গরমে চৈত্রের শেষে বৈশাখের আগুন জ্বলছে শহর-গ্রামে। তাপমাত্রা যখন ৩৮ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই, তখন শরীরের ভিতর-বাহির দুই জায়গায় চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। গরমে সুস্থ থাকার নামে অনেকেই অজান্তেই নিজের ক্ষতি করছেন। প্রচণ্ড দাবদাহে কী করবেন না আর কী খাবেন—এই দুই প্রশ্নের সঠিক উত্তরই আজ নির্ধারণ করে দিতে পারে আপনার সুস্থতার মাপকাঠি।

গরম পড়লেই স্বস্তির সন্ধানে মানুষ ছোটে এসি, ফ্রিজ আর ঠান্ডা পানীয়ের দিকে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ‘স্বস্তি’ অনেক সময়েই বিপদ ডেকে আনে। দীর্ঘ ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, প্রতিবছর এই মৌসুমেই হিটস্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন আর খাদ্যে বিষক্রিয়ার রোগীদের সংখ্যা হাসপাতালে দ্বিগুণ হয়ে যায়। তবে শুধু চিকিৎসা নয়, আমাদের দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসই এই সমস্যার মূল।

প্রথমত, গরমে যা ‘করবেন না’, সেটা পরিষ্কার করে জেনে নেওয়া জরুরি। অনেকেই মনে করেন, প্রচণ্ড গরমে অফিস বা বাড়ি ফিরেই বরফ ঠান্ডা পানি গলাধঃরণ করলে শরীর ঠান্ডা হবে। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, এতে হজমশক্তি একেবারে থমকে যায়। হঠাৎ করে তাপমাত্রার এই তারতম্য শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। এছাড়া ঘামতে ঘামতে এসির সামনে দাঁড়ানো, অতিরিক্ত ক্যাফেইন বা অ্যালকোহল সেবন—এগুলো শরীর থেকে পানি শুষে নিয়ে ডিহাইড্রেশনকে আমন্ত্রণ জানায়।

পাতে কী রাখবেন, কী এড়াবেন?

গরমের খাবার তালিকা হওয়া উচিত সহজপাচ্য ও পানীয়সমৃদ্ধ। এই সময় শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ‘ওয়াটার-রিচ ফুড’ বা পানিযুক্ত খাবারের বিকল্প নেই। তরমুজ, শসা, বেল, আনারসের মতো ফল প্রতিদিনের তালিকায় রাখতে হবে। কিন্তু সতর্ক থাকবেন, রাস্তার কাটা ফল বা দীর্ঘক্ষণ খোলা রাখা জুস একেবারেই নয়। এসব খাবারে মাছি বসে, যা ডায়রিয়া ও টাইফয়েডের জীবাণু বহন করে।

এছাড়া গরমে ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত মশলাদার ও তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব খাবার হজম হতে সময় নেয়, ফলে শরীরে তাপ উৎপাদন বেড়ে যায়। বরং ঘরে তৈরি টকদই, ঘোল, ডাবের পানি, লেবুর শরবত—এগুলো প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইটের ভাণ্ডার। সকালে উঠে এক গ্লাস পানি সাথে লেবু ও মধু মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস আপনাকে সারাদিন সতেজ রাখবে।

বিশেষ সতর্কতা: শিশু ও বয়স্করা

এই প্রতিবেদনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা গেছে, গরমে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দুটি গ্রুপ হলো শিশু ও বয়স্করা। শিশুদের শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি বিকশিত হয় না, আর বয়স্কদের ক্ষেত্রে অনেক সময় তৃষ্ণার অনুভূতি কম কাজ করে। ফলে তারা অজান্তেই ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়েন।

সুতরাং, পরিবারের বড় সদস্যদের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে—তারা সময়মতো পানি পান করছেন কিনা। আর শিশুদের জন্য বাইরের খাবার এড়িয়ে ঘরেই পুষ্টিকর ঠান্ডা খাবার তৈরি করে দেওয়া উচিত।

কী করবেন: এক নজরে

  • পানীয়: ঘোল, ডাবের পানি, ফলের রস (চিনি ছাড়া), লেবুর শরবত।

  • খাবার: শসা, তরমুজ, পেঁপে, ওটস, ইয়োগার্ট।

  • পোশাক: সুতি ও হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরুন।

  • সময়: দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে রোদে বেরোনো এড়িয়ে চলুন।

