পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘরমুখী মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ছিনতাই, ডাকাতি ও টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও পুলিশ।

বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট ও মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। পাশাপাশি ঈদের ছুটিতে ফাঁকা হয়ে যাওয়া রাজধানীর বাসাবাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে যখন লক্ষ লক্ষ মানুষ নিজেদের বাড়ির পথে, তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও ব্যস্ত সময় পার করছে। ঈদযাত্রা যাতে নির্বিঘ্ন ও আনন্দময় হয়, সেই লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবার ঈদে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

যাত্রাপথে কড়া নজরদারি:

ঈদকে কেন্দ্র করে মহাসড়ক, রেলপথ ও নৌপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ঢাকা থেকে বের হওয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, যেমন—গাবতলী, সায়দাবাদ, মহাখালী, কমলাপুর রেলস্টেশন ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে বাড়ানো হয়েছে পুলিশি প্রহরা। র‌্যাবের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করছে র‌্যাব ও জেলা প্রশাসন। র‌্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, ‘ঈদযাত্রায় যাতে কেউ ভোগান্তিতে না পড়েন, সেদিকে আমরা কঠোর দৃষ্টি রাখছি। ছিনতাই, ডাকাতি ও টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত যে কেউ শাস্তির আওতায় আসবে।’

মহাসড়কে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ:

ঈদ উপলক্ষে মহাসড়কে বাড়তি যানবাহনের চাপ সামলাতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগ। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কসহ দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ সড়কে টহল জোরদার করা হয়েছে। যেখানে যানজটের আশঙ্কা বেশি, সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি, যাত্রীদের যাতে সড়কপথে কম সময় লাগে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।’ এছাড়া মহাসড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে র‌্যাব ও পুলিশের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে।

ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা:

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার অধিকাংশ মানুষ বাড়ি চলে যাবেন। ফলে ফাঁকা হয়ে পড়বে অফিস-আদালত, বাণিজ্যিক এলাকা ও আবাসিক ভবন। এই সুযোগে চুরি, ডাকাতি ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদের ছুটির পুরো সময়জুড়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় টহল ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে যেসব এলাকা সাধারণত ফাঁকা পড়ে থাকে, সেখানে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি neighbourhood ওয়াচ বা প্রতিবেশী সচেতনতা বাড়ানোরও পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।

নৌপথ ও রেলপথে নিরাপত্তা:

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের জন্য নৌপথ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে নদী পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি ডুবুরি দলও মোতায়েন রয়েছে। লঞ্চযাত্রা যেন নির্বিঘ্ন হয়, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।

একইভাবে কমলাপুর রেলস্টেশনসহ সারাদেশের গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনে র‌্যাব ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। রেল পুলিশ জানিয়েছে, ‘যাত্রীদের নিরাপত্তা ও টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে রেলস্টেশনে কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে।’

ঈদুল ফিতর শুধু ধর্মীয় উৎসবই নয়, এটি বাঙালির চিরন্তন মিলনমেলা। তাই এই আনন্দ ঘরে ফেরার পথে যেন কোনো দুঃখ না আসে, সেদিকেই সবচেয়ে বেশি নজর দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে র‌্যাব ও পুলিশ।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত অঞ্চলে কি শান্তির দেখা মিলতে চলেছে? ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সোমবার (১৬ মার্চ) এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, এই যুদ্ধ বন্ধ করতে বেশি সময় লাগবে না। একই সঙ্গে তিনি ইরানে সামরিক হামলার সিদ্ধান্তকে ‘বাধ্যতামূলক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি না নিলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বেধে যেতে পারত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ইরান-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে দেওয়া তাঁর最新 বক্তব্যে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। সোমবার দেওয়া ওই বিবৃতিতে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘চলমান এই সপ্তাহে না হলেও, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই যুদ্ধের ইতি ঘটবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে এই পদক্ষেপ নিতে চাইনি। কিন্তু আমার মনে হয়েছে, এটি নেওয়া আমার দায়িত্ব। কারণ এই সিদ্ধান্ত না নিলে যে পরিস্থিতি তৈরি হতো, তা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারত।’

ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা না চালাত, তাহলে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের দিকে এগিয়ে যেত। আর সেটা ঘটলে শুরু হয়ে যেত পারমাণবিক যুদ্ধ, যা দ্রুত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিত। ‘ওই বিশৃঙ্খলা ঠেকাতেই আমরা এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি,’—যোগ করেন তিনি।

যুদ্ধের সমাপ্তি ও নিরাপত্তা:

ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, এই যুদ্ধ শেষ হলে বিশ্ব আরও নিরাপদ হয়ে উঠবে। ‘খুব শিগগিরই আমরা শান্তির বার্তা দেখতে পাব,’—বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু না বললেও, তাঁর এই বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে শিগগিরই কোনো চুক্তি বা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসতে পারে।

প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ:

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ঠান্ডা লড়াই চলছে। তবে সম্প্রতি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিতে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার জন্য ইরান ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পাশে দাঁড়িয়ে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ বাড়িয়ে চলেছে।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এটি কূটনৈতিক সমাধানের পথ প্রশস্ত করতে পারে। অথবা এটি আরও বড় কোনো সামরিক পরিকল্পনার অংশও হতে পারে। তবে ট্রাম্প যে ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন, তা দিয়ে বোঝা যায় এই সংকট কত গভীরে পৌঁছেছিল।

ইরানের পক্ষ থেকে এখনও ট্রাম্পের এই বক্তব্যের জবাব দেওয়া হয়নি। তবে তেহরান আগেই জানিয়েছে, তারা কোনো ধরনের হুমকির মুখে মাথা নত করবে না এবং প্রয়োজনে কঠোর জবাব দেবে।

বিশ্লেষকরা কী বলছেন?

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ঘোষণা দুইভাবে দেখা যেতে পারে। একদিকে এটি ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে পারে, অন্যদিকে এটি যুদ্ধবিরতির জন্য একটি পথও তৈরি করতে পারে। তবে ট্রাম্পের শাসনামলে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি সবসময় চমকপ্রদ ও অনুমানাতীত ছিল। তাই তাঁর এই ঘোষণাকে হুবহু মেনে নেওয়া যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।

স্মার্টফোনের সহজলভ্যতার যুগে স্কুলপড়ুয়া শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা এখন বড় আতঙ্কের নাম। সেই উদ্বেগ দূর করতে বড় পদক্ষেপ নিল বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ।

১২ বছর বয়সী বা তার কম বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ ‘প্যারেন্ট-ম্যানেজড অ্যাকাউন্ট’ চালু করছে মেটার মালিকানাধীন এই প্ল্যাটফর্ম। নতুন এই ব্যবস্থায় অভিভাবকদের অনুমতি ও নিয়ন্ত্রণ ছাড়া শিশুরা কোনোভাবেই অ্যাপটির মূল সুবিধা ব্যবহার করতে পারবে না বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি ।

শিশু-কিশোরদের অনলাইন নির্ভরতা দিন দিন বাড়ছে। পড়াশোনা থেকে বিনোদন—সবকিছুরই কেন্দ্রবিন্দু এখন হাতের মুঠোয়। তবে এই সুবিধার পাশাপাশি তৈরি হয়েছে নানামুখী শঙ্কা। কে কার সঙ্গে কথা বলছে, কাদের গ্রুপে যুক্ত হচ্ছে—এসব নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই বাবা-মায়ের।

সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই হোয়াটসঅ্যাপ এনেছে নতুন এই ফিচার। সম্প্রতি এক ব্লগ পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তারা জানিয়েছে, পরিবার ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যাতে ১৩ বছরের নিচের শিশুরা নিরাপদে মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করতে শেখে ।

কীভাবে কাজ করবে এই বিশেষ অ্যাকাউন্ট?

শিশুর জন্য এই অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে গেলে একসঙ্গে দুটি ফোনের প্রয়োজন হবে—একটি শিশুর এবং অন্যটি অভিভাবকের। প্রথমে শিশুর ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ ডাউনলোড করে ‘ক্রিয়েট এ প্যারেন্ট-ম্যানেজড অ্যাকাউন্ট’ অপশনটি বেছে নিতে হবে। এরপর একটি কিউআর কোড স্ক্যান করে অভিভাবকের ফোনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। সবশেষে একটি ছয় অঙ্কের পিন কোড (প্যারেন্ট পিন) সেট করে দিলেই অ্যাকাউন্ট চালু হয়ে যাবে ।

এই পিনই মূল চাবিকাঠি। এই পিন জানা না থাকলে শিশু কোনো নতুন কন্টাক্ট যুক্ত করতে পারবে না, কোনো গ্রুপে জয়েন করতে পারবে না, এমনকি অ্যাকাউন্টের কোনো সেটিংস বদলাতেও পারবে না ।

কী কী সুবিধা পাবে শিশুরা?

নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শিশুদের জন্য অ্যাপটির অভিজ্ঞতা কেমন হবে, সেটাও ভেবে রেখেছে হোয়াটসঅ্যাপ। এই বিশেষ অ্যাকাউন্টে শিশুরা শুধু মেসেজ ও ভয়েস বা ভিডিও কলের সুবিধা পাবে। কিন্তু সাধারণ অ্যাকাউন্টের মতো সব ফিচার তাদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে না। বিশেষ করে শিশুদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, এমন সব ফিচার সরিয়ে রাখা হয়েছে। যেমন—

  • মেটা এআই ও চ্যানেল: শিশুরা কোনোভাবেই মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুল বা পাবলিক চ্যানেল ব্যবহার করতে পারবে না ।

  • স্ট্যাটাস ও লোকেশন শেয়ারিং: স্ট্যাটাস দেওয়া, ভিউ-ওয়ান্স মেসেজ (যে বার্তা একবার দেখার পর মুছে যায়), চ্যাট লক বা লোকেশন শেয়ার করার সুবিধা থাকছে না ।

  • অচেনা কন্টাক্ট থেকে সুরক্ষা: কোনো অচেনা নম্বর থেকে মেসেজ আসলে সেটি ‘রিকোয়েস্ট’ ফোল্ডারে চলে যাবে। ওই ফোল্ডার খুলতে গেলেই প্রয়োজন হবে অভিভাবকের পিন। সেই রিকোয়েস্ট অনুমোদন করলেই কেবল শিশুটি ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে পারবে ।

  • গ্রুপে যুক্ত হওয়ার নিয়ন্ত্রণ: একইভাবে, কোনো গ্রুপে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ এলেও সেটি পিনের আড়ালে চলে যাবে। অভিভাবক চাইলে গ্রুপের সদস্য ও অ্যাডমিনের তথ্য দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন ।

গোপনীয়তা ও ভবিষ্যৎ:

শঙ্কা দূর হচ্ছে, কিন্তু গোপনীয়তা কি হারিয়ে যাচ্ছে? এই প্রশ্নের জবাবে হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, এই অ্যাকাউন্টেও এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন (দুই প্রান্তে বার্তা সুরক্ষিত রাখার প্রযুক্তি) বহাল থাকবে। অর্থাৎ অভিভাবক শিশুর কারও সঙ্গে কী বার্তা বিনিময় হচ্ছে, তা পড়তে পারবেন না। তারা শুধু দেখতে পাবেন, শিশু কার সঙ্গে কখন যোগাযোগ শুরু করেছে বা নতুন কাউকে অ্যাড করেছে কি না ।

শিশুর বয়স যখন ১৩ বছর হবে, তখন তাকে জানিয়ে দেওয়া হবে যে তার অ্যাকাউন্ট এখন সাধারণ অ্যাকাউন্টে রূপান্তর করা যাবে। তবে অভিভাবক চাইলে এই রূপান্তর আরও ১২ মাস পিছিয়েও দিতে পারবেন ।

মূল তথ্য (এক নজরে):

  • কার জন্য: ১৩ বছরের নিচের শিশু (যে দেশে হোয়াটসঅ্যাপের ন্যূনতম বয়স ১৩, সেখানে এই নিয়ম প্রযোজ্য) ।

  • কী নিয়ন্ত্রণ করা যাবে: কে শিশুর সঙ্গে কথা বলবে, কোন গ্রুপে যুক্ত হবে, কী ধরনের রিকোয়েস্ট আসছে ।

  • কী পাওয়া যাবে না: মেটা এআই, স্ট্যাটাস, লোকেশন শেয়ারিং, ভিউ-ওয়ান্স মেসেজ, চ্যাট লক, পাবলিক চ্যানেল ।

  • কীভাবে কাজ করবে: অভিভাবক ৬ অঙ্কের পিন সেট করে দেবেন, যা জানা না থাকলে শিশু সেটিংস বদলাতে পারবে না ।

