এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। একই সাথে শপথ নিয়েছেন পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে ২৫ জন এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ২৪ জন সদস্য।

গণতন্ত্রের নতুন পথচলা

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের শাসনকাল শেষে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে। এই জয়ের পর আজ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তারেক রহমান। ১৭ বছরের নির্বাসন ও দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই শেষে দেশে ফিরে তিনি এই প্রথম সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নিলেন।

বঙ্গভবনের পরিবর্তে সংসদ ভবনের উন্মুক্ত চত্বরে শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল এ বছরের অন্যতম বড় চমক, যা সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়।

অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদ্য বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিদেশি কূটনীতিক এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনা মন্ত্রী আহসান ইকবালসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নতুন সরকারকে শুভেচ্ছা জানান।

মন্ত্রিসভার গঠন ও বৈচিত্র্য

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন ৪৯ সদস্যের এই মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি ও তরুণ প্রজন্মের প্রতিফলন দেখা গেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সালাহউদ্দিন আহমেদের মতো বর্ষীয়ান নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, ‘টেকনোক্র্যাট’ কোটায় মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকিকেও নতুন মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেখা গেছে, যা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এক নজরে নতুন সরকারের শপথ ও তথ্যসমূহ:

* প্রধানমন্ত্রী: তারেক রহমান (বিএনপি চেয়ারম্যান)।
* মোট মন্ত্রিসভা সদস্য: ৪৯ জন (প্রধানমন্ত্রীসহ)।
* পূর্ণ মন্ত্রী: ২৫ জন।
* প্রতিমন্ত্রী: ২৪ জন।
* শপথ গ্রহণের স্থান: জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা।
* নির্বাচনের তারিখ: ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন)।

সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণের পর দুপুরে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী gx সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়। এরপরই মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। বিএনপির ২০৯ আসনের সঙ্গে জোটসঙ্গীরা মিলে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসন নিশ্চিত করেছে।

এই বিজয়কে অনেকে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার উত্থানের ফসল বলছেন, যা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক স্থবিরতা ভেঙে নতুন সরকারের পথ খুলে দিয়েছে।

শপথ অনুষ্ঠানটি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হবে, যেখানে হাজারো মানুষের উপস্থিতি থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অতিথিদের মধ্যে ভারতের লোকসভা স্পিকার ওম বিরলা উপস্থিত থাকবেন। শপথের পর মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন হবে, যা দলের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের দিকে নজর রেখে করা হবে। বিএনপি ইতিমধ্যে এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার একটি শক্তিশালী বার্তা।

মন্ত্রিসভার সদস্যরা ‘দ্য প্রাইম মিনিস্টার’স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (অ্যামেন্ডমেন্ট) আইন, ১৯৭৫’ এবং ‘দ্য মিনিস্টারস, মিনিস্টার অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টারস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (অ্যামেন্ডমেন্ট) আইন, ১৯৭৫’ অনুসারে বেতন-ভাতা ও সুবিধা পাবেন। এই আইনগুলো সর্বশেষ ২০১৬ সালে সংশোধিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মাসিক বেতন ১,১৫,০০০ টাকা, যার সঙ্গে বাসভবন ভাড়া (যদি নিজের বাড়িতে থাকেন) ১,০০,০০০ টাকা, দৈনিক ভাতা ৩,০০০ টাকা, ভ্রমণ, চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সুবিধা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় বাসভবন সজ্জা ও রক্ষণাবেক্ষণ সরকার বহন করে।

মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে বেতন ১,০৫,০০০ টাকা থেকে শুরু করে প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের জন্য যথাক্রমে ৯২,০০০ ও ৮৬,৫০০ টাকা। এছাড়া দৈনিক ভাতা, যাতায়াত, বাসভবন ও অন্যান্য সুবিধা রয়েছে। এই সুবিধাগুলো রাষ্ট্র পরিচালনায় নির্বিঘ্নতা নিশ্চিত করার জন্য আইনি কাঠামোয় রাখা হয়েছে। তবে জনগণের মধ্যে এসব সুবিধা নিয়ে আলোচনা চলছে, বিশেষ করে যখন বিএনপি স্বচ্ছতা ও সরল জীবনযাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মন্ত্রিসভা গঠন দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, দুর্নীতি দমন ও যুবকদের কর্মসংস্থানের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রথম ধাপ। তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার কীভাবে জুলাই সনদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করবে, তা আগামী দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আজ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা দুটি শপথই গ্রহণ করেছেন—সংসদ সদস্য হিসেবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে এই শপথবাক্য পাঠ করান। সকালে বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংস্কার পরিষদের শপথ এড়িয়ে যাওয়ায় অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও দুপুরে জামায়াতের এমপিরা উভয় শপথ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।

সকাল সাড়ে দশটায় শুরু হয় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান। রেওয়াজ অনুসারে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির এমপিরা প্রথমে শপথ নেন। তবে তারা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন; সংবিধান সংস্কার পরিষদের অংশ হিসেবে দ্বিতীয় শপথ এড়িয়ে যান।

এর ফলে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সদস্যরা সকালে শপথ নেওয়া থেকে বিরত থাকেন। জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরসহ নেতারা জানিয়েছিলেন, সংস্কার ছাড়া সংসদ অর্থহীন—তাই বিএনপি না নিলে তারাও নেবেন না।

কিন্তু দুপুর ১২টা ২২ মিনিটে পরিস্থিতি বদলে যায়। জামায়াতের নবনির্বাচিত এমপিরা শপথকক্ষে উপস্থিত হয়ে প্রথমে সংসদ সদস্য হিসেবে এবং তারপর ১২টা ২৭ মিনিটে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির উদ্দিন উভয় শপথই পড়ান। এই সিদ্ধান্তকে অনেকে দেখছেন জামায়াতের রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও সংস্কারের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি আসন জিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হয়েছে। এটি দলটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাফল্য। বিএনপির ২০৯ আসনের পর জামায়াতের এই অবস্থান বিরোধী দল হিসেবে তাদের ভূমিকাকে আরও শক্তিশালী করেছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনের দাবিগুলোকে আইনি কাঠামোয় রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। জামায়াতের এই অংশগ্রহণ সেই প্রক্রিয়াকে গতি দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির সিদ্ধান্ত এড়িয়ে যাওয়া এবং জামায়াতের গ্রহণের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট। জামায়াত সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংসদে থেকে প্রভাব বিস্তার করতে চায়। এতে বিরোধী দলের ভূমিকা আরও সক্রিয় হবে। তবে কিছু মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এই দুই শপথ কি দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখবে, নাকি নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে?

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথগ্রহণের পরই বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভায় একটি অভূতপূর্ব নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের কোনো সংসদ সদস্য (এমপি) শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা নেবেন না এবং সরকারি কোনো প্লটও গ্রহণ করবেন না।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই সভায় এই ঘোষণা দিয়ে বিএনপি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।

সকালে শপথ নেওয়ার পর দুপুর সাড়ে এগারোটায় সংসদ ভবনের সংসদীয় দলের সভাকক্ষে বৈঠক শুরু হয়। বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করার পাশাপাশি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। দলের মিডিয়া সেল সদস্য শায়রুল কবির খানসহ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে অনেকে দেখছেন জনগণের অর্থের অপচয় রোধ এবং রাজনৈতিক নেতাদের বিলাসিতা পরিহারের একটি সাহসী উদ্যোগ হিসেবে।

বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট বরাদ্দের সুবিধা দীর্ঘদিনের। এসব সুবিধা প্রায়শই সমালোচনার মুখে পড়েছে, কারণ এতে জনগণের ট্যাক্সের অর্থ ব্যক্তিগত সুবিধায় ব্যয় হয় বলে অভিযোগ ওঠে। অতীতে বিভিন্ন দলের এমপিরা এসব সুবিধা গ্রহণ করেছেন, যা রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিএনপির এই সিদ্ধান্ত তাই রাজনীতিতে একটি পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া বিএনপি এখন কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করতে চাইছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই পদক্ষেপ অন্যান্য দলের ওপরও চাপ সৃষ্টি করবে। যদি বিএনপির এমপিরা এসব সুবিধা ত্যাগ করেন, তাহলে অন্য দলগুলোর জন্যও এটি অনুসরণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে সংসদ সদস্যদের জীবনযাত্রায় সরলতা ও জবাবদিহিতার এক নতুন মানদণ্ড তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের পর জনগণের মধ্যে যে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার দাবি উঠেছে, এই সিদ্ধান্ত তারই প্রতিফলন।

দলীয় সূত্র জানায়, সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারেক রহমানের নির্দেশনায় এমপিরা এতে একমত হয়েছেন। এটি শুধু ব্যক্তিগত ত্যাগ নয়, বরং দলের নৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার একটি পদক্ষেপ।

মন্ত্রিসভার সদস্যরা ‘দ্য প্রাইম মিনিস্টার’স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (অ্যামেন্ডমেন্ট) আইন, ১৯৭৫’ এবং ‘দ্য মিনিস্টারস, মিনিস্টার অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টারস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (অ্যামেন্ডমেন্ট) আইন, ১৯৭৫’ অনুসারে বেতন-ভাতা ও সুবিধা পাবেন।

এই আইনগুলো সর্বশেষ ২০১৬ সালে সংশোধিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মাসিক বেতন ১,১৫,০০০ টাকা, যার সঙ্গে বাসভবন ভাড়া (যদি নিজের বাড়িতে থাকেন) ১,০০,০০০ টাকা, দৈনিক ভাতা ৩,০০০ টাকা, ভ্রমণ, চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সুবিধা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় বাসভবন সজ্জা ও রক্ষণাবেক্ষণ সরকার বহন করে।

বিএনপি ইতিমধ্যে এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার একটি শক্তিশালী বার্তা।

মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে বেতন ১,০৫,০০০ টাকা থেকে শুরু করে প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের জন্য যথাক্রমে ৯২,০০০ ও ৮৬,৫০০ টাকা। এছাড়া দৈনিক ভাতা, যাতায়াত, বাসভবন ও অন্যান্য সুবিধা রয়েছে। এই সুবিধাগুলো রাষ্ট্র পরিচালনায় নির্বিঘ্নতা নিশ্চিত করার জন্য আইনি কাঠামোয় রাখা হয়েছে। তবে জনগণের মধ্যে এসব সুবিধা নিয়ে আলোচনা চলছে, বিশেষ করে যখন বিএনপি স্বচ্ছতা ও সরল জীবনযাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মন্ত্রিসভা গঠন দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, দুর্নীতি দমন ও যুবকদের কর্মসংস্থানের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রথম ধাপ। তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার কীভাবে জুলাই সনদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করবে, তা আগামী দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে।

নতুন সরকার যদি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। জনগণ এখন অপেক্ষায়—কথা থেকে কাজের দিকে যাত্রা কতটা সফল হবে।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী দুটি আসনের মধ্যে বগুড়া-৬ ছেড়ে দিয়ে ঢাকা-১৭ আসন ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে এ সংক্রান্ত চিঠি দিয়েছেন তিনি, যা ইসি সচিব আখতার আহমেদ নিশ্চিত করেছেন। আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন তিনি। এই পদক্ষেপ নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬—দুটি আসনেই বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। ঢাকা-১৭-এ ৭২,৬৯৯ ভোট পেয়ে তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের স ম খালিদুজ্জামানকে (৬৮,৩০০ ভোট) ৪,৩৯৯ ভোটের ব্যবধানে হারান।

