কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে আনন্দ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিলেন যাত্রীরা। কিন্তু কে জানত, মাঝপথে পদ্মা নদীর উত্তাল ঢেউ আর ফেরিঘাটের পন্টুন তাদের জীবনের শেষ গন্তব্য হয়ে দাঁড়াবে? রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় ফেরি থেকে নামার সময় পদ্মা নদীতে নিমজ্জিত হওয়া ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামের বাসটি নিয়ে এখন বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অল্প যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও মাঝপথে বাসটি রূপ নিয়েছিল একটি ‘বোঝাই’ যানে।

ঘটনার অনুসন্ধান চালিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতোই বুধবার বেলা ২টা ২০ মিনিটে কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌর বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে চাকা ঘোরে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটির। শুরুর দিকে চিত্রটা ছিল বেশ স্বস্তিদায়ক। টার্মিনাল ছাড়ার সময় বাসটিতে যাত্রী ছিলেন মাত্র ৬ জন। তবে এই খালি আসনগুলো খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত বিভিন্ন কাউন্টার ও মোড় থেকে যাত্রী তোলা হয়।

কুমারখালী কাউন্টার মাস্টারের দেওয়া তথ্যমতে, বাসটি যখন দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পৌঁছায়, তখন তাতে কমপক্ষে ৫০ জন যাত্রী অবস্থান করছিলেন। অর্থাৎ, যাত্রা শুরুর তুলনায় প্রায় আট গুণ বেশি যাত্রী নিয়ে বাসটি পদ্মাপাড়ের পন্টুনে এসে দাঁড়ায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ফেরিতে ওঠার জন্য অপেক্ষমাণ থাকা অবস্থায় হঠাৎ বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে সরাসরি গভীর পদ্মায় তলিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বাসটি যখন পানিতে তলিয়ে যাচ্ছিল, তখন ভেতর থেকে যাত্রীদের বাঁচার আকুতি চারপাশের বাতাস ভারি করে তুলেছিল। ঘাটে থাকা হকার ও অন্যান্য পরিবহনের শ্রমিকরা দ্রুত এগিয়ে এলেও স্রোতের তীব্রতায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়।

যাতায়াতের পথে যাত্রী ওঠানো বাংলাদেশের আন্তঃজেলা বাসগুলোর একটি নিয়মিত অভ্যাস। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। ৫০ জন যাত্রী নিয়ে একটি বাস যখন ফেরিঘাটের ঝুঁকিপূর্ণ ঢালু পন্টুনে দাঁড়ায়, তখন তার ব্রেক এবং চাকার স্থিতি বজায় রাখা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে। কুমারখালীর স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সৌহার্দ্য পরিবহনের এই রুটটি বেশ জনপ্রিয়, তবে বাসগুলোর ফিটনেস নিয়ে মাঝেমধ্যেই গুঞ্জন শোনা যায়।

উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, “পানির নিচে বাসটির অবস্থান শনাক্ত করা গেলেও তীব্র স্রোতের কারণে ক্রেন দিয়ে তা টেনে তোলা বেশ কষ্টসাধ্য হচ্ছে। ভেতরে কতজন আটকা পড়ে আছেন, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।”

তবে অনেক যাত্রী জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্বজনদের মধ্যে।

দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আজ সকালে সচিবালয়ে বিশেষ সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ দপ্তরে সকাল ৯টা ২ মিনিটে শুরু হওয়া এই সভায় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও জনগণের ভোগান্তি নিরসনে করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টা ২ মিনিটে সচিবালয়ে পৌঁছান এবং প্রথমে কিছু দাপ্তরিক কাজ সমাপ্ত করেন। পরে তিনি জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় শীর্ষক বিশেষ সভায় যোগ দেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। সূত্র জানায়, দেশের বর্তমান জ্বালানি মজুত, আমদানি পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা বিশ্লেষণ করে সভায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি পরিস্থিতি: কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে?

সভার সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জ্বালানি খাতের সামগ্রিক চিত্র উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। কর্মকর্তারা জানান, দেশে বর্তমানে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও ফার্নেস অয়েলের মজুত স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামার কারণে ভবিষ্যতে সরবরাহ শৃঙ্খলে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সভায় সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের মধ্যে যাতে আতঙ্ক না ছড়ায়, সেদিকে নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি সংকট ও দামবৃদ্ধি নিয়ে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় পাম্পগুলোতে কিছুটা অতিরিক্ত ভিড় দেখা যাচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে সভায় গুজব প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা।

