সৌদি আরবে বুধবার (১৮ মার্চ) পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে দেশটিতে এবার রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং আগামী শুক্রবার (২০ মার্চ) যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। দেশটির জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

বুধবার মাগরিবের নামাজের পর থেকেই সৌদি আরবের তামির ও সুদাইরসহ বিভিন্ন প্রান্তের মানমন্দিরগুলোতে টেলিস্কোপ নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন বিশেষজ্ঞ ও শৌখিন চাঁদ পর্যবেক্ষকরা। তবে মেঘমুক্ত আকাশ থাকা সত্ত্বেও কোথাও শাওয়াল মাসের এক ফালি নতুন চাঁদের দেখা মেলেনি। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এবং জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি দীর্ঘ পর্যালোচনার পর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয় যে, বৃহস্পতিবার হবে রমজানের শেষ দিন। অর্থাৎ, শুক্রবার সকালে ঈদের জামাতে শরিক হবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস ও গালফ নিউজ তাদের বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। সাধারণত সৌদি আরবের একদিন পরেই বাংলাদেশে ঈদ উদযাপিত হয়। সেই হিসেবে বাংলাদেশে শনিবার (২১ মার্চ) ঈদুল ফিতর হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকের পর।

রমজানের ৩০ দিনের পূর্ণতা

ইসলামি হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী মাস কখনও ২৯, আবার কখনও ৩০ দিনের হয়। সৌদি আরবে এবার ২৯ রোজার দিন চাঁদ দেখা না যাওয়ায় ৩০ দিনের পূর্ণতা পাচ্ছে পবিত্র সিয়াম সাধনার মাস। দীর্ঘ এক মাস সংযম ও এবাদতের পর ঈদের এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ বয়ে আনছে। দেশটির প্রধান শহরগুলোর বিপণিবিতান ও রাস্তাঘাট এখন আলোকসজ্জায় সজ্জিত।

সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পবিত্র মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীতে ঈদের প্রধান জামাতগুলোর জন্য বিশেষ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কয়েক লাখ মুসল্লির সমাগম মাথায় রেখে ট্রাফিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতেও ঈদের ছুটি উদযাপনের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে প্রভাব ও প্রস্তুতি

সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও ঈদের মানসিক প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। ভৌগোলিক অবস্থান ও সময়ের ব্যবধানের কারণে সাধারণত সৌদি আরবের পরের দিন বাংলাদেশে রোজা বা ঈদ শুরু হয়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে চাঁদ দেখা গেলে শুক্রবার ঈদ হতে পারে, তবে সৌদি আরবে ৩০ রোজা হওয়ায় বাংলাদেশেও ৩০ রোজা হওয়ার সম্ভাবনা এবং শনিবার ঈদ হওয়ার বিষয়টিই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েক দিন বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা ও মেঘের ঘনত্বের ওপর ভিত্তি করে দৃশ্যমানতার বিষয়টি নির্ভর করবে। তবে প্রযুক্তিগতভাবে চাঁদের স্থিতি বিশ্লেষণ করে অনেক বিশেষজ্ঞই বলছেন, শনিবারই হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯ শতাংশ।

টানা দরপতন আর লেনদেনে খরা কাটিয়ে দেশের পুঁজিবাজার আবারও ইতিবাচক ধারায় ফিরবে—এমন প্রবল প্রত্যাশায় দিন গুনছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। সাম্প্রতিক সময়ে সূচকের অস্থিরতা ও আস্থার সংকটে বাজার স্থবির হয়ে পড়লেও, সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, ঈদের ছুটির পর নতুন তারল্য প্রবাহে প্রাণ ফিরে পাবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ।

কেন এই বর্তমান মন্দাভাব?

পুঁজিবাজারের দীর্ঘ ১৫ বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, উৎসবের আগে বাজারে এক ধরনের বিক্রয় চাপ তৈরি হয়। এবারের চিত্রও তার ব্যতিক্রম নয়। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ ঈদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক খরচ মেটাতে পোর্টফোলিও থেকে শেয়ার বিক্রি করে নগদ টাকা উত্তোলন করেছেন। ফলে বাজারে শেয়ারের যোগান বাড়লেও সেই তুলনায় ক্রেতা না থাকায় সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, কেবল ঈদের খরচ নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের ‘অপেক্ষা করো এবং দেখো’ (Wait and See) নীতি কাজ করছে। অনেক বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীও এই সময়ে নতুন করে বড় কোনো বিনিয়োগে না গিয়ে সাইডলাইনে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ গত কয়েক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে ঠেকেছে।

