ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যার আগে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে গোপন গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান হয়েছে। সিআইএ কয়েক মাস ধরে খামেনির অবস্থান এবং চলাচল নজরে রেখে তথ্য সংগ্রহ করে, যা ইসরায়েলকে সেই মারাত্মক হামলার জন্য সহায়তা করে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ গত কয়েক মাস ধরে আয়াতুল্লাহ খামেনির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল। তাদের সংগৃহীত তথ্য অনুসারে, খামেনির অবস্থান এবং দৈনন্দিন অভ্যাস সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা গড়ে উঠেছিল। শনিবার সকালে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি সুরক্ষিত কমপ্লেক্সে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, যেখানে খামেনি উপস্থিত থাকবেন। এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সিআইএ ইসরায়েলের সঙ্গে শেয়ার করে, যা হামলার সময় নির্ধারণে সহায়ক হয়।
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ‘শিল্ড অব জুডাহ’ নামে পরিচিত। এই হামলা মূলত রাতে পরিকল্পিত ছিল, কিন্তু সিআইএর তথ্যের ভিত্তিতে তা এগিয়ে আনা হয়। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এবং সিআইএর সমন্বয়ে এই অভিযানে খামেনি এবং অন্যান্য নেতাদের লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়। ফলে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশ নিহত হয়, যা দেশটির রাজনৈতিক এবং সামরিক কাঠামোকে দুর্বল করে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের গোয়েন্দা সহযোগিতা দীর্ঘদিনের। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রক্সি গ্রুপগুলোর সঙ্গে যুক্ততা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান নিয়মিত। ২০১৮ সালে ইরানের গোপন নথি চুরির ঘটনা থেকে শুরু করে স্টাক্সনেট সাইবার হামলা—সবকিছুতেই এই সহযোগিতা দেখা যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানীদের হত্যা এবং সামরিক ঘাঁটিতে হামলায়ও এই যৌথতা স্পষ্ট। খামেনির ক্ষেত্রে সিআইএর ‘হাই ফিডেলিটি’ তথ্য ইসরায়েলকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সাহায্য করে।
এই ঘটনার পটভূমিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের শত্রুতা। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং হিজবুল্লাহ, হুতি বিদ্রোহীদের মতো গ্রুপগুলোকে সমর্থন দেওয়া ইসরায়েলের জন্য হুমকি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে এই হামলা ইরানের শাসনব্যবস্থা উল্টে দেওয়ার লক্ষ্যে পরিচালিত। তবে এটি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে যুদ্ধকে উসকে দিয়েছে বলে সমালোচনা উঠেছে। ইরান পালটা হামলা চালিয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, খামেনির মৃত্যু ইরানের অভ্যন্তরে ক্ষমতা সংগ্রামকে তীব্র করবে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এখন আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে। তবে এটি ইরানের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে, যেমনটি ঐতিহাসিকভাবে দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের এই কৌশল সফল হবে কি না, তা সময় বলবে।