গুজব মোকাবিলায় কঠোর নির্দেশনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভায় স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই জ্বালানি নিয়ে গুজব ছড়ানোর সুযোগ দেওয়া যাবে না। জ্বালানি বিভাগ ও তথ্য মন্ত্রণালয়কে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। জনগণকে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে গণমাধ্যম ও স্থানীয় প্রশাসনকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া অপ্রয়োজনীয় মজুত রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা যায়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় পেট্রোল পাম্প মনিটরিং শুরু হয়েছে। কোনো পাম্প অযৌক্তিক দাম আদায় করলে বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিশ্ব পরিস্থিতি ও বাংলাদেশের অবস্থান

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে প্রভাব ফেলছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার আগাম পরিকল্পনার মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে বলে সভায় তুলে ধরা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের তেল পরিশোধনাগারগুলো স্বাভাবিক উৎপাদন করছে এবং আমদানি প্রক্রিয়ায় কোনো জটিলতা নেই।

সভায় আগামী তিন মাসের চাহিদা মেটানোর মতো জ্বালানি মজুত রয়েছে বলেও জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহে উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আজকের এই সভা দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জ্বালানি নিয়ে আপাতত কোনো সংকট নেই এবং বাড়তি দামও ধার্য করা হচ্ছে না। তবে জনগণের উচিত গুজবে কান না দিয়ে সরকারি তথ্যের ওপর আস্থা রাখা।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যেও দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে স্বস্তির বার্তা দিয়েছে সরকার। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি সংকট নেই এবং ভোগান্তির মুখে দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনাও নেই।

আজ বুধবার সরকারের এক মাস পূর্তির সংবাদ সম্মেলনে তিনি জনগণকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি না কেনার আহ্বান জানিয়েছেন।

‘মধ্যপ্রাচ্যের আগুনে পুড়ছে না বাংলাদেশ’

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে প্রভাব ফেললেও বাংলাদেশ এখনো সেই চাপ পুরোপুরি অনুভব করছে না বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও কঠিন পরিস্থিতির মুখে আছে। কিন্তু দেশে এই মুহূর্তে জ্বালানি সংকট নেই। জনগণকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি না কেনার আহ্বান জানাই।’

মন্ত্রীর দাবি, সরকার ইতিমধ্যেই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে। বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় যথেষ্ট মজুত ও বিকল্প উৎসের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘জনগণ যদি আতঙ্কিত হয়ে অপ্রয়োজনীয় মজুত শুরু করেন, তাহলে কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেদিকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’

ভিত্তিহীন গুজব, সতর্ক থাকার আহ্বান

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি তেলের সংকট ও দামবৃদ্ধি নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ছিল। কেউ কেউ বলছিলেন, ‘যেকোনো মুহূর্তে পেট্রোল-ডিজেলের দাম লাফিয়ে বাড়বে’, আবার কেউ কেউ ছড়িয়েছিলেন ‘সংকট শুরু হয়ে গেছে’—এমন ভুয়া খবর। এসব গুজবের জেরে গত কয়েক দিনে রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে কিছুটা ভিড় দেখা গিয়েছিল।

মন্ত্রী সরাসরি এসব গুজবের জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গুজব যারা ছড়াচ্ছে, তাদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নজর রাখছে। জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে যে কোনো সঠিক তথ্য সময়মতো জানানো হবে।’ তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও দ্রুত গুজব শনাক্ত ও প্রতিরোধে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

জ্বালানি বিভাগ যা বলছে

সরকারের এই ঘোষণার আগেই জ্বালানি বিভাগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দেশে বর্তমানে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের মজুত স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি। সরকারি সংস্থা বিপিসি জানিয়েছে, আগামী তিন মাসের চাহিদা মেটানোর মতো মজুত রয়েছে। এছাড়া দেশের তেল পরিশোধনাগারগুলো পুরোদমে চালু আছে এবং আমদানি প্রক্রিয়াও স্বাভাবিক রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে প্রভাব পড়তে পারে। তবে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। সরকারের সময়মতো এই ঘোষণা জনগণের মধ্যে আতঙ্ক কমাতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা।

সরকারের এক মাস: জ্বালানি ছাড়াও কী বললেন মন্ত্রী

আজকের সংবাদ সম্মেলনটি ছিল সরকারের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত। জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গের পাশাপাশি মন্ত্রী সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন। তবে জ্বালানি প্রসঙ্গটিই আজকের সংবাদ সম্মেলনের মূল আকর্ষণ ছিল।

মন্ত্রী জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও কাজ করছে সরকার। খোলাবাজারে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গুজব ও অপপ্রচারের বিপরীতে জনগণকে যুক্তিযুক্ত আচরণের পরামর্শ দেন তিনি।