  • নিরাপত্তা: এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন থাকবে, অভিভাবক বার্তা পড়তে পারবেন না ।

  • রোলআউট: আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে সারা বিশ্বে এই সুবিধা চালু হবে ।

ডেনমার্ক, জার্মানি, যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো যখন শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নিয়ে কঠোর নিয়ম আনার কথা ভাবছে, তখন হোয়াটসঅ্যাপের এই পদক্ষেপ সময়োপযোগী বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা ।

ঈদ মানেই পোলাও-কোরমা, রোস্ট-রেজালার আয়োজন। স্বাদের এই আসরে অনেকেই লোভ সামলাতে পারেন না, খেয়ে ফেলেন বাড়তি মাংস। কিন্তু একটু বেশিই যদি পাতে পড়ে, তাহলে শরীর কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই সঙ্কেত দিতে শুরু করে।

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সাকিয়া হক জানিয়েছেন, হঠাৎ করে অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার পর শরীরে ঠিক কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হয় এবং তা সামলানোর উপায় কী।

ঈদ, পূজা কিংবা বছরের অন্য কোনো বিশেষ উৎসব—বাংলার ঘরে ঘরে তখন মাংসের নানা পদ রান্না হয়। মুখরোচক এসব খাবারের সুবাসে মন ভরে যায়। কিন্তু এই আনন্দের মুহূর্তে স্বাস্থ্যের কথা কি আমরা ভুলে যাই?

দীর্ঘমেয়াদে লাল মাংসের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সচেতনতা বাড়লেও, উৎসবের আমেজে হুট করে একটু বেশি মাংস খেয়ে ফেলার তাৎক্ষণিক প্রভাব সম্পর্কে অনেকেই অজ্ঞ। ডা. সাকিয়া হকের মতে, এই অজ্ঞতাই বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে, বিশেষ করে যাদের হজমশক্তি দুর্বল।

মাংস হজমের সময় ও শরীরের প্রতিক্রিয়া:

গরুর মাংস বা খাসির মাংস—উৎসবের পদে সাধারণত বেশি তেল-মসলা ও চর্বি যুক্ত থাকে। ডা. সাকিয়া হক ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘মাংস সাধারণত হজম হতে সময় নেয়। কিন্তু যখন তা অতিরিক্ত তেল ও মসলায় রান্না করা হয়, তখন তা ভেঙে হজম হতে আরও বেশি সময় লাগে। আমাদের পাকস্থলী তখন অতিরিক্ত পরিশ্রম করে।’

এই সময় শরীরের বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) দ্রুত তাপ উৎপন্ন করতে থাকে। তাই খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই শরীর গরম লাগা বা ঘাম হওয়া একেবারেই অস্বাভাবিক নয়। অনেকে আবার একে ‘উষ্ণতা’ বলে উড়িয়ে দেন, কিন্তু এটি মূলত শরীরের ভেতরের ভারসাম্য হারানোরই বহিঃপ্রকাশ।

ভারী লাগা ও ক্লান্তি: কেন হয়?

অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার পর আরেকটি সাধারণ অভিযোগ হলো শরীর ভারী হয়ে যাওয়া। চিকিৎসকের ভাষায়, ‘একে আমরা বলি ফুড কমা। শরীর তখন এত বেশি শক্তি হজমের পেছনে ব্যয় করে যে অন্য কাজে শক্তি দেয় না। ফলে মনে হয়, যেন অলসতা ঘিরে ধরেছে, শক্তি হারিয়ে ফেলছি।’

অনেক সময় এই অবস্থা চরমে গেলে বমি বমি ভাব, পেট ফাঁপা বা অম্বলের সৃষ্টি হতে পারে। ডা. হক জানান, অনেকে মনে করেন একদিন বেশি খেলে ক্ষতি নেই, কিন্তু শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবেই চাপ নেয়।

স্বাস্থ্যঝুঁকি কাদের বেশি?