গরম কেবল বাইরের তাপমাত্রা নয়, এটি আমাদের জীবনযাত্রার ওপর চাপিয়ে দেয় এক নতুন শৃঙ্খলা। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ’ এখানেই বেশি জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সংস্কার কর্মসূচি ও চলমান সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

রাজধানীর সচিবালয়-এ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকটি ছিল ছুটির পর সরকারের প্রথম কর্মদিবসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। সাত দিনের সরকারি ছুটি শেষে সকাল ৯টায় কার্যালয়ে এসে প্রধানমন্ত্রী দিনের কার্যক্রম শুরু করেন এবং শুরুতেই এই বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং অর্থ সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রাজস্ব ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং চলমান সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

বিশেষ করে আইএমএফের চলমান ঋণ কর্মসূচি ও এর শর্তাবলি বাস্তবায়নের অগ্রগতি বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল। জানা গেছে, সরকার অর্থনীতির কাঠামোগত সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে চায়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুধু আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রেই নয়, বরং নীতিনির্ধারণে আস্থার বার্তা দেয়। আইএমএফের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় থাকলে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।

তবে সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা—এই বিষয়গুলো এখন সরকারের জন্য অগ্রাধিকার। আইএমএফও এসব খাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছে।

বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া না হলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আলোচনা ছিল “গঠনমূলক ও ইতিবাচক”। আগামী মাসগুলোতে আরও কিছু নীতিগত পরিবর্তন আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনের বাকি সময়েও আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে অর্থনীতি ও প্রশাসন সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করেই সরকার সব সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া যোদ্ধাদের দেওয়া ‘ইনডেমনিটি’ বহাল রাখার বিষয়েও সরকার ইতিবাচক।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন-এর ক্যাবিনেট কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, এটি জনগণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। সেই চেতনা থেকেই বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিমালা নির্ধারণ করছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি পদক্ষেপ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টি সরকার গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে।

‘ইনডেমনিটি’ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের সময়কার পরিস্থিতি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী এবং তা বিবেচনায় নিয়েই সংশ্লিষ্টদের দায়মুক্তির বিষয়টি দেখা হচ্ছে। “এটি কোনো ব্যক্তিগত বা দলীয় সিদ্ধান্ত নয়; বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে নেওয়া একটি অবস্থান,”—যোগ করেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য সরকারের নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করে এবং জুলাই আন্দোলনের প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে। তবে একই সঙ্গে এটি আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কও উসকে দিতে পারে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণে সংঘটিত এ আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। ফলে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া হবে কি না—তা নিয়ে শুরু থেকেই আলোচনা চলছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘ইনডেমনিটি’ বা দায়মুক্তি প্রদান একটি সংবেদনশীল বিষয়। একদিকে এটি আন্দোলনকারীদের প্রতি স্বীকৃতি হিসেবে দেখা যেতে পারে, অন্যদিকে আইনের শাসনের প্রশ্নও উঠে আসে। তাই এ বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেমন হয়, তা রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে বিভিন্ন সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও বৈঠকের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সামনের দিনগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২৬ মার্চ সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবেন দলের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়েছে, মহান স্বাধীনতা দিবসকে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্মরণ করতে নানা আয়োজন হাতে নিয়েছে দলটি।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কর্মসূচির সূচনা হবে ২৫ মার্চ বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব-এ একটি আলোচনা সভার মাধ্যমে। বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিতব্য এই সভায় দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস, গণহত্যার স্মৃতি এবং বর্তমান প্রজন্মের কাছে এর তাৎপর্য তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।

দলটির নেতারা জানিয়েছেন, ২৫ মার্চের এই আয়োজনের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের কালরাত্রির স্মৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে স্বাধীনতার চেতনা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানানো হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

পরদিন ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা দিবসের প্রথম প্রহরে দলের শীর্ষ নেতাদের নেতৃত্বে সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ-এ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এতে নেতৃত্ব দেবেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তার সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন স্তরের কর্মীরাও উপস্থিত থাকবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় দিবসগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর এ ধরনের কর্মসূচি একদিকে যেমন শহীদদের স্মরণ করার সুযোগ তৈরি করে, অন্যদিকে দলীয় অবস্থান ও বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়; এটি জাতির আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক। ফলে এ দিনকে ঘিরে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে থাকে। জামায়াতে ইসলামীও তার ব্যতিক্রম নয়।

তবে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি নিয়ে বিভিন্ন সময় ভিন্নমতও দেখা যায়। কেউ কেউ মনে করেন, জাতীয় দিবসগুলোতে দলীয় কর্মসূচির চেয়ে সর্বজনীন ও অরাজনৈতিক আয়োজন বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত। আবার অন্যরা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ গণতান্ত্রিক চর্চারই অংশ।

ঈদের ছুটি শেষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মজীবী মানুষ ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন। সোমবার সকাল থেকেই রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনালগুলোতে দেখা গেছে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ শেষে জীবিকার টানে আবারও ব্যস্ত নগরীতে ফেরা।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দীর্ঘ ছুটি কাটাতে রাজধানী ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন লাখো মানুষ। সেই আনন্দঘন সময় শেষ হতেই আবার কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন তারা। রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ছিল মানুষের চাপ।

কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখা যায়, ট্রেন থেকে নামা যাত্রীদের মুখে ক্লান্তির ছাপ থাকলেও চোখে-মুখে ছিল প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো সময়ের তৃপ্তি। কেউ হাতে ব্যাগ, কেউবা কাঁধে ঝুলন্ত ব্যাকপ্যাক—সবাই দ্রুত বাড়ি বা কর্মস্থলে পৌঁছাতে ব্যস্ত। অনেকেই জানিয়েছেন, এবারের ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক ছিল।

রাজধানীতে ফেরা এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী বলেন, “গ্রামে পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটানোটা সত্যিই আনন্দের। তবে কাজের প্রয়োজনে আবার ঢাকায় ফিরতেই হয়। এবার যাত্রাপথে তেমন ভোগান্তি হয়নি, সেটাই স্বস্তির।”

বাস টার্মিনালগুলোতেও একই চিত্র। দূরপাল্লার বাসগুলো একের পর এক যাত্রী নিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা বাসগুলোতে যাত্রীদের চাপ বেশি ছিল। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের আগের মতো ফিরতি যাত্রাতেও যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত বাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তবে সব জায়গায় পরিস্থিতি একেবারে নির্বিঘ্ন ছিল না। কিছু কিছু স্থানে যানজটের কারণে যাত্রা দীর্ঘায়িত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ধীরগতির কারণে ভোগান্তির কথা জানান অনেকে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্টেশন ও টার্মিনালগুলোতে বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে সংশ্লিষ্ট বাহিনী।

এদিকে, ঢাকায় মানুষের ফেরার সঙ্গে সঙ্গে নগরজীবনও ধীরে ধীরে পুরনো ছন্দে ফিরছে। অফিস-আদালত খুলতে শুরু করায় যানবাহনের চাপ বাড়ছে, রাস্তায় ফিরছে চিরচেনা যানজট। বিপণিবিতান, রেস্টুরেন্ট ও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও দেখা যাচ্ছে কর্মচাঞ্চল্য।

খালি পেটে কাঁচা হলুদ খাওয়ার অভ্যাস দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, বিশেষ করে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে। এর মূল কারণ হলুদের সক্রিয় উপাদান কারকিউমিন, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণে সমৃদ্ধ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কিছু রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার রান্নাঘরে হলুদ একটি অপরিহার্য মসলা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এটি শুধু রান্নার উপাদান হিসেবেই নয়, বরং প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবেও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে খালি পেটে কাঁচা হলুদ খাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে, যা নিয়ে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা।

হলুদের প্রধান কার্যকর উপাদান কারকিউমিন, যা শরীরে প্রদাহ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ অনেক রোগের মূল কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়—যেমন হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এমনকি কিছু ধরনের ক্যানসারও। এ কারণে কারকিউমিনের অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গবেষণায় দেখা গেছে, কারকিউমিন শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে কাজ করে। ফ্রি র‍্যাডিক্যাল কোষের ক্ষতি করে এবং ক্যানসারের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে কাঁচা হলুদ খেলে এই ক্ষতিকর প্রভাব কিছুটা কমানো সম্ভব বলে ধারণা করা হয়।

