১৮ শতকের শেষভাগে, অর্থাৎ উনিশ শতকের শেষ দিকে, জার্মানির প্রুশিয়ায় জন্মগ্রহণকারী ইউজেন স্যান্ডো (আসল নাম ফ্রিডরিখ উইলহেল্ম মুলার) বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেন শারীরিক সৌন্দর্য ও শক্তির অসাধারণ সমন্বয়ের জন্য। তাঁকে আধুনিক বডি বিল্ডিংয়ের জনক বলা হয়। বিচিত্র হাতাকাটা পোশাক পরে মঞ্চে পেশি প্রদর্শন করে তিনি শুধু শক্তিশালী নন, সৌন্দর্যের আদর্শও হয়ে ওঠেন—এবং এরই ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় ‘স্যান্ডো গেঞ্জি’ নামে পরিচিত হয় সেই স্লিভলেস ভেস্ট।

ইউজেন স্যান্ডোর জন্ম ১৮৬৭ সালের ২ এপ্রিল প্রুশিয়ার কোনিগসবার্গে (বর্তমানে রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ)। ছোটবেলায় তিনি ছিলেন দুর্বল ও রোগা। ১০ বছর বয়সে ইতালিতে গিয়ে প্রাচীন গ্রিক-রোমান মূর্তিগুলো দেখে মুগ্ধ হন। সেই মূর্তির নিখুঁত শরীরের অনুপাত দেখে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, নিজের শরীরকেও সেই আদর্শে গড়ে তুলবেন। পরিবার চেয়েছিল তিনি লুথারান পাদ্রি হোন, কিন্তু স্যান্ডো সেই পথ ছেড়ে সার্কাসে অ্যাক্রোব্যাট হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে জার্মান স্ট্রংম্যান প্রফেসর অ্যাটিলার শিষ্য হয়ে শারীরিক প্রশিক্ষণ নেন।

১৮৮৯ সালে লন্ডনে এসে তিনি তৎকালীন ‘সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষ’ চার্লস স্যাম্পসনকে চ্যালেঞ্জ করেন। মঞ্চে প্রথমে হাসাহাসি হয়—স্যান্ডো দেখতে সাধারণ মানুষের মতো। কিন্তু পোশাক খুলে পেশি দেখানোর পর দর্শকরা স্তম্ভিত। তিনি শুধু ভারী ওজন তুললেন না, ‘মাসল ডিসপ্লে পারফরম্যান্স’ নামে পোজ দিয়ে শরীরের সৌন্দর্য প্রদর্শন করলেন। এটাই ছিল আধুনিক বডি বিল্ডিংয়ের শুরু—শক্তির সঙ্গে নান্দনিকতার মিলন।

স্যান্ডো বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ করেন। দক্ষিণ আফ্রিকা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড হয়ে ১৯০৫ সালে ভারতে আসেন। সেখানে তিনি যে হাতাকাটা টাইট-ফিটিং পোশাক (সিঙ্গলেট বা ট্যাঙ্ক টপের মতো) পরতেন, তা দর্শকদের মনে গেঁথে যায়। তাঁর নামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ওঠে সেই পোশাক। ভারতীয় উপমহাদেশে, বিশেষ করে বাংলায়, ‘স্যান্ডো গেঞ্জি’ নামে পরিচিত হয় এই স্লিভলেস অন্তর্বাস। অনেকের মতে, এই নামকরণ সরাসরি তাঁর থেকে অনুপ্রাণিত। যদিও কিছু গবেষক বলেন, এটি ‘গানজি’ (ব্রিটিশ নাবিকদের উলের সোয়েটার) থেকেও আসতে পারে, তবু স্যান্ডোর প্রভাব অস্বীকার করা যায় না।

স্যান্ডো শুধু পারফর্মার ছিলেন না, উদ্যোক্তাও। তিনি ‘ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্যাল কালচার’ খোলেন, ব্যায়ামের যন্ত্রপাতি বিক্রি করেন, ম্যাগাজিন প্রকাশ করেন এবং বই লেখেন। ১৮৯৭-১৯০৪ সালের মধ্যে প্রকাশিত তাঁর বইয়ে প্রথম ‘বডি বিল্ডিং’ শব্দটি ব্যবহার হয়। তাঁর আদর্শ ছিল গ্রিক আদর্শ—শরীরের নির্দিষ্ট অনুপাত।

আজও যখন আমরা জিমে ট্যাঙ্ক টপ পরে ব্যায়াম করি বা ‘স্যান্ডো গেঞ্জি’ কিনি, তখন অজান্তেই সেই এক শতাব্দী আগের এক জার্মান যুবকের স্বপ্নকে স্পর্শ করি। ইউজেন স্যান্ডো প্রমাণ করেছিলেন, শরীর শুধু শক্তির নয়, সৌন্দর্য ও আত্মবিশ্বাসেরও প্রতীক হতে পারে।

নির্বাচিত নতুন সরকারের অভিষেকের পর প্রথম ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে দেশের খুচরা ব্যবসা খাত। দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে পোশাকে ২৫ শতাংশ ও জুতায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি দেখছেন ব্যবসায়ীরা।

তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ভিড় থাকলেও স্মার্টফোন ও ইলেকট্রনিক্স গেজেটের বাজারে এবার কিছুটা ভাটা পড়েছে।

টানা কয়েক মাসের স্থবিরতা কাটিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের কেনাকাটায় ফিরেছে চিরচেনা ব্যস্ততা। বিশেষ করে পোশাক ও প্রসাধনী খাতের ব্যবসায়ীরা এবার প্রত্যাশার চেয়েও ভালো সাড়া পাচ্ছেন। বড় ব্র্যান্ডগুলো থেকে শুরু করে ফুটপাত—সবখানেই ক্রেতাদের আনাগোনা গত কয়েক বছরের তুলনায় লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নতুন সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাই এই কেনাকাটার জোয়ারে জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে।

পোশাক ও জুতার বাজারে উল্লম্ফন

রাজধানীর পান্থপথের বসুন্ধরা সিটি থেকে শুরু করে উত্তরের যমুনা ফিউচার পার্ক—সব জায়গাতেই দেশি-বিদেশি পোশাকের শোরুমগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। দেশের শীর্ষস্থানীয় বেশ কিছু ফ্যাশন হাউসের তথ্যমতে, গত বছরের তুলনায় তাদের বিক্রিতে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বিশেষ করে পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ এবং শিশুদের পোশাকের চাহিদা এবার আকাশচুম্বী।

একই চিত্র দেখা যাচ্ছে পাদুকা বা জুতার বাজারে। নামকরা জুতা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর আউটলেটে এবার ২০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। চামড়ার স্যান্ডেল ও আধুনিক ডিজাইনের ক্যাজুয়াল সু বিক্রিতে এবার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, রমজানের শুরু থেকেই কেনাকাটা জমজমাট ছিল, যা শেষ দশদিনে এসে একপ্রকার উৎসবে রূপ নিয়েছে।

কসমেটিক্সে প্রসাধিত হাসি, কিন্তু মোবাইলে ম্লান

গত কয়েক মাস ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে প্রসাধনী বা কসমেটিক্স খাতে এক ধরনের স্থবিরতা কাজ করছিল। কিন্তু ঈদের আমেজে সেই বাধা কেটে গেছে। গত ঈদের তুলনায় প্রসাধনী বিক্রিতে এবার অন্তত ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বিশেষ করে ঘরোয়া মেকআপ আইটেম ও পারফিউমের চাহিদা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে প্রযুক্তি পণ্যের বাজারে। গত কয়েক ঈদে নতুন মোবাইল কেনার যে হিড়িক দেখা যেত, এবার তাতে বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মোবাইল ও গেজেট বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি তো হয়ইনি, উল্টো ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিক্রি কমেছে। ক্রেতাদের ভাষ্যমতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় বিলাসিতা কমিয়ে তারা মৌলিক চাহিদাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। অর্থাৎ, নতুন পোশাকের চেয়ে নতুন স্মার্টফোন এখন অনেকের তালিকার শেষে।

বাজার পরিস্থিতির এক নজরে পরিসংখ্যান:

  • পোশাক: বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সর্বোচ্চ ২৫%।

  • জুতা: ২০% পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি নিয়ে সন্তুষ্ট বিক্রেতারা।

  • কসমেটিক্স: দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে ১৫% বিক্রি বেড়েছে।

  • মোবাইল ও গেজেট: বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব, কমেছে ১০-১৫%।

  • ব্যবসায়ীদের মতামত: অধিকাংশের মতে, আগের চেয়ে বাজার পরিস্থিতি অনেক বেশি অনুকূল।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নির্বাচিত সরকারের অধীনে প্রথম ঈদে মানুষের মধ্যে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক স্বস্তি কাজ করছে। যদিও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আছে, তবুও উৎসবের আমেজ অর্থনীতিতে বড় ধরনের তারল্য প্রবাহ ঘটিয়েছে। মোবাইলের বাজারে বিক্রি কমার পেছনে মূলত ডলারের উচ্চমূল্য এবং আমদানিকৃত ইলেকট্রনিক্স পণ্যের আকাশছোঁয়া দামকে দায়ী করা হচ্ছে। তবে পোশাক ও জুতার মতো স্থানীয় উৎপাদনমুখী খাতে এই প্রবৃদ্ধি দেশের জিডিপিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে উৎসবের আমেজে ভাসছে রাজধানী ঢাকা। মেগাসিটির ১২১টি ঈদগাহ ও ১৫৯৯টি মসজিদে মোট ১৭২০টি জামাতের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হবে ঈদের নামাজ।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা না থাকলেও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। তিনি নগরবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, “নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে আমরা প্রতিটি জামাতকে কেন্দ্র করে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছি।”

নামাজের সময়সূচি ও প্রধান জামাত

বরাবরের মতো এবারও ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। সকাল সাড়ে ৮টায় নির্ধারিত এই জামাতে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিকসহ প্রায় ৩৫ হাজারেরও বেশি মুসল্লি। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে বা অন্য কোনো বিশেষ কারণে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে প্রধান জামাত স্থানান্তরের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, প্রথম জামাত শুরু হবে সকাল ৭টায় এবং শেষ জামাত অনুষ্ঠিত হবে বেলা ১০টা ৪৫ মিনিটে। এছাড়া আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় বড় পরিসরে একটি ঈদ জামাত আয়োজনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা মহানগর

ডিএমপি কমিশনার জানান, ঈদের জামাতগুলোকে ঘিরে পোশাকি পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রতিটি বড় ঈদগাহে প্রবেশের সময় মুসল্লিদের আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি করা হবে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে পুরো এলাকা।

এক নজরে রাজধানীর ঈদ জামাত ও নিরাপত্তা চিত্র:

  • মোট জামাত: ১৭২০টি (১২১টি ঈদগাহ ও ১৫৯৯টি মসজিদে)।

  • জাতীয় ঈদগাহ: প্রধান জামাত সকাল ৮:৩০ মিনিটে; ধারণক্ষমতা ৩৫ হাজার+।

  • বায়তুল মোকাররম: মোট ৫টি জামাত (প্রথমটি সকাল ৭:০০ টায়)।

  • বিশেষ জামাত: শিয়া সম্প্রদায়ের জন্য ৮টি এবং সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগের দিন ৩টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

  • নিরাপত্তা সরঞ্জাম: ড্রোন নজরদারি, ডগ স্কোয়াড এবং সিসিটিভি কাভারেজ।

ট্রাফিক ও জননিরাপত্তা নির্দেশনা

ঈদের দিন নামাজের সময় জাতীয় ঈদগাহ সংলগ্ন শিক্ষা ভবন, মৎস্য ভবন ও প্রেস ক্লাব মোড়ে ডাইভারশন দেওয়া হবে। ডিএমপি থেকে নগরবাসীকে জায়নামাজ ও ছাতা ছাড়া অন্য কোনো ব্যাগ বা দাহ্য বস্তু বহন না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বড় জামাতগুলোর আশেপাশে পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করছে পুলিশ।

বিভাগীয় কর্মকর্তাদের মতে, এবারের ঈদযাত্রায় ঢাকা ছেড়েছেন কয়েক কোটি মানুষ, যার ফলে রাজধানীর ভেতরের রাস্তাগুলো অনেকটা ফাঁকা। এই সুযোগে ফাঁকা বাড়িতে চুরির উপদ্রব রোধে এবং ফাঁকা রাস্তায় বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানো বন্ধে বিশেষ টহল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।

ইরানকে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থেকে বিরত রাখতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান এখন এক ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে।

পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের ১৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই সংঘাত। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার তথ্যমতে, এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২,৫৩০ জন।

রণক্ষেত্র এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্য

গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে শুরু হওয়া এই সামরিক উত্তেজনা এখন আর কেবল নির্দিষ্ট কোনো সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের দাবি, ইরানের ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক সক্ষমতা এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এই অজুহাতে তারা ইরানের কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে যৌথ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে।

তবে তেহরানও দমে যাওয়ার পাত্র নয়। পাল্টা জবাব হিসেবে তারা ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন আরব দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলি স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতেও ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালাচ্ছে ইরান। এর ফলে এক সময়ের ছায়াযুদ্ধ (Proxy War) এখন সরাসরি সংঘাতে রূপ নিয়েছে, যা গ্রাস করেছে পুরো অঞ্চলকে।

মানবিক বিপর্যয় ও লাশের মিছিল

যুদ্ধের ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি প্রতিফলিত হচ্ছে নিহতের সংখ্যায়। আল-জাজিরা বৃহস্পতিবার তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের ওপর শুরু হওয়া এই হামলা এবং এর পরবর্তী পাল্টা আঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ২,৫৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই নিহতের তালিকায় সামরিক সদস্যদের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংঘাতের পরিধি এতটাই বিস্তৃত যে, ইরাক, সিরিয়া, লেবানন থেকে শুরু করে পারস্য উপসাগরীয় বেশ কিছু দেশ এখন সরাসরি এই যুদ্ধের কবলে। মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের প্রক্সি গ্রুপগুলোর হামলা এবং পাল্টা হিসেবে মার্কিন বিমান বাহিনীর অভিযানে সাধারণ মানুষের জীবন এখন চরম ঝুঁকির মুখে।

সংঘাতের ভয়াবহ চিত্র: এক নজরে মূল তথ্য

  • আক্রান্ত দেশ: মধ্যপ্রাচ্যের মোট ১৪টি দেশে যুদ্ধের প্রভাব ও সরাসরি হামলা ছড়িয়ে পড়েছে।

  • মোট প্রাণহানি: এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া নিহতের সংখ্যা ২,৫৩০ জন।

  • হামলার লক্ষ্যবস্তু: ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা এবং আরবে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি।

  • শুরুর তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে এই যৌথ অভিযান শুরু হয়।

কৌশলগত বিশ্লেষণ: সংঘাত কি থামবে?