প্রত্যাশা বনাম বাস্তবতা

বিশ্লেষকরা বলছেন, ঈদের পর বাজারের চিত্র বদলে যাওয়ার বেশ কিছু যৌক্তিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, উৎসবের ছুটি শেষে বিনিয়োগকারীরা আবার সক্রিয় হন এবং বাজারে নতুন করে তহবিল প্রবেশ করে। দ্বিতীয়ত, অনেক তালিকাভুক্ত কোম্পানি তাদের ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদি কোম্পানিগুলোর মুনাফা সন্তোষজনক হয়, তবে মৌলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ারের প্রতি ঝোঁক বাড়বে সাধারণ মানুষের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসই’র একজন সদস্য বলেন, “পুঁজিবাজার অনেকটা মনস্তাত্ত্বিক বিষয়। যখন সবাই বিক্রি করে, তখন সূচক পড়ে যায়। কিন্তু এখন অনেক ভালো শেয়ারের দাম ফ্লোর প্রাইস বা তার কাছাকাছি অবাস্তব কম মূল্যে রয়েছে। বুদ্ধিমান বিনিয়োগকারীরা ঈদের পর এই সুযোগটিই নেবেন।”

বাজার পর্যালোচনায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক:

  • বিক্রয় চাপ: ঈদের বোনাস বা জমানো টাকার পরিবর্তে শেয়ার বিক্রি করে নগদ অর্থ সংগ্রহের প্রবণতা বাজারে সাময়িক অস্থিরতা তৈরি করেছে।

  • তারল্য সংকট: বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ঋণের সুদহার বৃদ্ধি পাওয়ায় পুঁজিবাজার থেকে কিছু টাকা ব্যাংক আমানতের দিকে সরে গেছে।

  • প্রাতিষ্ঠানিক নিষ্ক্রিয়তা: বড় ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো বড় কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

  • ইতিবাচক পূর্বাভাস: ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতি বছরই ঈদের পরবর্তী দুই সপ্তাহে বাজারে গড় লেনদেন ১৫-২০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

আস্থার সংকট বনাম নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা

বাজারের এই ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কারসাজি রোধ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বাজার বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদদের মতে, কেবল সূচক বাড়ানো নয়, বরং টেকসই বাজারের জন্য ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির আইপিও (IPO) বাজারে আনা জরুরি।

অনেক বিনিয়োগকারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের শঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, বাজার যদি দ্রুত স্বাভাবিক না হয়, তবে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন। তবে আশার কথা হলো, ডিএসই ও সিএসই’র শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করছেন, ঈদের পর যখন অফিস-আদালত পূর্ণোদ্যমে চালু হবে, তখন পুঁজিবাজারেও এর ইতিবাচক প্রতিফলন ঘটবে।

নতুন পোশাকের ঘ্রাণ আর উৎসবের আমেজে মুখরিত এখন তিলোত্তমা ঢাকা। বিশেষ করে দক্ষিণ ঢাকার অন্যতম বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র টিকাটুলির ‘রাজধানী সুপার মার্কেট’ এখন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ে ঠাসা।

ঈদ ঘনিয়ে আসায় যাত্রাবাড়ী, ডেমরা ও শ্যামপুরসহ আশপাশের এলাকা থেকে আসা মানুষের পদচারণায় বিপণিবিতানটি এখন উৎসবের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী এই মার্কেটটি বরাবরই মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের আস্থার প্রতীক। প্রতি বছরের মতো এবারও রমজানের শেষার্ধে এসে এখানে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বিকিকিনি। নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে শিশুদের কলকাকলিতে মার্কেটটি এখন জীবন্ত।

মার্কেটের ভেতর দিয়ে হাঁটা দায়। তবুও হাসিমুখে ক্রেতারা এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরছেন পছন্দের পোশাকটির সন্ধানে। বিক্রেতারাও দম ফেলার সময় পাচ্ছেন না। কাপড়ের ভাজ খুলে ক্রেতাদের সামনে মেলে ধরছেন বাহারি সব নকশা। কেউ খুঁজছেন সুতির আরামদায়ক পাঞ্জাবি, আবার কারও নজর জমকালো জর্জেট বা সিল্কের থ্রি-পিসের দিকে।