বগুড়া-৬-এ তার ভোট ২,১৬,২৮৪, যেখানে জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল পান ৯৭,৬২৬ ভোট। এই দ্বৈত জয় বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার (২০৯ আসন) প্রতীক হয়ে উঠেছে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, একাধিক আসনে নির্বাচিত হলে গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে একটি আসন রেখে বাকিগুলো লিখিতভাবে ছেড়ে দিতে হয়। তারেক রহমান শপথের আগের দিনই এই নিয়ম মেনে বগুড়া-৬ ছেড়ে দিয়েছেন।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিয়েছেন, ঢাকা-১৭ রেখেছেন। চিঠি পেয়েছি।” এখন ইসি আসনটি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট জারি করবে, তারপর উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে।

বগুড়া-৬ তারেক রহমানের পৈতৃক এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে বিএনপির ঘাঁটি শক্তিশালী, এবং খালেদা জিয়ার সঙ্গে এর ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে। তবে তিনি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-১৭ আসন বেছে নিয়েছেন, যা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে যুক্তিযুক্ত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই সিদ্ধান্ত নতুন সরকারের প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু ঢাকায় তার উপস্থিতি নিশ্চিত করবে।

এই ঘটনা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কৌশলেরও প্রতিফলন। দলের চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানের দ্বৈত জয় দলীয় ঐক্য ও জনপ্রিয়তার প্রমাণ।

বগুড়া-৬-এ উপনির্বাচন হলে বিএনপির জন্য আরেকটি সহজ জয়ের সুযোগ তৈরি হবে, যা দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে আরও মজবুত করবে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মুখে এখনই নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে একাধিক নাম ঘুরপাক খাচ্ছে, কিন্তু দলীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে—স্থায়ী কমিটির বর্ষীয়ান সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নামই সবচেয়ে জোরালোভাবে বিবেচনায় রয়েছে।

এই আলোচনা দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরবর্তী অধ্যায়কে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, আর এর সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি পদের পরিবর্তনের সম্ভাবনা উঠে এসেছে। ব

র্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ডিসেম্বরে এক সাক্ষাৎকারে পদত্যাগের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যা এখন বাস্তবায়নের পথে। সংবিধান অনুযায়ী নতুন সরকার গঠিত হলে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে, আর সেই প্রক্রিয়ায় বিএনপির প্রভাব থাকবে অপরিসীম।

দলীয় একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির দীর্ঘদিনের সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ব্যক্তিত্ব। অতীতে জ্বালানি, স্বরাষ্ট্র এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

এবার কুমিল্লা-১ আসন থেকে পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দলের ভেতরে তার প্রভাব ও অভিজ্ঞতা বিবেচনায় তাকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য আদর্শ মনে করা হচ্ছে। কিছু দলীয় কর্মী-সমর্থকের মধ্যে এমন গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে যে, এটি দলের প্রতিশ্রুতির একটি অংশ হতে পারে।

অন্যদিকে, স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় রয়েছে। তিনি দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। কেউ কেউ মনে করেন, তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে রাখা যেতে পারে।

তবে খন্দকার মোশাররফের নামের পক্ষে আলোচনা অনেক বেশি জোরালো। এছাড়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামও কিছু মহলে উঠে এসেছে, কিন্তু তিনি রাষ্ট্রপতি পদে আগ্রহী নন বলে দলীয় সূত্র জানাচ্ছে।

এই আলোচনা শুধু নামের তালিকা নয়, বরং বিএনপির নতুন যুগের প্রতীক। দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় ফিরে দলটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজস্ব লোকবল দিয়ে স্থিতিশীলতা আনতে চায়। রাষ্ট্রপতি পদটি প্রতীকী হলেও এর মাধ্যমে দলের ঐক্য, অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়। খন্দকার মোশাররফের মতো একজন প্রবীণ নেতা এই পদে এলে তা দলের ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

 

অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নতুন মন্ত্রিসভা জন্য রাজধানীতে ৩৭টি বাড়ি বা বাসা প্রস্তুত করা হয়েছে।

