জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠকে এই নির্দেশনা দেন তিনি। সরকারের লক্ষ্য স্বাস্থ্যসেবাকে ডিজিটাল ও সহজলভ্য করে তোলা, যাতে গ্রামের মানুষও আধুনিক চিকিৎসা পান।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ই-হেলথ কার্ড চালুর কাজ দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেন। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিকের স্বাস্থ্য তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত হবে, যা হাসপাতালে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসকরা দেখতে পাবেন। এতে ভুল চিকিৎসা কমবে, ওষুধের অপচয় রোধ হবে এবং সরকারি সুবিধা যথাযথভাবে পৌঁছাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা আর কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।
বৈঠকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে পরিত্যক্ত সরকারি ভবনগুলোকে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রূপান্তরের। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অব্যবহৃত ভবন চিহ্নিত করে সেগুলো স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে আসতে হবে। এলজিইডিরই পরিত্যক্ত ভবনের সংখ্যা ১৭০টি। এছাড়া অন্যান্য সংস্থারও অনেক ভবন রয়েছে যা বছরের পর বছর খালি পড়ে আছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব ভবনকে ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা কমিউনিটি হেলথ সেন্টার হিসেবে গড়ে তুললে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা অনেকটা উন্নত হবে।
এই উদ্যোগ নতুন সরকারের স্বাস্থ্য খাতে প্রথম বড় পদক্ষেপ। ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর তারেক রহমান ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ই-হেলথ কার্ড চালু হলে বাংলাদেশ ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এক ধাপ এগিয়ে যাবে। অনেক দেশে এমন কার্ডের মাধ্যমে রোগীর ইতিহাস সংরক্ষণ করা হয়, যা চিকিৎসায় সহায়ক।
পরিত্যক্ত ভবন ব্যবহারের ধারণাটিও বাস্তবসম্মত। বাংলাদেশে সরকারি সম্পদের অপচয় একটি পুরনো সমস্যা। এসব ভবন মেরামত করে স্বাস্থ্য কেন্দ্র করলে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের খরচ কমবে। গ্রামে স্বাস্থ্যকেন্দ্র বাড়লে মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু কমবে এবং প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা বাড়বে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়কে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জোর দেন যে, সেবা দ্রুত ও স্বচ্ছ হতে হবে। এই বৈঠক নতুন সরকারের কর্মকাণ্ডের দিক নির্দেশ করছে।