বৈচিত্র্যময় সংগ্রহ ও ক্রেতাদের পছন্দ

রাজধানী সুপার মার্কেটের বিশেষত্ব হলো এখানে সব বয়সের মানুষের জন্য একই ছাদের নিচে সব ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। এবারও ভারতীয় এবং দেশি পোশাকের মধ্যে চলছে সমানে সমান টক্কর। তরুণীদের পছন্দে শীর্ষে রয়েছে ট্রেন্ডি সারারা, গারারা এবং ফ্লোর টাচ গাউন। অন্যদিকে, পুরুষদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে ডিজিটাল প্রিন্টের আরামদায়ক পাঞ্জাবি এবং প্রিমিয়াম কোয়ালিটির পায়জামা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত দুই বছরের তুলনায় এবার বেচাকেনা বেশ সন্তোষজনক। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব থাকলেও ঈদের আনন্দের কাছে তা যেন কিছুটা ম্লান। সাধ্যের মধ্যে পছন্দের পোশাকটি কিনতে পেরে ক্রেতারাও খুশি। ডেমরা থেকে আসা এক গৃহিনী জানান, “নিউ মার্কেট বা গাউছিয়া যাওয়ার ঝক্কি অনেক। এখানে একই জিনিস সুলভ মূল্যে পাওয়া যায়, তাই এখানেই আসি।”

তবে মাত্রাতিরিক্ত ভিড়ের কারণে মার্কেটের সরু গলিগুলোতে ক্রেতাদের কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে আসা পরিবারগুলো গরমে কিছুটা নাজেহাল। পার্কিং এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। তবুও সব ক্লান্তি ধুয়ে দিচ্ছে নতুন পোশাক হাতে পাওয়ার আনন্দ। দর্জি বাড়িগুলোতে এখন নতুন অর্ডারের কাজ বন্ধ, সবাই এখন ব্যস্ত ডেলিভারি নিয়ে।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর—বাঙালির উৎসব মানেই খাবারের টেবিলজুড়ে বাহারি মিষ্টির সমারোহ। তবে গতানুগতিক পায়েস, সেমাই বা রসগোল্লার ভিড়ে এবার ভোজনরসিকদের নজর কাড়ছে রঙিন ও স্বাস্থ্যকর ‘ফ্রুট ট্রাইফেল’। সাধারণ উপকরণে তৈরি এই রাজকীয় ডেজার্টটি দেখতে যেমন নান্দনিক, স্বাদেও তেমনি অতুলনীয়।

উৎসবের আমেজে নতুনত্ব

ঈদের সকালে কিংবা বিকেলের অতিথি আপ্যায়নে আমরা সাধারণত ঐতিহ্যবাহী খাবারের ওপরই ভরসা রাখি। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের রুচিতেও এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। বিশেষ করে উৎসবে ভারী খাবারের পর একটু ঠান্ডা এবং ফলমূল সমৃদ্ধ মিষ্টান্ন সবার কাছেই কাম্য। ফ্রুট ট্রাইফেল ঠিক সেই চাহিদাই পূরণ করে। এটি মূলত একটি পশ্চিমা মিষ্টান্ন হলেও, আমাদের দেশীয় ফলের সংমিশ্রণে এতে আনা যায় দেশি আমেজ।

কেন এই ডেজার্টটি আলাদা?

ফ্রুট ট্রাইফেলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর বিভিন্ন স্তর বা লেয়ার। এক একটি স্তরে থাকে কেক, কাস্টার্ড, জেলি এবং তাজা ফলের টুকরো। চামচ ডুবিয়ে যখন সবগুলো স্তরের স্বাদ একসাথে মুখে নেওয়া হয়, তখন এক অদ্ভুত তৃপ্তি অনুভূত হয়। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি তৈরিতে আগুনের সামনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার ঝামেলা নেই, যা ঈদের ব্যস্ততার মাঝে গৃহিণীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর।

ফ্রুট ট্রাইফেল তৈরির পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি

প্রয়োজনীয় উপকরণ:

  • ভ্যানিলা স্পঞ্জ কেক: ২ কাপ (ছোট কিউব করে কাটা)

  • তরল দুধ: ৫০০ মিলি

  • কাস্টার্ড পাউডার: ৩ টেবিল চামচ

  • চিনি: আধা কাপ (স্বাদমতো)

  • তাজা ফল: কলা, আপেল, আঙুর, ডালিম বা আম (পছন্দমতো কিউব করে কাটা)

  • হুইপড ক্রিম: ১ কাপ (সাজানোর জন্য)

  • জেলো: ১ প্যাকেট (লাল বা সবুজ রঙ)

  • বাদাম কুচি ও চেরি: সাজানোর জন্য


প্রস্তুত প্রণালি:

১. কাস্টার্ড তৈরি: প্রথমে দুধ ও চিনি জ্বাল দিয়ে নিন। সামান্য ঠান্ডা দুধে কাস্টার্ড পাউডার গুলে ফুটন্ত দুধে ঢেলে দিন। মিশ্রণটি ঘন হয়ে এলে নামিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। মনে রাখবেন, কাস্টার্ড যেন খুব বেশি শক্ত না হয়ে যায়।