এই ঘোষণা নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার প্রেক্ষাপটে এসেছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরবর্তী ধাপকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, এখন পর্যন্ত ৩৭টি বাসভবন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এগুলো মূলত মিন্টো রোড, হেয়ার রোড, ধানমন্ডি এবং গুলশান এলাকায় অবস্থিত—যেসব এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মন্ত্রিপাড়া হিসেবে পরিচিত। তিনি আরও জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী আরও কয়েকটি বাড়ি প্রস্তুতির কাজ চলছে, যাতে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা দ্রুত তাদের দায়িত্ব পালন শুরু করতে পারেন।

এই তথ্য প্রকাশের পটভূমিতে দেশে নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি চলছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের বিজয়ের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের অপেক্ষা। উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের এই বক্তব্য নতুন প্রশাসনের জন্য লজিস্টিকস প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে তুলে ধরেছে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বিষয়টি তার ইচ্ছা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে, যা সম্ভবত বিএনপির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে।

রাজধানীর এসব প্রধান এলাকায় সরকারি বাসভবনগুলো ঐতিহ্যগতভাবে মন্ত্রীদের জন্য বরাদ্দ থাকে। মিন্টো রোড ও হেয়ার রোডের মতো জায়গাগুলো নিরাপত্তা ও সুবিধার দিক থেকে আদর্শ বলে বিবেচিত। ধানমন্ডি ও গুলশানের বাসাগুলোর মধ্যে কিছু বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের ব্যবহৃত, যা শিগগিরই খালি করে নতুনদের জন্য হস্তান্তর করা হবে। এই প্রক্রিয়া সরকারি সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

নতুন সরকার গঠনের এই পর্যায়ে আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনিক দক্ষতার প্রশ্ন নয়, বরং জনগণের প্রত্যাশা পূরণেরও অংশ। অনেকে মনে করেন, এই ধরনের প্রস্তুতি নতুন মন্ত্রিসভাকে দ্রুত কাজ শুরু করতে সাহায্য করবে। তবে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন যে, এতগুলো বাসভবন প্রস্তুত থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত রয়েছে, যা রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ ও নিপীড়নের তীব্র প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করেছে।

এই কর্মসূচি দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন তুলেছে—নির্বাচনের পর শান্তি ফিরবে কবে?

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন স্থানে হামলা, ভাঙচুর ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। জামায়াত ও তাদের জোটসঙ্গীরা দাবি করছেন, এসব ঘটনা শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, বরং একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অংশ। সমাবেশে উপস্থিত নেতারা বলছেন, নির্বাচনী অনিয়মের পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে কর্মী-সমর্থকদের ওপর নির্যাতন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই প্রতিবাদকে তারা জনগণের অধিকার রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। তারা বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং ৩২টি আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে, সহিংসতা বন্ধে সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে। নেতারা বলেন, “ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, এখন জীবনের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে—এটা আর সহ্য করা যাবে না।”

এই বিক্ষোভের পটভূমিতে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াত জোট ৭৭টি আসনে জয়লাভ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে, যার মধ্যে জামায়াত এককভাবে ৬৮টি। কিন্তু ফলাফল ঘোষণার পর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযোগ উঠেছে যে, বিজয়ী দলের কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। কোথাও কোথাও বাড়িঘরে আগুন দেওয়া, লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। এসবের প্রতিবাদে গতকাল রোববার জোটটি নির্বাচন কমিশনে সাক্ষাৎ করে অভিযোগ দায়ের করেছে।

সমাবেশস্থলে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভের পাশাপাশি এক ধরনের ঐক্যের ছাপ দেখা গেছে। অনেকে বলছেন, এই কর্মসূচি শুধু প্রতিবাদ নয়, ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলনের সূচনা। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলাকাটি ঘিরে রেখেছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে সারাদেশে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি শুরু করতে যাচ্ছে।