এছাড়া, হলুদ হজমশক্তি বাড়াতেও সহায়ক। খালি পেটে এটি খেলে পিত্তরস নিঃসরণে সহায়তা করে, যা খাবার হজমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেকেই গ্যাস্ট্রিক বা বদহজমের সমস্যায় ভুগলে কাঁচা হলুদ খেয়ে উপকার পাওয়ার কথা জানান।

হৃদরোগ প্রতিরোধেও হলুদের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা চলছে। কারকিউমিন রক্তনালীর কার্যকারিতা উন্নত করতে পারে, যা উচ্চ রক্তচাপ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে এটি রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে প্রাথমিক গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, কাঁচা হলুদ সব রোগের প্রতিষেধক নয়। অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও হতে পারে। যেমন—পেটের অস্বস্তি, অ্যাসিডিটি বা অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই নিয়মিত খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার (২৩ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা স্থগিতের ঘোষণাকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। তেহরান দাবি করেছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের সংলাপ চলছে না—ট্রাম্পের এই মন্তব্যের উদ্দেশ্য শুধু আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দাম কমানো এবং সামরিক পরিকল্পনার জন্য সময় কেনা। এই বিবৃতি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

ট্রাম্প সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেন, ইরানের সঙ্গে ‘খুবই ভালো ও ফলপ্রসূ’ আলোচনার কারণে তিনি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন। এই স্থগিতাদেশ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভরশীল বলে তিনি উল্লেখ করেন। ঘোষণার পর তেলের দামে তাৎক্ষণিক পতন ঘটে, ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে।

কিন্তু ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেমি-অফিসিয়াল মেহর নিউজ এজেন্সি ও মিজান নিউজের বরাতে জানা যায়, তেহরান বলেছে: “তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কোনো সংলাপ নেই। ট্রাম্পের এই মন্তব্য জ্বালানি দাম কমানোর চেষ্টা এবং সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সময় ক্ষেপণের কৌশল।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আঞ্চলিক কয়েকটি দেশ উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে, কিন্তু যুদ্ধ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র—সুতরাং সব অনুরোধ ওয়াশিংটনের কাছেই পাঠানো উচিত।

এই ঘটনা যুদ্ধের শুরু থেকে চলা দ্বন্দ্বের নতুন মোড়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়, যা বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহনের পথ। ফলে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, কখনো ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। ট্রাম্পের আগের হুমকি ছিল—প্রণালি না খুললে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘ধ্বংস’ করা হবে। ইরানের পাল্টা হুমকি ছিল—আক্রমণ হলে গাল্ফ অঞ্চলের সব জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করা হবে।

ইরানের এই প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের ঘোষণাকে ‘পশ্চাদপসরণ’ হিসেবে চিত্রিত করেছে। ইরানি মিডিয়ায় বলা হয়েছে, ট্রাম্প ‘পিছু হটেছেন’ কারণ ইরানের প্রতিরোধী হুমকির মুখে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই দ্বন্দ্ব দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের অভাব বা মধ্যস্থতাকারীদের (যেমন ওমান বা অন্যান্য আঞ্চলিক দেশ) মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনার ইঙ্গিত দিতে পারে। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এখনও কোনো নতুন প্রতিক্রিয়া আসেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (২৩ মার্চ) ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে তীব্র পতন ঘটেছে—ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১৩-১৫ শতাংশ কমে ৯৬ ডলারের কাছাকাছি নেমেছে, যা মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় একদিনের পতন।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘অত্যন্ত ভালো ও ফলপ্রসূ’ আলোচনা। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়ে চলমান আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভর করে এই স্থগিতাদেশ। এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, প্রণালি না খুললে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়া হবে। ইরানের প্রতিক্রিয়ায় প্রণালি অবরোধ আরও কঠোর করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এই ঘোষণার পর বাজারে তাৎক্ষণিক স্বস্তি ফিরে এসেছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি তেল ও এলএনজির প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহনের মূল পথ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে ইরান প্রণালিটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দেয়। যুদ্ধ শুরুর আগে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭০-৭৫ ডলারের আশপাশে থাকলেও, প্রণালি বন্ধের পর তা ১১০-১১৩ ডলার ছাড়িয়ে যায়—কখনো কখনো ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। এই অবস্থায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়।

সোমবারের পতনের পর ব্রেন্ট ক্রুড দিনের সর্বনিম্ন ৯৬ ডলারে নেমে এসেছে, যদিও পরে কিছুটা ঘুরে ১০৩-১০৫ ডলারের কাছাকাছি স্থিতিশীল হয়েছে। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও ৮-১০ শতাংশ কমে ৯২ ডলারের নিচে নেমেছে। এই পতনের ফলে স্টক মার্কেটে উত্থান দেখা গেছে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই স্থগিতাদেশ যদি আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানে রূপ নেয়, তাহলে তেলের দাম আরও কমতে পারে।

তবে সতর্কতাও রয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণা পাঁচ দিনের জন্য—আলোচনা ব্যর্থ হলে হামলা আবার শুরু হতে পারে। ইরানের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সুস্পষ্ট প্রতিক্রিয়া আসেনি। হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খোলা না হলে সরবরাহের সংকট অব্যাহত থাকবে। এছাড়া, যুদ্ধের অন্যান্য দিক—যেমন গাল্ফের অন্যান্য জ্বালানি স্থাপনায় হামলা—এখনও ঝুঁকি তৈরি করছে।

কয়েকটি মূল তথ্য:

  • তারিখ: ২৩ মার্চ ২০২৬ (সোমবার)
  • ট্রাম্পের ঘোষণা: ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা ৫ দিন স্থগিত
  • ব্রেন্ট ক্রুড: দিনের সর্বোচ্চ ১১২-১১৩ ডলার থেকে ৯৬ ডলারে নেমেছে (প্রায় ১৩-১৫% পতন)
  • ডব্লিউটিআই: ৯২.২৯ ডলার পর্যন্ত নেমেছে (প্রায় ৬-৮% কম)
  • হরমুজ প্রণালি: বিশ্বের ২০% তেল ও এলএনজি পরিবহন; যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কার্যত বন্ধ
  • যুদ্ধ শুরু: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা)

এই ঘটনা প্রমাণ করে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কতটা দ্রুত বৈশ্বিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ যদি স্থায়ী শান্তির পথ খোলে, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে। কিন্তু পাঁচ দিন পর যদি আলোচনা ব্যর্থ হয়, তাহলে তেলের দাম আবার আকাশছোঁয়া হতে পারে।

চীনের বিশ্বখ্যাত বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডি (BYD) বাংলাদেশে পা রাখার দুই বছরের মাথায় আরেকটি শক্তিশালী পদক্ষেপ নিয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে এসেছে তাদের নতুন প্লাগইন হাইব্রিড (PHEV) এসইউভি ‘সিলায়ন-৫’। সিজি-রানার বাংলাদেশ লিমিটেডের মাধ্যমে বিক্রি শুরু হওয়া এই গাড়ির দাম ৪৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা, তবে প্রথম ৫০০ গ্রাহকের জন্য বিশেষ মূল্য ৪৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা—যা জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রিমিয়াম এসইউভির বাজারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বিওয়াইডি বাংলাদেশে প্রথম আসে ২০২৪ সালের দিকে, যখন অ্যাটো ৩ এবং অন্যান্য বিশুদ্ধ বৈদ্যুতিক মডেল দিয়ে বাজারে আলোড়ন তোলে। বর্তমানে দেশে তাদের তিনটি মডেল পাওয়া যায়, যার মধ্যে সিলায়ন-৬-এর সাফল্যের পর সিলায়ন-৫ এসেছে আরও বেশি বাস্তবমুখী ও সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় আয়োজিত লঞ্চ ইভেন্টে গাড়িটির উন্মোচন হয়, যেখানে সিজি-রানারের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিদ সাকিফ খান উপস্থিত ছিলেন। লঞ্চের সঙ্গে সঙ্গে ২৫টিরও বেশি ইউনিট হস্তান্তর করা হয়েছে উৎসাহী গ্রাহকদের হাতে।

সিলায়ন-৫-কে ‘এভরিডে এসইউভি’ বলে প্রচার করছে বিওয়াইডি। এর হৃদয়ে রয়েছে DM-i সুপার প্লাগইন হাইব্রিড প্রযুক্তি—একটি ১.৫ লিটার উচ্চ-দক্ষতার পেট্রোল ইঞ্জিনের সঙ্গে শক্তিশালী ইলেকট্রিক মোটরের সমন্বয়। ফলে গাড়িটি পুরোপুরি চার্জ ও পূর্ণ ট্যাঙ্ক নিয়ে ১,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জ দিতে পারে। শুধু ইলেকট্রিক মোডে দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য ৭১ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে সক্ষম। সম্মিলিত পাওয়ার ১৫৬ কিলোওয়াট (প্রায় ২১০ হর্সপাওয়ার) এবং ৩০০ নিউটন-মিটার টর্ক—যা ০ থেকে ১০০ কিলোমিটার/ঘণ্টায় পৌঁছাতে মাত্র ৭.৭ সেকেন্ড লাগে। এই পারফরম্যান্স সাধারণ ১৫০০ সিসি পেট্রোল এসইউভির চেয়ে অনেক বেশি রেসপনসিভ এবং মসৃণ।

নিরাপত্তা ও আরামের দিক থেকেও গাড়িটি এগিয়ে। সাতটি এয়ারব্যাগ, BYD-এর বিখ্যাত ব্লেড ব্যাটারি প্রযুক্তি (যা অত্যন্ত নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী), অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম (ADAS), ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা, V2L (ভেহিকল টু লোড) ফাংশন—যা গাড়ি থেকে অন্য ডিভাইস চার্জ করা যায়। ভিতরে ১২.৮ ইঞ্চি রোটেটিং ইনফোটেইনমেন্ট ডিসপ্লে, প্যানোরামিক সানরুফ, ভেন্টিলেটেড সিট এবং প্রশস্ত কেবিন—যা পরিবারের জন্য আদর্শ। রঙের অপশন: কসমস ব্ল্যাক, অরোরা হোয়াইট, অ্যাটলান্টিস গ্রে ও হারবার গ্রে।

ওয়ারেন্টি প্যাকেজও আকর্ষণীয়: ট্র্যাকশন ব্যাটারির জন্য ৮ বছর/১,৬০,০০০ কিমি, মোটরের জন্য ৮ বছর/১,৫০,০০০ কিমি এবং গাড়ির জন্য ৬ বছর/১,৫০,০০০ কিমি।

কয়েকটি মূল তথ্য:

  • মডেল: BYD Sealion 5 DM-i Super Plug-in Hybrid SUV
  • লঞ্চ তারিখ: ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (আনুষ্ঠানিক ২৮ ফেব্রুয়ারি)
  • দাম: সাধারণ ৪৮.৯০ লাখ টাকা; প্রথম ৫০০ গ্রাহকের জন্য ৪৭.৯০ লাখ টাকা
  • রেঞ্জ: সম্মিলিত ১,০০০ কিমি (ইলেকট্রিক মোডে ৭১ কিমি)
  • পাওয়ার: ১৫৬ কিলোওয়াট, ৩০০ Nm টর্ক; ০-১০০ কিমি/ঘণ্টা ৭.৭ সেকেন্ডে
  • ফিচার: ৭ এয়ারব্যাগ, ADAS, Blade Battery, V2L, ১২.৮” রোটেটিং ডিসপ্লে, প্যানোরামিক সানরুফ
  • পরিবেশক: সিজি-রানার বাংলাদেশ লিমিটেড

বাংলাদেশের জ্বালানি-দামের ঊর্ধ্বগতি ও পরিবেশ সচেতনতার যুগে সিলায়ন-৫-এর মতো গাড়ি শুধু বিকল্প নয়, একটি স্মার্ট সিদ্ধান্ত। এটি প্রমাণ করে যে, প্রিমিয়াম টেকনোলজি এখন আর দূরের স্বপ্ন নয়—এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠতে চলেছে।

রণবীর সিং অভিনীত আদিত্য ধর পরিচালিত স্পাই অ্যাকশন থ্রিলার ‘ধুরন্ধর ২: দ্য রিভেঞ্জ’ মুক্তির চতুর্থ দিনেও বক্স অফিসে একচ্ছত্র দাপট দেখিয়ে চলেছে। ১৯ মার্চ মুক্তি পাওয়া এই ছবি চার দিনে ভারতে নেট প্রায় ৪৫৪ কোটি টাকা এবং বিশ্বব্যাপী গ্রস ৭৬১ কোটি টাকা আয় করে একের পর এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অতিক্রম করেছে—যা বলিউডের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অভূতপূর্ব।

মুক্তির আগের দিন ১৮ মার্চ পেইড প্রিভিউ থেকেই ছবিটি শুরু করে ঝড় তোলে, প্রায় ৪৩ কোটি টাকা আয় করে। তারপর প্রথম দিন (১৯ মার্চ) ভারতে নেট ১০২.৫৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে সবচেয়ে বড় ওপেনিংয়ের রেকর্ড গড়ে। দ্বিতীয় দিনে কিছুটা কমে ৮০.৭২ কোটি হলেও তৃতীয় দিন (শনিবার, ঈদের ছুটির সুবিধা নিয়ে) আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ১১৩ কোটি টাকা আয় করে। আর চতুর্থ দিন রবিবার সর্বোচ্চ একদিনের সংগ্রহ ১১৪.৮৫ কোটি টাকা দিয়ে ছবিটি প্রমাণ করেছে, এর গতি থামার নাম জানে না।

ভারতীয় বক্স অফিসে চার দিনে নেট আয় ৪৫৪.১২ কোটি টাকা পৌঁছে গেছে, যা অনেক ক্লাসিক ছবির লাইফটাইম কালেকশনকে ছাড়িয়ে গেছে। উদাহরণস্বরূপ, আমির খানের ‘দঙ্গল’-এর লাইফটাইম নেট ৩৮৭ কোটি ছিল—‘ধুরন্ধর ২’ মাত্র চার দিনে তা পেরিয়েছে। বিশ্বব্যাপী গ্রস আয় ৭৬১ কোটি টাকা (ভারত গ্রস প্রায় ৫৪২ কোটি, ওভারসিজ প্রায় ২১৯ কোটি) পৌঁছে এটি দ্রুততম ৫০০ কোটি ক্লাবে প্রবেশকারী ছবিগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।

পরিচালক আদিত্য ধরের এই সিক্যুয়েল প্রথম ছবি ‘ধুরন্ধর’-এর (১৩৫৪ কোটি গ্রস) উত্তরাধিকারকে আরও উচ্চতায় নিয়ে গেছে। রণবীর সিং-এর চরিত্র হুমজা আলি মাজারি—একজন ভারতীয় গুপ্তচর যিনি আন্ডারওয়ার্ল্ডে অনুপ্রবেশ করে অপরাজেয় রাজা হয়ে ওঠেন—দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। অ্যাকশন দৃশ্যের তীব্রতা, সাসপেন্স এবং রণবীরের ইনটেন্স পারফরম্যান্সকে বিশেষজ্ঞরা ‘রিসেট বাটন’ বলে অভিহিত করেছেন বলিউডের জন্য।

ঈদ, গুড়ি পাড়োয়া, উগাদি-এর মতো উৎসবের সুবিধা নিয়ে ছবিটি পারিবারিক দর্শকদেরও টেনেছে। ওভারসিজ মার্কেটে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও আমেরিকায় দুর্দান্ত রেসপন্স পেয়েছে। ট্রেড অ্যানালিস্টদের মতে, এই গতিতে ছবিটি ২০০০ কোটি গ্রসের দিকে এগোচ্ছে, যা ‘দঙ্গল’-এর রেকর্ডকেও চ্যালেঞ্জ করতে পারে।

কয়েকটি মূল তথ্য:

  • মুক্তির তারিখ: ১৯ মার্চ ২০২৬ (পেইড প্রিভিউ ১৮ মার্চ)।
  • প্রথম দিন নেট (ভারত): ১০২.৫৫ কোটি টাকা (প্রিভিউসহ ১৪৫.৫৫ কোটি)।
  • চতুর্থ দিন: ১১৪.৮৫ কোটি টাকা (সর্বোচ্চ একদিনের সংগ্রহ)।
  • চার দিনে ভারত নেট: ৪৫৪.১২ কোটি টাকা।
  • বিশ্বব্যাপী গ্রস: প্রায় ৭৬১ কোটি টাকা।
  • রেকর্ড: দ্রুততম ৫০০ কোটি ক্লাব (বিশ্বব্যাপী), সর্বোচ্চ হিন্দি ওপেনিং, ঈদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ইত্যাদি।

‘ধুরন্ধর ২’ শুধু একটি ছবি নয়, এটি বলিউডের নতুন যুগের সূচনা। রণবীর সিং-এর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স এবং আদিত্য ধরের দূরদর্শী পরিচালনা এই ছবিকে এক অবিস্মরণীয় ব্লকবাস্টারে পরিণত করেছে।