সৌদি আরবে বুধবার (১৮ মার্চ) পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে দেশটিতে এবার রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং আগামী শুক্রবার (২০ মার্চ) যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। দেশটির জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
বুধবার মাগরিবের নামাজের পর থেকেই সৌদি আরবের তামির ও সুদাইরসহ বিভিন্ন প্রান্তের মানমন্দিরগুলোতে টেলিস্কোপ নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন বিশেষজ্ঞ ও শৌখিন চাঁদ পর্যবেক্ষকরা। তবে মেঘমুক্ত আকাশ থাকা সত্ত্বেও কোথাও শাওয়াল মাসের এক ফালি নতুন চাঁদের দেখা মেলেনি। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এবং জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি দীর্ঘ পর্যালোচনার পর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয় যে, বৃহস্পতিবার হবে রমজানের শেষ দিন। অর্থাৎ, শুক্রবার সকালে ঈদের জামাতে শরিক হবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস ও গালফ নিউজ তাদের বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। সাধারণত সৌদি আরবের একদিন পরেই বাংলাদেশে ঈদ উদযাপিত হয়। সেই হিসেবে বাংলাদেশে শনিবার (২১ মার্চ) ঈদুল ফিতর হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকের পর।
রমজানের ৩০ দিনের পূর্ণতা
ইসলামি হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী মাস কখনও ২৯, আবার কখনও ৩০ দিনের হয়। সৌদি আরবে এবার ২৯ রোজার দিন চাঁদ দেখা না যাওয়ায় ৩০ দিনের পূর্ণতা পাচ্ছে পবিত্র সিয়াম সাধনার মাস। দীর্ঘ এক মাস সংযম ও এবাদতের পর ঈদের এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ বয়ে আনছে। দেশটির প্রধান শহরগুলোর বিপণিবিতান ও রাস্তাঘাট এখন আলোকসজ্জায় সজ্জিত।
সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পবিত্র মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীতে ঈদের প্রধান জামাতগুলোর জন্য বিশেষ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কয়েক লাখ মুসল্লির সমাগম মাথায় রেখে ট্রাফিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতেও ঈদের ছুটি উদযাপনের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে প্রভাব ও প্রস্তুতি
সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও ঈদের মানসিক প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। ভৌগোলিক অবস্থান ও সময়ের ব্যবধানের কারণে সাধারণত সৌদি আরবের পরের দিন বাংলাদেশে রোজা বা ঈদ শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে চাঁদ দেখা গেলে শুক্রবার ঈদ হতে পারে, তবে সৌদি আরবে ৩০ রোজা হওয়ায় বাংলাদেশেও ৩০ রোজা হওয়ার সম্ভাবনা এবং শনিবার ঈদ হওয়ার বিষয়টিই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েক দিন বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা ও মেঘের ঘনত্বের ওপর ভিত্তি করে দৃশ্যমানতার বিষয়টি নির্ভর করবে। তবে প্রযুক্তিগতভাবে চাঁদের স্থিতি বিশ্লেষণ করে অনেক বিশেষজ্ঞই বলছেন, শনিবারই হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯ শতাংশ।