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুদ্ধ কেবল দুটি পক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির এক জটিল সমীকরণে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরানের সামরিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে, অন্যদিকে ইরান চাইছে মার্কিন আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে।

ইসরায়েলের জন্য এই লড়াই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে চিহ্নিত হলেও, আরব বিশ্বের দেশগুলো এই দ্বন্দ্বে পিষ্ট হচ্ছে। তেল সমৃদ্ধ এই অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়ার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, যদি দ্রুত কোনো কূটনৈতিক সমাধান না আসে, তবে এই সংঘাত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে।

উৎসবের আমেজ আর রসনা বিলাস যেন একই সুতোয় গাঁথা। আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দকে দ্বিগুণ করতে সকালের সেমাই আর দুপুরের পোলাও-মাংসের পর বিকেলের আড্ডায় ভিন্নতা আনছে ‘চিকেন বল’। ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু এই নাস্তাটি এবারের ঈদ আয়োজনে হতে পারে গৃহিণীদের তুরুপের তাস।

ঈদের দিন মানেই অবারিত আনন্দ, নতুন পোশাক আর প্রিয়জনদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া মুহূর্ত। তবে বাঙালির উৎসবে খাবারের ভূমিকা কোনো অংশেই কম নয়। সকাল থেকে মিষ্টি আর ভারী খাবারের রাজত্ব চললেও বিকেলে শরীর ও মন—উভয়ই চায় কিছুটা হালকা কিন্তু মুখরোচক কিছু। ঠিক এই সময়েই ড্রয়িং রুমের আড্ডায় প্রাণ ফেরাতে পারে মচমচে চিকেন বল। বাইরে কুড়মুড়ে আর ভেতরে নরম এই পদটি ছোট-বড় সবার কাছেই সমান জনপ্রিয়।

রসনাবিলাসে নতুনত্বের ছোঁয়া

পুরানো আমলের সাধারণ নাস্তার বদলে আধুনিক শহুরে জীবনে মানুষ এখন রেস্তোরাঁর স্বাদ ঘরেই পেতে চায়। বিশেষ করে ঈদের মতো বড় উৎসবে মেহমানদারিতে একঘেয়েমি কাটাতে চিকেন বল একটি আদর্শ পছন্দ। এটি তৈরি করা যেমন সহজ, তেমনি এর পরিবেশনাও নজরকাড়া। সস কিংবা মেয়োনিজের সঙ্গে গরম গরম চিকেন বল পাতে পড়লে বিকেলের আড্ডা জমে উঠতে বাধ্য।

পুষ্টিবিদদের মতে, ঈদের দিন অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর বিকেলের নাস্তায় প্রোটিন সমৃদ্ধ কিন্তু পরিমিত মশলার খাবার রাখা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। চিকেন বল সেই চাহিদাও পূরণ করে। মুরগির বুকের মাংস ব্যবহার করে তৈরি এই নাস্তাটি ভাজার বদলে কেউ চাইলে ‘এয়ার ফ্রায়ার’-এ দিয়ে আরও স্বাস্থ্যসম্মত করে তুলতে পারেন।

যেভাবে সাজাবেন বিকেলের মেনু

একটি সফল ঈদ আয়োজনের পেছনে থাকে সুনিপুণ পরিকল্পনা। চিকেন বলের বিশেষত্ব হলো, এটি আগে থেকেই তৈরি করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যায়। ঈদের দিন কেবল অতিথির আগমনে গরম তেলে ভেজে নিলেই কেল্লাফতে। নিচে এই রাজকীয় স্বাদের চিকেন বল তৈরির একটি সংক্ষিপ্ত ও কার্যকর পদ্ধতি তুলে ধরা হলো:

প্রয়োজনীয় উপকরণ ও প্রস্তুত প্রণালি:

  • মাংসের কিমা: হাড়ছাড়া মুরগির মাংস ভালো করে ধুয়ে মিহি কিমা করে নিতে হবে।

  • মশলার মিশেল: আদা-রসুন বাটা, গোলমরিচের গুঁড়ো, সামান্য সয়া সস এবং স্বাদমতো লবণ। ঝাল প্রেমীরা কাঁচামরিচ কুচি যোগ করতে পারেন।

  • বাঁধন বা বাইন্ডিং: কিমা নরম রাখতে পাউরুটির স্লাইস দুধে ভিজিয়ে মিশিয়ে নিন। এতে বলগুলো ভেতরে জুসি হবে।

  • আস্তরণ: ফেটানো ডিমে চুবিয়ে ব্রেডক্রাম্ব বা বিস্কুটের গুঁড়োয় গড়িয়ে নিতে হবে।

  • ভোজন কৌশল: ডুবো তেলে সোনালি করে ভাজুন। ব্যাস, তৈরি আপনার বিশেষ চিকেন বল।

মনে রাখার মতো কিছু টিপস

রান্নাঘরের অভিজ্ঞ সংবাদদাতাদের মতে, নিখুঁত চিকেন বল তৈরির কিছু গোপন কৌশল রয়েছে যা আপনার প্রশংসা বাড়িয়ে দেবে বহুগুণ:

  • তাপমাত্রা: তেল খুব বেশি গরম হলে ওপরটা পুড়ে যাবে কিন্তু ভেতর কাঁচা থাকবে। তাই মাঝারি আঁচে ভাজাই শ্রেয়।

  • চিজ ভেরিয়েশন: অভিনবত্ব আনতে বলের ভেতরে ছোট এক টুকরো চিজ ঢুকিয়ে দিতে পারেন, যা কামড় দিলেই গলে গিয়ে স্বাদে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

  • পরিবেশনা: সালাদ আর পুদিনার চাটনি দিয়ে সাজিয়ে দিলে তা যে কোনো নামী রেস্তোরাঁকে হার মানাবে।

পড়াশোনার একঘেয়েমি কাটাতে আর তরুণ প্রজন্মের ঝিমিয়ে পড়া আবেগ চাঙ্গা করতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে চীনের সিচুয়ান সাউথওয়েস্ট ভোকেশনাল কলেজ অব এভিয়েশন। ১ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বসন্তকালীন ছুটিতে শিক্ষার্থীদের কেবল প্রকৃতি দেখতেই নয়, বরং মন খুলে ‘প্রেমে পড়ার’ আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানিয়েছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

পড়াশোনা দূরে থাক, মন উড়ুক বসন্তের হাওয়ায়

সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আমাদের প্রত্যাশা থাকে একাডেমিক উৎকর্ষ। কিন্তু চীনের এই কলেজটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটল। সম্প্রতি নিজেদের অফিসিয়াল উইচ্যাট অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানিয়েছে, এই সাত দিন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যেন তাদের ভারী বইপত্র আর অ্যাসাইনমেন্ট ডেস্কে ফেলে রেখে বেরিয়ে পড়েন। তাদের মূল লক্ষ্য—প্রকৃতির সান্নিধ্যে যাওয়া, বসন্তের ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করা এবং জীবনের সুন্দর অনুভূতিগুলোকে লালন করা।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্টভাবেই ‘রোমান্স উপভোগ’ করার বিষয়টিকে ছুটির প্রতিপাদ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে। এটি কেবল কোনো ব্যক্তিগত পরামর্শ নয়, বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নীতিমালার অংশ হিসেবেই প্রকাশ পেয়েছে।

কেন এই অদ্ভুত সিদ্ধান্ত?

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেন শিক্ষার্থীদের প্রেমের পথে উৎসাহিত করছে? এর গভীরে রয়েছে চীনের বর্তমান সামাজিক ও জনসংখ্যাতাত্ত্বিক সংকট। এই উদ্যোগের পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে:

  • পারিবারিক মূল্যবোধের বিকাশ: চীনের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিয়ের প্রতি অনীহা দিন দিন বাড়ছে। কর্তৃপক্ষ চায় তরুণরা পড়াশোনার পাশাপাশি পারিবারিক জীবন গঠনেও আগ্রহী হয়ে উঠুক।

  • জন্মহার বৃদ্ধি: চীনের ক্রমহ্রাসমান জন্মহার এখন জাতীয় উদ্বেগের বিষয়। পর্যাপ্ত অবসর এবং মানসিকভাবে প্রফুল্ল থাকার মাধ্যমে তরুণরা ভবিষ্যতে সন্তান নিতে উৎসাহিত হবে—এমনটাই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

  • অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করা: ছুটিতে শিক্ষার্থীরা যখন ঘুরতে বেরোবে, তখন পর্যটন এবং স্থানীয় ভোগ (consumption) বাড়বে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

নতুন ছুটির সংস্কৃতি ও প্রশাসনিক লক্ষ্য

চীন সরকার গত কয়েক বছর ধরেই গ্রীষ্ম ও শীতকালীন ছুটির পাশাপাশি বসন্ত ও শরৎকালীন ছুটি চালুর ওপর জোর দিচ্ছে। সিচুয়ান সাউথওয়েস্ট ভোকেশনাল কলেজ অব এভিয়েশনের এই পদক্ষেপ সেই সরকারি ভাবনারই একটি চরম এবং সাহসী প্রতিফলন।

এক নজরে এই বিশেষ ছুটির বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • সময়কাল: ১ এপ্রিল থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ছুটি।

  • প্রধান কাজ: প্রকৃতি দেখা, ফুলের বাগানে সময় কাটানো এবং নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলা।

  • অ্যাকাডেমিক শিথিলতা: এই সময়ে কোনো অনলাইন ক্লাস বা অ্যাসাইনমেন্টের বোঝা থাকবে না।

  • মানসিক স্বাস্থ্য: প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষার চাপে থাকা শিক্ষার্থীদের ‘বার্নআউট’ থেকে রক্ষা করা।

বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, চীন এখন আর কেবল কারখানার দেশ নয়; বরং তারা এখন মানুষের আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা (EQ) নিয়েও কাজ করতে চাইছে। সিচুয়ানের এই কলেজের সিদ্ধান্তকে অনেকেই ‘সামাজিক ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অংশ হিসেবে দেখছেন। প্রতিযোগিতামূলক চীনের যান্ত্রিক জীবনে যেখানে মানুষ একা হয়ে পড়ছে, সেখানে রাষ্ট্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন চাইছে নাগরিকরা একে অপরের সান্নিধ্যে আসুক।

তবে এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নিয়ে বিতর্ক আছে। সমালোচকরা বলছেন, কেবল এক সপ্তাহের ছুটিতে প্রেম বা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন। তবে অধিকাংশ অভিভাবক ও শিক্ষার্থী একে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। তাদের মতে, অন্তত সাত দিন তো বইয়ের পাতা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে!