এই উদ্যোগের আওতায় ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল এবং খেজুরের মতো অত্যাবশ্যকীয় পণ্যগুলো বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দরে পাওয়া যাবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে আসবে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ডধারীদের জন্যও এই সুবিধা চালু থাকবে।

এই খবরটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন রমজানের আগমনের সাথে সাথে বাজারে পণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি সাধারণত দেখা যায়। টিসিবি’র এই পদক্ষেপটি সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের সুবিধার্থে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, যা অতীতে অনেকবার সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারের কার্যক্রমটি আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হবে যাতে গ্রামীণ এলাকা থেকে শহরাঞ্চল সব জায়গায় মানুষ সহজেই পণ্য কিনতে পারে।

টিসিবি’র এই বিশেষ বিক্রয় কার্যক্রমটি প্রতি বছর রমজানের সময়ে চালু হয়, কিন্তু এবারের প্রস্তুতি আরও নিখুঁত বলে মনে হচ্ছে। সংস্থাটি ইতোমধ্যে নির্ধারিত ডিলারদের কাছে পণ্য সরবরাহের জন্য আগাম অর্থ জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে, যাতে কোনো ধরনের বিলম্ব না হয়। এছাড়া, লজিস্টিকস এবং বিতরণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হয়েছে যাতে পণ্যের গুণগত মান অক্ষুণ্ণ থাকে। এই পদক্ষেপটি শুধু দাম নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে না, বরং কালোবাজারি এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের কার্যক্রমকেও কমিয়ে আনবে।

রমজান মাসে রোজাদারদের জন্য খাদ্যপণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়, বিশেষ করে ইফতার এবং সেহরির সময়ে। এই সময়ে ভোজ্যতেল এবং চিনির মতো পণ্যের দাম প্রায়শই আকাশছোঁয়া হয়ে যায়, যা নিম্ন এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করে। টিসিবি’র এই উদ্যোগটি সেই চাপ কমাতে সাহায্য করবে। উদাহরণস্বরূপ, যেখানে বাজারে এক লিটার ভোজ্যতেলের দাম ১৫০ টাকার উপরে উঠে যায়, সেখানে টিসিবি’র মাধ্যমে এটি অনেক কম দামে পাওয়া যাবে। একইভাবে, খেজুর এবং ছোলার মতো ইফতারের অপরিহার্য উপাদানগুলোও সাশ্রয়ী হবে।

ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থাটি এই কার্যক্রমের একটি অন্যতম আকর্ষণ। এই কার্ডধারীরা নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য কিনতে পারবেন, যা সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ। এটি নিশ্চিত করবে যে দুর্বল অর্থনৈতিক শ্রেণির মানুষরা অগ্রাধিকার পাবেন। টিসিবি জানিয়েছে, এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতি পরিবার মাসিক একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য কিনতে পারবে, যা তাদের রমজানের খরচ কমাতে সাহায্য করবে।

এই উদ্যোগের পটভূমিতে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি এবং সরবরাহ চেইনের সমস্যা প্রায়শই খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায়। সরকারের এই ধরনের হস্তক্ষেপগুলো জনগণের আস্থা বাড়ায় এবং বাজারকে স্থিতিশীল রাখে। তবে, বিশ্লেষকরা বলছেন, এই কার্যক্রমকে আরও দীর্ঘমেয়াদী করা উচিত যাতে শুধু রমজান নয়, সারা বছরই সাশ্রয়ী পণ্য পাওয়া যায়।

মূল তথ্যসমূহ:

পণ্য তালিকা: ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল এবং খেজুর।
শুরুর তারিখ: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি।
বিতরণ পদ্ধতি: সারাদেশে নির্ধারিত ডিলারদের মাধ্যমে এবং ফ্যামিলি কার্ডের আওতায়।
উদ্দেশ্য: রমজানে দাম নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের সুবিধা নিশ্চিত করা।
প্রস্তুতি: ডিলারদের আগাম অর্থ জমা এবং পণ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা সম্পন্ন।