উৎসবের দিনে সুস্থ মানুষ সাময়িক অস্বস্তি অনুভব করলেও, যারা ইতিমধ্যেই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য এই ‘একটু বেশি’ মাংস মারাত্মক আকার নিতে পারে।

ডা. সাকিয়া হক সতর্ক করে বলেন, ‘যাদের ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা আছে, তারা তো আছেনই, পাশাপাশি যাদের কিডনি বা লিভারের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত মাংস বিষক্রিয়ার মতো কাজ করতে পারে। কারণ অতিরিক্ত প্রোটিন ও চর্বি একসঙ্গে গিয়ে লিভারের ওপর চাপ বাড়ায়।’

চিকিৎসকের পরামর্শ ও করণীয়:
উৎসবের আনন্দ নষ্ট না করে কীভাবে সুস্থ থাকা যায়, তার কিছু টিপস দিয়েছেন ডা. সাকিয়া হক।

  • প্রথমত, অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। পাতে যেন শুধু মাংস না থাকে, তার সঙ্গে শসা, টমেটো বা সালাদ রাখা জরুরি।

  • দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত মাংস খেয়ে ফেললে সঙ্গে সঙ্গে পানি পান না করে বরং একটু হাঁটাহাঁটি করতে হবে।

  • তৃতীয়ত, হজমে সাহায্য করে এমন কিছু ভেষজ, যেমন দারুচিনি বা এলাচের চা খেতে পারেন।

  • চতুর্থত, পরবর্তী ভারী খাবারের আগে দীর্ঘ বিরতি রাখতে হবে, যাতে শরীর হজমের কাজ শেষ করে নেয়।

মূল তথ্য (প্রতিক্রিয়ার তালিকা):

  • শারীরিক প্রতিক্রিয়া ১: অতিরিক্ত মাংস খেলে বিপাকক্রিয়া দ্রুত তাপ উৎপন্ন করে, ফলে শরীর গরম হয় ও ঘাম দেখা দেয়।

  • শারীরিক প্রতিক্রিয়া ২: হজমে সময় বেশি লাগায় পাকস্থলী ভারী থাকে এবং ক্লান্তি অনুভূত হয়।

  • শারীরিক প্রতিক্রিয়া ৩: রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা গাঁটে ব্যথার কারণ।

  • শারীরিক প্রতিক্রিয়া ৪: যাদের গলব্লাডার বা লিভারের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত চর্বি বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।

উৎসব মানেই খুশি, আর খুশি মানেই স্বাস্থ্যকর জীবন। ডা. সাকিয়া হকের ভাষ্যমতে, ‘আমরা মনে করি একদিন বেশি খেলে ক্ষতি হবে না, কিন্তু সেই একদিনের অসাবধানতা অনেক সময় দীর্ঘস্থায়ী রোগ ডেকে আনতে পারে।’

মঞ্চে ফ্রি প্যালেস্টাইনের ধ্বনি, লালগালিচায় তারকাদের চোখ ধাঁধানো ফ্যাশন, আর ইতিহাস গড়া কিছু অর্জন—সব মিলিয়ে ৯৬তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কার ২০২৪ ছিল নানা নাটকীয়তা ও নতুন রেকর্ডে ভরপুর।

গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে অনুষ্ঠিত এই আসরে হলিউডের চিরচেনত জৌলুসের পাশাপাশি উঠে এসেছে রাজনৈতিক সুরও। বিশেষ করে ফিলিস্তিন ইস্যুতে সোচ্চার স্প্যানিশ অভিনেতা হাভিয়ের বারদেমের বক্তব্য মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়েছে।

অস্কারের মঞ্চ কেবল সিনেমার পুরস্কার বিতরণীর জন্যই বিখ্যাত নয়, এটি সামাজিক-রাজনৈতিক বার্তার একটি জোরালো মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে। এবারের আসরটি যেন তার ব্যতিক্রমী উদাহরণ তৈরি করল।

সেরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের পুরস্কার ঘোষণা করতে মঞ্চে আসেন স্প্যানিশ তারকা হাভিয়ের বারদেম। দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে সোচ্চার এই অভিনেতা পুরস্কার ঘোষণার আগে যুদ্ধবিরোধী বার্তায় মঞ্চ মাতিয়ে দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘যুদ্ধ নয়, মুক্ত হোক ফিলিস্তিন।’

তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে গ্যালারি থেকে ভেসে আসে করতালির ঝড়। শুধু বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি বারদেম, তাঁর পোশাকে যুদ্ধবিরোধী একটি পিনও পরেছিলেন, যা ইসরায়েল-হামাস সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি এবারের অস্কারের আরেক মুখ ছিল ফ্যাশন ও রেকর্ড। লালগালিচায় তারকাদের চোখধাঁধানো উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পিপলডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোল্ডেন গ্লোবজয়ী অভিনেত্রী কেড হাডসন, ‘পুওর থিংস’-এর তারকা এমা স্টোন, তিয়ানা টেইলর, কিংবদন্তি অভিনেত্রী ডেমি মুর, এল ফ্যানিং এবং ‘আনাতমি অফ আ ফল’-এর জন্য প্রশংসিত মাইকি মেডিসনরা লালগালিচায় সেরা পোশাকে আলো ছড়িয়েছেন।

তবে এর মধ্যেই নতুন ইতিহাস গড়েছেন এমা স্টোন। ‘পুওর থিংস’-এ অসাধারণ অভিনয়ের জন্য তিনি দ্বিতীয়বারের মতো সেরা অভিনেত্রীর অস্কার জিতে নেন, যা তাকে বর্তমান সময়ের সেরা অভিনেত্রীদের কাতারে প্রতিষ্ঠিত করল।

এবারের অস্কারে আরও কিছু উল্লেখযোগ্য দিক ছিল চোখে পড়ার মতো। ক্রিস্টোফার নোলানের ‘ওপেনহাইমার’ সবচেয়ে বেশি পুরস্কার জিতে সেরা ছবির মুকুট নিজের করে নেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তৈরি এই বায়োপিকটি জিতে নেয় মোট সাতটি অস্কার। এছাড়া ‘পুওর থিংস’ তিনটি এবং ‘আমেরিকান ফিকশন’ একটি পুরস্কার পেয়েছে। তবে পুরস্কারের পাশাপাশি সেলিব্রেটিদের মজার মূহুর্তও ছিল চোখে পড়ার মতো। জন সিনার নগ্ন উপস্থিতি এবং আরও কয়েকটি অঘটন অনুষ্ঠানে হাসির রোল তুললেও, হাভিয়ের বারদেমের গম্ভীর রাজনৈতিক বক্তব্যই যেন সন্ধ্যার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল।

বিনোদনের এই জগতে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া নতুন কিছু নয়। অতীতেও মার্লন ব্র্যান্ডো, ভ্যানেসা রেডগ্রেভের মতো তারকারা অস্কারের মঞ্চ ব্যবহার করেছেন। কিন্তু গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে হাভিয়ের বারদেমের এই ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। হলিউডে সাধারণত ইসরায়েলপন্থী লবির প্রভাব বেশি থাকলেও, বারদেমের মতো শক্তিশালী কণ্ঠের এই বার্তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিনের পক্ষে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মূল ঘটনাবলি (সংক্ষিপ্ত তালিকা):

  • রাজনৈতিক বার্তা: হাভিয়ের বারদেম অস্কার মঞ্চে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বলে যুদ্ধবিরোধী বার্তা দেন।

  • ফ্যাশন আইকন: লালগালিচায় কেড হাডসন, এমা স্টোন, ডেমি মুরের মতো তারকারা সেরা পোশাকে আলো ছড়ান।

  • নতুন রেকর্ড: এমা স্টোন দ্বিতীয়বারের মতো সেরা অভিনেত্রীর অস্কার জিতে ইতিহাস গড়েন।

  • সেরা ছবি: ক্রিস্টোফার নোলানের ‘ওপেনহাইমার’ সেরা ছবি-সহ মোট সাতটি পুরস্কার অর্জন করে।

  • উপস্থিতি: সেরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বিভাগে যুক্তরাজ্যের ‘দ্য জোন অফ ইন্টারেস্ট’ পুরস্কার পায়, যা হলোকস্টের ওপর নির্মিত হলেও ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করে।

সব মিলিয়ে ৯৬তম অস্কার প্রমাণ করল যে, রুপালি পর্দার জাদুর পাশাপাশি বাস্তব জগতের কঠোর বাস্তবতাও এই মঞ্চের অবিচ্ছেদ্য অংশ। হাভিয়ের বারদেমের সোচ্চার কণ্ঠ যেখানে গাজার শিশুদের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি তুলেছে, সেখানে এমা স্টোনের জয় প্রতিভার বিজয় ঘোষণা করেছে।