ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার (২৩ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা স্থগিতের ঘোষণাকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। তেহরান দাবি করেছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের সংলাপ চলছে না—ট্রাম্পের এই মন্তব্যের উদ্দেশ্য শুধু আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দাম কমানো এবং সামরিক পরিকল্পনার জন্য সময় কেনা। এই বিবৃতি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

ট্রাম্প সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেন, ইরানের সঙ্গে ‘খুবই ভালো ও ফলপ্রসূ’ আলোচনার কারণে তিনি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন। এই স্থগিতাদেশ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভরশীল বলে তিনি উল্লেখ করেন। ঘোষণার পর তেলের দামে তাৎক্ষণিক পতন ঘটে, ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে।

কিন্তু ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেমি-অফিসিয়াল মেহর নিউজ এজেন্সি ও মিজান নিউজের বরাতে জানা যায়, তেহরান বলেছে: “তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কোনো সংলাপ নেই। ট্রাম্পের এই মন্তব্য জ্বালানি দাম কমানোর চেষ্টা এবং সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সময় ক্ষেপণের কৌশল।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আঞ্চলিক কয়েকটি দেশ উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে, কিন্তু যুদ্ধ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র—সুতরাং সব অনুরোধ ওয়াশিংটনের কাছেই পাঠানো উচিত।

এই ঘটনা যুদ্ধের শুরু থেকে চলা দ্বন্দ্বের নতুন মোড়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়, যা বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহনের পথ। ফলে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, কখনো ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। ট্রাম্পের আগের হুমকি ছিল—প্রণালি না খুললে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘ধ্বংস’ করা হবে। ইরানের পাল্টা হুমকি ছিল—আক্রমণ হলে গাল্ফ অঞ্চলের সব জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করা হবে।

ইরানের এই প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের ঘোষণাকে ‘পশ্চাদপসরণ’ হিসেবে চিত্রিত করেছে। ইরানি মিডিয়ায় বলা হয়েছে, ট্রাম্প ‘পিছু হটেছেন’ কারণ ইরানের প্রতিরোধী হুমকির মুখে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই দ্বন্দ্ব দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের অভাব বা মধ্যস্থতাকারীদের (যেমন ওমান বা অন্যান্য আঞ্চলিক দেশ) মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনার ইঙ্গিত দিতে পারে। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এখনও কোনো নতুন প্রতিক্রিয়া আসেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (২৩ মার্চ) ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে তীব্র পতন ঘটেছে—ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১৩-১৫ শতাংশ কমে ৯৬ ডলারের কাছাকাছি নেমেছে, যা মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় একদিনের পতন।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘অত্যন্ত ভালো ও ফলপ্রসূ’ আলোচনা। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়ে চলমান আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভর করে এই স্থগিতাদেশ। এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, প্রণালি না খুললে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়া হবে। ইরানের প্রতিক্রিয়ায় প্রণালি অবরোধ আরও কঠোর করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এই ঘোষণার পর বাজারে তাৎক্ষণিক স্বস্তি ফিরে এসেছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি তেল ও এলএনজির প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহনের মূল পথ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে ইরান প্রণালিটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দেয়। যুদ্ধ শুরুর আগে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭০-৭৫ ডলারের আশপাশে থাকলেও, প্রণালি বন্ধের পর তা ১১০-১১৩ ডলার ছাড়িয়ে যায়—কখনো কখনো ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। এই অবস্থায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়।

সোমবারের পতনের পর ব্রেন্ট ক্রুড দিনের সর্বনিম্ন ৯৬ ডলারে নেমে এসেছে, যদিও পরে কিছুটা ঘুরে ১০৩-১০৫ ডলারের কাছাকাছি স্থিতিশীল হয়েছে। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও ৮-১০ শতাংশ কমে ৯২ ডলারের নিচে নেমেছে। এই পতনের ফলে স্টক মার্কেটে উত্থান দেখা গেছে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই স্থগিতাদেশ যদি আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানে রূপ নেয়, তাহলে তেলের দাম আরও কমতে পারে।

