করেছে। এখন সরকারের দায়িত্ব তাদের জীবনমান উন্নয়ন।

কুষ্টিয়া শহরের বাইপাস সড়কে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী একটি ট্রাকের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন নারীসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অটোরিকশাটি প্রায় ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়, যাত্রীদের কোনো বাঁচার সুযোগই ছিল না। এ ঘটনা কুষ্টিয়ার সড়ক নিরাপত্তার ভয়াবহ চিত্র আরও একবার সামনে এনেছে।

দুর্ঘটনাস্থল কুষ্টিয়া শহরের বাইপাস সড়কের একটি ব্যস্ত অংশ, যেখানে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ট্রাকটি বিপরীত দিক থেকে আসছিল এবং অটোরিকশাটি শহরের দিকে যাচ্ছিল। হঠাৎ করে মুখোমুখি ধাক্কা লাগে। ধাক্কার তীব্রতায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সিএনজি চালকসহ দুজন পুরুষ এবং তিনজন নারী রয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন— আমেনা, কমেলা, জাকারিয়া ও আশরাফুল। বাকি একজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। স্থানীয়রা জানান, নিহতরা সম্ভবত একই এলাকার বাসিন্দা এবং দৈনন্দিন কাজে শহরে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। কিন্তু কারও কোনো সাড়া-শব্দ ছিল না।

কুষ্টিয়া হাইওয়ে থানার ওসি আবু ওবায়েদ জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক পালিয়ে গেছে। ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা যাচ্ছে, গতির অতিরিক্ততা এবং লেন পরিবর্তনের সময় সতর্কতার অভাব এই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে। তবে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। মরদেহগুলো কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা এসে শনাক্ত করছেন।

এই দুর্ঘটনা কুষ্টিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর একটি। বাইপাস সড়কটি শহরের যানজট এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখানে প্রায়ই দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে স্পিড ব্রেকার, পর্যাপ্ত সাইনবোর্ড এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু বাস্তবে তেমন কোনো উন্নয়ন চোখে পড়েনি।

তেহরান-ওয়াশিংটনের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। একদিকে পরোক্ষ আলোচনা চলছে, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন থেকে সামরিক হামলার হুমকি উড়ছে।

এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এমএসএনবিসি’র ‘মর্নিং শো’ অনুষ্ঠানে একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কোনো সামরিক সমাধান নেই—শুধু কূটনৈতিক পথই কার্যকর। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে ইরান একটি পাল্টা খসড়া প্রস্তাব তৈরি করবে, যা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অনুমোদনের পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হবে।

এই সাক্ষাৎকার মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরীসহ বিপুল সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, ইরান যদি ‘জিরো এনরিচমেন্ট’ (শূন্য মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ) মেনে না নেয়, তাহলে সীমিত সামরিক হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যেই জেনেভায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফা পরোক্ষ আলোচনা শেষ হয়েছে। আরাঘচির দাবি, সেখানে দুই পক্ষ কিছু ‘গাইডিং প্রিন্সিপল’ বা মূল নীতিমালায় সমঝোতা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখনও বড় ফারাক রয়ে গেছে।

আরাঘচি সাক্ষাৎকারে জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই ইরানের কাছে স্থায়ীভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার দাবি করেনি। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র শূন্য সমৃদ্ধকরণ চায়নি। আমরাও কোনো সাসপেনশন প্রস্তাব করিনি। আলোচনা চলছে কীভাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি—সমৃদ্ধকরণসহ—চিরকাল শান্তিপূর্ণ থাকবে।” এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তার দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা পরে স্পষ্ট করেন, ট্রাম্পের দাবি স্পষ্ট—ইরানকে নিউক্লিয়ার অস্ত্র বা তার সক্ষমতা থেকে বিরত রাখতে হবে, এবং সে জন্য ইরানকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তাব দিতে হবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা শান্তির জন্য প্রস্তুত, যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত। যদি যুক্তরাষ্ট্র শক্তির ভাষা ব্যবহার করে, আমরাও একই ভাষায় জবাব দেব।” তিনি মার্কিন সামরিক মোতায়েনকে “অপ্রয়োজনীয় ও অকার্যকর” বলে অভিহিত করেন। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, সামরিক আক্রমণ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থামাতে পারেনি, বরং উত্তেজনা বাড়িয়েছে।