জ্বালানি নিয়ে সরকারের এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে স্বস্তির। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও বিশ্ববাজারের ওঠানামার মধ্যেও বাংলাদেশ এখনো ‘সেফ জোন’-এ আছে বলে দাবি করছে সরকার।

তথ্যমন্ত্রীর বার্তা পরিষ্কার—আপাতত জ্বালানি নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই, দাম বাড়ছে না, সংকট নেই। তবে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নির্ভর করবে বিশ্ব পরিস্থিতি ও সরকারের নেওয়া সঠিক পদক্ষেপের ওপর। আপাতত জনগণের কর্তব্য, গুজবে কান না দেওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় মজুত থেকে বিরত থাকা। সরকার যে বলছে, ‘যা আছে, তা যথেষ্ট’—এবার দেখার পালা, সেই বার্তা কতটা কার্যকর হয় জনমনে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়া ইরান এবার যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে পাঁচ দফা ‘অঘোষিত শর্ত’ জুড়ে দিয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবের জবাবে তেহরান ঘুরিয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি পুরোপুরি বিলোপ, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ—এমন কঠিন শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে ইরান।

কূটনৈতিক দাবায়ু যুদ্ধ

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চলা এই যুদ্ধ এখন কূটনৈতিক মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব পাঠানোর পর ইরান চুপ করে বসে থাকেনি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরোক্ষ আলোচনার মধ্য দিয়ে ইরান তাদের পাল্টা শর্তগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। এক ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, এসব শর্ত মানা মানে ইরানের কাছে আত্মসমর্পণ নয়, বরং ‘সম্মানজনক সমাধান’।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের এই কৌশল বেশ স্মার্ট। তারা যুদ্ধক্ষেত্রে যতটা দুর্বল নয়, সাংবাদিক বৈঠকে ততটাই আক্রমণাত্মক। যুদ্ধবিরতির নামে তারা আসলে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের একটি নতুন কাঠামো চেয়ে বসেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও মার্কিন ঘাঁটি বন্ধের শর্তগুলো সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থকে আঘাত করছে।

ইরানের পাঁচ দফা: কী চায় তেহরান?

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সূত্র ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের শর্তগুলো নিম্নরূপ:

  • স্থায়ী যুদ্ধবিরতি: যুদ্ধ যেন আর কখনো শুরু না হয়, তার ‘শক্তিশালী নিশ্চয়তা’ দিতে হবে। শুধু যুদ্ধবিরতি নয়, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র যেন কোনো সামরিক হুমকি না দেয়, সেই গ্যারান্টি চায় ইরান।

  • মার্কিন ঘাঁটি বন্ধ: পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করতে হবে। বাহরাইন, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় সামরিক স্থাপনা আছে, যেগুলো ইরানের জন্য ‘কাঁটার মতো’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ: যুদ্ধের কারণে ইরানের জনজীবন, পরিকাঠামো ও তেল শিল্পে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘পূর্ণ ক্ষতিপূরণ’ দিতে হবে। এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কোটি কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ: বিশ্বের তেল বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র হরমুজ প্রণালির ওপর নতুন আইনি ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। এই ব্যবস্থায় প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ মূলত ইরানের হাতে থাকবে। বর্তমানে এই কৌশলগত জলপথে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি।

  • সংবাদমাধ্যমের বিচার: ইরানের প্রতি ‘বিদ্বেষপূর্ণ সংবাদমাধ্যম’-এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ইরানের হাতে তুলে দিতে অথবা তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। এই শর্তটিকে পর্যবেক্ষকেরা ইরানের ‘নিরাপত্তা বুলেট’ হিসেবে দেখছেন, যার মাধ্যমে তারা পশ্চিমা গণমাধ্যমের সমালোচনার জবাব দিতে চায়।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: অসম্ভব সমীকরণ?

ইরানের এই শর্তগুলো প্রকাশের পর ওয়াশিংটনে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘এগুলো অত্যন্ত অবাস্তব দাবি। আমরা কখনো মধ্যপ্রাচ্য থেকে সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবতে পারি না।’ অন্যদিকে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে দেওয়া মানে ইসরায়েলের জন্য ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ তৈরি করা।

রাশিয়া ও চীন যদিও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তারা স্পষ্ট করেছে, ইরানের নিরাপত্তা উদ্বেগ বোঝার মতো, কিন্তু শর্তগুলো ‘বাস্তবসম্মত’ কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