তবে সতর্কতাও রয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণা পাঁচ দিনের জন্য—আলোচনা ব্যর্থ হলে হামলা আবার শুরু হতে পারে। ইরানের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সুস্পষ্ট প্রতিক্রিয়া আসেনি। হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খোলা না হলে সরবরাহের সংকট অব্যাহত থাকবে। এছাড়া, যুদ্ধের অন্যান্য দিক—যেমন গাল্ফের অন্যান্য জ্বালানি স্থাপনায় হামলা—এখনও ঝুঁকি তৈরি করছে।

কয়েকটি মূল তথ্য:

  • তারিখ: ২৩ মার্চ ২০২৬ (সোমবার)
  • ট্রাম্পের ঘোষণা: ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা ৫ দিন স্থগিত
  • ব্রেন্ট ক্রুড: দিনের সর্বোচ্চ ১১২-১১৩ ডলার থেকে ৯৬ ডলারে নেমেছে (প্রায় ১৩-১৫% পতন)
  • ডব্লিউটিআই: ৯২.২৯ ডলার পর্যন্ত নেমেছে (প্রায় ৬-৮% কম)
  • হরমুজ প্রণালি: বিশ্বের ২০% তেল ও এলএনজি পরিবহন; যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কার্যত বন্ধ
  • যুদ্ধ শুরু: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা)

এই ঘটনা প্রমাণ করে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কতটা দ্রুত বৈশ্বিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ যদি স্থায়ী শান্তির পথ খোলে, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে। কিন্তু পাঁচ দিন পর যদি আলোচনা ব্যর্থ হয়, তাহলে তেলের দাম আবার আকাশছোঁয়া হতে পারে।

চীনের বিশ্বখ্যাত বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডি (BYD) বাংলাদেশে পা রাখার দুই বছরের মাথায় আরেকটি শক্তিশালী পদক্ষেপ নিয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে এসেছে তাদের নতুন প্লাগইন হাইব্রিড (PHEV) এসইউভি ‘সিলায়ন-৫’। সিজি-রানার বাংলাদেশ লিমিটেডের মাধ্যমে বিক্রি শুরু হওয়া এই গাড়ির দাম ৪৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা, তবে প্রথম ৫০০ গ্রাহকের জন্য বিশেষ মূল্য ৪৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা—যা জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রিমিয়াম এসইউভির বাজারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বিওয়াইডি বাংলাদেশে প্রথম আসে ২০২৪ সালের দিকে, যখন অ্যাটো ৩ এবং অন্যান্য বিশুদ্ধ বৈদ্যুতিক মডেল দিয়ে বাজারে আলোড়ন তোলে। বর্তমানে দেশে তাদের তিনটি মডেল পাওয়া যায়, যার মধ্যে সিলায়ন-৬-এর সাফল্যের পর সিলায়ন-৫ এসেছে আরও বেশি বাস্তবমুখী ও সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় আয়োজিত লঞ্চ ইভেন্টে গাড়িটির উন্মোচন হয়, যেখানে সিজি-রানারের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিদ সাকিফ খান উপস্থিত ছিলেন। লঞ্চের সঙ্গে সঙ্গে ২৫টিরও বেশি ইউনিট হস্তান্তর করা হয়েছে উৎসাহী গ্রাহকদের হাতে।

সিলায়ন-৫-কে ‘এভরিডে এসইউভি’ বলে প্রচার করছে বিওয়াইডি। এর হৃদয়ে রয়েছে DM-i সুপার প্লাগইন হাইব্রিড প্রযুক্তি—একটি ১.৫ লিটার উচ্চ-দক্ষতার পেট্রোল ইঞ্জিনের সঙ্গে শক্তিশালী ইলেকট্রিক মোটরের সমন্বয়। ফলে গাড়িটি পুরোপুরি চার্জ ও পূর্ণ ট্যাঙ্ক নিয়ে ১,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জ দিতে পারে। শুধু ইলেকট্রিক মোডে দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য ৭১ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে সক্ষম। সম্মিলিত পাওয়ার ১৫৬ কিলোওয়াট (প্রায় ২১০ হর্সপাওয়ার) এবং ৩০০ নিউটন-মিটার টর্ক—যা ০ থেকে ১০০ কিলোমিটার/ঘণ্টায় পৌঁছাতে মাত্র ৭.৭ সেকেন্ড লাগে। এই পারফরম্যান্স সাধারণ ১৫০০ সিসি পেট্রোল এসইউভির চেয়ে অনেক বেশি রেসপনসিভ এবং মসৃণ।

নিরাপত্তা ও আরামের দিক থেকেও গাড়িটি এগিয়ে। সাতটি এয়ারব্যাগ, BYD-এর বিখ্যাত ব্লেড ব্যাটারি প্রযুক্তি (যা অত্যন্ত নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী), অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম (ADAS), ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা, V2L (ভেহিকল টু লোড) ফাংশন—যা গাড়ি থেকে অন্য ডিভাইস চার্জ করা যায়। ভিতরে ১২.৮ ইঞ্চি রোটেটিং ইনফোটেইনমেন্ট ডিসপ্লে, প্যানোরামিক সানরুফ, ভেন্টিলেটেড সিট এবং প্রশস্ত কেবিন—যা পরিবারের জন্য আদর্শ। রঙের অপশন: কসমস ব্ল্যাক, অরোরা হোয়াইট, অ্যাটলান্টিস গ্রে ও হারবার গ্রে।

ওয়ারেন্টি প্যাকেজও আকর্ষণীয়: ট্র্যাকশন ব্যাটারির জন্য ৮ বছর/১,৬০,০০০ কিমি, মোটরের জন্য ৮ বছর/১,৫০,০০০ কিমি এবং গাড়ির জন্য ৬ বছর/১,৫০,০০০ কিমি।

কয়েকটি মূল তথ্য:

  • মডেল: BYD Sealion 5 DM-i Super Plug-in Hybrid SUV
  • লঞ্চ তারিখ: ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (আনুষ্ঠানিক ২৮ ফেব্রুয়ারি)
  • দাম: সাধারণ ৪৮.৯০ লাখ টাকা; প্রথম ৫০০ গ্রাহকের জন্য ৪৭.৯০ লাখ টাকা
  • রেঞ্জ: সম্মিলিত ১,০০০ কিমি (ইলেকট্রিক মোডে ৭১ কিমি)
  • পাওয়ার: ১৫৬ কিলোওয়াট, ৩০০ Nm টর্ক; ০-১০০ কিমি/ঘণ্টা ৭.৭ সেকেন্ডে
  • ফিচার: ৭ এয়ারব্যাগ, ADAS, Blade Battery, V2L, ১২.৮” রোটেটিং ডিসপ্লে, প্যানোরামিক সানরুফ
  • পরিবেশক: সিজি-রানার বাংলাদেশ লিমিটেড

বাংলাদেশের জ্বালানি-দামের ঊর্ধ্বগতি ও পরিবেশ সচেতনতার যুগে সিলায়ন-৫-এর মতো গাড়ি শুধু বিকল্প নয়, একটি স্মার্ট সিদ্ধান্ত। এটি প্রমাণ করে যে, প্রিমিয়াম টেকনোলজি এখন আর দূরের স্বপ্ন নয়—এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠতে চলেছে।

রণবীর সিং অভিনীত আদিত্য ধর পরিচালিত স্পাই অ্যাকশন থ্রিলার ‘ধুরন্ধর ২: দ্য রিভেঞ্জ’ মুক্তির চতুর্থ দিনেও বক্স অফিসে একচ্ছত্র দাপট দেখিয়ে চলেছে। ১৯ মার্চ মুক্তি পাওয়া এই ছবি চার দিনে ভারতে নেট প্রায় ৪৫৪ কোটি টাকা এবং বিশ্বব্যাপী গ্রস ৭৬১ কোটি টাকা আয় করে একের পর এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অতিক্রম করেছে—যা বলিউডের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অভূতপূর্ব।

মুক্তির আগের দিন ১৮ মার্চ পেইড প্রিভিউ থেকেই ছবিটি শুরু করে ঝড় তোলে, প্রায় ৪৩ কোটি টাকা আয় করে। তারপর প্রথম দিন (১৯ মার্চ) ভারতে নেট ১০২.৫৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে সবচেয়ে বড় ওপেনিংয়ের রেকর্ড গড়ে। দ্বিতীয় দিনে কিছুটা কমে ৮০.৭২ কোটি হলেও তৃতীয় দিন (শনিবার, ঈদের ছুটির সুবিধা নিয়ে) আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ১১৩ কোটি টাকা আয় করে। আর চতুর্থ দিন রবিবার সর্বোচ্চ একদিনের সংগ্রহ ১১৪.৮৫ কোটি টাকা দিয়ে ছবিটি প্রমাণ করেছে, এর গতি থামার নাম জানে না।

ভারতীয় বক্স অফিসে চার দিনে নেট আয় ৪৫৪.১২ কোটি টাকা পৌঁছে গেছে, যা অনেক ক্লাসিক ছবির লাইফটাইম কালেকশনকে ছাড়িয়ে গেছে। উদাহরণস্বরূপ, আমির খানের ‘দঙ্গল’-এর লাইফটাইম নেট ৩৮৭ কোটি ছিল—‘ধুরন্ধর ২’ মাত্র চার দিনে তা পেরিয়েছে। বিশ্বব্যাপী গ্রস আয় ৭৬১ কোটি টাকা (ভারত গ্রস প্রায় ৫৪২ কোটি, ওভারসিজ প্রায় ২১৯ কোটি) পৌঁছে এটি দ্রুততম ৫০০ কোটি ক্লাবে প্রবেশকারী ছবিগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।

পরিচালক আদিত্য ধরের এই সিক্যুয়েল প্রথম ছবি ‘ধুরন্ধর’-এর (১৩৫৪ কোটি গ্রস) উত্তরাধিকারকে আরও উচ্চতায় নিয়ে গেছে। রণবীর সিং-এর চরিত্র হুমজা আলি মাজারি—একজন ভারতীয় গুপ্তচর যিনি আন্ডারওয়ার্ল্ডে অনুপ্রবেশ করে অপরাজেয় রাজা হয়ে ওঠেন—দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। অ্যাকশন দৃশ্যের তীব্রতা, সাসপেন্স এবং রণবীরের ইনটেন্স পারফরম্যান্সকে বিশেষজ্ঞরা ‘রিসেট বাটন’ বলে অভিহিত করেছেন বলিউডের জন্য।

ঈদ, গুড়ি পাড়োয়া, উগাদি-এর মতো উৎসবের সুবিধা নিয়ে ছবিটি পারিবারিক দর্শকদেরও টেনেছে। ওভারসিজ মার্কেটে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও আমেরিকায় দুর্দান্ত রেসপন্স পেয়েছে। ট্রেড অ্যানালিস্টদের মতে, এই গতিতে ছবিটি ২০০০ কোটি গ্রসের দিকে এগোচ্ছে, যা ‘দঙ্গল’-এর রেকর্ডকেও চ্যালেঞ্জ করতে পারে।

কয়েকটি মূল তথ্য:

  • মুক্তির তারিখ: ১৯ মার্চ ২০২৬ (পেইড প্রিভিউ ১৮ মার্চ)।
  • প্রথম দিন নেট (ভারত): ১০২.৫৫ কোটি টাকা (প্রিভিউসহ ১৪৫.৫৫ কোটি)।
  • চতুর্থ দিন: ১১৪.৮৫ কোটি টাকা (সর্বোচ্চ একদিনের সংগ্রহ)।
  • চার দিনে ভারত নেট: ৪৫৪.১২ কোটি টাকা।
  • বিশ্বব্যাপী গ্রস: প্রায় ৭৬১ কোটি টাকা।
  • রেকর্ড: দ্রুততম ৫০০ কোটি ক্লাব (বিশ্বব্যাপী), সর্বোচ্চ হিন্দি ওপেনিং, ঈদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ইত্যাদি।

‘ধুরন্ধর ২’ শুধু একটি ছবি নয়, এটি বলিউডের নতুন যুগের সূচনা। রণবীর সিং-এর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স এবং আদিত্য ধরের দূরদর্শী পরিচালনা এই ছবিকে এক অবিস্মরণীয় ব্লকবাস্টারে পরিণত করেছে।

১৮ শতকের শেষভাগে, অর্থাৎ উনিশ শতকের শেষ দিকে, জার্মানির প্রুশিয়ায় জন্মগ্রহণকারী ইউজেন স্যান্ডো (আসল নাম ফ্রিডরিখ উইলহেল্ম মুলার) বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেন শারীরিক সৌন্দর্য ও শক্তির অসাধারণ সমন্বয়ের জন্য। তাঁকে আধুনিক বডি বিল্ডিংয়ের জনক বলা হয়। বিচিত্র হাতাকাটা পোশাক পরে মঞ্চে পেশি প্রদর্শন করে তিনি শুধু শক্তিশালী নন, সৌন্দর্যের আদর্শও হয়ে ওঠেন—এবং এরই ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় ‘স্যান্ডো গেঞ্জি’ নামে পরিচিত হয় সেই স্লিভলেস ভেস্ট।