সৌদি আরবে বুধবার (১৮ মার্চ) পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে দেশটিতে এবার রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং আগামী শুক্রবার (২০ মার্চ) যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। দেশটির জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

বুধবার মাগরিবের নামাজের পর থেকেই সৌদি আরবের তামির ও সুদাইরসহ বিভিন্ন প্রান্তের মানমন্দিরগুলোতে টেলিস্কোপ নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন বিশেষজ্ঞ ও শৌখিন চাঁদ পর্যবেক্ষকরা। তবে মেঘমুক্ত আকাশ থাকা সত্ত্বেও কোথাও শাওয়াল মাসের এক ফালি নতুন চাঁদের দেখা মেলেনি। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এবং জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি দীর্ঘ পর্যালোচনার পর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয় যে, বৃহস্পতিবার হবে রমজানের শেষ দিন। অর্থাৎ, শুক্রবার সকালে ঈদের জামাতে শরিক হবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস ও গালফ নিউজ তাদের বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। সাধারণত সৌদি আরবের একদিন পরেই বাংলাদেশে ঈদ উদযাপিত হয়। সেই হিসেবে বাংলাদেশে শনিবার (২১ মার্চ) ঈদুল ফিতর হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকের পর।

রমজানের ৩০ দিনের পূর্ণতা

ইসলামি হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী মাস কখনও ২৯, আবার কখনও ৩০ দিনের হয়। সৌদি আরবে এবার ২৯ রোজার দিন চাঁদ দেখা না যাওয়ায় ৩০ দিনের পূর্ণতা পাচ্ছে পবিত্র সিয়াম সাধনার মাস। দীর্ঘ এক মাস সংযম ও এবাদতের পর ঈদের এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ বয়ে আনছে। দেশটির প্রধান শহরগুলোর বিপণিবিতান ও রাস্তাঘাট এখন আলোকসজ্জায় সজ্জিত।

সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পবিত্র মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীতে ঈদের প্রধান জামাতগুলোর জন্য বিশেষ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কয়েক লাখ মুসল্লির সমাগম মাথায় রেখে ট্রাফিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতেও ঈদের ছুটি উদযাপনের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে প্রভাব ও প্রস্তুতি

সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও ঈদের মানসিক প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। ভৌগোলিক অবস্থান ও সময়ের ব্যবধানের কারণে সাধারণত সৌদি আরবের পরের দিন বাংলাদেশে রোজা বা ঈদ শুরু হয়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে চাঁদ দেখা গেলে শুক্রবার ঈদ হতে পারে, তবে সৌদি আরবে ৩০ রোজা হওয়ায় বাংলাদেশেও ৩০ রোজা হওয়ার সম্ভাবনা এবং শনিবার ঈদ হওয়ার বিষয়টিই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েক দিন বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা ও মেঘের ঘনত্বের ওপর ভিত্তি করে দৃশ্যমানতার বিষয়টি নির্ভর করবে। তবে প্রযুক্তিগতভাবে চাঁদের স্থিতি বিশ্লেষণ করে অনেক বিশেষজ্ঞই বলছেন, শনিবারই হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯ শতাংশ।

টানা দরপতন আর লেনদেনে খরা কাটিয়ে দেশের পুঁজিবাজার আবারও ইতিবাচক ধারায় ফিরবে—এমন প্রবল প্রত্যাশায় দিন গুনছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। সাম্প্রতিক সময়ে সূচকের অস্থিরতা ও আস্থার সংকটে বাজার স্থবির হয়ে পড়লেও, সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, ঈদের ছুটির পর নতুন তারল্য প্রবাহে প্রাণ ফিরে পাবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ।

কেন এই বর্তমান মন্দাভাব?

পুঁজিবাজারের দীর্ঘ ১৫ বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, উৎসবের আগে বাজারে এক ধরনের বিক্রয় চাপ তৈরি হয়। এবারের চিত্রও তার ব্যতিক্রম নয়। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ ঈদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক খরচ মেটাতে পোর্টফোলিও থেকে শেয়ার বিক্রি করে নগদ টাকা উত্তোলন করেছেন। ফলে বাজারে শেয়ারের যোগান বাড়লেও সেই তুলনায় ক্রেতা না থাকায় সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, কেবল ঈদের খরচ নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের ‘অপেক্ষা করো এবং দেখো’ (Wait and See) নীতি কাজ করছে। অনেক বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীও এই সময়ে নতুন করে বড় কোনো বিনিয়োগে না গিয়ে সাইডলাইনে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ গত কয়েক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে ঠেকেছে।

প্রত্যাশা বনাম বাস্তবতা

বিশ্লেষকরা বলছেন, ঈদের পর বাজারের চিত্র বদলে যাওয়ার বেশ কিছু যৌক্তিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, উৎসবের ছুটি শেষে বিনিয়োগকারীরা আবার সক্রিয় হন এবং বাজারে নতুন করে তহবিল প্রবেশ করে। দ্বিতীয়ত, অনেক তালিকাভুক্ত কোম্পানি তাদের ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদি কোম্পানিগুলোর মুনাফা সন্তোষজনক হয়, তবে মৌলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ারের প্রতি ঝোঁক বাড়বে সাধারণ মানুষের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসই’র একজন সদস্য বলেন, “পুঁজিবাজার অনেকটা মনস্তাত্ত্বিক বিষয়। যখন সবাই বিক্রি করে, তখন সূচক পড়ে যায়। কিন্তু এখন অনেক ভালো শেয়ারের দাম ফ্লোর প্রাইস বা তার কাছাকাছি অবাস্তব কম মূল্যে রয়েছে। বুদ্ধিমান বিনিয়োগকারীরা ঈদের পর এই সুযোগটিই নেবেন।”

বাজার পর্যালোচনায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক:

  • বিক্রয় চাপ: ঈদের বোনাস বা জমানো টাকার পরিবর্তে শেয়ার বিক্রি করে নগদ অর্থ সংগ্রহের প্রবণতা বাজারে সাময়িক অস্থিরতা তৈরি করেছে।

  • তারল্য সংকট: বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ঋণের সুদহার বৃদ্ধি পাওয়ায় পুঁজিবাজার থেকে কিছু টাকা ব্যাংক আমানতের দিকে সরে গেছে।

  • প্রাতিষ্ঠানিক নিষ্ক্রিয়তা: বড় ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো বড় কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

  • ইতিবাচক পূর্বাভাস: ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতি বছরই ঈদের পরবর্তী দুই সপ্তাহে বাজারে গড় লেনদেন ১৫-২০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

আস্থার সংকট বনাম নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা

বাজারের এই ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কারসাজি রোধ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বাজার বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদদের মতে, কেবল সূচক বাড়ানো নয়, বরং টেকসই বাজারের জন্য ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির আইপিও (IPO) বাজারে আনা জরুরি।

অনেক বিনিয়োগকারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের শঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, বাজার যদি দ্রুত স্বাভাবিক না হয়, তবে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন। তবে আশার কথা হলো, ডিএসই ও সিএসই’র শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করছেন, ঈদের পর যখন অফিস-আদালত পূর্ণোদ্যমে চালু হবে, তখন পুঁজিবাজারেও এর ইতিবাচক প্রতিফলন ঘটবে।

নতুন পোশাকের ঘ্রাণ আর উৎসবের আমেজে মুখরিত এখন তিলোত্তমা ঢাকা। বিশেষ করে দক্ষিণ ঢাকার অন্যতম বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র টিকাটুলির ‘রাজধানী সুপার মার্কেট’ এখন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ে ঠাসা।

ঈদ ঘনিয়ে আসায় যাত্রাবাড়ী, ডেমরা ও শ্যামপুরসহ আশপাশের এলাকা থেকে আসা মানুষের পদচারণায় বিপণিবিতানটি এখন উৎসবের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী এই মার্কেটটি বরাবরই মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের আস্থার প্রতীক। প্রতি বছরের মতো এবারও রমজানের শেষার্ধে এসে এখানে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বিকিকিনি। নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে শিশুদের কলকাকলিতে মার্কেটটি এখন জীবন্ত।

মার্কেটের ভেতর দিয়ে হাঁটা দায়। তবুও হাসিমুখে ক্রেতারা এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরছেন পছন্দের পোশাকটির সন্ধানে। বিক্রেতারাও দম ফেলার সময় পাচ্ছেন না। কাপড়ের ভাজ খুলে ক্রেতাদের সামনে মেলে ধরছেন বাহারি সব নকশা। কেউ খুঁজছেন সুতির আরামদায়ক পাঞ্জাবি, আবার কারও নজর জমকালো জর্জেট বা সিল্কের থ্রি-পিসের দিকে।

বৈচিত্র্যময় সংগ্রহ ও ক্রেতাদের পছন্দ

রাজধানী সুপার মার্কেটের বিশেষত্ব হলো এখানে সব বয়সের মানুষের জন্য একই ছাদের নিচে সব ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। এবারও ভারতীয় এবং দেশি পোশাকের মধ্যে চলছে সমানে সমান টক্কর। তরুণীদের পছন্দে শীর্ষে রয়েছে ট্রেন্ডি সারারা, গারারা এবং ফ্লোর টাচ গাউন। অন্যদিকে, পুরুষদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে ডিজিটাল প্রিন্টের আরামদায়ক পাঞ্জাবি এবং প্রিমিয়াম কোয়ালিটির পায়জামা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত দুই বছরের তুলনায় এবার বেচাকেনা বেশ সন্তোষজনক। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব থাকলেও ঈদের আনন্দের কাছে তা যেন কিছুটা ম্লান। সাধ্যের মধ্যে পছন্দের পোশাকটি কিনতে পেরে ক্রেতারাও খুশি। ডেমরা থেকে আসা এক গৃহিনী জানান, “নিউ মার্কেট বা গাউছিয়া যাওয়ার ঝক্কি অনেক। এখানে একই জিনিস সুলভ মূল্যে পাওয়া যায়, তাই এখানেই আসি।”

তবে মাত্রাতিরিক্ত ভিড়ের কারণে মার্কেটের সরু গলিগুলোতে ক্রেতাদের কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে আসা পরিবারগুলো গরমে কিছুটা নাজেহাল। পার্কিং এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। তবুও সব ক্লান্তি ধুয়ে দিচ্ছে নতুন পোশাক হাতে পাওয়ার আনন্দ। দর্জি বাড়িগুলোতে এখন নতুন অর্ডারের কাজ বন্ধ, সবাই এখন ব্যস্ত ডেলিভারি নিয়ে।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর—বাঙালির উৎসব মানেই খাবারের টেবিলজুড়ে বাহারি মিষ্টির সমারোহ। তবে গতানুগতিক পায়েস, সেমাই বা রসগোল্লার ভিড়ে এবার ভোজনরসিকদের নজর কাড়ছে রঙিন ও স্বাস্থ্যকর ‘ফ্রুট ট্রাইফেল’। সাধারণ উপকরণে তৈরি এই রাজকীয় ডেজার্টটি দেখতে যেমন নান্দনিক, স্বাদেও তেমনি অতুলনীয়।

উৎসবের আমেজে নতুনত্ব

ঈদের সকালে কিংবা বিকেলের অতিথি আপ্যায়নে আমরা সাধারণত ঐতিহ্যবাহী খাবারের ওপরই ভরসা রাখি। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের রুচিতেও এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। বিশেষ করে উৎসবে ভারী খাবারের পর একটু ঠান্ডা এবং ফলমূল সমৃদ্ধ মিষ্টান্ন সবার কাছেই কাম্য। ফ্রুট ট্রাইফেল ঠিক সেই চাহিদাই পূরণ করে। এটি মূলত একটি পশ্চিমা মিষ্টান্ন হলেও, আমাদের দেশীয় ফলের সংমিশ্রণে এতে আনা যায় দেশি আমেজ।

কেন এই ডেজার্টটি আলাদা?

ফ্রুট ট্রাইফেলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর বিভিন্ন স্তর বা লেয়ার। এক একটি স্তরে থাকে কেক, কাস্টার্ড, জেলি এবং তাজা ফলের টুকরো। চামচ ডুবিয়ে যখন সবগুলো স্তরের স্বাদ একসাথে মুখে নেওয়া হয়, তখন এক অদ্ভুত তৃপ্তি অনুভূত হয়। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি তৈরিতে আগুনের সামনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার ঝামেলা নেই, যা ঈদের ব্যস্ততার মাঝে গৃহিণীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর।

ফ্রুট ট্রাইফেল তৈরির পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি

প্রয়োজনীয় উপকরণ:

  • ভ্যানিলা স্পঞ্জ কেক: ২ কাপ (ছোট কিউব করে কাটা)

  • তরল দুধ: ৫০০ মিলি

  • কাস্টার্ড পাউডার: ৩ টেবিল চামচ

  • চিনি: আধা কাপ (স্বাদমতো)

  • তাজা ফল: কলা, আপেল, আঙুর, ডালিম বা আম (পছন্দমতো কিউব করে কাটা)

  • হুইপড ক্রিম: ১ কাপ (সাজানোর জন্য)

  • জেলো: ১ প্যাকেট (লাল বা সবুজ রঙ)

  • বাদাম কুচি ও চেরি: সাজানোর জন্য


প্রস্তুত প্রণালি:

১. কাস্টার্ড তৈরি: প্রথমে দুধ ও চিনি জ্বাল দিয়ে নিন। সামান্য ঠান্ডা দুধে কাস্টার্ড পাউডার গুলে ফুটন্ত দুধে ঢেলে দিন। মিশ্রণটি ঘন হয়ে এলে নামিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। মনে রাখবেন, কাস্টার্ড যেন খুব বেশি শক্ত না হয়ে যায়।

২. জেলো সেট করা: বাজারের কেনা জেলো প্যাকেটের নির্দেশিকা অনুযায়ী তৈরি করে ফ্রিজে রেখে জমিয়ে নিন। জমে গেলে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে রাখুন।

৩. স্তরে স্তরে সাজানো: একটি স্বচ্ছ কাঁচের বাটি বা গ্লাসে প্রথমে কেকের টুকরোগুলো বিছিয়ে দিন। কেকের ওপর সামান্য চিনির সিরা বা ফলের রস ছড়িয়ে দিতে পারেন এতে কেক নরম থাকবে।

৪. ফলের লেয়ার: কেকের ওপর এক স্তর ঘন কাস্টার্ড ঢেলে দিন। তার ওপর সাজিয়ে দিন কাটা ফলের টুকরোগুলো। এরপর জেলোর স্তর দিন। এভাবে আপনার বাটির গভীরতা অনুযায়ী স্তর বাড়াতে পারেন।

৫. চূড়ান্ত টাচ: সবার উপরে হুইপড ক্রিম দিয়ে সুন্দর ডিজাইন করে দিন। সবশেষে বাদাম কুচি ও চেরি ফল দিয়ে সাজিয়ে ফ্রিজে অন্তত ৩-৪ ঘণ্টা রেখে দিন।


কিছু জরুরি টিপস

  • ফলের নির্বাচন: খুব বেশি টক ফল বা পানি ছেড়ে দেয় এমন ফল (যেমন তরমুজ) ব্যবহার না করাই ভালো।

  • পরিবেশন: ট্রাইফেল সবসময় একদম ঠান্ডা পরিবেশন করুন। এতে স্বাদ বহুগুণ বেড়ে যায়।

  • কেকের বিকল্প: হাতের কাছে কেক না থাকলে বিস্কুট গুঁড়ো করেও এই ডেজার্ট তৈরি করা সম্ভব।