ইরানের পাল্টা শর্ত কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেও তা বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব, সেটাই এখন প্রধান প্রশ্ন। ট্রাম্প প্রশাসন আগেই জানিয়ে দিয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলতে থাকবে, কূটনৈতিক ফল না পাওয়া পর্যন্ত। অপরদিকে তেহরান বলছে, তাদের শর্ত না মানলে ‘আলোচনার টেবিল ভাঙবে’।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ জোরালো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে একটি ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন, যা কার্যত তেহরানের কাছে এক ‘চূড়ান্ত শর্তপত্র’। পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বিলোপ-এর বিনিময়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু হলেও, ইরানের ভেতরে এখনো এই প্রস্তাব নিয়ে জটিলতা রয়ে গেছে ।

কূটনৈতিক পথে ‘ম্যাক্সিমালিস্ট’ সমাধান

প্রায় এক মাস ধরে চলা সংঘাতের পর অবশেষে যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে সমাধানের পথ খুঁজছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করে ইরানের কাছে এই প্রস্তাব পৌঁছে দিয়েছে । হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, এই প্রস্তাবের লক্ষ্য শত্রুতা বন্ধ করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আনা । তবে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কূটনৈতিক উদ্যোগ চললেও সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অব্যাহত থাকবে ।

ইসরায়েলের গণমাধ্যম চ্যানেল ১২ এবং আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, এই প্রস্তাবের মূল ভিত্তি হলো ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতাকে ‘প্রতিরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ’ রাখা । বিশেষজ্ঞরা একে ‘ম্যাক্সিমালিস্ট সেটেলমেন্ট’ বা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির প্রস্তাব হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন, যা ইরানের কৌশলগত শক্তি পুরোপুরি সংকুচিত করার লক্ষ্যে তৈরি ।

প্রস্তাবের মূল শর্তসমূহ: ‘শূন্য ইউরেনিয়াম’ থেকে ‘মুক্ত প্রণালী’

এখনো পুরো ১৫ দফা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না হলেও ইসরায়েলি ও আমেরিকান সংবাদমাধ্যমগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো উঠে এসেছে। প্রস্তাবে ইরানের প্রতি প্রধান শর্তসমূহ নিম্নরূপ:

  • পারমাণবিক কর্মসূচি: নাতানজ, ইসফাহান ও ফোর্দোতে অবস্থিত তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করতে হবে। ইরানের ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ এবং সঞ্চিত সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আইএইএ-এর কাছে হস্তান্তর করতে হবে ।

  • ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি: ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞা জারি। ভবিষ্যতে শুধুমাত্র প্রতিরক্ষার উদ্দেশ্যে এবং সীমিত পাল্লা ও সংখ্যায় ক্ষেপণাস্ত্র রাখতে পারবে ইরান ।

  • আঞ্চলিক প্রভাব: ‘প্রক্সি’ বা প্রতিনিধি বাহিনীর মাধ্যমে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের নীতি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতি ও ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের শর্ত দেওয়া হয়েছে ।

  • হরমুজ প্রণালী: বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় হরমুজ প্রণালী সব দেশের জন্য মুক্ত ও নিরাপদ রাখার নিশ্চয়তা দিতে হবে ।

বিনিময়ে ইরান কী পাবে? নিষেধাজ্ঞা উঠছে, শান্তির স্বীকৃতি

যুদ্ধবিরতির এই প্রস্তাবে ইরানের জন্য রয়েছে আর্থিক ও কূটনৈতিক সুবিধা। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, ইরান এই শর্ত মেনে নিলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের imposed সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে । এছাড়া, বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে ।

এছাড়া ইরানের ওপর থেকে ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়ার হাতছানি সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ‘স্ন্যাপব্যাক’ হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ইরান চুক্তি লঙ্ঘন করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা ফিরিয়ে আনা যায় । প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ইতিমধ্যে একটি ‘বড় উপহার’ দিয়েছে যা ‘তেল ও গ্যাস সম্পর্কিত’ এবং তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলে রাজি হয়েছে । তবে, ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনায় বসেনি ।

যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাব ইরানের জন্য এক কঠিন দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি করেছে। একদিকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও অর্থনৈতিক মুক্তির সম্ভাবনা, অন্যদিকে ইরানের বৈদেশিক নীতির মূল চালিকাশক্তি ‘প্রক্সি কৌশল’ ও পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি বিলুপ্ত করার শর্ত । ইরানের ভেতরে কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন, “আমরা সম্পূর্ণ বিজয় না পাওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে” ।

যদিও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শান্তি আলোচনার আয়োজকের ভূমিকা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তেহরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে জবাব দিতে বিলম্ব হতে পারে ।

গরমে চৈত্রের শেষে বৈশাখের আগুন জ্বলছে শহর-গ্রামে। তাপমাত্রা যখন ৩৮ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই, তখন শরীরের ভিতর-বাহির দুই জায়গায় চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। গরমে সুস্থ থাকার নামে অনেকেই অজান্তেই নিজের ক্ষতি করছেন। প্রচণ্ড দাবদাহে কী করবেন না আর কী খাবেন—এই দুই প্রশ্নের সঠিক উত্তরই আজ নির্ধারণ করে দিতে পারে আপনার সুস্থতার মাপকাঠি।

গরম পড়লেই স্বস্তির সন্ধানে মানুষ ছোটে এসি, ফ্রিজ আর ঠান্ডা পানীয়ের দিকে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ‘স্বস্তি’ অনেক সময়েই বিপদ ডেকে আনে। দীর্ঘ ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, প্রতিবছর এই মৌসুমেই হিটস্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন আর খাদ্যে বিষক্রিয়ার রোগীদের সংখ্যা হাসপাতালে দ্বিগুণ হয়ে যায়। তবে শুধু চিকিৎসা নয়, আমাদের দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসই এই সমস্যার মূল।

প্রথমত, গরমে যা ‘করবেন না’, সেটা পরিষ্কার করে জেনে নেওয়া জরুরি। অনেকেই মনে করেন, প্রচণ্ড গরমে অফিস বা বাড়ি ফিরেই বরফ ঠান্ডা পানি গলাধঃরণ করলে শরীর ঠান্ডা হবে। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, এতে হজমশক্তি একেবারে থমকে যায়। হঠাৎ করে তাপমাত্রার এই তারতম্য শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। এছাড়া ঘামতে ঘামতে এসির সামনে দাঁড়ানো, অতিরিক্ত ক্যাফেইন বা অ্যালকোহল সেবন—এগুলো শরীর থেকে পানি শুষে নিয়ে ডিহাইড্রেশনকে আমন্ত্রণ জানায়।

পাতে কী রাখবেন, কী এড়াবেন?

গরমের খাবার তালিকা হওয়া উচিত সহজপাচ্য ও পানীয়সমৃদ্ধ। এই সময় শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ‘ওয়াটার-রিচ ফুড’ বা পানিযুক্ত খাবারের বিকল্প নেই। তরমুজ, শসা, বেল, আনারসের মতো ফল প্রতিদিনের তালিকায় রাখতে হবে। কিন্তু সতর্ক থাকবেন, রাস্তার কাটা ফল বা দীর্ঘক্ষণ খোলা রাখা জুস একেবারেই নয়। এসব খাবারে মাছি বসে, যা ডায়রিয়া ও টাইফয়েডের জীবাণু বহন করে।

এছাড়া গরমে ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত মশলাদার ও তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব খাবার হজম হতে সময় নেয়, ফলে শরীরে তাপ উৎপাদন বেড়ে যায়। বরং ঘরে তৈরি টকদই, ঘোল, ডাবের পানি, লেবুর শরবত—এগুলো প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইটের ভাণ্ডার। সকালে উঠে এক গ্লাস পানি সাথে লেবু ও মধু মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস আপনাকে সারাদিন সতেজ রাখবে।

বিশেষ সতর্কতা: শিশু ও বয়স্করা

এই প্রতিবেদনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা গেছে, গরমে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দুটি গ্রুপ হলো শিশু ও বয়স্করা। শিশুদের শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি বিকশিত হয় না, আর বয়স্কদের ক্ষেত্রে অনেক সময় তৃষ্ণার অনুভূতি কম কাজ করে। ফলে তারা অজান্তেই ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়েন।

সুতরাং, পরিবারের বড় সদস্যদের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে—তারা সময়মতো পানি পান করছেন কিনা। আর শিশুদের জন্য বাইরের খাবার এড়িয়ে ঘরেই পুষ্টিকর ঠান্ডা খাবার তৈরি করে দেওয়া উচিত।

কী করবেন: এক নজরে

  • পানীয়: ঘোল, ডাবের পানি, ফলের রস (চিনি ছাড়া), লেবুর শরবত।

  • খাবার: শসা, তরমুজ, পেঁপে, ওটস, ইয়োগার্ট।

  • পোশাক: সুতি ও হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরুন।

  • সময়: দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে রোদে বেরোনো এড়িয়ে চলুন।

গরম কেবল বাইরের তাপমাত্রা নয়, এটি আমাদের জীবনযাত্রার ওপর চাপিয়ে দেয় এক নতুন শৃঙ্খলা। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ’ এখানেই বেশি জরুরি।