ইউজেন স্যান্ডোর জন্ম ১৮৬৭ সালের ২ এপ্রিল প্রুশিয়ার কোনিগসবার্গে (বর্তমানে রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ)। ছোটবেলায় তিনি ছিলেন দুর্বল ও রোগা। ১০ বছর বয়সে ইতালিতে গিয়ে প্রাচীন গ্রিক-রোমান মূর্তিগুলো দেখে মুগ্ধ হন। সেই মূর্তির নিখুঁত শরীরের অনুপাত দেখে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, নিজের শরীরকেও সেই আদর্শে গড়ে তুলবেন। পরিবার চেয়েছিল তিনি লুথারান পাদ্রি হোন, কিন্তু স্যান্ডো সেই পথ ছেড়ে সার্কাসে অ্যাক্রোব্যাট হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে জার্মান স্ট্রংম্যান প্রফেসর অ্যাটিলার শিষ্য হয়ে শারীরিক প্রশিক্ষণ নেন।

১৮৮৯ সালে লন্ডনে এসে তিনি তৎকালীন ‘সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষ’ চার্লস স্যাম্পসনকে চ্যালেঞ্জ করেন। মঞ্চে প্রথমে হাসাহাসি হয়—স্যান্ডো দেখতে সাধারণ মানুষের মতো। কিন্তু পোশাক খুলে পেশি দেখানোর পর দর্শকরা স্তম্ভিত। তিনি শুধু ভারী ওজন তুললেন না, ‘মাসল ডিসপ্লে পারফরম্যান্স’ নামে পোজ দিয়ে শরীরের সৌন্দর্য প্রদর্শন করলেন। এটাই ছিল আধুনিক বডি বিল্ডিংয়ের শুরু—শক্তির সঙ্গে নান্দনিকতার মিলন।

স্যান্ডো বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ করেন। দক্ষিণ আফ্রিকা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড হয়ে ১৯০৫ সালে ভারতে আসেন। সেখানে তিনি যে হাতাকাটা টাইট-ফিটিং পোশাক (সিঙ্গলেট বা ট্যাঙ্ক টপের মতো) পরতেন, তা দর্শকদের মনে গেঁথে যায়। তাঁর নামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ওঠে সেই পোশাক। ভারতীয় উপমহাদেশে, বিশেষ করে বাংলায়, ‘স্যান্ডো গেঞ্জি’ নামে পরিচিত হয় এই স্লিভলেস অন্তর্বাস। অনেকের মতে, এই নামকরণ সরাসরি তাঁর থেকে অনুপ্রাণিত। যদিও কিছু গবেষক বলেন, এটি ‘গানজি’ (ব্রিটিশ নাবিকদের উলের সোয়েটার) থেকেও আসতে পারে, তবু স্যান্ডোর প্রভাব অস্বীকার করা যায় না।

স্যান্ডো শুধু পারফর্মার ছিলেন না, উদ্যোক্তাও। তিনি ‘ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্যাল কালচার’ খোলেন, ব্যায়ামের যন্ত্রপাতি বিক্রি করেন, ম্যাগাজিন প্রকাশ করেন এবং বই লেখেন। ১৮৯৭-১৯০৪ সালের মধ্যে প্রকাশিত তাঁর বইয়ে প্রথম ‘বডি বিল্ডিং’ শব্দটি ব্যবহার হয়। তাঁর আদর্শ ছিল গ্রিক আদর্শ—শরীরের নির্দিষ্ট অনুপাত।

আজও যখন আমরা জিমে ট্যাঙ্ক টপ পরে ব্যায়াম করি বা ‘স্যান্ডো গেঞ্জি’ কিনি, তখন অজান্তেই সেই এক শতাব্দী আগের এক জার্মান যুবকের স্বপ্নকে স্পর্শ করি। ইউজেন স্যান্ডো প্রমাণ করেছিলেন, শরীর শুধু শক্তির নয়, সৌন্দর্য ও আত্মবিশ্বাসেরও প্রতীক হতে পারে।