টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে একে বারে ধসিয়ে দিল নিউজিল্যান্ড। ফিন অ্যালেনের ঝড়ো ৩৩ বলের সেঞ্চুরিতে মাত্র ১২.৫ ওভারে ৯ উইকেটের বিশাল জয় তুলে নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করল কিউইরা।

ইডেন গার্ডেন্সে বুধবার (৪ মার্চ) প্রোটিয়াদের ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে টিম সেইফার্ট ও অ্যালেনের উদ্বোধনী জুটিতে ম্যাচের রং বদলে যায়।

এই জয় নিউজিল্যান্ডের জন্য ঐতিহাসিক। ফিন অ্যালেনের ৩৩ বলে অপরাজিত ১০০ রান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরি। ১০টি চার ও ৮টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসে প্রোটিয়া বোলাররা যেন কোনো উত্তর খুঁজে পাননি।

অ্যালেনের সঙ্গে টিম সেইফার্টের ৮৪ রানের পাওয়ারপ্লে জুটি ম্যাচের ভাগ্য একেবারে ঘুরিয়ে দেয়। সেইফার্ট ৫০+ রান করে আউট হলেও অ্যালেন অপরাজিত থেকে জয়ের কাজ শেষ করেন। রাচিন রবীন্দ্রও অপরাজিত ১৩ রান করে সঙ্গ দেন।

দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ১৬৯/৮ সংগ্রহ করে। মার্কো জ্যানসেনের ৫২ রানের ঝড়ো ইনিংস ছাড়া প্রোটিয়াদের ব্যাটিং লাইনআপে কেউই বড় স্কোর গড়তে পারেনি। নিউজিল্যান্ডের বোলাররা, বিশেষ করে ম্যাট হেনরি, লকি ফার্গুসন ও জেমস নিশাম, নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে প্রোটিয়াদের চাপে রাখেন। অধিনায়ক এইডেন মার্করাম ও কুইন্টন ডি ককের মতো তারকারা ব্যর্থ হন।

নিউজিল্যান্ড টস জিতে প্রথমে বোলিং নেয়, যা পরে কাজে লাগে। মিচেল স্যান্টনারের নেতৃত্বে কিউইরা এই টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলছে। ফিন অ্যালেন ও টিম সেইফার্টের উদ্বোধনী জুটি গ্রুপ স্টেজ থেকেই বিপজ্জনক ছিল, কিন্তু সেমিফাইনালে তারা একেবারে অন্য মাত্রায় পৌঁছে যায়। অ্যালেনের এই ইনিংসকে অনেকে টি-টোয়েন্টির নতুন যুগের শুরু বলছেন—যেখানে ব্যাটসম্যানরা লক্ষ্যকে ছোট করে দেখেন।

প্রোটিয়াদের জন্য এটি আরেকটি হতাশার সেমিফাইনাল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তারা এখনো ফাইনালে পৌঁছাতে পারেনি, এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টুর্নামেন্টে তাদের ৫-০ রেকর্ডও ভেঙে গেল। মার্কো জ্যানসেনের বোলিং ও ব্যাটিং দুটোতেই চেষ্টা ছিল, কিন্তু অ্যালেনের ঝড়ের সামনে সবকিছু ফিকে হয়ে যায়।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ক্যাম্পাসে বুধবার বিকেলে এক ভয়াবহ ছুরিকাঘাতের ঘটনায় সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা নিহত হয়েছেন। একই সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমান গুরুতর আহত হয়েছেন।

থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের ২২৬ নম্বর কক্ষে ঘটেছে এই দুঃখজনক ঘটনা, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিতে গেলে বলতে হয়, বিকেল চারটার দিকে ক্যাম্পাসের ওই ভবনে আকস্মিকভাবে এই হামলা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুসারে, অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা শিক্ষক আসমা সাদিয়া রুনাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে।

তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ঈমাম প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন যে, হাসপাতালে আনার সময় তিনি জীবিত ছিলেন, কিন্তু চিকিৎসা শুরুর কিছুক্ষণ পরই মারা যান।

একই ঘটনায় আহত হয়েছেন ফজলুর রহমান, যিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একজন কর্মচারী। তাঁকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আরএমও হোসেন ঈমাম জানান, তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন, এবং তাঁকে অস্ত্রোপচার কক্ষে স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকরা তাঁর জীবন রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু আঘাতের তীব্রতা দেখে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুর্লভ, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের একটি সূত্র জানায়, আসমা সাদিয়া রুনা ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, যিনি সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে বিভাগের শিক্ষার্থীরা শোকাহত। ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়েছে গুজব যে, এই হামলার পিছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা বা অন্য কোনো রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে, যদিও পুলিশ এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট মোটিভ নিশ্চিত করেনি।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনাস্থলে কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি, যা তদন্তকে জটিল করে তুলেছে। কুষ্টিয়া থানার ওসি জানিয়েছেন, তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেছেন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তার অভাবকে আবারও সামনে তুলে ধরেছে, যেখানে শিক্ষকরা প্রায়ই অসুরক্ষিত বোধ করেন।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে মনে পড়ে যায়, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুরিকাঘাত বা সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতির কারণে অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসবের পিছনে মূলত ছাত্র সংগঠনের দ্বন্দ্ব, ব্যক্তিগত বিবাদ বা মাদকের প্রভাব থাকতে পারে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে যদিও কোনো রাজনৈতিক সংঘাতের খবর নেই, তবু এটি একটি সতর্কবার্তা।

সরকার একটি মন্ত্রণালয় ও তিন বিভাগে সাবেক চার কর্মকর্তাকে এক বছরের চুক্তিতে সচিব পদে নিয়োগ দিয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারায় এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মো. শহীদুল হাসানকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, রফিকুল আই মোহাম্মদকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, আবদুল খালেককে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব এবং মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যোগদানের তারিখ থেকে এক বছর মেয়াদে তারা দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময়ের মধ্যে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক রাখা যাবে না। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

প্রশাসনিক সূত্র বলছে, সংশ্লিষ্ট চার কর্মকর্তাই দীর্ঘদিন সরকারি প্রশাসনে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং অবসরোত্তর সময়ে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন। স্থানীয় সরকার, কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—এই চার খাত বর্তমানে সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, সেবা সম্প্রসারণ এবং নীতিগত সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে অভিজ্ঞ প্রশাসনিক নেতৃত্ব প্রয়োজন বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

বিশেষ করে স্থানীয় সরকার বিভাগে চলমান অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি ও বাজার ব্যবস্থাপনা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় পাঠ্যক্রম সংস্কার এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ও সেবা মানোন্নয়ন—এসব ক্ষেত্রেই কার্যকর সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। নতুন সচিবরা দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব খাতে নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখা ও প্রশাসনিক গতি বাড়ানোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্ত বা বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। প্রশাসনিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফিরিয়ে আনা হলে তা চলমান প্রকল্পে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হয়। তবে একই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি।

জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলী বাহরেনি ঘোষণা দিয়েছেন, আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরান তার প্রতিরক্ষা অভিযান চালিয়ে যাবে। জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ১৪টি দেশ থেকে নিজেদের নাগরিকদের দ্রুত সরে যেতে সতর্কবার্তা জারি করেছে।

জেনেভায় সংবাদ ব্রিফিংয়ে আলী বাহরেনি বলেন, “এই আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবো।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট বার্তা ছিল—তেহরান নিজেদের সামরিক তৎপরতাকে আক্রমণ নয়, বরং আত্মরক্ষার অংশ হিসেবেই উপস্থাপন করছে। চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই অবস্থান কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

রাষ্ট্রদূত আরও সতর্ক করে বলেন, কোনো প্রতিবেশী দেশের সামরিক ঘাঁটি যদি অন্য দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করা হয়, তবে সেটি বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। কারণ, অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং সেগুলো বিভিন্ন সময় আঞ্চলিক অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে।

ইরানের এই অবস্থানের পাল্টা প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলার বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরা নামদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় জানান, “গুরুতর ঝুঁকির” কারণে ১৪টি দেশ থেকে মার্কিন নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যমান পরিবহন ব্যবস্থায় দেশত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে অঞ্চলভিত্তিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিই এ সতর্কবার্তার কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এই পাল্টাপাল্টি বার্তা কি সরাসরি সামরিক সংঘাতের পূর্বাভাস, নাকি চাপ সৃষ্টির কৌশল? আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা বলছেন, সামরিক হুমকি ও নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান—দুটি পদক্ষেপই সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা জোরদার করে। একই সঙ্গে এগুলো আলোচনার টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থান নেওয়ার কৌশলও হতে পারে।

ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, তারা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা অভিযোগ করে, তেহরানের সামরিক তৎপরতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। এই দ্বন্দ্বের মাঝখানে পড়ে সাধারণ মানুষ ও প্রবাসী নাগরিকদের নিরাপত্তা বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