২. জেলো সেট করা: বাজারের কেনা জেলো প্যাকেটের নির্দেশিকা অনুযায়ী তৈরি করে ফ্রিজে রেখে জমিয়ে নিন। জমে গেলে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে রাখুন।

৩. স্তরে স্তরে সাজানো: একটি স্বচ্ছ কাঁচের বাটি বা গ্লাসে প্রথমে কেকের টুকরোগুলো বিছিয়ে দিন। কেকের ওপর সামান্য চিনির সিরা বা ফলের রস ছড়িয়ে দিতে পারেন এতে কেক নরম থাকবে।

৪. ফলের লেয়ার: কেকের ওপর এক স্তর ঘন কাস্টার্ড ঢেলে দিন। তার ওপর সাজিয়ে দিন কাটা ফলের টুকরোগুলো। এরপর জেলোর স্তর দিন। এভাবে আপনার বাটির গভীরতা অনুযায়ী স্তর বাড়াতে পারেন।

৫. চূড়ান্ত টাচ: সবার উপরে হুইপড ক্রিম দিয়ে সুন্দর ডিজাইন করে দিন। সবশেষে বাদাম কুচি ও চেরি ফল দিয়ে সাজিয়ে ফ্রিজে অন্তত ৩-৪ ঘণ্টা রেখে দিন।


কিছু জরুরি টিপস

  • ফলের নির্বাচন: খুব বেশি টক ফল বা পানি ছেড়ে দেয় এমন ফল (যেমন তরমুজ) ব্যবহার না করাই ভালো।

  • পরিবেশন: ট্রাইফেল সবসময় একদম ঠান্ডা পরিবেশন করুন। এতে স্বাদ বহুগুণ বেড়ে যায়।

  • কেকের বিকল্প: হাতের কাছে কেক না থাকলে বিস্কুট গুঁড়ো করেও এই ডেজার্ট তৈরি করা সম্ভব।

সান্তাহার রেলওয়ে জংশন সংলগ্ন তিলকপুর এলাকায় ঢাকা থেকে নীলফামারীগামী আন্তঃনগর ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ভয়াবহ লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে।

আজ বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ফলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এই দুর্ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আজ বুধবার এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী হলো বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন এলাকা। ঢাকা থেকে নীলফামারী অভিমুখী জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেন ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ সান্তাহার স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিলকপুর এলাকায় লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনের অন্তত ৯টি বগি রেললাইন থেকে ছিটকে পড়লে রেললাইন দুমড়ে-মুচড়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া খবর অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় অসংখ্য যাত্রী আহত হয়েছেন এবং বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুপুর ২টার দিকে সান্তাহার স্টেশনে যাত্রাবিরতি শেষে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তিলকপুর রেলস্টেশনের কাছাকাছি পৌঁছালে বিকট শব্দে ট্রেনের পেছনের দিকের বগিগুলো লাইন থেকে ছিটকে পড়ে। ট্রেনের গতিবেগ বেশি থাকায় বগিগুলো একটির ওপর আরেকটি উঠে যায় এবং লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীরা জানান, ট্রেনটি যখন দ্রুতগতিতে চলছিল, হঠাৎ প্রচণ্ড ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই কানফাটানো শব্দে বগিগুলো উল্টে যেতে শুরু করে। ট্রেনের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং শুরু হয় আর্তচিৎকার। স্থানীয় বাসিন্দারা সবার আগে উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। পরবর্তী সময়ে ফায়ার সার্ভিস ও রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। তবে বগিগুলো দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়ায় ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনতে উদ্ধারকর্মীদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।

সান্তাহার রেলওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহফুজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “দুপুর আড়াইটার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছি। ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় রেললাইন উপড়ে গেছে। আমরা বর্তমানে উদ্ধার কাজকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনও বলা যাচ্ছে না, তবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি বড় দুর্ঘটনা।”

এই দুর্ঘটনার ফলে উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোর সঙ্গে রাজধানীর সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঢাকাগামী এবং উত্তরবঙ্গগামী বেশ কয়েকটি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে আছে। বিশেষ করে লালমনি এক্সপ্রেস, রংপুর এক্সপ্রেস ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের যাত্রীরা মাঝপথে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকারী ট্রেন (রিলিফ ট্রেন) ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে, তবে লাইন মেরামত করে যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে বেশ দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হতে পারে।