মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানে হামলা এবং তেহরানের পাল্টা আক্রমণের জেরে বিস্তীর্ণ এলাকার আকাশসীমা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে হাজার হাজার আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল বা দীর্ঘদিনের জন্য বিলম্বিত। দুবাই, দোহা, আবুধাবির মতো গুরুত্বপূর্ণ হাব বন্ধ থাকায় লাখো যাত্রী আটকে পড়েছেন।
বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইটগুলোতেও বড় ধাক্কা লেগেছে—হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শত শত প্রবাসী ও ট্রানজিট যাত্রী বিপাকে। এমন সংকটে যাত্রীদের অধিকার কী, তা জানা এখন অত্যন্ত জরুরি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর ইরান পাল্টা আক্রমণ করে। এতে ইরান, ইসরায়েল, ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সিরিয়া, জর্ডানসহ একাধিক দেশের আকাশসীমা পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ হয়ে যায়।
দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর—বিশ্বের ব্যস্ততম হাব—তিন দিন ধরে বন্ধ। দোহা ও আবুধাবির হামাদ ও জায়েদ বিমানবন্দরও একই অবস্থা। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিনে মধ্যপ্রাচ্যের বিমানবন্দরগুলোতে ৩ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এই সংখ্যা কোভিড মহামারির পর সবচেয়ে বড় বিঘ্ন।
বাংলাদেশে এর প্রভাব পড়েছে তীব্রভাবে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত ১০০-এরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
এর মধ্যে এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ, ফ্লাইদুবাই, এয়ার আরাবিয়া, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সসহ বড় বড় ক্যারিয়ারের ফ্লাইট রয়েছে। চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরেও ২০টির মতো ফ্লাইট বাতিল।
হাজার হাজার প্রবাসী শ্রমিক, উমরাহ যাত্রী ও ইউরোপ-আমেরিকাগামী ট্রানজিট যাত্রী বিমানবন্দরে আটকে পড়েছেন। অনেকে রাত কাটিয়েছেন টার্মিনালে, খাবার-পানীয়ের অভাবে কষ্ট পেয়েছেন। কেউ কেউ পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।
এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া দরকার। বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইসি ২৬১/২০০৪ নিয়ম বা অনুরূপ আইনের আওতায় পড়ে। যুদ্ধ বা ‘অসাধারণ পরিস্থিতি’ (extraordinary circumstances) হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় এয়ারলাইনগুলো সাধারণত নির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য নয়। তবে তারা যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বাধ্য।
– ফ্লাইট বাতিল হলে এয়ারলাইনকে অবশ্যই বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে হবে বা পুরো টিকিটের টাকা ফেরত দিতে হবে।
– দীর্ঘ বিলম্ব বা বাতিলের ক্ষেত্রে খাবার, পানীয়, হোটেল থাকার ব্যবস্থা ও বিমানবন্দর-হোটেল যাতায়াতের সুবিধা দিতে হবে।
– যাত্রী যদি আর ভ্রমণ না করতে চান, তাহলে পুরো রিফান্ড পাওয়ার অধিকার আছে।
– বাংলাদেশি এয়ারলাইনগুলোর ক্ষেত্রে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) ও আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসরণ করা হয়।
বিমান সংস্থাগুলো যেমন এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ, বিমান বাংলাদেশ—সবাই যাত্রীদের বিকল্প তারিখে ফ্লাইট বা রিফান্ডের অফার দিচ্ছে। কিন্তু ফোন লাইন জ্যাম, ওয়েবসাইটে ভিড়—এসবের কারণে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এই বিঘ্ন কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে।