ইরানে সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় কংগ্রেসের এক রুদ্ধদ্বার শুনানিতে তিনি বলেন, ইসরায়েল ইরানে হামলায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল এবং যেকোনো হামলার জবাব শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই আসত—এই আশঙ্কা থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন আগাম পদক্ষেপ নেয়।

ক্যাপিটলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও মন্তব্য করেন, “এটা অনেকটা স্পষ্ট ছিল যে ইরানে কেউ হামলা করলে—সে যুক্তরাষ্ট্র হোক, ইসরায়েল হোক বা অন্য কেউ—তাদের জবাব যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আসত।” তাঁর ভাষ্যে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এমন এক বাস্তবতা, যা প্রতিপক্ষের প্রতিক্রিয়াকে প্রায় অনিবার্যভাবে আমেরিকার দিকে ঠেলে দেয়।

ইরান–ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততা অনেকের কাছেই ছিল অপ্রত্যাশিত। সেই বিস্ময়ের জবাব দিতেই রুবিওর এই ব্যাখ্যা বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন সিআইএর পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন। যদিও শুনানিটি ছিল রুদ্ধদ্বার, তবু পরবর্তী ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রশাসনের কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট হয়।

রুবিওর যুক্তি হলো—ইসরায়েল যদি একতরফাভাবে হামলা চালাত, তেহরান তার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটি বা সেনাদের লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারত। ফলে সংঘাত যেভাবেই শুরু হোক, তার পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রকে জড়িয়ে ফেলতই। তাই আগাম হামলা ছিল “ক্ষয়ক্ষতি কমানোর কৌশলগত সিদ্ধান্ত”—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

তবে কংগ্রেসে এ ব্যাখ্যা নিয়ে মতভেদ স্পষ্ট। জ্যেষ্ঠ কয়েকজন সদস্য প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও, অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন—কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ কতটা সাংবিধানিক। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে প্রতিনিধি পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপনের কথা রয়েছে, যেখানে প্রেসিডেন্টকে ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতা বন্ধে বাধ্য করার আহ্বান জানানো হতে পারে। যদিও রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রস্তাবটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তীব্র হয়েছে। সমালোচকেরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের বদলে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। সমর্থকেরা পাল্টা যুক্তি দিচ্ছেন, প্রতিপক্ষের সম্ভাব্য আঘাতের আগেই আঘাত হানা প্রতিরক্ষামূলক কৌশল হিসেবেই বিবেচিত হতে পারে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিক্ষার্থী এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য মেট্রোরেলসহ দেশের সব ধরনের রেলসেবায় ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন সড়ক ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। তবে সুবিধাটি কার্যকর করতে কিছুটা সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।

সচিবালয়ে আয়োজিত ওই ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা। সমাজের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠী ও প্রবীণদের যাতায়াত সহজ ও সাশ্রয়ী করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর মেট্রোরেল চালু হওয়ার পর যাত্রীচাহিদা বেড়েছে, ফলে ভাড়া-সুবিধা প্রসারিত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

মন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, বর্তমানে ট্রেনের টিকিট অনলাইনে কেনার ব্যবস্থা চালু রয়েছে। নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে অনলাইন টিকিটিং প্ল্যাটফর্মে আলাদা একটি অপশন থাকবে। যাত্রী যদি ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী হন, তাহলে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে ২৫ শতাংশ ছাড় পাবেন। অনবোর্ড বা ট্রেনে ওঠার পরও আইডি কার্ড দেখাতে হবে।

শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বৈধ ছাত্র পরিচয়পত্র প্রদর্শন বাধ্যতামূলক থাকবে। একইভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ইস্যুকৃত পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। মন্ত্রী বলেন, “ডিজেবল পিপলদের জন্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া কার্ড রয়েছে। সেটি দেখালেই ছাড় প্রযোজ্য হবে।”

মুক্তিযোদ্ধারা এই সুবিধার আওতায় পড়বেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়নি। ফলে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে গণপরিবহনে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের অংশগ্রহণ বাড়বে। বর্তমানে শহর ও শহরতলির বহু প্রবীণ নাগরিক চিকিৎসা, সামাজিক কার্যক্রম বা পারিবারিক প্রয়োজনে নিয়মিত যাতায়াত করেন। ভাড়া ছাড় তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। একইভাবে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও শিক্ষা-সম্পর্কিত যাতায়াত খরচ কিছুটা কমবে।

ময়মনসিংহ নগরীতে দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা ঘুম থেকে না ওঠায় দরজা ভেঙে মো. সোহান (১৯) নামে এক শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ।

সোমবার (২ মার্চ) বিকেল ৪টার পর সানকিপাড়া এলাকার একটি ছাত্র মেসে এ ঘটনা ঘটে। উদ্ধার অভিযানের ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

সানকিপাড়া হেলথ অফিসার গলির ওই মেসে বসবাস করতেন সোহান। সহপাঠী ও মেসের অন্য শিক্ষার্থীরা জানান, সকাল থেকেই তার কক্ষে কোনো সাড়া-শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। বারবার দরজায় কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া মিলছিল না। দুপুর গড়ানোর পরও একই পরিস্থিতি থাকায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

মেসের এক বাসিন্দা বলেন, “সাধারণত সকালে সোহান ক্লাস বা কোচিংয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিত। কিন্তু সেদিন সকাল ৯টার পরও তার দরজা বন্ধ ছিল। ফোনেও কল দেওয়া হয়, কিন্তু রিসিভ করেনি।” প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, হয়তো অসুস্থ বা গভীর ঘুমে আছেন। তবে দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পাওয়ায় বিকেলে বিষয়টি স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। কক্ষের ভেতরে সোহানকে ঘুমন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে দেখা যায়, তিনি জীবিত এবং তেমন কোনো শারীরিক জটিলতা নেই। এ ঘটনায় স্বস্তি ফিরে আসে সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে।

উদ্ধার অভিযানের একটি ভিডিও ঘটনাস্থলে উপস্থিত কেউ মোবাইল ফোনে ধারণ করে ফেসবুকে প্রকাশ করেন। মুহূর্তেই সেটি ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা সতর্কতার সঙ্গে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করছেন। ভিডিও ঘিরে নানা মন্তব্যও দেখা গেছে—কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কেউ আবার শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, “প্রাথমিকভাবে এটি কোনো অপরাধজনিত ঘটনা বলে মনে হয়নি। দীর্ঘ সময় দরজা বন্ধ থাকায় নিরাপত্তাজনিত কারণে উদ্ধার করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোই সঠিক পদক্ষেপ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ঘুমের সমস্যা বা শারীরিক ক্লান্তি তরুণদের মধ্যে গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের কারণ হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাত জাগা, অনলাইন নির্ভরতা এবং অনিয়ন্ত্রিত রুটিন এখন সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে পরিবার ও সহপাঠীদের নজরদারি ও খোঁজখবর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের ১৩১টি শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নিহতের সংখ্যা ৫৫০ জন ছাড়িয়েছে।

সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। সংস্থাটি বলছে, দেশজুড়ে ব্যাপক ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চলছে।

ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সর্বশেষ বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক হামলায় আবাসিক এলাকা, অবকাঠামো ও জনবহুল অঞ্চল ক্ষতির মুখে পড়েছে। হতাহতের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে, কারণ বহু এলাকায় এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারের কাজ চলছে। আহতের প্রকৃত সংখ্যা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে তা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হামলার লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক থাকলেও, মানবিক সংকট যে দ্রুত গভীর হচ্ছে—তা স্পষ্ট। সংস্থাটি জানিয়েছে, রেড ক্রিসেন্টের মানবিক মিশনের নেতৃত্বে উদ্ধার তৎপরতা বিরতিহীনভাবে চালানো হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দল মোতায়েন রয়েছে এবং দেশজুড়ে ১ লাখেরও বেশি উদ্ধারকর্মী পূর্ণ সতর্কাবস্থায় রয়েছেন।

এ ছাড়া জরুরি চিকিৎসা, খাদ্য ও আশ্রয় সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৪০ লাখ স্বেচ্ছাসেবকের একটি নেটওয়ার্ক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মনস্তাত্ত্বিক সহায়তার জন্য বিশেষজ্ঞ দলও গঠন করা হয়েছে, কারণ হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শিশু ও নারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, একসঙ্গে এতগুলো শহরে হামলা ইরানের ভেতরে ব্যাপক অবকাঠামোগত চাপ তৈরি করেছে। বিদ্যুৎ, পানি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার খবর পাওয়া যাচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কিছু এলাকায় অস্থায়ী চিকিৎসা শিবির স্থাপন করা হয়েছে।

ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা কেবল সামরিক সংঘাতের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই; এর মানবিক প্রভাব দ্রুত আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ডেকে আনতে পারে। শরণার্থী সংকট, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উত্তেজনা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল আকার নিচ্ছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও সংলাপের মাধ্যমে সংকট নিরসনের দাবি জোরদার হচ্ছে। তবে এখনো কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত মেলেনি।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস।

সোমবার (২ মার্চ, ২০২৬) এই বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় যেকোনো ছবি, ভিডিও বা সংবাদ শেয়ার, লাইক বা কমেন্ট থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে স্থানীয় আইন লঙ্ঘন না হয়।

এই বিজ্ঞপ্তি আসার পেছনে রয়েছে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হামলার কারণে সৃষ্ট অস্থিরতা। মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশের আকাশসীমা আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের ঘটনা ঘটছে।

সৌদি আরবের আকাশপথ এখনও সম্পূর্ণ বন্ধ না হলেও পরিস্থিতি অনিশ্চিত। ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা, বিশেষ করে যারা ছুটিতে দেশে যাওয়া-আসা করছেন বা নতুন চাকরিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন, তারা বিপাকে পড়েছেন। দূতাবাসের এই বিজ্ঞপ্তি তাদের নিরাপত্তা ও আইনি জটিলতা এড়ানোর জন্য জারি করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, প্রবাসীদের শান্ত থাকতে হবে এবং গুজবের ফাঁদে পা না দিতে হবে। সৌদি আরবের কঠোর আইন অনুসারে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো সংবেদনশীল ছবি বা ভিডিও আপলোড, প্রচার বা শেয়ার করলে গুরুতর শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন।

দূতাবাসের এই সতর্কতা প্রবাসীদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা বজায় রাখতে এবং অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এড়াতে সহায়ক হবে।

আকাশপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা বা ট্রাভেল এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিল বা পুনর্নির্ধারণের ঘটনা বেড়েছে। এতে হাজার হাজার প্রবাসী আটকে পড়েছেন বা ভোগান্তিতে পড়েছেন। দূতাবাসের এই পরামর্শ যাত্রীদের অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা থেকে রক্ষা করবে।

সৌদি আরবে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি প্রবাসী বসবাস করেন, যাদের অধিকাংশ শ্রমিক ও কর্মী। এই অঞ্চলের অস্থিরতা তাদের জীবনযাত্রা, রেমিট্যান্স এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগকে প্রভাবিত করছে। দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তি প্রবাসীদের মানসিক শান্তি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের দায়িত্বশীল আচরণের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকারের পদ প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদের রাজনৈতিক সমঝোতার প্রতি সম্মান জানিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। জামায়াতকে নাম চূড়ান্ত করতে বলা হয়েছে, যাতে সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এটি বাস্তবায়ন করা যায়।

এই ঘোষণা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর গঠিত জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।

সেই সনদকে রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে বিবেচনা করে সরকার এখন থেকেই তার বাস্তবায়ন শুরু করতে চায় বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, “আমরা জুলাই সনদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে যে সমঝোতায় এসেছি, তার বাস্তবায়ন এখন থেকেই শুরু করতে চাই।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, বিএনপির পক্ষ থেকে জামায়াতকে মৌখিকভাবে এবং সাক্ষাতে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদি জামায়াত সম্মত হয়, তাহলে তাদের মনোনীত প্রার্থী স্পিকার নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গে ডেপুটি স্পিকার হিসেবে শপথ নিতে পারবেন। সংসদের প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, তাই এই প্রস্তাবের সময়োপযোগিতা অনেক।

জামায়াতে ইসলামীকে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের ডেপুটি স্পিকার পদ দেওয়ার প্রস্তাব রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে এটিকে গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে মনে করছেন।

জুলাই আন্দোলনের পর বিভিন্ন দলের মধ্যে যে ঐক্য গড়ে উঠেছিল, তার ধারাবাহিকতা এতে বজায় রাখা যাবে। তবে কিছু বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলেছেন, জামায়াতের সাংবিধানিক অবস্থান এবং অতীতের বিতর্কিত ভূমিকা বিবেচনায় এই পদ দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত। জামায়াতের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে তারা বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।

এই প্রস্তাবের পেছনে সরকারের লক্ষ্য স্পষ্ট—সংসদকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সক্রিয় করে তোলা। ঐতিহ্যগতভাবে ডেপুটি স্পিকার পদ সরকারি দলের হয়, কিন্তু বিরোধী দল থেকে নিয়োগ দেওয়া হলে সংসদীয় আলোচনায় ভারসাম্য আসবে। সালাহউদ্দিন আহমদের কথায়, এটি রাজনৈতিক সমঝোতার বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ।